জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা তারেক রহমানের। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারা।


১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।


দেশের স্বাধীনতার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে তিনি প্রেরণা জুগিয়েছিলেন।


দেশের এক ভয়াবহ ক্রান্তিকালে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে দেশে যে অনাচার, অবিচার, গণতন্ত্র হরণ, হত্যা এবং মানুষের কথা বলা ও চলাচলের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তিনি সেগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।


শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও গণতন্ত্র এই তিনটি প্রত্যয় সামনে রেখে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ চেতনাকে ধারণ করে তিনি দেশকে উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।


সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।


আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ এতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পোস্টার প্রকাশ করা হবে।


এছাড়া বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।


অনুরূপভাবে সারাদেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর ইউনিটগুলো ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর। ৪৮ বছরে এসে বিএনপি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে, যার সঙ্গে দলটির অতীতের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে কিছু ভিন্নতা আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য– নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক অবস্থা। গত ৪৮ বছরে বিএনপির নেতৃত্বের তিনটি প্রধান পর্যায় স্পষ্ট। 


প্রথম পর্যায় জিয়াউর রহমানের; যেখানে দলটি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি তৈরি করে। দ্বিতীয়টি খালেদা জিয়ার আমল, যেখানে বিএনপি নির্বাচনী রাজনীতি এবং তাঁকে কেন্দ্র করে একটি গণদলে রূপান্তরিত হয়। পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করে। তৃতীয় পর্যায়টি শুরু হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বের পর তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হন। এরপর বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।


এটি বিএনপির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। একদিকে দল ও সরকারে তারেক রহমানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা,  অন্যদিকে প্রবীণ নেতৃত্বের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়া– এই সমন্বয় আগামী দিনের বিএনপির চরিত্র নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।   


রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি কয়েকবার ক্ষমতায় গেছে; ক্ষমতা হারিয়েছেও। দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থেকেছে, আন্দোলন করেছে এবং কঠিন রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করেছে। কিন্তু এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলাদা। প্রায় দুই দশক পর বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে, আর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে এটি দলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। 


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অতীতের অর্জন নয়; বরং ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি কীভাবে নিজেকে প্রমাণ করবে– সেটিই। রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি দলের রাজনৈতিক সক্রিয়তা জরুরি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির ২০৯ আসন অর্জন শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়; এটি বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একটি বড় পালাবদল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় তৈরি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সামনে এখন বিএনপির রাজনীতি। 


দলের নানা পর্যায়ে এই আলোচনা দানা বাঁধছে যে, সরকার পরিচালনার ব্যস্ততায় বিএনপি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের দিকে কম নজর দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের মতো শক্ত প্রতিপক্ষ মাঠে না থাকাও এর আরেকটি কারণ বলে মনে করেন দলের কেউ কেউ। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন মন্ত্রী-এমপিকেন্দ্রিক এবং সেখানে রাজনীতি নয়; এমপির পছন্দ-অপছন্দই প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে বিষয়টি মানতে রাজি নন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেন, যারা নেতা, তারাই তো এমপি-মন্ত্রী। স্থানীয় সরকারে প্রশাসকের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের অনেকেও রাজনৈতিক নেতা। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুব সতর্ক। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানে বলছেন, সরকারের কাজে দলের সহযোগিতা লাগবে, কিন্তু দল যেন সরকারের ভেতরে ঢুকে না যায়।


বিএনপির চেয়ারম্যান গত ৪ জুলাই থেকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা জেলা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে তৃণমূলের দলকে শক্তিশালী করা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির নেতাদের অনেকের ধারণা, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সংগঠন যে কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে– দলের শীর্ষ নেতৃত্বও তা উপলব্ধি করছেন।


সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এ সময়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা হয়েছে চারটি। দেশজুড়ে দলটির ৮২ সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি আর ৩১টিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে। এর মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র আট জেলা ও মহানগর কমিটির। ৭২ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। স্থগিত রয়েছে শেরপুর জেলা কমিটি। 


সাংগঠনিক গতি বাড়ানোর লক্ষ্য গত ১৫ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চারজনকে পদায়ন করা হয়। এ নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে ১১টি। সবকটির কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা হয়নি। ছাত্রদলের বর্তমান কমিটিকে বিদায় জানানো হয়েছে এক মাস আগে। সেই কমিটিও আটকে গেছে। 


দলটির জাতীয় কাউন্সিল নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দুই বছর মেয়াদি ওই কেন্দ্রীয় কমিটি ১০ বছর পার করলেও নতুন কাউন্সিল করতে পারেনি। এ বছরের মধ্যে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দিলেও কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। সারাদেশের জেলা ও মহানগর ছাড়া থানা-উপজেলা কমিটিরও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। 


জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হলে সেটিকে কেন্দ্র করে জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলগুলো সম্পন্ন করার কাজ শুরু হয়ে যাবে। যেসব জেলা, থানা ও ইউনিটে কাউন্সিল বাকি আছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া কর্মিসভা ও ওয়ার্কিং মিটিংয়ের মতো কার্যক্রমও চলবে। 


বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এর তৃণমূল সংগঠন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই সংগঠন আবার ভোটের মাঠে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সরকার পরিচালনার সময় তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো তরুণ ভোটার। ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রত্যাশা আগের চেয়ে অনেক বেশি। তারা শুধু দলীয় পরিচয় নয়; চাকরি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চায়।


এসব মোকাবিলায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে ত্যাগী নেতাকর্মী দরকার। কিন্তু অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দলের ভেতরে নবাগত ও হাইব্রিড নেতাকর্মীর আনাগোনা বাড়ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগসহ অন্য দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের ঘটনা ঘটছে। 


বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দল ক্ষমতায় গেলে সব সময় কিছু লোক ফায়দা লুটতে চায়। এদের কারণে দলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়ন পান না। নেতাকর্মীরা বলছেন, ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে ক্ষমতায় আসে। এ জন্য জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়াসহ চড়া মূল্য দিতে হয়েছে নেতাকর্মীদের। তখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছিলেন, ‘মিছিলের শেষ কর্মীকেও মূল্যায়ন করা হবে।’ অনেকের অভিযোগ, এখন মূল্যায়নে ত্যাগীরা পিছিয়ে পড়ছে। 


বিষয়টি মানতে নারাজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দল যখন সরকারে যায়, তখন দল সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। তার মানে এই নয়, দল সরকারে ঢুকে গেছে। তবে সরকার গঠনের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা ঢেলে সাজাতে পারিনি, এটা সত্য। এখন আমরা অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠনসহ দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।


বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৬ পিএম

জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বাণীতে জনগণের প্রতি সরকারের অবস্থান তুলে ধরেতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেছেন।  


তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।


৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দলের প্রধান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।


দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই পটভূমি তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।


নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি যিনি তাঁর সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।


বানীতে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।


তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, আমি সকল পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।


বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে। 


দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ শাসন-শোষনের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।'


  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৬ পিএম

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদাহরণ টেনে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।


হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করছি।’


হাসনাত আরও লিখেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা, সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় আসলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। সেখানকার আলেম-ওলামাদের ওপর দিয়েছেন। তাদের ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে ক্ষুণ্ন করেছেন।’


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার খবর মিডিয়ায় যেভাবে এসেছিল, বাস্তব চিত্র তা থেকে আলাদা ছিল দাবি করে ফেসবুক পোস্টে হাসনাত লেখেন, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। তাই শিক্ষার্থীরা শব্দ কমাতে বলে। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে। কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন পুলিশের লাঠিপেটায়। 


তিনি আরও লিখেছেন, ‘মিডিয়া ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলেও ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা স্পষ্ট, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি। তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। এর মানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়, যেমনটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন। যার মাধ্যমে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ সম্পর্কে ভুল বার্তা দিয়েছিলেন, তাদেরকে ছোট করেছিলেন। অন্যদিকে নৌকাবাইচের বিষয়টিতে স্থান নিয়ে আমার তথ্যগত ত্রুটি হয়েছে। সিলেটের জায়গায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলি। এই ত্রুটিতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমি বিব্রত। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’


মূল ঘটনা কী ছিল, মিডিয়া কী ফ্রেমিং করেছে, সেটা নিয়ে সংসদে কথা বলা উচিত ছিল বলেও উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি জানান, সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমাবদ্ধতার কারণে বিস্তারিত বলার সুযোগ ছিল না।


হাসনাত আরও জানান, ‘জুলাই একটা সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে, এবং কেউ কারও মত বা দৃষ্টিভঙ্গি আরেকজনের ওপর চাপিয়ে দেবে না। বিতর্ক থাকবে, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকবে, কিন্তু কেউ কাউকে জোর করবে না তার মতামতকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য মতামত হিসেবে গ্রহণ করতে। জুলাই এই কমন মিনিমাম গ্রাউন্ডের ঐক্যের প্রতীক। এই আদর্শের প্রতি আমি কমিটেড ছিলাম, আছি, থাকব।’


এনসিপির এই নেতা পোস্টে আরও লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, যদি কোনও গ্রুপ বা ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে কারও ওপর জোর খাটান কাউকে বাধ্য করেন নিজের মতামতকে চাপিয়ে দিতে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব সেটাকে প্রতিহত করা, সকল মানুষের সমান অধিকারকে নিশ্চিত করা। সরকার যখন সেই দায়িত্ব পালনে দ্বিধা করে, অস্বীকৃতি জানায়, তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে, সরকারের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হয়। আমি এই কথাটাই সংসদে বলতে চেয়েছি।’


হাসনাত আরও লেখেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার, যেখানে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে। সব ধর্মের, মতের মিলনস্থল এই বাংলাদেশ। যার যেটা পছন্দ হবে, সে সেটায় যাবে, অংশ নেবে, যার যেটা পছন্দ হবে না, সে সেটায় যাবে না। আর সরকার এইটুকু নিশ্চিত করবে, কেউ যেন আরেকজনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, এমন কিছু করতে না পারে। আজকে সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না এবং তার ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে।’


কেন দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত


গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে একটি সম্পূরক প্রশ্ন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না- সে প্রশ্ন রাখেন এনসিপির এই নেতা।


হাসনাতের এই বক্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। তারা হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বক্তব্যের জন্য তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন।


এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেককে হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনা করতে দেখা গেছে। অনেকে করছেন কটূক্তি। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন। এনসিপির পক্ষ থেকেও হাসনাতের দুঃখপ্রকাশের কথা শেয়ার করে সেটা ফটোকার্ড করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৫ পিএম

বাংলাদেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে যারা গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব ঘটনারও বিচার করা হবে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।


ইশরাক হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার উদ্যোগে ৩০ আগস্ট সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশেও বিগত বছরগুলোতে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বিএনপির বহু নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো সরকারি দল হিসেবে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে বিএনপি।


তিনি বলেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবার সরকারি দল হিসেবে আমরা এই দিবসটি পালন করতে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দিবসটি পালন করা হবে।


প্রতিমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


ইশরাক বলেন, ‘আমরা বার্তাটি দিতে চাই, বাংলাদেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে। আমরা সেই ভয়াবহ, ভয়াবহ একটি কালো অধ্যায় অতিক্রম করেছি। আগামী দিনে একটি ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’


তিনি আরও বলেন, ‘গুম, বলপূর্বক গুম, অন্তর্ধান-যে নামেই আমরা ডাকি না কেন, এ ধরনের ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কখনো বাংলাদেশে সংঘটিত হবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার, আমরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই বিগত দিনে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিচার আমরা করবো। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে চলেছে।’


আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার প্রসঙ্গে


এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অভিযুক্তদের বিচার করা হবে।


তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের দাবি, তাদের সর্বোচ্চ বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সেই শাস্তি কার্যকর করা। আমরা সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’


অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আটক রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, ‘তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশীভূত হয়ে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।’


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে দেশে গুম বা নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটবে না এবং রাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।


হাসনাত আব্দুল্লাহ

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১৫ পিএম

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। বক্তব্যের জন্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। রাতে শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়।


মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এ সময় তারা হাসনাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বক্তব্যের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।


বক্তারা বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হতে দেওয়া হবে না।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় সরকারের সমালোচনা করেন।


 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


রাশেদ খান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়েই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ছক কষছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। 


জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের জেরে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।


ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, "বিরোধীদলের সাথে সরকার যে আচরণ করছে, তা আওয়ামীলীগও করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। আমি আগেই বলেছিলাম, ভবিষ্যতে জামায়াত-এনসিপি আওয়ামীলীগকে সাথে নিয়েই আন্দোলন করবে। এমপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যে সেটি স্পষ্ট হলো।"


বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও লেখেন, "সেপ্টেম্বর-নভেম্বর লংমার্চের মাধ্যমে দেশকে অশান্ত করে, ডিসেম্বর থেকে আওয়ামীলীগসহ নামবে জামায়াত!"


চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি নেতা রাশেদ খান জামায়াতের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, "তাহের সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ এর অধিক শহীদ, ৩০০০০ আহত যোদ্ধার রক্ত জামায়াতের কাছে কিছুই না! আসলেই তো এর থেকে বেশি রক্ত ৭১ এ ঝরিয়েছে জামায়াত! আর এজন্য জামায়াতের তুলনায় আওয়ামীলীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়! তা নাহলে ২৪ এর গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগও জামায়াতের উপর দমন করে নি, একথা বলে কিভাবে?"


বিগত সরকারের মেয়াদে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও দাবি করেন, "সত্যি বলতে, জামায়াত তো বিগত ১৬ বছর আওয়ামীলীগের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল, তাদের সাথে আওয়ামীলীগ কেন খারাপ আচরণ করবে? প্রতিদান স্বরুপ আওয়ামীলীগের অপরাধকে নরমালাইজ করতে তাহের সাহেবরা মাঠে নতুন বয়ান ছাড়ছে..... আর পাশে দাঁড়িয়ে সেগুলো উপভোগ করছে নাহিদ ইসলাম!"


পোস্টের শেষে তিনি "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" স্লোগান দিয়ে নিজের বক্তব্যের ইতি টানেন।