সাগর হোসেন ও তার মা মুন্নি খাতুন
অবশেষে বৃদ্ধা মা মুন্নি খাতুনের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সাগর হোসেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও আদালতের উদ্যোগে মায়ের ভরণপোষণসহ সব দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। নিজের ভুল স্বীকার করে মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন সাগর। রোববার ‘বৃদ্ধ মা চান একসঙ্গে থাকতে, ছেলে নারাজ’ শিরোনামে সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি প্রশাসন ও আদালতের নজরে আসে।
সোমবার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদের উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে মা ও ছেলের মধ্যকার বিরোধের সমাধান হয়। এ সময় সাগর হোসেন ও তার মা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। পরে মাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন সাগর। এ সময় সাগরের মামা জাকির হোসেন ও খালু মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সংবাদটি আদালতের নজরে এলে স্বপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ নেন আদালত। রোববার বিকেলে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমানকে মা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওসি নিজের গাড়িতে করে তাদের পাবনা আদালতে নিয়ে যান। সাঁথিয়া থানার আমলি আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর তাদের মধ্যকার বিরোধের সমাধান করা হয়।
আদালতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হন সাগর। মায়ের সঙ্গে এমন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তার সঙ্গে আর এমন আচরণ করবেন না বলে জানান। একই সঙ্গে মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।
সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশের সদস্য।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর মা ও ছেলের মধ্যে দায়িত্ব পালন ও ভরণপোষণ নিয়ে একটি পারিবারিক মামলার শুনানি হয় সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এ সময় ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগরকে মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য বুঝিয়ে দেন। তবে মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে রাজি হননি তিনি।
একপর্যায়ে ইউএনওকে সাগর বলেন, মাকে সঙ্গে রাখলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। মাকে সঙ্গে রাখতে পারবেন না জানিয়ে মাসে কত টাকা দেবেন, তা নির্ধারণ করে দিতে বলেন। এ ঘটনায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
ছেলের কাছে ফিরতে পেরে খুশি মুন্নি খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ভুল বুঝে আমাকে অনেক কথা বলেছে। এখন সে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি আমার ছেলেকে চেয়েছিলাম, ছেলেকে পেয়েছি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। ছেলের সব ভুল আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। দেশবাসীও আমার ছেলেকে ক্ষমা করে দেবেন। এখন আমি ছেলের বাড়িতে ফিরে এসেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছেলের কাছেই থাকতে চাই। মা হিসেবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।’
সাগর হোসেন বলেন, ‘মা ইউএনও স্যারের কাছে ভরণপোষণের জন্য অভিযোগ করায় আগে আবেগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে অনেক কথা বলেছিলাম। স্যারের কথা না শুনে মাকে টাকা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সঙ্গে রাখতে চাইনি। মাকে সঙ্গে দিলে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। ওসি স্যার আমাকে গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি অনুতপ্ত। এখন থেকে মাকে নিজের কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করব। আমি আমার মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাই।’
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে মা ও ছেলেকে গাড়িতে করে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাদের বক্তব্য শুনে বিরোধের সমাধান করে দেন। পরে মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, তার ও আদালতের উদ্যোগে মা ও ছেলের বিরোধের সমাধান হয়েছে। সাগর নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন। এখন থেকে তারা একসঙ্গে থাকবেন এবং সাগর মায়ের ভরণপোষণ করবেন বলে আশাবাদী তিনি। মানবিক এই উদ্যোগে ভূমিকা রাখতে পেরে ভালো লাগছে উল্লেখ করে ইউএনও এ বিষয়ে আদালত ও সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
পঞ্চগড়ের মেঘমুক্ত আকাশে দেখা মিলেছে হিমালয় পর্বতমালার তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। ভোরের আলোয় বরফে ঢাকা পর্বতটির অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। পঞ্চগড় জেলা শহরসহ তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। আর এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন পর্যটকেরা।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৬টা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলে। তবে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পাশে মহানন্দা নদীর তীর থেকে পর্বতটি সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমান বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী ও ভ্রমণপিপাসুরা।
প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে আকাশ পরিষ্কার থাকলে পঞ্চগড় থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভোরের আলো ফুটতেই দিগন্তে ভেসে ওঠে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি। কেউ ক্যামেরায় ধারণ করছেন প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্য, আবার কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলে ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্ত।
সূর্যের আলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ। কখনো শুভ্র, কখনো গোলাপি, আবার কখনো লালচে আভায় দেখা দেয় বরফে আচ্ছাদিত পর্বতচূড়া। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্বতটি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসে। স্থানীয়দের মতে, ভোর ও সকালের দিকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়, যদিও আবহাওয়ার ওপর দৃশ্যমানতা নির্ভর করে।
ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটক রাকিব বলেন, “আমরা বন্ধুরা মিলে এখানে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। আলহামদুলিল্লাহ, আকাশ পরিষ্কার থাকায় কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেয়েছি। আমরা অনেক খুশি।”
নওগাঁ থেকে মোটরসাইকেলে ঘুরতে আসা সিমুল বলেন, “সকালে বন্ধুদের নিয়ে মোটরসাইকেলে তেঁতুলিয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসেছি। এখানে পৌঁছেই ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পাশে মহানন্দা নদীর তীর থেকে পর্বতটি দেখতে পেয়েছি। আমাদের এ যাত্রা সফল হয়েছে।”
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা চিকিৎসক জাহিদ বলেন, “শুনেছি, অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। ভোরের দিকে আমরাও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে কিছুটা দেখা গেলেও পরে মেঘ ও কুয়াশায় ঢেকে যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখা যায়।”
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক নয়ন বলেন, “কিছুক্ষণের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। পর্বতটি আড়াল হয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে আমরা পৌঁছাতে পেরেছিলাম। তাই অল্প সময়ের জন্য হলেও দেখতে পেরেছি। তেঁতুলিয়ার মানুষের আন্তরিকতাও আমাদের ভালো লেগেছে।”
খুলনা থেকে আসা পর্যটক মালিক বলেন, “ফেসবুক ও টেলিভিশনে কাঞ্চনজঙ্ঘা অনেক দেখেছি। বাস্তবে এবারই প্রথম দেখার সুযোগ হলো। টেলিভিশনের চেয়ে সরাসরি দেখে আরও বেশি সুন্দর মনে হয়েছে।”
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পাশাপাশি পর্যটকেরা ঘুরে দেখছেন মহানন্দা নদীর তীর, বিস্তীর্ণ চা-বাগান ও সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। এতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকে। আকাশ ও আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় মঙ্গলবার পর্বতটির সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের ভ্রমণে আসার আগে আকাশের অবস্থা বিবেচনা করা উচিত।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, শীতের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা পঞ্চগড়ে বেড়াতে আসেন। তাঁদের অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতেও আসেন। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ছাত্রলীগ কর্মী সন্দেহে মো. মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তার
সিলেটের রাজপথে ঝটিকা মিছিলের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম মো. মাহফুজুর রহমান (১৯)। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল।
পুলিশ সুত্র জানায়, গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ধোপাদিঘীরপারের ওসমানী শিশু পার্কের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাহফুজ সিলেট মহানগরীর কালিঘাট আমজাদ আলী রোডের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান ও সীমা রহমানের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি গোলাপগঞ্জের রনকেলি লামা দক্ষিণভাগ গ্রামে।
পুলিশ জানায়, সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় গত ২১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রবিরোধী মিছিল ও স্লোগানের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলার (নং ৪৪/২৫/০৯/২৬) তদন্তে প্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ আসামি মাহফুজ।তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে এসএমপির মিডিয়া সেল।
১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশ
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. জহিরুল ইসলাম (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন সিরতা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলাম কোতোয়ালী থানার বোররচর (ভাটিপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম সামছুল হক এবং মায়ের নাম রাহিলা খাতুন।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন ও ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ মাহবুবুল হকের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) যুবরাজ দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। মাদক কারবারের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা শনাক্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের মাধ্যমে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে কাজ করছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মো. আকাশ উদ্দিনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু স্বাক্ষরিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানার আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকার একটি সিএনজি পাম্পের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ও এসআরবি-১০, সিপিএসসি লালবাগের যৌথ দল এ অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তার আকাশ উদ্দিন নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গানগর এলাকার আমজাদ হাজী বাড়ির আমির হোসেনের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়ি জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চররমিজ এলাকার গুচ্ছগ্রাম দক্ষিণ দিঘিতে। তার সাবেক স্ত্রী তানিয়া আক্তারের সঙ্গে প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর শ্বশুরবাড়িতে থাকার জায়গা না পেয়ে তিনি সদর উপজেলার পূর্ব দুর্গানগর এলাকার মোহাম্মদীয়া নুরানী মাদ্রাসায় রাত কাটাতেন এবং দিনে শ্রমিকের কাজ করতেন। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার মসজিদের পাকা মাঠে পুকুরপাড়ে ইটের ওপর গামছা বিছিয়ে মশার কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন কামাল উদ্দিন। এ সময় এলাকার লোকজনের চলাচল কমে এলে এবং মাদ্রাসার শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে পারিবারিক বিরোধের জেরে আকাশ উদ্দিনসহ অন্য আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে আকাশ উদ্দিন ভাঁজ করা ছুরি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল হক (৪৮) বাদী হয়ে ১২ অক্টোবর সুধারাম থানায় হত্যা মামলা করেন।
এসআরবি জানায়, মামলা দায়েরের পর জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি আকাশ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে এবার একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৮ থেকে ৯ ধরনের ভেজাল ও নকল পণ্য জব্দ, গোডাউন সিলগালা এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়ার কারিগরপাড়ায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ‘মেসার্স রানা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি গোডাউনে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল ও নিম্নমানের পণ্য প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অভিযানে ‘চাষী’ ব্র্যান্ডের চালের খালি মোড়কে সাধারণ খোলা চাল ভরে প্যাকেটজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া নকল ঘি, মশার কয়েলসহ প্রায় ৮ থেকে ৯ ধরনের ভেজাল ও নকল পণ্য জব্দ করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫০ ধারায় অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম রানাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে গোডাউনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মেসার্স রানা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম রানা ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাদিস হাওলাদারের ছেলে। তাঁর বাড়ি ৭৬ নম্বর দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে।
উল্লেখ্য, ভাণ্ডারিয়ায় নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরি, প্যাকেটজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তাদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষায় এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তারাব পৌরসভা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক প্রধান দাবিকৃত ১০ হাজার চাদা না পেয়ে রুবেল (২৬) নামে এক ট্রাক চালককে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার তারাব পৌরসভার মৈকুলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রুবেল বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দেন।
ভুক্তভোগী রুবেল জানান, তিনি এশিয়ান ট্রেডার্স নামে একটি কোম্পানির ট্রাক চালক হিসেবে কাজ করছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রুবেল এশিয়ান ট্রেডার্সের মালামাল নিয়ে মৈকুলী কারখানায় প্রবেশ করতে যায়। এসময় তারাব পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক প্রধান রুবেলের কাছে ১০ হাজার টাকা চাদা দাবি করে। তার দাবিকৃত চাদা না দিলে ট্রাক এশিয়ান ট্রেডার্সের কারখানায় প্রবেশ করতে দিবে না বলে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। এসময় রুবেল প্রতিবাদ করলে ফজলুল হক প্রধান রুবেলসহ তার লোকজন এলোপাথাড়িভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। রুবেলের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ফজলুল হক ও তার লোকজন চলে চলে যায়।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলে, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।