সাবেক ইউপি সদস্য ছুরমান রেজা
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দরুণ এলাকার পরিত্যক্ত একটি ফিলিং স্টেশনে আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছুরমান রেজা নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ছুরমান রেজা সদর উপজেলার ভাটচান্দা গ্রামের হানিফ রেজার ছেলে ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য।
এ বিষয়ে ছুরমান রেজার ভাই হালিম রেজা জানান, তিনি ব্যবসার পাশাপাশি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কি থেকে কি হলো কিছুই বুঝতে পারছেন না। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্বৃত্তদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মূল রহস্য জানানো যাবে।
২২ বছর পর এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এইচ এস সি পরীক্ষায় ফল বিপর্য়য় হয়েছে। ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৯৩জন শিক্ষার্থী। সে বছরের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এবছর এসে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাদের প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪জন। সে হিসেবে, ৪ হাজার ২৮৯ শিক্ষার্থী তাদের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। অর্থাৎ ২০২৪ সালে যারা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল তারা এইচএসসিতে এসে কাঙ্খিত ফল অর্জন করতে পারেনি। কেবল তারাই যে খারাপ ফল অর্জন করেছে, তা নয়। তাদের থেকে তুলনামূলক কম মেধাবীরাও ফল খারাপ করেছে।যার প্রভাব পড়েছে এ বছরের গড় ফলাফলে। এবার সিলেট শিক্ষাবোর্ডের দুই দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল। এবছর সিলেটে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত বছরও ছিল প্রায় কাছাকাছি ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশী ছিল। এর বাইরে ইংরেজি, আইসিটি, ভূগোল, রসায়ন বিষয়ে তুলনামূলক কম পাস করেছেন পরীক্ষার্থীরা। যার ফলে ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। কিন্তু শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিকতা ও পাঠগ্রহণের মাত্রা অনুধাবন না করেই প্রশ্নপত্র তৈরি করায় সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে ফলাফলে। এছাড়াও সার্বিক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এর বাইরে শ্রেণি কক্ষে পাঠবিমুখতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবেই শিক্ষার্থীরা তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি বলেও মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। তবে শিক্ষকরা বলছেন, এবারের ফলাফলই সঠিক চিত্র। বিগত ১৫–১৬ বছরের ঢালাওভাবে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিল থেকে দূরে সরে গেছে। এবার কোনো কৃত্রিম নম্বর না দিয়ে প্রকৃত ও সঠিক মূল্যায়ন করার কারণে ফলাফলে এই বিপর্যয় ঘটেছে। শুধু সিলেট বোর্ড নয়। সারা দেশের গড় ফলাফল খারাপ হয়েছে। দেশের ১১ টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০২৫ সালের এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সালে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা বেড়ে ২০১০ সালে ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশে পৌঁছায়। ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যা করোনা মহামারির আগের সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাসের হার কিছুটা কমে। তবে করোনা মহামারির সময় পরীক্ষাপদ্ধতি ও মূল্যায়নে পরিবর্তন আসে। যার কারণে ২০২০ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল শতভাগ। পরবর্তী বছরগুলোতেও সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও বিশেষ মূল্যায়নের প্রভাবে পাসের হার তুলনামূলক বেশি ছিল। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৮০ থেকে ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশের মধ্যে ছিল। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে ২০২৫ সালে। ওই বছর পাসের হার নেমে দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশে। সেই ক্ষতকে আরও গভীর করেছে এবছরের ফলাফল। গত বছরের তুলনায় পাসের হার আরও কমে হয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ টানা দুই বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছেন এবং কোন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হবে। ফলাফলের এই অবনতির কারণ চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন জানান, পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। এর বাইরে ইংরেজি, আইসিটি, ভূগোল, রসায়ন বিষয়ে তুলনামূলক কম পাস করেছেন পরীক্ষার্থীরা। যার ফলে ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট নগরীর কলেজের শিক্ষক ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক বলেন, বর্তমান ফলাফলটিই মূলত বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রকৃত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। বিগত বছরগুলোতে পাসের হার ছিল মূলত লোক দেখানো এবং কারসাজিপূর্ণ।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে খাতা মূল্যায়নের সময় কোনো শিক্ষার্থী কম নম্বর পেলেও তাকে বাড়িয়ে ৩৩ নম্বর দিয়ে পাস করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ছিল। যার কারণে বছরের পর বছর ধরে পরীক্ষা দিলেই পাস করা যায়-এমন ধারণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এজন্য শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি এবং পড়ার টেবিল থেকে দূরে সরে গেছে। এই দীর্ঘদিনের ‘ওভারমার্কিং’ অনুশীলনেরই একটি বহিঃপ্রকাশ হলো এই ফল বিপর্যয়। তিনি বলেন, চলতি বছর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো কৃত্রিম নম্বর যোগ করা হয়নি, শিক্ষার্থী যা পেয়েছে তা-ই রাখা হয়েছে। যার কারণে প্রকৃত মূল্যায়নের ধারায় ফেরায় ফলাফলে এই পরিবর্তন এসেছে।
সিলেটের মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সামগ্রিক সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার ঘাটতির কারণে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ‘শ্রেণীবিমুখ সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে। ক্লাসে উপস্থিত না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা পাঠবিমুখ হয়ে পড়ছে এবং পরীক্ষার খাতায় লিখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষে সঠিক পাঠদান, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ ও নিষ্ঠার সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কিছু শিক্ষকের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। কিছু শিক্ষকের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে না পড়িয়ে নিজেদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে পড়ানোর এক ধরনের বাণিজ্যিক প্রবণতাও তৈরি হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করছে।
প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গির উপর প্রশ্ন তোলে আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, ‘কিছু প্রশ্ন প্রণেতা অতি কঠিন প্রশ্ন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদেরকে আমি ‘তৃতীয় শ্রেণীর প্রশ্ন প্রণেতা’ হিসেবে আখ্যা দিতে চাই। কারণ একজন উত্তম প্রশ্ন প্রণেতা তিনি, যার প্রশ্নের উত্তর অন্তত ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী দিতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মানসিকতা ও পাঠগ্রহণের মাত্রা অনুধাবন না করেই প্রশ্ন তৈরি করায় এই সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে।
সিলেটের এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ তোফায়েল আহাম্মদ জানান, সিলেটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশমুখী প্রবণতা ও আরও কিছু কারণে পাঠবিমুখতা রয়েছে। এছাড়াও মানসম্মত শিক্ষকের অভাবও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তাছাড়াও এ বছর উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলে বিশেষ করে অভিভাবকরা অন্যদের বিদেশে যাওয়া বা সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে নিজেদের সন্তানদের সঙ্গে তুলনা করেন। যা শিক্ষার্থীদের মানসিক বল ভেঙে দেয়। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপ ও হতাশায় ভোগে। ফলাফলে এসবের প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
মুন্সিগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জাহেদ বেপারী (৫০) নামের এক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটিহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত জাহেদ বেপারী আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রতিপক্ষ জাহেদকে অতর্কিতভাবে কুপিয়ে জখম করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী বেবী বেগম জানান, প্রতিপক্ষ ফরিদ হোসেন ও তার সহযোগীরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তারা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভিড়ে এলাকায় নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। মূলত জাহেদ ও ফরিদ অতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুই সাবেক সংসদ সদস্যের সমর্থক হওয়ায় সেই সময় থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।এছাড়া রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি আগামী শুক্রবার ভিটিহোগলা গ্রামের একটি মাজারের ওরস আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধের জেরেও এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পরিবার।
বাবার নির্মম হত্যার বিচার চেয়ে নিহতের বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার বলেন, ‘তিন বোনের সামনে আমার বাবাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আমরা তিন বোন চিরদিনের জন্য এতিম হয়ে গেলাম। চোখের সামনে বাবাকে কুপিয়ে মারতে দেখলো আমার প্রতিবন্ধী বোন মারিয়া ও ছোট বোন ইমা। আমরা এই স্মৃতি কীভাবে ভুলব? এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন জানান, পূর্ববিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে এবং একাধিক বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফরিদ বেপারীকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত ফরিদের বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যা ও মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
শহীদ আলম
পঞ্চগড়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তান শহীদ আলম (২৫)। পেশায় একজন চাতাল শ্রমিক। হৃদযন্ত্রের দুটি ভালভ নষ্ট হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিনি। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। কিন্তু অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তার বাবা নুর ইসলাম।
শহীদ আলম পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। কিছুদিন আগে চাতালে কাজ করার সময় হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। একই সঙ্গে শুরু হয় রক্তবমি। দ্রুত তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পাঠানো হয় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে।
সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. আসিফ আহসান চৌধুরী জানান, শহীদের হৃদযন্ত্রের দুটি ভালভ নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। আগামী এক মাসের মধ্যে অস্ত্রোপচার করা জরুরি বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
শহীদের বাবা নুর ইসলাম বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুর ও ঢাকায় এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বাড়ির একমাত্র সম্বল গরু ও হাঁস-মুরগি বিক্রি করে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলেকে বাঁচাতে হলে দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাব, তা বুঝতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাইছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমার ছেলেটি হয়তো নতুন জীবন ফিরে পাবে।”
অসহায় বাবার আকুতি, সামর্থ্যবান মানুষের সামান্য সহযোগিতাই পারে শহীদের জীবন বাঁচানোর স্বপ্ন পূরণ করতে। তাই শহীদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি মানবিক আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার।
আর্থিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ:
মোবাইল নম্বর: ০১৮৪৫-০১৬১৪৮
ছবি : সংগৃহীত
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আবারও শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কারখানায় হাজিরা দেওয়ার পর শ্রমিকদের একটি অংশ বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা আশপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও কাজে যোগ না দিতে বাধ্য করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পুলিশ কয়েকটি পয়েন্ট থেকে তাদের সরিয়ে দেয়।সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করে কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করেন। এরপর তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার প্রধান ফটকে জড়ো হন। সেখানে অন্য শ্রমিকদেরও কারখানা থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি হলে বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে শতাধিক কারখানার শ্রমিক সড়কে নেমে আসেন।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ কয়েকটি পয়েন্টে ধাওয়া দিয়ে তাদের সরিয়ে দিলে শ্রমিকেরা বিভিন্ন শাখা সড়কে অবস্থান নেন।
শ্রমিকদের দাবি, মজুরি বোর্ড আগামী ডিসেম্বরে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও কত টাকা বেতন বাড়ানো হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।এদিকে গতকাল সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ এবং পুলিশভ্যান ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাভার শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে। তবে নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের পর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সড়কে বিক্ষোভের পরিবর্তে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দলবেঁধে কারখানায় প্রবেশ করছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের উপস্থিতিতে ফিরতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চলের কর্মচাঞ্চল্য।
আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কোনো মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের পাঁচ প্লাটুন ও এসআরবির আট প্লাটুন সদস্য রয়েছেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের নামে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।
এর আগে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।
টানা আন্দোলন ও সংঘাতের কারণে শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আন্দোলন চলাকালে মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক হোসেন শেখ নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
কয়েক দিনের উত্তেজনা ও অস্থিরতার পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার আভাস মিলছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নোয়াখালীর সেনবাগে পিকআপের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সৈয়দ নুর (৩৩) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপের চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান কামাল। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার সৈয়দ নুর কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ৫ নম্বর নিলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিকদারপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মাদকের একটি বড় চালান নোয়াখালীর দিকে আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় রাত সোয়া ১টার দিকে টেকনাফ থেকে আসা একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে পিকআপের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সৈয়দ নুরকে গ্রেপ্তার করা হলেও চালক পালিয়ে যায়।
ওসি মো. শাহজাহান কামাল আরও বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সেনবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।