• প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৮ পিএম

গাজীপুরের সফিপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আজ শনিবার বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।


ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।


এর আগে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসে আগুন লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৩ পিএম

নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারীসহ সাব রেজিস্টারের বিরুদ্ধে দলিল ও নকল প্রতি ঘুষ নেয়াসহ নানা দুর্নীতির অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও খাজনা-খারিজসহ প্রয়োজনীয় জরুরি কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও প্রতি দলিলে মোটা অংকের সম্মানি না দিলে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক দলিলে স্বাক্ষর করছেন না বলে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন দাতা-গ্রহীতারা।


গোপন সূত্রে জানা যায়, দাতা এবং গ্রহীতাদের মধ্যে যারা সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক দলিল প্রতি নির্ধারিত সম্মানি টাকা জমা দিচ্ছেন তাদের দলিলে কোনায় বিশেষ ধরনের চিহ্ন প্রদান করে এজলাসে পাঠানো হচ্ছে। আর যে সমস্ত দাতা ও গ্রহীতারা সম্মানি বা উৎকোচ দিচ্ছেন না, তাদের শতভাগ কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দিচ্ছেন সাব-রেজিস্টার। 


বারাইপুর গ্রামের মজিবুল হক জানান, আমার দলিলে সামান্য একটু দাগের ভুল হয়েছে এ কারণে আমি সাব-রেজিস্টার এবং তার অফিস সহকারিকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। 


আরেকজন সেবা গ্রহীতা জানান, আমি একজন ডাক্তার পরিচয় দেওয়ার পরেও আমার একটা দলিলে সরকারি খরচের বাইরে আরও দুই লাখ টাকা বেশি কমিশন দিতে হয়েছে। 


দলিল লেখক সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য জানান, সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও সাধারণ দলিল নিবন্ধনে ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয় দাতা গ্রহীতাদের। এ ছাড়াও আমমোক্তারনামা ও দানপত্রের মতো বিশেষ দলিলে ক্ষেত্রবিশেষে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়। 


তাছাড়া হেবা ঘোষণা দলিল, সরকারি ফি দলিল লেখক ও সাব রেজিস্টার দাতা গ্রহীতাদের কাছ থেকে জমির মূল্য অনুযায়ী প্রতি লাখে ১-২ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। কমিশন দলিলেও একই অবস্থা। সরকারি ফি ন্যূনতম হলেও নেয়া হয় প্রতি দলিলে ৩০-৪০ হাজার টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশি অ্যামাউন্ট নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। 


বায়না দলিলের সময় এক ধরনের মূল্য দেখানো হলেও মূল দলিলে সরকারের কর ফাঁকি দিতে জমির মূল্য কয়েকগুণ কম দেখানো হয়। এতে সরকারের এ দপ্তর প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ক্ষতির মুখে পড়ছে।


তথ্য বলছে, সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন ম্যানুয়াল-২০১৪ মানছেন না সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্টার সিরাজুল ইসলাম। এ মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই এ অফিসটি ঘুষ ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন তিনি।


সরকারি ফি’র বাইরে ঘুষ না দিলে কোনো কাজ হয় না সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। দলিলের নকল তুলতে সরকারি ফি ২৭০ টাকার বিপরীতে সেবাগ্রহীতাদের গুনতে হয় ২ হাজার টাকা। সরকারি ফি’র বাইরে পুরো টাকাই যায় সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের পকেটে। সাব কবলা দলিলের মূল্য এক হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হলে সরকারি ফি’র বাইরে সেরেস্তা বাবদ আড়াই হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। যদি দলিলের মূল্য এক লাখ টাকা বা অধিক মূল্য হয় তাহলে প্রতি লাখে ৩০০ টাকা করে বেশি দিতে হয়।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে বলেন, বিনিময় দলিল করতে ব্যাংক চালানের পরও অতিরিক্ত চার-পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হককে। বণ্টননামা এবং অসিয়ত দলিলের মূল্যের ওপরও অতিরিক্ত ১ শতাংশ হারে ঘুষ নেন তিনি। আবার নকলে তিনি ২-৩ মাস স্বাক্ষর করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোগান্তির পোহাতে হয় চরমে। এ সব ঘুষের টাকা অফিস সহকারী মোল্লার মাধ্যমে নিচ্ছেন। 


সোনাইমুড়ি দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দলিলের ক্ষেত্রে পে অর্ডার বাদে ২ শতাংশ টাকা হাতে নেওয়ার নিয়ম আছে। এছাড়া আর কোন টাকা নগদ নেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু আমরা অফিসারদের কাছে জিম্মি, তার বিরুদ্ধে কথা বললে অফিস থেকে দলিল লেখকদের বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।


এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্টার সিরাজুল হকের বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন কেটে দেয়। তারপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫১ পিএম

# অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোস পাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স  কিছুই ছিলনা রিসোর্টে  


# বাঁশ কাঠের উপরে থাকার রুম নিচে রান্নাঘর 


# ফ্রিজে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত


কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক এলাকায় বাঁশ-কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টুরেন্টে এন্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আগুনে রিসোর্টটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘেঁষা কাঠ ও বাঁশের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে ছিলনা অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স।


ফ্রিজের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 


আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন ওই রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়।


ফায়ারসার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টা ৫০ পর্যন্ত রিসোর্ট থেকে অন্তত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, আজ সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর দেওয়া হয়। সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। চারজন ব্যক্তি মারা গেছেন তিনতলার দুটি শৌচাগারে।


মোরশেদ বলেন, তীব্র বাতাসে কাঠের রিসোর্টে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোস পাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা দরকার। কিন্তু রিসোর্টটিতে এগুলোর কিছুই ছিল না। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। মাত্র সাত-আট মাস আগে রিসোর্টটি তৈরি হয়েছিল। জায়গাটির মালিকানা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানান তিনি।

 

নিহতদের মধ্যে রাজধানীর বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫) রয়েছেন।


অন্যদিকে আহতরা হলেন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।


কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহত ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপর একজন পড়ে গিয়ে আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


নিহতদের মধ্যে চারজনের শরীর এতটাই দগ্ধ হয়েছে যে, তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। 


আগুন থেকে বেঁচে ফেরা পর্যটক আব্দুল মান্নান বলেন, হঠাৎ দরজা খুলে দেখি ধোঁয়ায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তাৎক্ষণিক আমি ও আমার স্ত্রী পাশের নালায় লাফ দিয়ে বের হয়ে আসি। 


তিনি জানান, রিসোর্টটিতে ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো পর্যটক থাকতে পারেন। ঢাকার মিরপুর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে এসে তাঁরা ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন। সেখানে আরও দুই দিন থাকার কথা ছিল তাঁদের।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।


ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রিসোর্টটি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ঘেরা ছিল। নিচতলায় ছিল রান্নাঘর এবং ওপরের অংশে ছিল পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা। রিসোর্টটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সেই সতর্কতায় তারা কর্ণপাত করেনি। ধারণা করা হচ্ছে ফ্রিজ থেকে আগুনের সূত্রপাত। 


ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার হয়। দুপুর ১ টার পর টয়লেট থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শরীর এতোটা পুড়ে যায় যে, শনাক্ত করার মতো কোন অবস্থাই নেই। নিহতরা সবাই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 


রিসোর্টের ইনচার্জ মো. সুমন জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে তাঁরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।


তিনি বলেন, ফ্রিজ থেকে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নেভানোর চেষ্টা করি। ততক্ষণে রিসোর্টের এসি ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে পুরো রিসোর্টে আগুন ধরে যায়। 


উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আকতার জানিয়েছেন, পরে উদ্ধার হওয়া ৪ জনের অবশিষ্টাংশ পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এমএ মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 


তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ইতিমধ্যে ৬ মরদেহ শনাক্ত করেছেন এবং আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতরা সবাই পর্যটক।


জেলা প্রশাসক আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

নুর আলম ও স্ত্রী-সন্তান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ পিএম

কক্সবাজারে ইনানী রিসোর্টে আগুনে দগ্ধ হয়ে ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা ফারিয়া কবীর এবং তাদের পাঁচ বছরের শিশু সন্তান ফাইজান মারা গেছে। 


চাকরি সূত্রে গত আট বছর ধরে নুর আলম পরিবারসহ চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। ফারিয়া কবিরের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।


১৪ অক্টোবর বেড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা কক্সবাজার যান। আজ শনিবার সকালে কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে নিহত ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন ফারিয়া কবির (৩৩) এবং তার সন্তান ফাইজানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৮ পিএম

সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত করায় উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) দুপুরে বকশীবাজারস্থ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা'র চেয়ারম্যান এর দপ্তরে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম এর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু ও সাধারন সম্পাদক মো: সেলিম মিয়ার সাথে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর মত বিনিময় করেন। 


নেতৃদ্বয় সাম্প্রতিককালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত করা সংক্রান্ত জারি করা পরিপত্র দ্রুত প্রত্যাহার করে সারাদেশে স্কুল, কলেজের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ঘোষণার দাবি জানান। অন্যথায় অভিভাবকরা আইনগত পদক্ষেপসহ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে। 


এর জবাবে চেয়ারম্যান মহোদয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন যে, বিগত সরকারের আমলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রবিধানমালার সংস্কার কার্যক্রম চলছে এবং এ সংক্রান্ত সংশোধনীয় প্রবিধানমালা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে প্রায় দেড়মাস আগে দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দের ব্যস্ততায় সংশোধিত প্রবিধানমালা চুড়ান্ত করতে না পারায় নির্বাচন স্থগিতের পরিপত্র জারি করতে বাধ্য হয়েছি। সরকার অতিদ্রুত এ বিষয়টি চুড়ান্ত করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি অভিভাবক ঐক্য ফোরাম এর নেতৃবৃন্দের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পরামর্শ দেন।


এ সময় অভিভাবক ঐক্য ফোরাম সভাপতি বোর্ড চেয়ারম্যান এর নিকট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা প্রবিধানমালায় অনিয়ম দূর্নীতির কারনে গভর্নিং বডির ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সদস্যগনের শাস্তির বিধান চালু করা, নির্বাচিত ও এডহক কমিটিতে অভিভাবক সদস্যের ক্ষেত্রে (৫ম, ১০ম, দ্বাদশ শ্রেনির শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা নির্বাচিত/মনোনীত হতে পারবে না, এমপিও ব্যতীত শিক্ষকগন শিক্ষক প্রতিনিধি হতে পারবে না, এডহক কমিটির সভাপতি ও সদস্যগন চলমান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান। তারা ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডিকে অনিয়ম দূর্নীতি করলে বিভিন্ন মেয়াদী শাস্তির আওতায় আনতেও অনুরোধ জানান।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৮ পিএম

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নে গিরিনগরে শিশুদের খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে প্রায় ৫০০ গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সারে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেও ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে চিত্রকোট ইউনিযনের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওযার্ডের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।


শিশুদের খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে গিরিনগর জোনাকি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম উজ্জ্বল মোল্লার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদও করেছেন এ মানববন্ধন।


মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলেন, প্রায় ৬৪ বছর ধরে গিরিনগর জোনাকি সংসদের খেলার মাঠটি তিন গ্রামের শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে আসছেন। মাঠটি এলাকার শিশুদের খেলাধুলা, বিনোদন এবং সামাজিক কর্মকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ মাঠ রক্ষা করা শুধু একটি জায়গা রক্ষা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়।


তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত জায়গাটি দখলের চেষ্টা চলছে। যারা মাঠের মালিকানা দাবি করছেন, তাঁদের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর আহ্বান জানান এলাকাবাসী। তাঁরা বলেন, বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি মেনে নেওয়া হবে। অন্যথায় বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী জমির মূল্য পরিশোধ করে মাঠটি রক্ষার বিষয়েও তাঁরা আগ্রহী।


চিত্রকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও এলাকার অভিভাবক মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের সন্তানদের খেলাধুলার জন্য এই মাঠটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে তারা এখানে খেলাধুলা করে আসছে। মাঠটি দখল হয়ে গেলে শিশুদের খেলার জায়গা থাকবে না। আমরা চাই, মাঠটি রক্ষা করা হোক এবং বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা হোক।


আরেক অভিভাবক চিত্রকোট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিনবলেন, প্রায় ৬৪ বছর ধরে তিন গ্রামের মানুষ এই মাঠ ব্যবহার করছেন। মাঠটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। কুদ্দুস বেপারী, মোঃ বাদল, নাসির বেপারী, মাহমুদুল হাসান মৃদুল, আফসানা ইনাম আশা, ফেরদৌস বেপারী, মোঃ বাঁধনসহ যাঁরা জমির মালিকানা দাবি করছেন, তাঁরা বৈধ কাগজপত্র দেখান। কাগজপত্র যাচাই করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।


শহিদুল ইসলাম বাবু ও মাসুদ রানা বিপ্লব দুইজন অভিভাবক বলেন, আমরা কোনো ধরনের সংঘাত চাই না। আমরা চাই, প্রশাসন জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি উদ্ঘাটন করুক। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা কামনা করছি।


গিরিনগর জোনাকি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম উজ্জ্বল মোল্লাা বলেন, এই মাঠের সঙ্গে তিন গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। প্রায় ৬৪ বছর ধরে মাঠটি এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মাঠ রক্ষার দাবিতে কথা বলায় আমাকে নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা চাই, প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক এবং কোনো পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া না হোক। 


যাঁরা জমির মালিকানা দাবি করছেন, তাঁরা বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করুন। কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হোক। আমাদের উদ্দেশ্য কারও সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করা নয়; আমরা চাই, শিশুদের খেলার মাঠটি রক্ষা পাক এবং এলাকার মানুষ ন্যায়বিচার পান।


মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মাঠটির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠটি রক্ষার দাবি জানান তাঁরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান। গতকালশুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের কালীবাড়ি কেন্দ্রীয় মন্দির, বড় হরিসভা পাড়া, ঝুমঝুম পাড়াসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পূজার সার্বিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।


সীমান্তবর্তী এলাকায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে বিজিবির পক্ষ থেকে এ নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপে আগত ভক্ত-দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলার সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১১টি পূজামণ্ডপ রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর থানারহাট কোম্পানির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় চার প্লাটুনে মোট ১২০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, নিয়মিত নজরদারি ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে থানারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন এসআইপি সিপাহি শিব্বির আহম্মদ।


লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫১ বিজিবি সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে সবাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”


গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি বাজার সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি শ্রী কনাই লাল কর্মকার বলেন, “দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিজিবি সদস্যদের তৎপরতা ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন আমাদের মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়ে আস্থা বাড়িয়েছে। আমরা চাই, সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্‌যাপন করুক। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।”


সীমান্তবর্তী এলাকায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ তৎপরতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পারস্পরিক সহযোগিতায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সর্বশেষ সব খবর