ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক আধিপত্য স্থাপনের মাধ্যমে রংপুরে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী। এরশাদের হাতেগড়া জাতীয় পার্টির দুর্গকে বিলীন করে
এবার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ১১ দলীয় জামায়াত
জোট।
শুক্রবার
(১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রংপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক
মোহাম্মদ এনামুল আহসান।
ঘোষিত
ফলাফলে ছয়টি আসনের পাঁচটিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত ও একটিতে জোটসঙ্গী
এনসিপি।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক)
জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মো. রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ২৮
হাজার ৪৫৭। এর মধ্যে বৈধ
২ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৫ হাজার ৩১৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬০ দশমিক ৮৯
শতাংশ।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ)
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট।
বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। দুটি উপজেলার ১৩৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬১
হাজার ৮৩৯। এর মধ্যে বৈধ
২ লাখ ৫৬ হাজার ২০৩
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৫ হাজার ৬৪৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৭৪
শতাংশ।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন)
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরের সাবেক আমির মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে থাকেন। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৪ জন। এখানে ১৬৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৪
হাজার ৭৯৫। এর মধ্যে বৈধ ৩
লাখ ১৭ হাজার ৫৯২
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৭ হাজার ২০৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৩ দশমিক ৯১
শতাংশ।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা)
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটসমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিকে ৯ হাজার ৪০২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজর ৫৬৪ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। দুই উপজেলার ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮
হাজার ৩১৪। এর মধ্যে বৈধ
৩ লাখ ৩০ হাজার ৫১
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৮ হাজার ২৬৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৬ দশমিক ৩৫
শতাংশ।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর)
জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট।
মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। এখানে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ১৯
হাজার ৪৮৯। এর মধ্যে বৈধ
৩ লাখ ১২ হাজার ৮৪
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৮ হাজার ৪০৫। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৩১
শতাংশ।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ টি।
এ
আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৫
হাজার ৭৩৫ জন। এখানকার ১১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭
হাজার ৪২৭। এর মধ্যে বৈধ
২ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৫
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৫ হাজার ৪৫২। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৯ দশমিক ৫৫
শতাংশ।
জেলা
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, রংপুরে ৬টি সংসদীয় আসনে ২৫ লাখ ৯৯
হাজার ২০২ জন ভোটার ৮৭৩টি
ভোট কেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৮৮টি
বুথে ভোটারেরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতি দল ও স্বতন্ত্র
মিলে ৪৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এদিকে,
রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে সরাসরি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং একটি আসনে জোট-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন
রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বার্তা মিলছে। বিএনপির সঙ্গে লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয়
আর জাতীয় পার্টি আসনশুন্য অবস্থান আগামীতে রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেউ
কেউ মনে করছেন, এবার রংপুরের জনগণ আবেগের লাঙ্গল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। তবে উন্নয়ন বৈষম্য থেকে বের হতে না পারলে আবারো
পিছিয়ে যাবে তিস্তা নদী বেষ্টিত কৃষিনির্ভর রংপুর অঞ্চলের মানুষেরা।
ভোটের
দিন সকাল থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে
কোথাও দেখা যায়নি। মাঠে ছিলেন না জাতীয় পার্টির
কেন্দ্রীয় নেতারাও। অনেকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি বক্তব্য। জিএম কাদের নিজেও বের হননি রংপুরের সেনপাড়ার স্কাই ভিউ নিবাস থেকে। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীরা তার বাসার সামনে কয়েক দফায় জড়ো হলেও তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি।
শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে উপজেলা প্রশাসনের সচেতনতামূলক প্রচারণা!
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, সন্ধ্যার পর বাইরে আড্ডা এবং মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করছে উপজেলা প্রশাসন। এ পরিস্থিতি উত্তরণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে এসব সচেতনতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে।
প্রচারণায় জানানো হয়, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাগরিবের পর কোনো শিক্ষার্থী বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করতে পারবে না। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। ১৮ বছরের কম বয়সী কারও কাছে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করা যাবে না। এ ছাড়া বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষার্থীদের দোকানে বসে অযথা আড্ডা দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি ছোট শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ডোবা, পুকুর, খাল ও নদী থেকে তাদের দূরে রাখতে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষার ফলাফলের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ ধরনের সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রচারিত নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
৩য় আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরি-২৬। ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের গুণাবলি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী ‘৩য় আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরি-২৬’। এতে রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে ১৩০টি ইউনিটের প্রায় ১ হাজার ২শ কাব স্কাউট, গার্ল-ইন-কাব স্কাউট, ইউনিট লিডার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ স্কাউটস, দিনাজপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার ও ক্যাম্পুরির ক্যাম্প চিফ মো. আখতারুজ্জামান।
বাংলাদেশ স্কাউটস, দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে ৪ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এ ক্যাম্পুরি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে নীল আকাশ, সবুজ বন, স্কাউটিংয়ে গড়ি জীবন’।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলার স্কাউটরা এতে অংশ নিচ্ছেন। ক্যাম্পুরিতে শিশুদের জন্য থাকছে ১০টি চ্যালেঞ্জভিত্তিক স্কাউটিং কার্যক্রম। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থাপন করা হয়েছে দুটি ভিলেজ ও চারটি সাব-ক্যাম্প।
অংশগ্রহণকারী শিশুদের আবাসন, খাবার, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ আয়োজন সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠন সহযোগিতা করছে।
আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পুরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর। আর মহাতাঁবুজলসা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমের।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা, আত্মনির্ভরশীলতা, পরোপকারিতা ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়বে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের দক্ষ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে তারা অনুপ্রাণিত হবে।
নীলফামারী সদরের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ভুটিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নীলফামারী সদরের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ভুটিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্বিজেন্দ্রনাথ রায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে এসে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই শিক্ষা অফিসে চলে যাচ্ছেন। তবে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব অন্য কোনো শিক্ষকের কাছে বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এমনকি মুভমেন্ট রেজিস্টারেও নিয়ম অনুযায়ী কোনো তথ্য লিখে যাচ্ছেন না বলে অভিযোগ সহকারী শিক্ষকদের।
স্থানীয় এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত পরশু দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেও পঞ্চম শ্রেণিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিচার হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পর আবারও স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করছিলেন ওই শিক্ষক। এবারও বিষয়টি মীমাংসার পর্যায়ে রয়েছে বলে সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে শুনেছেন তিনি।
স্থানীয় যুবক পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, দুই-তিন দিন ধরে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে। তিনি নিজের ভাতিজিকেও অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বারবার এমন অভিযোগ উঠলে শিশুদের নিরাপত্তা কোথায় ? এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এছাড়াও এলাকায় অসংখ্য মানুষের ভুঁড়ি ভুঁড়ি অভিযোগ ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সকলেই বলছেন, বাবা-মায়ের পরে আমরা শিশুদের ভরসার জায়গা মনে করি শিক্ষকদের কাছে । কিন্তু শিক্ষকরাই যদি এরকম কর্মকাণ্ড করে। তাহলে আমরা তাদের কোথায় পাঠাবো। তদন্ত সাপেক্ষে এর উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অনিমেষ চন্দ্র রায় বলেন, তিনি এখনো কমিটির দায়িত্ব বুঝে পাননি। তবে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয়টি শুনেছেন। দায়িত্ব বুঝে না পাওয়ায় এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।
প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া না গেলেও সহকারী শিক্ষক সুধেন রায় জানান, গত দুই দিন ধরে প্রধান শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে শিক্ষা অফিসে যাওয়ার কথা বলে বিদ্যালয় ত্যাগ করছেন। তবে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব কাউকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন না এবং মুভমেন্ট খাতায়ও স্বাক্ষর করছেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মণ্ডল বলেন, গত দুই দিন ধরে প্রধান শিক্ষক দ্বিজেন্দ্রনাথ রায় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার নিয়ে বদলির বিষয়ে শিক্ষা অফিসে আসছেন এবং এ নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে লিখিত অভিযোগ প্রয়োজন। অন্যদিকে, নিয়ম না মেনে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব ফেলে শিক্ষা অফিসে আসার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে মানববন্ধন
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পৌর শহরের চৌরাস্তায় ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন পালন করা হয়। মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিটের আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুল হক চৌধুরী, সদর উপজেলা কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও সাবেক উপজেলা কমান্ডার সুবোধ চন্দ্র রায়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার, জানাজা ও দাফনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বাধা দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, তাঁদের শেষ বিদায়েও এমন বাধা দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
মানববন্ধন থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের বিরুদ্ধে ব্যাংক ড্রাফট ও খাদ্য গুদাম থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট। গত আট-নয় মাসে এমপি কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, কোন ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক ড্রাফট জমা হয়েছে, তার সব তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাংক ড্রাফটের নম্বর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এমপির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন বুলেট।
সম্প্রতি বিএনপি নেতার এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে রবিউল আলম বুলেটকে বলতে শোনা যায়, মহাদেবপুরে বিএনপির নামে আলাদা সাইনবোর্ড লাগিয়ে কার্যালয় করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি শেষে ওই সাইনবোর্ড টেনে খুলে ফেলে দেওয়া হবে।
বক্তব্যে তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) তাঁদের সুসংগঠিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলতে হবে। তাঁরা সেই নিয়ম মেনেই চলছেন। এতদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে মুখ খোলেননি। সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বুলেট বলেন, ‘আমি শুনেছি, একটি প্রোগ্রামে উনি (এমপি) নাকি বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা প্রত্যেকটি ইউনিয়নে চিঠি দিয়ে টাকা চেয়েছি। আমাদের চিঠির বিনিময়ে জবাব দিক, কোন ইউনিয়নের কাছে আমরা টাকা চেয়েছি? আর এমপি সাহেব কার কাছে টাকা চেয়েছেন, তার প্রমাণসহ হাজির হব মহাদেবপুরের মানুষের কাছে। অপেক্ষা করেন, ওঁর (এমপি) প্যান্ট–টাই এই মহাদেবপুরের মাটিতে আমি যদি খুলে নিতে না পারি, আর কোনো দিন রাজনীতি করব না।’
তিনি আরও বলেন, গত আট-নয় মাসে সংসদ সদস্য কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন এবং কোন ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক ড্রাফট জমা হয়েছে, তার সব হিসাব ব্যাংক ড্রাফটের নম্বরসহ তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করবেন। মহাদেবপুর থানা এলাকায় ব্যাংক ড্রাফটসংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলেও রাজনীতি করবেন না বলে জানান তিনি।
ভিডিওতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের উদাহরণ টেনে বুলেট বলেন, শেখ হাসিনার কাছে পুলিশ, আর্মি, বিজিবি, প্রশাসন ও ক্ষমতা ছিল। কিন্তু জনগণের কাছে তিনি টিকে থাকতে পারেননি। সংসদ সদস্য যত ক্ষমতাধরই হোন না কেন, তাঁর সঙ্গে পুলিশ কিংবা সিভিল প্রশাসন থাকলেও জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কিছু নয়।
বর্তমান সংসদ সদস্যের সমালোচনা করে উপজেলা বিএনপি সভাপতি আরও বলেন, আট-নয় মাসের সংসদ সদস্য হয়ে জেল থেকে বাঁচতে তাঁর প্রতিনিধিকে ইউএনওর পা ধরতে হয়েছে। সেই ইতিহাস সবার জানা। ইউএনও ওই প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর পা ধরে ক্ষমা চাওয়া হয়। এখন বাইরে এসে বড় বড় কথা বা ‘লম্বাগিরি’ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এমপির টকশোতে দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বুলেট। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য টকশোতে দাবি করেন, ডিসি তিন কোটি টাকা নিয়েছেন। কিন্তু ডিসি কি সংসদ সদস্যের অধীন? সরকার কি সংসদ সদস্যের? ডিসি টাকা নিয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না কেন? এসব কথা টকশোতে বলা গেলেও জনগণকে বোঝানো যাবে না, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে রবিউল আলম বুলেট বলেন, বিগত পাঁচ বছরে সেলিম যা করেননি, তাঁর ধারণা, গত আট-নয় মাসেই বর্তমান সংসদ সদস্য তার চেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছেন। একটি খাদ্য গুদাম থেকেই তিনি তিন কোটি টাকার বেশি নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বুলেট। কোনো কাজ না করেই কীভাবে কাজের বিল তোলা হয়েছে, তার সব হিসাব সময়মতো জনগণের সামনে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট বলেন, এ বিষয়ে সময়মতো কথা বলবেন।
অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, রাজনীতিতে থাকলে মানুষ এমন রাজনৈতিক কথা বলবেই। বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং বিএনপি সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তাই লুকোচুরির কিছু নেই। যার কাছে অডিও বা বক্তব্য রয়েছে, তিনি প্রমাণসহ জাতির সামনে আসুন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে নতুন নই। রাজনীতি করতে গেলে অনেকেই অনেক কথা বলবে। আপনারা স্বাধীনভাবে খোঁজ নিয়ে নিজেদের মতো রিপোর্ট করতে পারেন।’