ময়মনসিংহের শিল্পঘন ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও আধুনিক পুলিশিংয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসতিয়াক আহমেদ।
ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে তার নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি যাত্রীসেবায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন, যা স্থানীয় জনজীবন, পরিবহন খাত এবং সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চাপ সামলানো এই মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সক্রিয়তা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতারই পরিচায়ক নয়, বরং মানবিক পুলিশিংয়ের এক বাস্তব প্রতিফলন।
এই ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ দমনেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে ভরাডোবা হাইওয়ে থানা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ভোরে ভালুকা পৌর সদরের কাঁঠালী বাগরাপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি ইসতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একটি প্রাইভেটকার জব্দ এবং এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়ক ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে আগের তুলনায় মহাসড়কের যানযট প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। একই সময়ে প্রায় ৪৫০ টির বেশি অবৈধ থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে কয়েক শতাধিক যানবাহনকে জরিমানা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে এবং যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হয়েছে।
সম্প্রতি এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়েছিলেন ঢাকাগামী যাত্রী আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার পর সবকিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা খুব দ্রুত এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাদের এই মানবিকতায় আমি নতুন জীবন পেয়েছি।” তার অভিজ্ঞতা যেন একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতীক, যেখানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিকতা হয়ে উঠছে কেন্দ্রবিন্দু।
একই সড়কের নিয়মিত চালক শফিকুল ইসলাম জানান, “আগে এই রাস্তায় ভয় নিয়ে গাড়ি চালাতে হতো। এখন পুলিশ নিয়মিত টহল দেয়, সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে পাশে দাঁড়ায় এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে।”
ভালুকার স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “আগে প্রায়ই দুর্ঘটনা বা যানজটের কারণে আতঙ্কে থাকতে হতো। এখন পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও স্বাভাবিক থাকছে।”
নারী ও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। গার্মেন্টস কর্মী নাসরিন আক্তার বলেন, “রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে আগে ভয় লাগতো। এখন রাস্তার পাশে পুলিশের উপস্থিতি দেখলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত লাগে।” রাতে একাকী চলাচলকারী নারী যাত্রীদের সহায়তা এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার মতো উদ্যোগ পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যানবাহনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান। ওসি ইসতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার সদস্যরা নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ ধীরগতির যান চলাচলের কারণে যে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতো, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়কে এ ধরনের যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবতায় অনেক সময় তা উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমান উদ্যোগের ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অবৈধ থ্রি-হুইলারের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে, যা দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচলকে আরও স্বাভাবিক ও নিরাপদ করছে। একই সঙ্গে চালকদের বিকল্প ফিডার রোড বা স্থানীয় সড়ক ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে জীবিকা ও আইনের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য বজায় থাকে।
তবে ইতিবাচক অগ্রগতির মাঝেও কিছু কাঠামোগত ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। শিল্পঘন এই অঞ্চলে ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং মাঝে মাঝে অবৈধ যান চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক সময় সড়কের নির্দিষ্ট অংশে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। সীমিত জনবল দিয়ে দীর্ঘ মহাসড়ক তদারকি করা হাইওয়ে পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।
কিছু সাধারণ যাত্রীর মতে, উন্নতির ধারা থাকলেও আরও ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসযাত্রী বলেন, “অনেক জায়গায় এখনো গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো মানা হয় না। মাঝে মাঝে পুলিশ না থাকলে চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”
ওসি ইসতিয়াক আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “চ্যালেঞ্জ আছে, তবে আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ সেবা দিতে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এই সড়ককে আরও নিরাপদ করা সম্ভব।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
চলমান এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে আরও টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার, সিগন্যালিং ও মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং ও দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সড়কের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবৈধ থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে মাদক, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্যভিত্তিক অভিযান, গোপন সংবাদের কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ মহাসড়ক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক পুলিশিং কেবল কঠোরতা নয় বরং মানবিকতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের সমন্বয়। প্রশংসা ও সমালোচনা উভয়কেই গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এর মূল চাবিকাঠি।
একটি ব্যস্ত মহাসড়কে দায়িত্ব পালন কখনোই সহজ নয়। তবুও সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেও যখন সেবা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার সমন্বয় ঘটে, তখনই জন্ম নেয় আস্থা। ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় সেই আস্থার ভিত্তি নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে গড়ে তুলছেন ওসি ইসতিয়াক আহমেদ যা নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণে এক অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ হয়ে থাকছে।
সড়কে ‘শৃঙ্খলা ফেরানোর’ চেষ্টার অংশ হিসেবে ই-রিকশা নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএসসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ই-রিকশার নিবন্ধনে মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন পরিচালিত হচ্ছে।আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ, নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।
ডিএসসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা ও কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিক্সার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেওয়া হবে।
ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ)। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ) উদ্ধার করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
৪২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাশালগাঁও বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানিদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারীর পাশাপাশি অপরাধী চক্রের গতিবিধি এবং তাদের ব্যবহৃত কৌশল শনাক্তে কাজ করছে। সীমান্তের যেকোনো স্থানে সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবির লক্ষ্য শুধু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের তৎপরতা বন্ধ করাও। এ লক্ষ্যে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছেন।
সভার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া। এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন ভাবনা জানার পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি তুলে ধরছেন তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করছেন জিয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার নাগরিকসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করছেন তিনি।
শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হবিরবাড়ী ইউনিয়নে উন্নয়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলের উপযোগী সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, এলাকার সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সহজে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জনপ্রতিনিধিকে জানাতে পারেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁদের মতামত প্রতিফলিত হয় এমন একটি জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রত্যাশিত।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে চান তিনি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “হবিরবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ নির্বাচিত করলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নকে শুধু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর এই গণসংযোগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক তৎপরতারই অংশ। তবে দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, তিনি যেন দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নাগরিকসেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩ টা ৪৫ ঘটিকায় দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে,বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন।এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের ক্যাডার বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের।
এ বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ করছে।ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদান স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা সিলেটে উচ্চশিক্ষা ও কৃষিশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষির উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। কৃষি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমানকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের পতিত জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, উর্বর কৃষিজমি রক্ষা করা জরুরি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় পতিত বা কম উৎপাদন শীল জমি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে রিজভী বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে প্রকৃত কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
এর আগে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন করা হয়। কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজনও ছিল। পরে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মূল ভিত্তি। কৃষির আধুনিকায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।