বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শরীয়তপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা পরিষদের বিএনপির মনোনীত সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং আগামীতে মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহবুব মোর্শেদ টিপুর নেতৃত্বে এ র্যালি ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা অংশ নেন।নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন শহরের প্রধান সড়কগুলো।
দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ‘জনতার চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিত মাহবুব মোর্শেদ টিপুর নেতৃত্বে আয়োজিত র্যালিতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন।
র্যালি শেষে নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও কারা নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা মাহবুব মোর্শেদ টিপু নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব। এর আগে গত রোববার পৃথক দুটি আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন, বেগমগঞ্জের মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলাম ও বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার।
বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের নৈতিক স্খলন এবং তাদের অশালীন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন বিধি মোতাবেক তারা খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে ওই দুই শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তদন্ত করা হয়। পরে তাদের নিজ কর্মস্থল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবিএম সাইফুল ইসলামকে দূরবর্তী বালুচরা সমাজ কল্যান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জেসমিন আক্তারকে ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেওয়া হয়। যদিও কাগজপত্রে তাদের কর্মস্থল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০২৬ সালের আগস্টের শেষের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ধারণ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় চলাকালে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষেই ওই দুই শিক্ষক অবস্থান করছিলেন। ওই সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভালুকা উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে বৃষ্টিস্নাত রাজপথে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। টানা বৃষ্টির মধ্যেও নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে র্যালিটি পরিণত হয় উৎসবমুখর এক জনসমাবেশে।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু'র নেতৃত্বে র্যালিটি ভালুকা সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়। পরে বৃষ্টির মধ্যেই নেতাকর্মীদের স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত র্যালিটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবর রহমান মজু, গোলজার আহমেদ, সাখাওয়াত পাঠান ও উসমান গনি মল্লিক মাখন এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষকদল, শ্রমিকদল ও মহিলাদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।
বৃষ্টির ধারাকে উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে ভালুকার রাজপথে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই র্যালি রূপ নেয় স্মরণীয় এক রাজনৈতিক আয়োজনে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুরে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
প্রথমে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শ্বশুরবাড়ী দিনাজপুরে হওয়ায় এ জেলার সঙ্গে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ঐতিহ্যগত সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা এবং দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকারকারী নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে দলের বহু নেতাকর্মী শাহাদাতবরণ করেছেন, অনেকে কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অনেকে অসুস্থতা ও পঙ্গুত্বের কারণে কষ্টের জীবনযাপন করছেন।
বিগত ১৯ বছরে বিএনপির ৮০০-এর বেশি নেতাকর্মী গুম হয়েছেন—এমন দাবী করে তিনি এসব নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের দায়ীত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন। দেশের পুনর্গঠন ও আধুনিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরবর্তীতে তিনি কাজ করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের পর বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিভেদ ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবে না এবং সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের অগ্রগতিতে কাজ করতে পারবেন।
যুবসমাজের প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে তরুণদের কর্মক্ষেত্রে হতাশা থাকবে না এবং তাঁরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।
দিনাজপুরের কৃষি ও সার সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দিনাজপুর কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জেলার কৃষকেরা যথাসময়ে সার পাওয়ার ব্যবস্থা পাচ্ছেন এবং সার নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও তিনি বক্তব্য দেন। এ সময় বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান সমস্যার জন্য পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সমস্যাগুলো নিরসনে কাজ করছে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী (পিনাক)।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি। তিনিও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. মোকারম হোসেন, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম গুরু, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান চৌধুরী, সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু, আখতারুজ্জামান জুয়েল ও মাহবুব আহমেদ, প্রচার সম্পাদক মো. বাবু চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম মুন্না ও আনিসুর রহমান বাদশা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক মো. আক্তার, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. রেজা, সাবেক জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সাবেক জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোস্তফা কামাল মিলন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন মণ্ডল বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কাইয়ুম, রংপুর বিভাগীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মন্নাফ মুকুল, জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসু খাঁন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম, জেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল আহ্বায়ক মোঃ জোবায়দুল রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদ, সভাপতি মোঃ খলিল পৌর মৎস্যজীবী দল, জাতীয়তাবাদী পৌর তাঁতীদলের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি কাজী কামরুল ইসলাম এবং জেলা মহিলা দলের সম্পাদিকা শাহীন সুলতানা বিউটিসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তব্য শেষে বর্ণাঢ্য র্যালি
আলোচনা সভা ও নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শেষে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে বেলুন ও সাদা পায়রা আকাশে উড়িয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
র্যালিটি দিনাজপুর শহরের লিলির মোড়, ভুট্টি বাবুর মোড়, নিমতলা মোড় ও মডার্ন মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে র্যালিটি দিনাজপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
বিএনপির নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
দলটির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ও বিরোধী দলে থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রুহিয়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়।
পরে রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন, রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইন্তাজুল হক, রুহিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি লুৎফর রহমান, রুহিয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের সভাপতি রহিমা খাতুন, রুহিয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি আনার আলী, রুহিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বেলাল হোসেন, রুহিয়া ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের অন্যতম সদস্য রেজওয়ানুল বিশ্বাস রাহী প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলের ভূমিকা তুলে ধরেন। এ সময় রুহিয়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫৫টি ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগে তিনটি মামলা রয়েছে। (১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার) ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১০ লাখ টাকা ইয়াবা বিক্রির বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সালন্দর ইউনিয়নের চেরাডাঙ্গী বাজারসংলগ্ন নয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় মো. আসাদুজ্জামান (৩৮) ওরফে দুলালকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার কচুবাড়ি ভাটা এলাকায়। পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে লুঙ্গির ডান কোচর থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকাসহ আশপাশে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন।
অন্যদিকে, সোমবার দুপুরে হরিপুর থানার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) বিলগামী নয়াবাশ এলাকায় অভিযান চালায় হরিপুর থানা-পুলিশ। সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন মো. নাজির হোসেন (৫৫)। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, নাজির হোসেনের কাছ থেকে ১৪৫টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রী মোছা. নাজমা বেগম (৪৮) সেখানে একটি শপিং ব্যাগ নিয়ে এলে সেটি তল্লাশি করে নগদ ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই টাকা মাদক বিক্রির।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজির ও নাজমা দীর্ঘদিন ধরে হরিপুর ও আশপাশের এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, নাজমা মাদক ব্যবসায় অর্থের জোগান ও সহযোগিতা করতেন। তাঁদের সঙ্গে মাদক সরবরাহকারী, ক্রেতা ও সহযোগী আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগে তিনটি মামলা রয়েছে। হরিপুর থানায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে এবং ঠাকুরগাঁও সদর থানায় আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আখ রোপণ
ঠাকুরগাঁও চিনিকলে আখ রোপণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। (১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার) সদর উপজেলার চিলারং এলাকার চাষী মো: ফয়েজ উদ্দিনের জমিতে রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ।
এ সময় চাষীদের উদ্বুদ্ধ করতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে রাজশাহী সুগার মিল হতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে আখ রোপণ ২০২৬-২০২৭ মৌসুমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডবোকেট মো: শামছুজ্জামান সুরুজ।
ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হুমায়ন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ বিএসএফআইসি’র টেকনিক্যাল সার্ভিস (টিএস) প্রধান কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হক। এছাড়া সভায় সুগার মিলের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কৃষক গণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সুগারমিল কর্তৃপক্ষ জানায়, একটা সময় আখ চাষ থেকে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও ভালো দামের কারণে আবার আশাব্যঞ্জকভাবে আখচাষে ঝুঁকছেন। মিল জোন এলাকায় এবার আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার একর জমি। আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লক্ষ মেঃ টন, চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩শত মেঃ টন।