পবিত্র কোরআনের আলো সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া, ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং মানুষের মাঝে ইসলামী চেতনা ও নৈতিক শিক্ষা বিকাশের প্রত্যয়ে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫ম তাফসীরুল কুরআন মাহফিল।
বালুবাড়ী যুব সমাজের উদ্যোগে আগামী ১৩ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার বাদ আসর থেকে দিনাজপুর সদর উপজেলার মধ্য বালুবাড়ী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে তাফসীর পেশ করবেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মোঃ আব্দুল মাজেদ আনসারী, বগুড়া। দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত মাওলানা মোঃ হুমায়ুন কবীর মিলনপুরী, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, দারুল উলুম কওমী মাদরাসা, পার্বতীপুর। এছাড়া তৃতীয় বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন মাওলানা মোঃ আব্দুল হামিদ, শিক্ষক, নিউটাউন মাদ্রাসা, দিনাজপুর এবং চতুর্থ বক্তা হিসেবে তাফসীর পেশ করবেন হাফেজ মাওলানা মুফতি আমীর হামযা, খতিব, মধ্যবাড়ী জামে মসজিদ, দিনাজপুর।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন মধ্য বালুবাড়ী জামে মসজিদের সহ-সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আলহাজ্ব মোঃ মুসলিম উদ্দিন আহমেদ, মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, বাংলাদেশ জুয়েলারী অ্যাসোসিয়েশন, দিনাজপুর। মোঃ মকসুদুল হাসান, মোঃ হামিদুল হক, মোঃ আবুল খায়ের, প্রফেসর এস.এম. রিজানুল হক, মোঃ হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন, সভাপতি, চাউল কল মালিক গ্রুপ, দিনাজপুর এবং দিনাজপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ রেহাতুল ইসলাম খোকা।
মাহফিলের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন মধ্য বালুবাড়ী জামে মসজিদের সভাপতি মোঃ সফিকুল হক ছুটু। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করবেন হাফেজ মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, মুয়াজ্জিন, মধ্য বালুবাড়ী জামে মসজিদ এবং মোঃ হাবিবুর রহমান মানিক, সদস্য, মধ্য বালুবাড়ী জামে মসজিদ।
এছাড়া হামদ ও নাত পরিবেশনায় অংশ নেবে সুরের ক্যানভাস শিল্পী গোষ্ঠী, দিনাজপুর। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মাহফিলে নারীদের অংশগ্রহণের জন্য পর্দার সঙ্গে পৃথক বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রজেক্টরের মাধ্যমে মাহফিলের কার্যক্রম দেখারও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন মানুষের মাঝে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সিদ্দিকুল হক (বাচ্চু) বালুবাড়ী যুব সমাজের পক্ষ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ সর্বস্তরের মানুষকে দলে দলে মাহফিলে উপস্থিত হয়ে পবিত্র কোরআনের তাফসীর শ্রবণ এবং দোয়ায় অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বিএনপি সরকারের অর্জনকে বিনাশ করতে রোড মার্চ নামে বিভিন্ন রকম কর্মসূচি দিয়ে বাংলাদেশ মানুষকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিরোধীদল। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে জেলা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির দলীয় কর্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, যারা একাত্তরকে বিশ্বাস করে না, যারা ২৪ কে বিশ্বাস করে না, যারা ৯০ কে বিশ্বাস করে না, এইরকম ফ্যাসিস্ট, এইরকম স্বৈরাচার এবং গুপ্তসূপ্তরা আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই তারেক রহমানের সরকার,যেই ক্রমবর্ধমান তাদের উন্নয়নের ধারাকে আজকের তৃণমূল পর্যায়ে প্রত্যেকটা গ্রামীণগঞ্জে, পাড়ায় মহল্লায় মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিচ্ছেন। এটাকে তারা বিনাশ করতে চান, ভিনিষ্ট করতে চান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,গতকাল ঠাকুরগাঁও উপ নির্বাচন হয়েছে। সে নির্বাচনে ছোট খাটো ভুল ছাড়া সুষ্ঠ নিরপেক্ষ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ১২ ফ্রেব্রুয়ারির নির্বাচনে যা ভোট পেয়েছিল, কালকের উপ নির্বাচনে তার চেয়ে অর্থেক ভোট পেয়েছে। তারেক রহমানের সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আর বিএনপির কর্মকান্ড মনে প্রানে বিশ্বাস করার কারনে বিএনপির এ বিজয় হয়েছে।
যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে যদি নেতৃত্ব দিতে চাই, সেই নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজের ইমেজ তৈরি করতে হবে। এইখানে কোন কর্মীর অপকর্মের দায়ভার কিন্তু আমরা যুবদল নিব না। কাজেই আমি মনে করি সেই ক্ষেত্রে আমাদের কোন ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড যেন দল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, দল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেই বিষয়ে কিন্তু তোমাদেরকে মাথায় রাখতে হবে। নতুবা তুমি যত রকম তদবির করা না কেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সেইখানে, আমি মনে করি তোমার কোন যোগ্যতা নাই। কারণ দল যদি তোমার কর্মকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেখানে তোমাকে মাথায় নিয়ে আমরা নাচবো।
এর আগে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই জায়গায় আসে।পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময়
জেলা যুবদলর সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবুর সঞ্চালনায়, জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেলের সভাপতিত্বে, উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু,আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক, ইউনুস শেখসহ যুবদলের নেতাকর্মীরা ।
সভাপতি সুশান্ত ও সম্পাদক ফারুক
আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্ট এর সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে রংপুর জেলা শাখার আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঘোষিত কমিটিতে দৈনিক মায়াবাজার এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সুশান্ত চন্দ্র ভৌমিককে সভাপতি ও ঢাকা পোস্টের রংপুর ব্যুরো প্রধান ফরহাদুজ্জামান ফারুককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের চেয়ারম্যান লায়ন মো. হেলাল উদ্দিন হিলু ও মহাসচিব মো. ওমর ফারুক সোহেল এই কমিটি অনুমোদন করেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করে কেন্দ্রের কাছে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য; আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্ট বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: সি-২০৫১৫০/২০২৫) একটি অলাভজনক সাংবাদিক সংগঠন। গত আগস্ট মাসে রাজধানীতে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির লোগো উন্মোচন ও অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের প্রধান উদ্দেশ্য- সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা, ন্যায়বিচার ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন সাংবাদিক সমাজ গড়ে তোলা। মূল লক্ষ্য সাংবাদিকদের কল্যাণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে । হত্যাকান্ডের প্রায় ৬ বছর পর বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই রায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ, পুলিশের বহিস্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঞাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের আরও দুই সদস্য কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। বাকী তিন আসামির মধ্যে বহিস্কৃত এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় প্রদান করেন।
চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, আটক অবস্থায় কাউকে নির্যাতনের অধিকার পুলিশের নেই।আদালতের পর্যবেক্ষণঃ রায়হান আহমদ হত্যা মামলার রায়ে আদালত মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আটক অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করার অধিকার পুলিশ কিংবা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেই। কোনো ব্যক্তি দুর্ধর্ষ অপরাধী হলেও বিচার ছাড়া তাঁকে শাস্তি দেওয়ার অধিকারও কারও নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেই আইনের শাসনের প্রকৃত পরীক্ষা হয়।
আটক ব্যক্তির শরীর ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিশেষ দায়িত্ব আটককারী কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায় উল্লেখ করে আদালত বলেন, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়, তথ্য সংগ্রহ কিংবা কথিত অপরাধের শাস্তি দেওয়া আইনের শাসনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা শুধু ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার নয়; ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখারও পূর্বশর্ত। রায়ে সন্তুষ, তবে...রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম।
তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মনের শান্তি হবে না। আকবরের ফাঁসির রায় হয়েছে; কিন্তু তিনি তো পালিয়ে গেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র একজন হাজতে রয়েছেন। বাকিরা ধাপে ধাপে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালিয়েছেন। তাঁরা যেখানেই থাকুক, তাঁদের আটক করতে দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন রায়হানের মা।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে আরও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।
এদিকে, রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সাত বছর করে দণ্ড পাওয়া আশেক এলাহি ও হাসান উদ্দিনের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন। সাক্ষ্য লুকানোর জন্য দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আদালত যে অভিযোগে আশেক এলাহি ও হাসান উদ্দিনকে সাজা দিয়েছেন; আমরা আশা করি, উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরে সেটি টিকবে না। আমরা আপিল করব। আশা করছি, আপিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বেকাসুর খালাস পাবেন।’
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরের দিন তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার পর অভিযোগের সত্যতা পায় সিলেট মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি। পরে ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেনসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।এরপর পুলিশি হেফাজত থেকে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
২০২১ সালের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পিবিআই। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেলহাজতে ছিলেন। তবে প্রথম থেকেই পলাতক ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান।সর্বশেষ গত বছরের আগস্টে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান আকবর হোসেন। এরপর ১১ আগস্ট সিলেট কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।
১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করে। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ উচ্চ আদালতের আদেশ স্থগিত করেন। পাশাপাশি আকবর হোসেনকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন; কিন্তু আদালতে আর আত্মসমর্পণ করেননি আকবর।রায়হানের মা সালমা বেগমের অভিযোগ ছিল আকবর হোসেন ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরই ভারতে পালিয়ে গেছেন। আশেক এলাহি ছাড়া বাকি আসামিরাও পর্যায়ক্রমে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্র ঘাট পশ্চিম খানপাড়া এলাকায় ইছামতি নদীতে গোসল করতে নেমে জুনায়েদ (১০) নামের এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ শিশুটি উদ্ধারে স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও রাজশাহী থেকে আসা বিশেষ ডুবুরি দল যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে জুনায়েদ বাড়ির পাশের ইছামতি নদীতে গোসল করতে নামে। দীর্ঘক্ষণ ধরে সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে নদীতে নেমে এলাকাবাসী ও যুবকরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েও শিশুটির সন্ধান মেলাতে ব্যর্থ হন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও বেগবান করতে রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল আনা হয়। তারা বিকেল পর্যন্ত নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। তবে রাত নেমে আসায় এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ডুবুরি দল শুক্রবারের মতো তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত ডুবুরি দলের এই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঘটনার পর থেকেই কামারখন্দ থানা পুলিশ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক খোঁজখবর রাখছে। শিশুটির নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের বাতাস।
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ইউনিটটির পাওয়ার স্টার্টআপের অনুমোদন পাওয়ার পর এ কার্যক্রম শুরু হয় বলে জানিয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান।
ড. জাহেদুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তুতিসংক্রান্ত ফিজিক্যাল স্টার্টআপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এরপর ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। এরপর থেকে ‘স্টেজ-সি’র কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, স্টেজ-সি পর্যায়ে প্রবেশের মধ্য দিয়ে প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, কুল্যান্ট ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, তা-ও যাচাই করা হবে।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, ফিজিক্যাল স্টার্টআপের ধাপ পেরিয়ে কেন্দ্রটি এখন পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়েরা ট্রায়াল অপারেশনাল অনুমোদন দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন বায়রার কাছে জমা দেওয়ার পর স্টেজ-সি পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন পাওয়া যায়।
স্টেজ-সি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা কম রেখে পরীক্ষা চালানো হবে। পরীক্ষার ফলাফল ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হলে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পাওয়ার স্টার্টআপ, পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু—এগুলো পৃথক তিনটি ধাপ। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা, কমিশনিং কার্যক্রম এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব শর্ত পূরণ করতে হবে। তাই পাওয়ার স্টার্টআপের অনুমোদন পাওয়ার অর্থ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া নয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে।
রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও অন্যান্য আর্থিক কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।