নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভা
আগামী ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর করতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন মালিক পক্ষ। বুধবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য গঠিত হওয়া নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় মালিক পক্ষ এ দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন বলে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠক শেষে জানিয়েছেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের অফিসে বুধবার সকাল ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বরে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে। জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন মজুরি হাতে পাবেন বলে একমত হয়েছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি।
পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন এ সিদ্ধান্তে একমত প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাবুল আক্তার। এ সময় শ্রমিকদের কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এ শ্রমিক নেতা।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। ঢাকার আশুলিয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ করে আসছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানানো হলেও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাদের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে জেলার বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) করা হয় শেখ আশফাকুর রহমানকে। বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। আজ মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হয়েছে। পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে ঢাকার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাজুসের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-সংক্রান্ত এক সভায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।
বাজুস জানিয়েছে, আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বোর্ডের কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় এ সভা শুরু হয়। সভাটি বুধবার বিকেল ৩টায় হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সময় পরিবর্তন করা হয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে সভার সময় পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শ্রমঅসন্তোষ ও মজুরি প্রসঙ্গে কথা বলেন। এ মাসের মধ্যেই মজুরিকাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ বুধবারের মধ্যে মজুরি বোর্ডের বৈঠক ডাকতে সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি।
গত রোববার (১ নভেম্বর) তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সেদিন সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব।
অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
এ ছাড়া বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়।
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে। বুধবারের মধ্যেই বৈঠকের নোটিশ দেবে নিন্মতম মজুরি বোর্ড। মজুরি বোর্ডের একজন সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার তারা প্রথম বৈঠকে বসবেন বলে আশা করছেন। কারণ, তারপর দুই দিন সরকারি ছুটি। বৃহস্পতিবার বৈঠক না হলে অনেক দেরি হয়ে যায়।
তিনি জানান, বোর্ড গঠনের পর গত তিন দিনেও বৈঠক না হওয়ায় শ্রমিক নেতাসহ বিভিন্ন পক্ষের চাপ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা বলেন তিনি।
জানতে চাইলে নিন্মতম মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজ বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার কিংবা আগামীকাল বুধবারের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে মজুরি পুনর্নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকের নোটিশ জারি করা হবে।’ মঙ্গলবার পর্যন্ত বৈঠকের নোটিশ জারি করা হয়নি। ফলে বুধবার এ ব্যাপারে নোটিশ জারির বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।
রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব।
অন্যদিকে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
এছাড়া বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ নামে এ কর্মসূচির আওতায় দেশের অবশিষ্ট ৫৬ জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) শুরু হওয়া এ আবেদনপ্রক্রিয়া চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ কর্মসূচির আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। ঋণ ও অনুদানের অর্থ এককালীন একসঙ্গে দেওয়া হবে। অনুদানের অর্থের জোগান আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে।
আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তারা নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে পারবেন। আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে।
এর আগে কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে আবেদন গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ওই কার্যক্রমে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়ে।
জেলাভিত্তিক আবেদনের মধ্যে নেত্রকোণায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩৫১টি, রংপুরে ২ হাজার ৭৪৫টি, নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৫৫২টি, ভোলায় ১ হাজার ৫৪৫টি, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৩৪৩টি এবং ফেনীতে ১ হাজার ২৬১টি আবেদন জমা পড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মসূচিটির নাম ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’। এর লক্ষ্য উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা, প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচন এবং অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
ঋণ প্রদানের বাছাইপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছিলেন, যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি থাকবে। ব্যাংকারদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরাও কমিটিতে থাকবেন। তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতে উদ্যোক্তাদের নির্বাচন করে অর্থায়ন করা হবে।
কর্মসূচির নীতিমালা গত ১৩ সেপ্টেম্বর এসএমইএসপিডি সার্কুলার নম্বর-০৫-এর মাধ্যমে জারি করা হয়েছে। বিস্তারিত নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd) এবং এসএমই পোর্টালে (www.bb.org.bd/smespd_portal) পাওয়া যাবে।
টেকসই পর্যটনের সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক দিকগুলো সমন্বয় করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কীভাবে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সফলভাবে শেষ হলো বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত তিনদিনের মেলায় এবার মোট বিক্রয় ও বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৪৩ কোটি টাকা। এছাড়াও, এই সময়ে প্রায় ৪৫ হাজারের মতো দর্শনার্থী মেলা পরিদর্শন করেছে। এবারের মেলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স টিকিট বিক্রিতে বেশ সাড়া পেয়েছে।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিন দিনের এই মেলা শেষ হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসি, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, টোয়াবের সভাপতি ও নেতৃবৃন্দ এবং দেশি-বিদেশি পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই লক্ষ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে আমরা এভিয়েশন খাতকে আরও বিস্তৃত করেছি। ইতোমধ্যে আমরা ট্যুরিজমকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্যে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যেখানে হোটেল ও রিসোর্টগুলোকে নিয়মনীতি, প্রযুক্তি ও টেকসই পরিকল্পনার সহায়তায় পরিচালিত করা হবে। রিসোর্টগুলোতে আমরা বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে সোলার প্যানেল স্থাপন করেছি, ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটের (এনএইচটিটিআই) মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি, পর্যটন গন্তব্যগুলোর ব্যবস্থাপনা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে, আমাদের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ডিজিটাল তথ্যসেবা ও স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও নিয়মকানুনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ও টেকসই করে গড়ে তোলা সম্ভব।”
সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে মেলার মূল আয়োজন স্থান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ‘এআই ফর সাসটেইনেবল ট্যুরিজম অপারেশন’ শীর্ষক এই সেমিনারে বক্তারা পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সেমিনারে আলোচকরা বলেন, পর্যটকদের অনুসন্ধান ও বুকিং ব্যবস্থাপনা, মূল্য নির্ধারণ, ভ্রমণসূচি তৈরি, আতিথেয়তা সেবা উন্নয়ন ও ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এআইয়ের প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়াও, সেমিনার থেকে পর্যটন গন্তব্যে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার, বিমান চলাচলে জ্বালানি সাশ্রয়, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পর্যটনের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে আলোচকরা আরও বলেন, পর্যটন খাতে এআইয়ের কার্যকর প্রয়োগের জন্য পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য, দক্ষ জনবল, উন্নত অবকাঠামো ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। একইসাথে, পর্যটনের মানবিক দিক, আন্তরিকতা, আতিথেয়তা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা অক্ষুণ্ণ রেখে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে টেকসই পর্যটন বিকাশের মূল চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা।
সেমিনারটির সভাপতিত্ব করেন টোয়াবের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাফত উদ্দিন আহমেদ, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বদেশী কমিউনিকেশনসের সিইও সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন মাহমুদ। এছাড়াও, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব পারভেজ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিওয়াইডিএফ) চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান কবির।
টেকসই পর্যটন কেবল পর্যটন শিল্পের বিষয় নয় উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, পর্যটন অর্থনীতি, পরিবেশ ও সমাজের সাথে যুক্ত সব খাতের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ। এআই ব্যবহার করে পর্যটকদের অনুসন্ধান, বুকিং, মূল্য নির্ধারণ, ভ্রমণসূচি তৈরি, আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা ও ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা কমানোর সুযোগ রয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট পর্যাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা, পর্যটকদের আস্থা বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয় ও পরিবেশগত প্রভাব কমানো সম্ভব।
একইসাথে, বিমান চলাচলে এআইভিত্তিক রুট পরিকল্পনা, জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি, আবহাওয়া, সাপ্তাহিক ছুটির দিন, বুকিংয়ের পরিমাণ ও যোগাযোগব্যবস্থার মতো তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করে পর্যটন গন্তব্যগুলোর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা যেতে পারে। এছাড়াও, পর্যটন খাতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ, সমাধানের জন্য একটি টুল পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ, ব্যয় ও পরিবেশগত প্রভাব পরিমাপ ও সফল উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করার মতো ধাপভিত্তিক রূপরেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সেমিনারে পর্যটন খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান তৈরি ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি উঠে আসে। পর্যটনের জিডিপিতে অবদান, পর্যটকদের ধরন ও ভ্রমণ প্রবণতা বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে এআই। তবে এ খাতের টেকসই বিকাশে দক্ষ জনবল, উন্নত অবকাঠামো, কার্যকর নীতিমালা ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অপরিহার্য। টেকসই পর্যটনের সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক, এই তিনটি ভিত্তিকে সমন্বয় করে ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরিতে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যটন খাতকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে আলোচকরা মানবিক অভিজ্ঞতার সাথে এআইয়ের কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানান।
এবারের ১৪তম এই মেলায় নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিনিধি ও সংস্থা অংশ নেয়। এবারের মেলায় পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে ছিল মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল। মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
এছাড়াও, মেলাটির এয়ারলাইন্স পার্টনার হিসেবে ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, জিডিএস (গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম) পার্টনার সেবার, পিআর পার্টনার ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলজি পার্টনার এম৩৬০আইসিটি, ট্রান্সপোর্ট পার্টনার কনভয় সার্ভিস, ডিজিটাল পার্টনার মায়েস্ট্রো, অডিও-ভিজ্যুয়াল পার্টনার প্যানোরামা পিসি ক্রিয়েটরস ও রুচি এবং ভেন্যু পার্টনার বিসিএফসিসি।
‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বিটিটিএফের মেলায় বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি, দেশি-বিদেশি অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।