কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে দুই শিশুকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা
স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই মেয়েকে নিজের কাছে রেখেছিলেন মা। পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি থাকতেন। পরে তিনি বিয়ে করেন। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে দুই মেয়েকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে চলে যান ওই মা। পরে ওই শিশুদের চাচি তাদের বাড়ি নিয়ে যান। গত রোববার দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। দুই শিশুর বাবা পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক। তিনি কুমিল্লা নগরে অটোরিকশা চালান। শিশুদের মায়ের বাড়ি বরুড়া উপজেলায়।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বাজারে দুই শিশুকে ঘোরাফেরা ও কান্না করতে দেখে কয়েকজন এগিয়ে আসেন। পাঁচ বছর বয়সী শিশুটির কাছ থেকে জানতে পারেন, মা চিপস আনতে তাদের সেখানে রেখে গেছেন। পরে দুই শিশুর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দুই শিশুর চাচি বাজারে গিয়ে তাদের দেখতে পান। তিনি শিশুদের চিনতে পেরে নিজের বাড়ি নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনে তাদের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মা তাঁকে বলেন, তিনি কুমিল্লা নগরে চলে এসেছেন। সন্তানদের আর নিজের কাছে রাখতে চান না।
পুলিশ জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে শিশুদের মা–বাবার বিয়ে হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন। গতকাল সোমবার রাতে তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু তাদের বাবার কাছে আছে। পুলিশ এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
“ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নাটোরের লালপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লালপুর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোঃ মিশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবীর হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার প্রীতম কুমার হোড়, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোছাঃ নার্গিস সুলতানা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান প্রমুখ।
হরিপুর সীমান্তে ৯৬ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর বিশেষ অভিযান। দিনাজপুর, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯৬ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ১২ অক্টোবর রাত ১০টা ১০ মিনিটে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন গোবিন্দপুর বিওপির সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বিজিবির অভিযানে হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ঢাকদহ গোপালপুর এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় সিরাপের বোতলগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপের সর্বমোট জব্দমূল্য ২৮ হাজার ৮০০ টাকা।
উদ্ধার করা সিরাপের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা এবং অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বাহিনীটির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দিদারুল আলমের আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার ব্যাপারী অভিযোগ করেন, তার বন্ধক নেওয়া ৩০ শতক জমি দিদারের ভাগ্নি ও বোনের জামাই পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।
একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে কেন্দ্র করে তার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, এর আগে তিনি ৭০ হাজার টাকা দিলেও দিদার ও তার সহযোগীরা আবার টাকা দাবি করছেন।
আমেনা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, অনেক কষ্ট করে চরের গাছ কেটে তারা বসবাসের উপযোগী করে জায়গা তৈরি করেছেন। কিন্তু দিদার ও তার সহযোগীরা চরের জমি দখল করতে তাদের ওপর অন্যায়-অবিচার করছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব ঘটনার তদন্ত করে দিদারুল আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ফারুক মাঝি অভিযোগ করেন, দিদারুল আলমের নেতৃত্বে নাহিদ, জাবেদ ও রিদয়সহ কয়েকজন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। জমি দখলসহ নানা ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা একাধিক মানববন্ধন করে। উল্টো এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, ‘আমি সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সভাপতির বিরুদ্ধে হওয়া একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করি। এরপর উপজেলা যুবদলের সভাপতির অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।’
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শতবর্ষী বৃদ্ধ আব্বাস প্রামাণিক
নাটোরের গুরুদাসপুরে চশমা ছাড়াই কুরআন পড়তে পারা আলোচিত শতবর্ষী বৃদ্ধ আব্বাস প্রামাণিক মারা গেছেন। তার বয়স ছিল ১২৩ বছর ৪ মাস। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাতি রিপন হোসেন। মৃত্যুকালে আব্বাস প্রামাণিক দুই মেয়ে ও ছয় ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্বাস প্রামাণিক শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তবে রোববার (১১ অক্টোবর) হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় তার কথাবার্তায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে সেবাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে চিকিৎসক পাঠানো হয় এবং তাকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তার বয়স ১২৩ বছর। তবে পরিবারের দাবি, প্রকৃত বয়স আরও বেশি। দীর্ঘ জীবনে তিনি দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার নাতি-নাতনিদের বয়সও ৬০ বছর ছাড়িয়েছে।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস আলী প্রামাণিক। সারাজীবন ধর্মচর্চায় কাটিয়েছেন তিনি। অসুস্থতা কিংবা বয়সের ভার—কোনো অবস্থাতেই নামাজ ছাড়েননি সদাচারী এই মানুষটি।
পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন আব্বাস আলী। পাশাপাশি বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা দিয়ে আলোকিত করেছেন অনেক মানুষকে। জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে মানুষের সেবায়।
যেখানে আজকাল অল্প বয়সেই অনেকের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, সেখানে এই বয়সেও আব্বাস আলীর দৃষ্টিশক্তি অটুট থাকা সবাইকে বিস্মিত করেছে। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, যেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকতেই কষ্ট হয়, সেখানে এখনো পরম মমতায় হাতে তুলে নেন পবিত্র কুরআন। একের পর এক পাতা উলটে কোনো চশমা ছাড়াই তিলাওয়াত করতেন এ বৃদ্ধ।
শতবর্ষী এ প্রবীণের জীবন কেটেছে অতি সাদামাটাভাবে। কখনো যানবাহনে চড়েননি তিনি, পায়ে হেঁটেই গেছেন গন্তব্যে। একসময় সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন তার দিন কাটে একটি ভাঙা ঘরে। তবে ছেলে, মেয়ে, নাতি ও নাতবউদের সেবা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তার।
ছয় ছেলে ও দুই মেয়েকে মানুষ করে বিয়ে দিয়েছেন আব্বাস আলী। মেয়েরাও সময় পেলেই বাবাকে দেখতে ছুটে আসেন।
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন রংপুর-৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) মাহবুবুর রহমান।
এমপি হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন থেকে গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাধ্য করবেন না থানা ঘেরাওয়ের জন্য, আমাকে বাধ্য করবেন না ডিসি অফিস ঘেরাওয়ের জন্য। পরিষ্কার বললাম। আমি ভদ্র লোক, কিন্তু অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না।’
মাহবুবুর রহমানের ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চিৎকারের সুরে সংসদ সদস্য বলছেন, ‘আপনারা এমপিকে পাত্তা দিচ্ছেন না? হোয়াই? হোয়াই? কী মনে করেন, আমরা আসমান থেকে আসছি? মঙ্গল গ্রহ থেকে আসছি? উই আর দ্য সন অব দিস সয়েল, অব দিস ল্যান্ড। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনারা পাত্তা দিচ্ছেন না কেন? চেয়ার দিতে চান না কেন? জনগণ নিয়ে কি ঘেরাও করব? রাস্তাঘাট চলাচল বন্ধ করে দেব?’
রংপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ছিল গতকাল রোববার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহবুবুর রহমান। তাঁর নির্বাচনী আসনটি রংপুর সদর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।
সভায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (পদমর্যাদাক্রম) না মানা, বিভিন্ন কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি না রাখা, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম এবং একটি দলের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন জামায়াতের এ সংসদ সদস্য।
প্রশাসনের লোকজনকে উদ্দেশ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যদি পাবলিক খেপে যায়, তাহলে কিন্তু সেই খ্যাপানো আপনারা থামাতে পারবেন না, পরিষ্কার বলে দিলাম। সেই ক্ষমতা পুলিশের নাই, কারও নাই। পাবলিক অত বোকা আর নাই। পুলিশকে, র্যাবকে আর ভয় পায় না, তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য।’
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়েও কথা বলেন এই সংসদ সদস্য। সার ডিলারের নিয়োগে ন্যক্কারজনক দলীয়করণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সব ডিলার একটা দল থেকে দেওয়া হয়েছে। যদি তা–ই হয়, তাহলে আপনারা অন্যদেরকে এখানে আবেদন করালেন কেন? প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হলো কেন?’
সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, এমনও হয়েছে, একই পরিবারের তিনজন সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ রকম ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটছে বলে আমি মনে করি না। এটা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জনগণের মধ্যে আছে। এই অসন্তোষ কত দূর পর্যন্ত যাবে, আমি জানি না। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে এর জবাবদিহি দিতে পারতেছি না। জবাবটা কী হবে, মাননীয় ডিসি ঠিক করে দিলে ভালো হয়।’
ওই আইনশৃঙ্খলা সভায় মহানগর পুলিশ কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সিটি নিয়ে আলোচনা হবে; সিটি প্রশাসক নাই, মেয়র নাই, এ তো হতে পারে না! তাঁরা আসবেন না কেন, আমার মাথায় ঢোকে না। এমপিরা যদি থাকতে পারেন, হোয়াই নট প্রশাসক? হোয়াই নট মেয়র? আমি বুঝি না। হোয়াই নট পুলিশ কমিশনার? তাহলে কী তাঁরা আমাদের চেয়েও সুপেরিওর। রুল অব প্রিসিডেন্স, আমি থাকব ওরা থাকবে না কেন? ওরা কি বড় লাটসাহেব হয়ে গেছে? নিজেকে লাটসাহেব ভাববেন না। ইউ আর দ্য সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল।’
সংসদ সদস্য সভাটি পুনর্নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।
জেলার বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি না রাখার অভিযোগও তোলেন মাহবুবুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জেলায় অনেক কমিটি আছে, কিন্তু এমপির কতজন প্রতিনিধি সেখানে আছেন। স্পষ্ট বলা আছে, এমপির প্রতিনিধি থাকতে হবে, সেখানেও নাই। সমস্ত একটা দল তাদের কুক্ষিগত করে নিয়েছে। এটা কি গণতন্ত্র? এর মাধ্যমে কি জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে?’
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে ওই আইনশৃঙ্খলা সভায় রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী এবং রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনসহ মহানগর ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তা এবং জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে জেলা প্রশাসক ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ইসরাত জাহান বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটি জেলার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এখানে সরকারি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত সবার পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে আলোচনা করা সমীচীন। যেকোনো বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবারই শব্দচয়নের ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকা উচিত।
সিলেটে এক কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী আব্দুল্লাহ মিয়া গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বগাইয়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলার রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্র্যাইব্যুনালের পিপি মোশতাক আহমদ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে বাড়িতে একা পেয়ে বগাইয়া গ্রামের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন আবদুল্লাহ মিয়া। এ ঘটনায় আবদুল্লাহ মিয়াকে একমাত্র আসামী করে থানায় মামলা হয়। প্রায় চার বছর পর ওই মামলার রায়ে আদালত আবদুল্লাহ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন।