টাঙ্গাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট পাকা করণ, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জেলার প্রান্তিক জনপদের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
জেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার আওতায় মোট সড়কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৮২৬.৭০ কিলোমিটারে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইতিমধ্যে ২,৯৪৬.৫০ কিলোমিটার সড়ক বিসি (বিটুমিনাস কার্পেটিং) দ্বারা পাকা করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬,৮৮১.২০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ককে ক্রমান্বয়ে পাকা সড়কের আওতায় আনার মেগা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এলজিইডি। এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে উপজেলা সড়ক ৮১৪.৫০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ১,০৭৫.৪০ কিলোমিটার এবং গ্রামীণ সড়ক ৭,৯৩৬.৮০ কিলোমিটার। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত বজায় রাখতে ২৮৬.৭০ কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, প্রান্তিক মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে এলজিইডি এই সড়ক সমূহে আনুমানিক ২,৫০০.০০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করেছে। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরেই যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়াতে ৯৪.৯১৭ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৭১.১৭৯ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৩৯.০৯১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখতে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১৬টি আধুনিক হাট-বাজার ও বিভিন্ন ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারে চলে আসছে। পাশাপাশি, সমাজের প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশমান ধারা অব্যাহত রাখতে বিপুল সংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এলজিইডির প্রাথমিক শিক্ষা
অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় নির্মিত এই আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়গুলো প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে রাখছে যুগান্তকারী ভূমিকা।
এলজিইডি সূত্র আরো জানায়, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এলজিইডি পানির উৎস সৃষ্টি ও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে। ক্ষুদ্র পানি সম্পদ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশব্যাপী পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ১২ কিলোমিটার খাল এবং ৫টি সরকারি দিঘি/পুকুর সফলভাবে খনন করা হয়েছে। সেই সাথে স্লুইসগেট ও সেচ উপ-প্রকল্পসহ ২টি বড় অবকাঠামো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১টি সেচ উপ-প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
টাঙ্গাইল শহরের চাকুরিজীবী উম্মুল কাউছার, রাফিউর রহমান, আজিজুল হক, আইনজীবী শামসুদ্দিন, নাজিমুদ্দিন, সাগর আহমেদ, শামীমুল ইসলাম, নাসিমুল হক, রেজাউল করিম বাদশা, হুমায়ুন কবির সহ অনেকেই জানান, জেলা সদরের কেন্দ্রবিন্দু ডিসি অফিস-এলজিইডি মোড়(বৈল্লা) সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ওই সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন ও চলাচলকারী মানুষচন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। সড়কটি এলজিইডি নাকি সড়ক বিভাগ করবে এ নিয়ে জটিলতা ছিল। এলজিইডি সড়কটি পুণ:নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষের খুবই উপকার হয়েছে- মানুষ সড়কের সুফল ভোগ করছে।
ধনবাড়ীর কৃষক নাজমুল হাসান, পোল্ট্রী খামারের মালিক আজগর আলী, ব্যবসায়ী রহমত হোসেন, আলী ইসলাম, মুদি দোকানদার কায়েম উদ্দিন, শামসুল আলম, আ. কুদ্দুছ সহ অনেকেই জানান, উপজেলার মুশুদ্দী-ঝোপনা সড়কে ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় এখন আর তাদেরকে ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়না। কৃষিপণ্য, পোল্ট্রী মুরগি ও ফিড, নিত্যপণ্য সহজেই আনা-নেওয়া করা যায়। ফলে তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।
বাসাইল উপজেলার শিক্ষক আবুল কাশেম, হাসান আলী রেজা, ইসমত আরা, চাকুরিজীবী রাশেদ রহমান, আফজাল হোসেন, ব্যবসায়ী কলিমুল্লাহ, আমির হামজা সহ অনেকেই জানান, ঝিনাই নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করায় দাপনাজোর এলাকায় অবস্থিত উন্নতমানের ওয়াটার গার্ডেন ও স্পা’তে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াতে সুবিধার পাশাপাশি নিত্য ও কৃষিপণ্য এবং শিক্ষার্থী-চাকুরিজীবীদের যাতায়াতের পথ সুগম হয়েছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গ্রামীণ অবকাঠামোর এই টেকসই উন্নয়ন মূলত প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে জেলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এলজিইডির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরামর্শ, বিভিন্ন অংশীজন এবং মাঠ পর্যায়ের সহকার্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় জেলার উন্নয়ন কাজ সঠিক ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষি-অকৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের খামারি সহ উৎপাদনমুখি কার্যক্রমের সাথে যুক্ত জনগোষ্ঠি গ্রামীণসড়ক যোগাযোগের সুবিধাগ্রহণ করছে। তাদের উৎপাদিত সকল পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য কম খরচে সহজে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার সাথে দ্রুত সময়ে যোগাযোগ করে পণ্য বাজারজাত করে আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মো. জাবিদ হোসেন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় স্থানীয় বিচারপ্রার্থী, জনগণ ও আইনজীবীরা নবীনগরে দেওয়ানী আদালতের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।
বিচারপতিদ্বয় আদালতের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন, বিচারকার্য প্রত্যক্ষ ও বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় নবীনগর আদালতের আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা, টেবিল, কম্পিউটার ও ফটোকপি মেশিন সরবরাহের দাবিও জানানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বড় উপজেলা নবীনগরে ফৌজদারি আদালত না থাকায় বিচারপ্রার্থীদের জেলা সদরে যেতে হয়। অতীতে এখানে ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম চালু ছিল। তাই পুনরায় পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি আদালত চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। বিচারপতিদ্বয় আদালতের বিচারিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ ও গতিশীল করে সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির আশ্বাস দেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সৈয়দপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকার বাসিন্দা সাব্বির হোসেন এবং সৈয়দপুরের মতির মোড় ফাইলেরিয়া হাসপাতালের পাশের এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে প্রথমে সাব্বির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ঐতিহ্যবাহী শাপলা বিদ্যানিকেতনের ৪১ বছর পূর্তি ও নতুন ভবনে পাঠদান কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভালুকা পৌর মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রতিষ্ঠানটির নতুন কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাতেম খান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসানউল্লাহ খান রোবেল, এম এ খালেক, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ৪১ বছরের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে শাপলা বিদ্যানিকেতনকে আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নতুন ভবনে পাঠদান কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ভালুকা পৌর ভবনের তৃতীয় তলায় মনোয়ারা হায়দার পার্টি সেন্টারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, ভালুকা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। প্রধান বক্তা ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, ভালুকা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. গোলম ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সবুজের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু, গোলজার হোসেন, অ্যাডভোকেট উসমান গণি মলিক মাখন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, খালেক পাঠান এবং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল হকসহ অন্যরা।
মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশ নেন।
সভায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাদের বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেন। পরে এসব বিষয়ে আলোচনা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।
★পুলিশ দিয়ে হয়রানি
★জীবন নাশের হুমকি
★চলাচলের রাস্তায় বাঁধা
সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার জমি দখল কেন্দ্রীক গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার দৈনিক নওরোজ পত্রিকার শেষ পাতায় স্থানীয় ভুক্তভোগী অসহায় নারী মেহেরুন্নেসার জমি দখলের সংবাদ প্রকাশের পর দখলকারীরা বর্তমানে বিভিন্ন মহলে আইন অমান্য করে জেলহাজতে আদালত কর্তৃক প্রেরণ করা হতে পারে এমন আতঙ্কে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বলে তার সত্যতা মিলেছে। দখলকারী সন্ত্রাসীরা বিষয়টি যাতে আদালতে উপস্থাপন না হয় এজন্যও তাদের সাঙ্গো পাঙ্গদের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী।
এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে কেননা গত ২৫ সেপ্টেম্বর সংবাদটি ধামাচাপা দিতে সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত স্থানীয় পত্রদূত পত্রিকায় ৩ নম্বর পৃষ্ঠার ৩ ও ৪ নং কলমে মিথ্যা প্রতিবাদ ছাপানো হয়েছে। তাছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের দেয়া বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ রিসিভ না করে ফেরত দেয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে বিষয়টি একপেশে মিমাংসা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টায় মেতেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মাহমুদুর বলে একটি তথ্য বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ তথ্যটি বিশ্বাস যোগ্য করতে অপেক্ষা করি আমরা অতঃপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী পরিবারকে স্থানীয় কাটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বোরহান ০১৭১১-০০৪৯৪৩ নাম্বার থেকে সকাল ১১টায় কল দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ফাঁড়িতে ডাকেন। ব্যস্ততার কারণে যেতে পারছিনা এমন মন্তব্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ডাকেন ফাঁড়িতে বলে জানান ভুক্তভোগী ছেলে মামুন হোসেন। যেখানে আদালতে মামলা চলমান থাকলে অন্য কোন কার্যালয়ে ভূমি সংক্রান্ত কোন বিচারের সুযোগ থাকে না সেক্ষেত্রে সরাসরি বিচার করতে দেখা গেছে ফাঁড়ির ও এসআইকে।
তবে কেন এবং কার কথায় করছেন তার কোন জবাব মেলেনি। সেখানকার দুই পক্ষের বিচারের অডিও রেকর্ড এসেছে নওরোজের হাতেও। রেকর্ডটিতে শোনা যাচ্ছে দখলকারীদের মধ্যে হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বলছেন ওসি সাহেব জমি দখল করতে সম্মতি দিয়েছেন।
তবে ওসি সাহেব সত্যি কি জমি দখলের সম্মতি দিয়েছেন কিনা তাও জানা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী মেহেরুন্নেছার অভিযোগ আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও কোন পুলিশ প্রশাসন কিভাবে আবার নতুন করে একপেশে একেরপর এক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচার করতে পারেন। আমি তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাই।
এ ক্ষেত্রে পথ বন্ধ করে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের মিথ্যা অভিযোগে আমাদের কেন চাপ প্রয়োগ করছেন? সাধারণ পুলিশ ফাঁড়ি এমনকি থানা পুলিশ কি জমির সমস্যা সমাধান করতে পারেন বলে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে তার প্রশ্নের তীর ছুড়ে দেন এবং এসকল বিষয়ে শীঘ্রই লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।
সর্বশেষ জমির কাগজপত্র সঠিকতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেছেন, ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদীরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি কলেজ মাঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজারো নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন। এসব ঘটনায় স্বজনদের চোখের পানি এখনো শুকায়নি।
তিনি আরো বলেন, যারা দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন, বাড়িছাড়া ছিলেন কিংবা স্বজন হারিয়েছেন, তাঁরা এসব কর্মকাণ্ড মেনে নেবেন না।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, ভালুকা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান মজু, গোলজার হোসেন, অ্যাডভোকেট উসমানগনি মাখন ও শাখাওয়াত হোসেন পাঠান।
এ ছাড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আসাদ উল্যাহ চৌধুরী ধ্রুব, সদস্যসচিব তোজাম্মেল হক বকুল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সৌমিক হাসান সুহাগ, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. সুজন, মহিলা দলের সভাপতি শামীমা রমিদ, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারু, সংসদ সদস্যের সহকারী এফ এম শরিফুল আলম সোহেলসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।
পরে ভালুকা সরকারি কলেজ মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।