মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় শিশুসহ তিন নারী আহত হয়েছেন। বুধবার (অক্টোবর ২৮) রাত ১১টার দিকে উপজেলার দোগাছি এলাকায় মাওয়ামুখী লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
আহতরা হলেন,বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজু মাতব্বরের স্ত্রী শাহনাজ (৪০), ঢাকার উত্তরা এলাকার বাউনিয়ার নাদিম হোসেনের স্ত্রী নাইমা ইসলাম কলি (৩০) এবং তাঁর ছয় বছর বয়সী কন্যা আয়না আক্তার।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম পিএফএম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে।এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক ও যাত্রীদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “যানবাহন চালানোর সময় অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত গতি বজায় রাখতে হবে, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং পরিহার করতে হবে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি সড়কের ট্রাফিক সাইন ও নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নিহত শাকিল ইসলামের জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিরা এমপির প্রতি উত্তেজিত হয়ে পড়েন
নাটোরের গুরুদাসপুরে নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের জানাজার সময় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের উদ্দেশে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তিনি শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান মিন্টুর বাবা ও নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের এমপি।
স্থানীয়রা জানান, গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম বাংলাদেশ মেডিকলে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে মারা যান। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গুরুদাসপুরের বিলচলন সামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে শাকিলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় এমপি আব্দুল আজিজ অংশ নিয়ে নিহত শাকিলের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিতেই উপস্থিত মুসল্লিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে জানাজা শেষ করেই তিনি ফিরে যান।
এদিকে শাকিল ইসলামের জানাজা শেষে চাচকৈড় বাজারে আমেরিকা প্রবাসী রাসেল হোসাইনের রাস শপিং মলে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
রাসেল হোসাইন অভিযোগ করে জানান, প্রতিষ্ঠানটি চালুর পর থেকেই একটি মহল বিভিন্নভাবে এটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। শাকিলের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মহল সেই সুযোগ নিয়েছে বলে দাবি তার। এ ঘটনায় তার প্রায় ৫ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, শপিংমল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জানাজায় জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল (অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল) মো. আনোয়ারুল ইসলাম খান।
কুমিল্লার বাগিচাগাঁও এলাকার ‘আংকুর আয়েশানুর গার্ডেন’ প্রকল্পের ৭/এ নম্বর ফ্ল্যাট নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ১৬ লাখ টাকায় সমঝোতা হলেও এখনো ৬ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মো. সাইফুল আলম। তাঁর দাবি, সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট অর্থ এখনো বুঝে পাননি তিনি।
সংশ্লিষ্ট লিখিত বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাটটি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ১৮ লাখ টাকা পাওনার দাবি করা হয়। পরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। এ প্রক্রিয়ায় মো. তারিকুল ইসলামের মধ্যস্থতার বিষয়টিও লিখিত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখটিকে সমঝোতার সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের সময়সীমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী সাইফুল আলমের ভাষ্য, সমঝোতা অনুযায়ী ১৬ লাখ টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে বাকি ৬ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকায় তিনি আর্থিক পাওনা আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। দ্রুত বকেয়া অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে বিরোধটির স্থায়ী নিষ্পত্তি চান তিনি।
এদিকে, বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে আলোচনার সময় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল (অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল) মো. আনোয়ারুল ইসলাম খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের বিষয়টিও লিখিত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিরোধের সমাধান নিয়ে তাঁর কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ও বক্তব্য জানতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মো. আনোয়ারুল ইসলাম খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং একপর্যায়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সমঝোতা আলোচনায় কারও নাম উল্লেখ থাকা বা পরামর্শ চাওয়া এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধের আইনি দায় থাকা এক বিষয় নয়। এ বিরোধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত ভূমিকা, সমঝোতার শর্ত এবং অর্থ পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সিলেট নগরের যানজট কমাতে সাহেবের বাজার থেকে খাদিমপাড়া হয়ে কালাগুল বাজার পর্যন্ত বিকল্প সড়ক উন্নয়ন, বিমানবন্দর-আম্বরখানা চার লেন সড়ক নির্মাণ এবং লাক্কাতুরা থেকে টেলিভিশন গেট পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) কার্যালয়ে মাহা-ইমজা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবের বাজার থেকে একটি ভাঙাচোরা সড়ক ২৪ ফুট প্রশস্ত করে কংক্রিটের সড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ট্রাকগুলোকে নগরের আম্বরখানা এলাকা দিয়ে চলাচল করতে হবে না। বিকল্প পথে খাদিমপাড়া হয়ে কালাগুল বাজারের সড়ক ব্যবহার করে যানবাহন বাইপাসে পৌঁছাতে পারবে। এতে নগরের যানজট কমাতে সহায়তা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এ ছাড়া সিলেট বিমানবন্দর থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। লাক্কাতুরা থেকে টেলিভিশন গেট পর্যন্ত চা-বাগানের ভেতর দিয়ে আরেকটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, নতুন সড়কটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় একটি পথ তৈরি হবে। পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সার্কিট হাউসের পাশে পুরোনো জালালাবাদ শিশু পার্ক পুনরুজ্জীবিত করার কাজ চলছে।
বাদাঘাট বাইপাসের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজও অগ্রসর হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরের যানজট কমানো এবং মানুষের যাতায়াত সহজ করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু সড়ক ও সেতু নির্মাণের মধ্যেই উন্নয়ন সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনে স্বস্তি, সন্তুষ্টি ও ভোগক্ষমতা বাড়ানোই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের বড় একটি অংশ এখনো পাকা করা সম্ভব হয়নি। সড়ক উন্নয়নে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে।
সরকারের বর্তমান মেয়াদ শেষে সিলেটের প্রতিটি সড়ক পাকা করার অগ্রগতি নিয়ে জনগণের সামনে জবাবদিহি করতে চান জানিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, নগরের সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নে তাঁদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট।
শাহজালাল রুমি
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদের পর ক্রমাগত হুমকিতে সেই পরিবারটি এখন আত্মগোপনে। এরই মধ্যে সোমবার রাতে শিশুটির বাবা জানান, তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
সাত বছরের শিশুটি টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সন্তানের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানতে ২১ অক্টোবর মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান তার বাবা।
একপর্যায়ে শিক্ষককে থাপ্পড় ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ শিক্ষককে উদ্ধার করে এবং শিশুটির বাবার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়। এরপর শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পাশাপাশি শিক্ষককে মারধরের ঘটনাও দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এর মধ্যে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সেই অভিভাবকের বিরুদ্ধে করা হয় পাল্টা মামলা। তাতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ আনা হয়। দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে হঠাৎ করেই আত্মগোপনে চলে যান শিশুকন্যার বাবা। তাঁর অবস্থান নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা।
সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো অডিও বার্তায় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি বাংলাদেশের কুখ্যাত ব্যক্তি। বাসা ছেড়ে পালিয়েছি। দেশ থেকে চলে যাচ্ছি। এ দেশে থাকেন আপনারা। আমি থাকব না কুসংস্কার মার্কা দেশে।’
একই অডিওতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার আইডি হ্যাক হয়ে গেছে। আমি একদম চুপ হয়ে গেছি। কোন রাষ্ট্রে আমি বাস করছি? আমি কোনো মানুষের রাষ্ট্রে বাস করছি না। আল্লাহর কসম দিয়ে বলেন তো, আপনার মেয়ের সঙ্গে এমন হলে আপনি কী করতেন? হাজার হাজার হুমকি আসছে। আমার কোনো নিরাপত্তা নেই; কে নিরাপত্তা দেবে?’
তাঁর ঘনিষ্ঠ এক স্বজনের দাবি, ওই অভিভাবক দেশেই আছেন। তবে পুরো ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে টঙ্গী সরকারি কলেজ এলাকার শিশুটির বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা-বাবা এবং ভাইবোন সবাই পলাতক। ভেতর থেকে কথা বলেন শিশুটির নানা। জামাতা দেশের বাইরে চলে গেছেন কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হননি। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী হাবিবুর রহমান জানান, গত দুদিন শিশুটির বাবাকে ওই বাড়িতে আসতে দেখেননি তিনি।
২১ অক্টোবর টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী ওই শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। এর পর থেকেই সে মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরে মা-বাবার কাছে ঘটনা খুলে বলে। মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসায় যান সেই অভিভাবক। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে তাঁকে কয়েকজন মিলে মারধর করেন।
ঘটনাটি মীমাংসার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির বাড়িতেও গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মা শিক্ষককে ঘরে ঢুকতে দেননি। ওই দিন মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোসলেমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে ওসি আরিফুর রহমান বলেন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি এখন কারাগারে।
অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে যাওয়ার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির বাবা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাল্টা মামলা করা হয়। মামলায় মাদ্রাসায় অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং টাকা ও মোবাইল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্য এক অডিও বার্তায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেই অভিভাবক। তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। তবে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন বলেন, মোসলেম উদ্দিন দিনে মাত্র তিন ঘণ্টার জন্য খণ্ডকালীন ক্লাস নিতেন। বহিরাগতদের এনে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। জমি কেনার গচ্ছিত ১৭ লাখ টাকা লুটের প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি বলেন, মামলা দুটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজন হলে ওই অভিভাবককেও গ্রেপ্তার করা হবে।
সিলেটের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও জনসংখ্যার চাপে অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়াতে সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ নির্ধারিত ১৫ মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
তিনি বলেছেন, এ প্রকল্পের সঙ্গে একটি বিস্তৃত জনপদের নিরাপত্তা জড়িত। তাই নির্মাণকাজে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার পাশাপাশি সেবার মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক সেবার মান উন্নত করা সময়ের দাবি। সিলেটের সঙ্গে দেশের বাইরের বহু মানুষের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির বাস্তবতায় এ অঞ্চলে অগ্নিনিরাপত্তাসহ জরুরি নাগরিক সেবাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অবকাঠামো ও সক্ষমতা বাড়ানো গেলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সহজ হবে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বাহিনীর সদস্যরা শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষ বিপদের সময় নিরাপত্তা ও স্বস্তি পায়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। জননিরাপত্তায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, জরুরি সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের জন্য সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা প্রয়োজন। সেবাগ্রহীতারা যাতে সহজে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ বন্ধ হয়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা গেলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সেবার মান এবং জনআস্থা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।
এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহের ভালুকায় রবেন্দ্র ঋষি (৪৩) নামের এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট চত্বরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত রবেন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকায় কাশেমের বাড়িতে ভাড়া থেকে সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
নিহতের স্ত্রী সূচিত্রার অভিযোগ, সাদ্দাম নেশার আসক্তিতে প্রায়ই তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নিতেন। তাছাড়া সেলুনে চুল কাটিয়ে নিয়মিত টাকা দিতেন না। সম্প্রতি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং সেলুনে চুল কাটা নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর আগেও সাদ্দাম তাঁর স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। ওই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাঁর দাবি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় হঠাৎ সেলুনে প্রবেশ করে রবেন্দ্র ঋষিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন সাদ্দাম। প্রাণ বাঁচাতে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে সাদ্দামের নিজের বাবার দোকানে আশ্রয় নেন রবেন্দ্র। কিন্তু সেখানেও তাঁকে পুনরায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে পাশের একটি বাড়ির উঠানে পালানোর চেষ্টা করলে সেখানেও তাঁকে আবারও আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযান চালিয়ে ঘাতক সাদ্দাম হোসেনকে হবিরবাড়ী ন্যাশনাল পলিমার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।