ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রিমান্ডে
সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওসমান গনিকে (৩২) দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো. মাহবুব উল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অর্থদাতা ও পরামর্শদাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন ১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়াস্থ’ গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ওসমান গনিসহ অপরাপর সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় সংহতি, অখন্ডতা ও নিরাপত্তা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে মহাসড়কে গোপনে সমবেত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার চক্রান্ত করছিলেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ইন্ধনদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।
পুলিশের পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে দেখা গেছে, আসামি ওসমান গনির বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ধারা অনুযায়ী একাধিক মামলা (মামলা নং-০৮ ও ০৯, তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬) বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত ওসমান গনি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর থানার সরকারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওসমান গনিকে (৩২) দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো. মাহবুব উল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অর্থদাতা ও পরামর্শদাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন ১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়াস্থ’ গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ওসমান গনিসহ অপরাপর সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় সংহতি, অখন্ডতা ও নিরাপত্তা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে মহাসড়কে গোপনে সমবেত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার চক্রান্ত করছিলেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ইন্ধনদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।
পুলিশের পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে দেখা গেছে, আসামি ওসমান গনির বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ধারা অনুযায়ী একাধিক মামলা (মামলা নং-০৮ ও ০৯, তারিখ: ০৮/০৯/২০২৬) বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত ওসমান গনি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী থানার মির্জাপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর থানার সরকারপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)- এর পৃথক দুটি অভিযানে ৭২ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ, ২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ৩৬০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মোট সিজার মূল্য ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী সিংহর এলাকায় অভিযান চালায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন বৈরচুনা বিওপির সদস্যরা।
সীমান্ত পিলার ৩৩৫/৭-এস থেকে আনুমানিক ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত ওই অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭২ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এরপর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ১৫ মিনিটে একই উপজেলার রনসিয়া এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে দানাজপুর বিওপির সদস্যরা।
সীমান্তের মেইন পিলার ৩৪০ থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৬০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক দুটি অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের সর্বমোট সিজার মূল্য ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকা।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা সাড়ে ১০টার সময় ঠাকুরগাঁও-বালিয়াডাঙ্গী সড়ক এবং সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও-ফারাবাড়ী সড়কে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১০:৩০ টার দিকে ঠাকুরগাঁও-বালিয়াডাঙ্গী সড়কে একটি ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিতে থাকা সাতজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১১:৩০ টার দিকে ঠাকুরগাঁও-ফারাবাড়ী সড়কে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদেরও উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুটি দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মোশারুল (৩০), আবু সায়েদ (২০), সাব্বির (১২), মোজাফর আলী (৭৪), নাজিমুল (৩৫), ফরহাদ আলী (৪৫), খাদেমুল ইসলাম (২৫), ইসলামুল হক (৩৫), জয়নাল আলী (৩৫), সালাম (৩৫) ও সুমিনা (৫৫)। এ ছাড়া আরও একজন আহত হয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আরএমও মনজুরুল ইসলাম জানান গুরূতর আহতদের মধ্যে দুজনকে রংপুর রেফার্ড করা হয়েছে। অন্যান্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব জাহিদ মুন্সি
গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন ও ব্যক্তিগত গোপনীয় ছবি ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে এক কলেজ ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ মামলায় পলাতক আসামী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব জাহিদ মুন্সিকে আটক করেছে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার মুনসুরপুর গ্রামের জাকির মিস্ত্রির পুত্র এনসিপির কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব জাহিদ মুন্সির (২৬) সাথে সরকারী কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে ছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গেস্ট হাউজে নিয়ে জাহিদ মুন্সি তাকে ধর্ষণ করে মোবাইলে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে।
পরে ওই ব্যক্তিগত গোপনীয় ছবি ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন হোটেল ও কলেজ সংলগ্ন রেলওয়ের পরিত্যক্ত কোয়াটারে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ধর্ষিতার বড় বোন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ১২(৯)২৬ নং মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত এনসিপি নেতা জাহিদ মুন্সি আত্নগোপন করে। কালীগঞ্জ থানা পুলিশ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পুবাইলের মাঝুখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহিদ মুন্সিকে আটক করেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত জাহিদ মুন্সি পলাতক ছিল। মঙ্গলবার রাতে পুবাইলের মাঝুখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে বুধবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর, এমপি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি এসব উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন।উদ্বোধন করা উন্নয়নকাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬৭ নম্বর নিজ ভাণ্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং ৭৬ নম্বর দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ।
এ ছাড়া ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জাকির পেশকারের অফিস থেকে বেলায়েত হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত এবং পেশকার মসজিদ থেকে ইউনুসের বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
একই ওয়ার্ডে বড় কানুয়া আলীর দোকান সংলগ্ন বিসিসিটিএফ সিসি রোড থেকে হাওলাদার বাড়ি-বেপারী বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজেরও উদ্বোধন করা হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. হাসিবুল হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার, ভাণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সদস্য সচিব মাসুদ রানা পলাশ, সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম মান্নান উৎপল হাওলাদার, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শামীম হাওলাদার প্রমুখ।এছাড়াও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়ন কাজের জন্য ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে আর বাকী ৬৫ শতাংশ দিয়ে টাকা মাজারের দৈনদিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে। মঙ্গলবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে শাহজালাল মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রায় দুই মাসের সিদ্ধান্তহীনতার অবসান হলো। মিটিং শেষে এসব তথ্য জানান এই কমিটির সদসম্য সচিব জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, এখন থেকে শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকা থেকে ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়কাজে জন্য সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে। এই একাউন্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও মাজারের মতোয়াল্লির যৌথ সাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকী ৬৫ শতাংশ টাকা মাজারের দৈনদিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, টাকা গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মাজার কমিটির পক্ষে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। এছাড়া একজন হিসাব রক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।
মাজার পরিচালনায় একটি কমিটি গঠন করা হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটির সদস্য হবেন সাতজন। এর আহ্বায়ক হবেন জেলা প্রশাসক। কমিটিতে সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদের একজন করে প্রতিনিধি ও পুলিশ সুপার থাকবেন। আর মাজারের মতোয়াল্লি এই কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন। এছাড়া নিয়োগকৃত ম্যানেজার এই কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ ও এ নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে কমিটি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ দেবে বলে সেদিন জানানো হয়েছিল। তবে প্রায় আড়াই মাস পর এই কমিটি সিদ্ধান্তে পৌছে। এতোদিন কোন নীতিমালা ন না হওয়ায় বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগের পর থেকে মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে এবং গণনার পর টাকা জেলা প্রশাসনের খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হচ্ছে। এতে মাজার পরিচালনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে জনোন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদেমরা।
জানা যায়, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একপাক্ষিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। দানবাক্স ও ডেগ সিলগালার পর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের পক্ষে-বিপক্ষে সিলেটজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এক পক্ষের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসক কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন।
অন্যদিকে আরেক পক্ষের অভিযোগ, মাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার নামে তার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ছিল একতরফা ও জোরপূর্বক, যা মাজারকেন্দ্রিক প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। এর পরদিন তার উপস্থিতিতে দানবাক্স সিলগালার চার দিন পর জনসমক্ষে বাক্সের তালা খুলে টাকা গণনা করা হয়।
গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণ-রূপাও পাওয়া যায়।
সর্বশেষ ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়। সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। এদিনও দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়।
মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। তিনি বলেছেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সিংগাইর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় এমপি মঈনুল ইসলাম খান শান্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য দেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আলাউদ্দিন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. সফিউদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কিশোর আহমেদ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল ছালেক, জেলা খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি মো. আশরাফ আলী, উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি মো. রতন মিয়া এবং সিংগাইর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।