তিস্তায়
বন্যার পানি টান ধরলেও বেড়েছে জনদুর্ভোগ। নদীপাড়ের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি কমার সাথে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের
তথ্য অনুযায়ী ফের পানি বাড়বে-এমন উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ।
রংপুর
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল
ছয়টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক
৮৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩০
সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায়
এই পয়েন্টে পানি প্রবাহ ১৩ সেন্টিমিটার হ্রাস
পেয়েছে। এখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক
১৫ সেন্টিমিটার। একই সময়ে কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার নিচ
দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।
এরআগে
গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানি কমে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ
দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এদিকে,
হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানি বাড়া-কমায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ার তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডানতীর রক্ষায়
নির্মিত গ্রোয়েন এলাকায় ভাঙনসহ কোলকোন্দ এবং লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বেশকিছু পরিবার পানিবন্দিসহ চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। তলিয়ে গেছে পাট, বাদাম ও আমনের বীজতলা।
চলতি
মৌসুমে গত ২৩ জুন
সর্বপ্রথম বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর
দিয়ে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। যা পরদিনই বিপৎসীমার
নিচে নেমে আসে। আবার ২৮ জুন রোববার
সন্ধ্যায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর
দিয়ে চলতে থাকে, ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
গঙ্গাচড়ায়
পানিবন্দি ৪ হাজার পরিবার
উপজেলার
কোলকোন্দ, আলমবিদিতর, নোহালী, সদর, লক্ষ্মীটারী ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের
অন্তত ২০টির বেশি গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে বাগডহরা, মিনারবাজার, আনন্দবাজার, বিনবিনা, চর মটুকপুর, চিলাখাল,
বাগেরহাট, চর শংকরদহ, কাশিয়াবাড়ী,
ইচলি ও চর ছালাপাকসহ
বিভিন্ন এলাকার শত শত বাড়িঘর,
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি
এখন হাঁটু পানির নিচে। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাসহ গবাদি পশু খাদ্যের সংকট, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিসহ খাদ্য সংকটে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।
সেতু রক্ষা বাঁধের ১৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন
গত
বছর ভাঙনের পর স্থায়ী প্রতিরক্ষা
ব্যবস্থা গ্রহণ না করে অস্থায়ীভাবে
বাঁশের পাইলিং (স্পার) নির্মাণ করা হয়। যা কার্যকর না
হওয়ায় সরকারের ১৪ লক্ষ টাকা
গচ্ছা গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের
অভিযোগ, বাঁশের পাইলিং বসানোর ছয় মাসও হয়নি,
চলতি বর্ষা মৌসুমের প্রথম ধাপেই পানির চাপ ও তীব্র স্রোতের
মুখে বাঁশের পাইলিংয়ে ধসে গেছে ।
স্থানীয়দের
দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু, রংপুর–কাকিনা আঞ্চলিক সড়ক এবং আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়েছে।
চর
শংকরদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, রাতারাতি পানি বাড়লো, ঘরবাড়ি ডুবে গেল। এখন পানি কিছুটা নামছে, কিন্তু নদী ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে
থাকা গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, বাড়িতে পানি উঠেছে। শিশু আর গবাদিপশু নিয়ে
খুব কষ্টে আছি। এখনো কোনো ত্রাণ পাইনি।
কোলকোন্দ
এলাকার কৃষক সালাম উদ্দিন বলেন, দেড় একর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদিপশুর খাদ্য নিয়েও সংকটে আছি। ধান বীজতলা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একই
অবস্থা কাউনিয়া উপজেলা তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে। সেখানকার পাঞ্চরভাঙ্গা গ্রামের আরমান বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। পানি বেশি হলে তো সমস্যা। স্ত্রী-সন্তান ও গরু-ছাগল,
হাঁস-মুরগি নিয়েও উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।
সেতুর সংযোগ সড়কে গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি
গঙ্গাচড়া
উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মহিপুরে নির্মিত দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু। কিন্তু বিগত সময়ের মতো এবারো বর্ষা মৌসুমে এই সেতুর সংযোগ
সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দিয়েছে।
সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত
ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন।
জানা
যায়, দ্বিতীয় তিস্তা সেতুটি রংপুর-লালমনিরহাটের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণের অন্যতম মাধ্যম। এই সেতুটি রংপুরের
বুড়িরহাট ও মহিপুর হয়ে
লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও তুষভাণ্ডার অতিক্রম
করে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত সংযোগ তৈরি করেছে। আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের
যাতায়াতের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরেজমিনে
দেখা গেছে, সেতুর উত্তরপ্রান্তে সংযোগ সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে ধস ও বড়
গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে সড়ক দেবে গেছে। এতে ভারি যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যান ও মোটরসাইকেল চালকদের
জন্যও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সেতু
সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর মিয়া
বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ করেই
রাস্তার কয়েক জায়গা দেবে যেতে শুরু করে। এখন বড় বড় গর্ত
তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন এত মানুষ চলাচল
করে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড়
ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
পথচারী
মাহমুদ মিয়া বলেন, সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কয়েক জায়গায় ধসে গেছে। আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এ
বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ধসের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের পরিদর্শনের
নির্দেশ দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে । মেরামত কাজ
শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
ভেঙে যাচ্ছে স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁধ
উপজেলার
বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে নদীর ওপারে তাকালেই দেখা যায় মাটির দীর্ঘ বাঁধ। তবে সরকারি কোনো প্রকল্প নয়, ঠিকাদারের নির্মাণও নয়। দিনমজুর, কৃষক, জেলে আর চরবাসীর শ্রমে
গড়ে ওঠা এ বাঁধ তিন
বছর ধরে পাঁচটি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। কিন্তু উজানের ঢল আর তিস্তার
পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে এখন দেখা দিয়েছে ভাঙন। ফলে ১২ হাজার পরিবারের
মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে উৎকণ্ঠা।
স্থানীয়রা
বলছেন, তিন বছর আগে বন্যায় বাগডোহরা চরের নিচাপাড়ার তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায় তিস্তায়। সে সময় বারবার
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গেলেও নেয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নিজেরাই
সিদ্ধান্ত নেন বাঁধ নির্মাণের। চাঁদা তোলা হয় গ্রামের মানুষের
কাছ থেকে। কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ শ্রম। দিনের কাজ শেষে রাতভর মাটি কেটেছেন অনেকে।
বৈরাতি
থেকে বাগডোহরা মিনার বাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় প্রায় পাঁচ
কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ। পরে উজানে চরনোহালী এলাকায় গড়ে তোলা হয় আরও প্রায়
দুই কিলোমিটার সহায়ক বাঁধ। গত বছরের বন্যায়
দুই শতাধিক একর কৃষিজমি নদীতে চলে গেলেও এই বাঁধের কারণে
রক্ষা পেয়েছিল ঘরবাড়ি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সহায়ক বাঁধটি টিকতে না পারলে থাকবে
না মূল বাঁধও। ইতোমধ্যে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধে ২০০ ব্যাগ জিও ব্যাগ ফেলেছে।
ভাঙনরোধে সময়মতো ফেলানো হয়নি জিও ব্যাগ
গঙ্গাচড়া
উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন,
চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষের পাশে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এবং নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আমরা খোঁজখবর রাখছি এবং প্রশাসনকে সবকিছু অবগত করতেছি।
তিনি
আরও বলেন, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে যখন প্রথম ভাঙন শুরু হয়েছিল, তখন সময়মতো অল্প কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। গত বছর থেকেই
বরাদ্দের কথা শুনে আসছি, কিন্তু কোনো বরাদ্দ আসেনি। পরে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং করা হলেও পানির বৃদ্ধির শুরুতেই প্রথম চাপেই সেটি ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার
কাজ ধ্বংস হয়ে গেছে।
কাউনিয়া
উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তার ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি
বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে একদিকে নদীপাড়ের মানুষরা নির্ঘুম রাত কাটায়। অন্যদিকে পানি কমে যাওয়ার পর নদী ভাঙন
দেখা দিবে।
একই
কথা জানান টেপামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দিনের বেলায় পানি বৃদ্ধি পেলে তীরবর্তী এলাকায় সমস্যা কম হয়। কিন্তু
রাতের বেলায় পানি বৃদ্ধি পেলে নদীপাড়ের মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না। এছাড়া সৃষ্ট বন্যায়
নদী তীরবর্তী আবাদি জমিগুলো তলিয়ে বাদামসহ বিভিন্ন শাক-সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হবে।
ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছে প্রশাসন
স্থানীয়রা
দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন, শুধু দ্রুত ত্রাণ বিতরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাঁধ
নির্মাণ করা জরুরি।
এ
ব্যাপারে উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন
কর্মকর্তা সজিবুল করীম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হবে।
উপজেলা
কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন জানান, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২০ হেক্টর আমন
ধান, ১ হেক্টর মাসকলাই,
২ হেক্টর বীজবাদাম ও আধা হেক্টর
সবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সরকারিভাবে বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি
গঙ্গাচড়া
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, উজানে ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরঢুষমারা গ্রামের কিছু অংশে পানি ঢুকে পড়েছে। ওই গ্রামের নদীর
তীরবর্তী কিছু অংশে ভাঙনও দেখা দিয়েছি। পানি বৃদ্ধির ফলে যেন বন্যায় কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেজন্য
জনপ্রতিনিধিদের নদীপাড়ের খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে সকল ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেয়া আছে।
রংপুর অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস
বন্যা
পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র
জানায়, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর বিভাগ ও এর উজানে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে আরও দুদিন ভারী থেকে অতিভারী এবং পরবর্তী তিনদিন মাঝারী ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
রংপুর
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধিসহ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
সড়কে ‘শৃঙ্খলা ফেরানোর’ চেষ্টার অংশ হিসেবে ই-রিকশা নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএসসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ই-রিকশার নিবন্ধনে মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন পরিচালিত হচ্ছে।আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ, নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।
ডিএসসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা ও কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিক্সার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেওয়া হবে।
ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ)। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ) উদ্ধার করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
৪২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাশালগাঁও বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানিদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারীর পাশাপাশি অপরাধী চক্রের গতিবিধি এবং তাদের ব্যবহৃত কৌশল শনাক্তে কাজ করছে। সীমান্তের যেকোনো স্থানে সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবির লক্ষ্য শুধু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের তৎপরতা বন্ধ করাও। এ লক্ষ্যে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছেন।
সভার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া। এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন ভাবনা জানার পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি তুলে ধরছেন তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করছেন জিয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার নাগরিকসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করছেন তিনি।
শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হবিরবাড়ী ইউনিয়নে উন্নয়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলের উপযোগী সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, এলাকার সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সহজে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জনপ্রতিনিধিকে জানাতে পারেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁদের মতামত প্রতিফলিত হয় এমন একটি জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রত্যাশিত।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে চান তিনি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “হবিরবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ নির্বাচিত করলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নকে শুধু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর এই গণসংযোগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক তৎপরতারই অংশ। তবে দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, তিনি যেন দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নাগরিকসেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩ টা ৪৫ ঘটিকায় দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে,বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন।এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের ক্যাডার বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের।
এ বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ করছে।ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদান স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা সিলেটে উচ্চশিক্ষা ও কৃষিশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষির উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। কৃষি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমানকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের পতিত জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, উর্বর কৃষিজমি রক্ষা করা জরুরি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় পতিত বা কম উৎপাদন শীল জমি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে রিজভী বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে প্রকৃত কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
এর আগে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন করা হয়। কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজনও ছিল। পরে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মূল ভিত্তি। কৃষির আধুনিকায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।