ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৩ পিএম

টিনে ঘেরা বাড়ির উঠানে ব্যস্ত একদল শিশু-কিশোর। কারও হাতে একতারা, কারও হাতে দোতারা, কেউ বাঁশিতে তুলছে সুর, আবার কেউ তবলার তালে মেলাচ্ছে হাত। কখনও ভেসে আসছে ফকির লালনের গান, কখনও বাউল, মুর্শিদী, মারফতি, ভাওয়াইয়ার সুর। 


শহরের কোলাহল আর প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের বাইরে গ্রামের মাটিতে এভাবে নতুন প্রজন্মের হাতে বেঁচে উঠছে আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতি।


এই শিশুদের কণ্ঠে গান শুনতে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম আরাজি দেওডোবায় ছুটে গেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। গত সোমবার তিনি গ্রামটিতে যান। সেখানে শিশুদের কণ্ঠে গান শোনার পাশাপাশি দোতারা, একতারা, সারিন্দা, বাঁশি, তবলাসহ বিভিন্ন দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেখেন।


জানা গেছে, শিশু-কিশোরদের নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে ‘মায়ের তরী’ নামের সংগঠন। দেওডোবায় প্রধান ঠিকানা হলেও এ উদ্যোগ এখন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে দুই জেলায় ‘মায়ের তরী’র ৯টি গুরুগৃহে পাঁচ শতাধিক শিশু লোকগান শিখছে। দুটি লোকবাদ্যযন্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রায় ১২৫ জন শিশু শিখছে দোতারা, একতারা, বাঁশি, বেহালা, তবলা, খমক, সারিন্দাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। সব মিলিয়ে ছয় শতাধিক শিশু এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

‘মায়ের তরী’র গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নরওয়ের নাগরিক লেখক, লোকগবেষক, আলোকচিত্রী ও কবি উয়েরা সেথেরের নাম। 


তিনি ১৯৯৮ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে দক্ষিণ নামাজের চর এলাকায় বন্যা-পরবর্তী মানুষের জীবন দেখতে গিয়ে চরের নারীদের কণ্ঠে মারফতি ও মুর্শিদী গান শুনে মুগ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে বাংলার লোকগানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে স্থানীয় শিল্পী ও সংগঠকদের নিয়ে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মায়ের তরী’।


গত সোমবার সেই সংগঠনের কার্যক্রম দেখতে দেওডোবা গ্রামে এসে মুগ্ধ হন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নরওয়ে দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, প্রোগ্রাম অফিসার শাহপার সেলিম। এ সময় আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


‘মায়ের তরী’র কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধু একটি দেশের অতীতকে ধারণ করে না, মানুষে মানুষে সম্পর্ক তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রান্তিক শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি এবং স্থানীয় লোকগান ও বাদ্যযন্ত্রের ধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।


‘মায়ের তরী’র নির্বাহী পরিচালক সুজন কুমার বেদ বলেন, তাদের উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের গান শেখানো নয়; লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে তাদের জীবনবোধ, মানবিকতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা।


সংগঠনের অন্যতম সংগঠক ইউসুফ আলমগীরের ভাষ্য, এখানে অধিকাংশ শিশুই আসে প্রান্তিক পরিবার থেকে। অনেকের শহরে গিয়ে সংগীত শেখার সুযোগ নেই। কোনো কোনো গুরু প্রায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে শিশুদের প্রশিক্ষণ দেন। নিজেদের সময়, শ্রম ও ভালোবাসা দিয়ে তারা ধরে রাখছেন লোকসংগীতের ধারাবাহিকতা। ফলে সীমিত অর্থনৈতিক সামর্থ্যের মধ্যেও কার্যক্রমটি এগিয়ে চলছে।



সর্বশেষ সব খবর

মির্জা ফয়সল আমিন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে ভূল্লী কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভূল্লী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভূল্লী উপজেলা শাখার সভাপতি মনোরঞ্জন বর্মন।


বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাফরুল্লাহ, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আঃ হামিদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের রংপুর বিভাগের সভাপতি মনোরঞ্জন সিং এবং বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার দত্ত।


এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী ভুট্টো, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. নাজিমুল ইসলাম লাল এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভূল্লী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়, বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


সভায় ভূল্লী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৬৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন তারা। সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, পূজামণ্ডপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তিনি শুনেছেন। তিনি তাঁর বড় ভাই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষ থেকে সবাইকে আগাম শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।


তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক। সামনে শারদীয় দুর্গোৎসব অনেক আনন্দের মধ্য দিয়ে পালন করব, ইনশাআল্লাহ। আমি আপনাদের কাছে একটি ছোট্ট জিনিস চাই- আপনারা মনোবল ভাঙবেন না।


মির্জা ফয়সল আমিন আরও বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর আপনারা অনেক ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তখন আমি আপনাদের সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার বাসা যে এলাকায়, সেই জায়গার নাম কালিবাড়ি। ছোটবেলায় দেখতাম, আমার বাসার সামনে একটি জবা ফুলের গাছ ছিল। আপনাদের সম্প্রদায়ের অনেকেই সেখান থেকে ফুল নিয়ে পূজা করতেন। তেমনি আপনাদের বাড়ির তুলসী পাতার রস খেয়ে আমার জ্বর ভালো হয়েছে।


তিনি বলেন, আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেব না।’ 


আগামী ২৯ অক্টোবরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, যদি আমি আপনাদের হয়ে থাকি, তাহলে আগামী ২৯-১০-২০২৬ তারিখে প্রমাণ করে দেখাবেন।’


পরে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘সোনার ও স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সবাইকে আবারও শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

নোয়ালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় একটি ‘রাজা ইলিশ’ ১০ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাটে নিলামে মাছটি বিক্রি করা হয়।


জানা গেছে, হাতিয়ার জেলে জাহিদ মাঝি মেঘনা নদীতে মাছটি ধরেন। পরে মাছটি চেয়ারম্যান ঘাটের সাদিয়া ফিশ এজেন্সিতে নিয়ে নিলামে তোলা হয়। সেখানে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯০০ টাকা দর হাঁকিয়ে মাছটি কিনে নেন মৎস্য ব্যবসায়ী বিষ্ণু বেপারি।


নিলাম পরিচালনা করেন কুতুবউদ্দিন বাবু। তিনি বলেন, মাছটির আকার ও ওজন ভালো হওয়ায় নিলামে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯০০ টাকা দাম ওঠে। পরে ওই দামেই মাছটি বিক্রি করা হয়।


সাদিয়া ফিশ এজেন্সির মালিক মো. সালা উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যান ঘাটে বড় ইলিশ এলে সাধারণত ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়। এই রাজা ইলিশটিরও ভালো দাম পাওয়া গেছে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বিষ্ণু বেপারি মাছটি কিনে নেন।


মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আকবর হোসেন বলেন, মেঘনা নদীতে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়লে এর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে। রাজা ইলিশটি আকারে ভালো হওয়ায় নিলামে এর দামও বেশ উঠেছে।


নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা ও আকার অনেকটাই প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নদীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য আনন্দের বিষয়। তবে ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন স্বাভাবিক রাখতে সরকারি নির্দেশনা মেনে মাছ ধরতে হবে।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন ও ছয়টি রামদাসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং লিডার শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণ’কে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১। এ সময় তার আরও তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, শ্রাবণের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ ১৮টি মামলা রয়েছে।


গ্রেপ্তার শ্রাবণ (২০) ছাড়াও সিয়াম (২০), দিপু (১৯) ও কামরুজ্জামান (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


এসআরবি-১১-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে রূপগঞ্জের তারাবো এলাকায় অভিযান চালায় সংস্থাটির একটি বিশেষ আভিযানিক দল। অভিযানে শ্রাবণ ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ছয়টি লম্বা রামদা উদ্ধার করা হয়।


এসআরবি-১১-এর দাবি, শ্রাবণ দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় কিশোর ও উঠতি বয়সী তরুণদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন। তার নেতৃত্বে এলাকায় বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ, গোলাগুলি, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।


সম্প্রতি রূপগঞ্জে ফল ব্যবসায়ী রনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও শ্রাবণ ও তার অনুসারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বাসিন্দারা শ্রাবণের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।


এ ছাড়া মামলা তুলে না নেওয়াকে কেন্দ্র করে তারাব পৌরসভার টাটকি এলাকায় মামলার বাদী আমেনা বেগমের বসতবাড়িতে গভীর রাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে শ্রাবণ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এতে ওই বাড়ির বাসিন্দাদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, রূপগঞ্জে শ্রাবণের নেতৃত্বাধীন কিশোর গ্যাং বিভিন্ন সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ ও তাণ্ডব চালিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


গ্রেপ্তার চারজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১১। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১২ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিরাজগঞ্জ ফিনিশিং মিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে গোডাউন ঢাকা লুঙ্গি কাপড় ও বক্রম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গোডাউনে রাখা লুঙ্গি কাপড় ব্যবসায়ীদের দাবি অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে রূপগঞ্জের রূপসি এলাকায়  সিরাজগঞ্জ ফিনিশিং মিলের কাপড়ের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোডাউনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।


খবর পেয়ে ডেমরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।


ডেমরা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আলী জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে তারা অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। এরপর রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।


ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বুখারী লুঙ্গির মালিক আসাদুজ্জামান জানান, তার প্রায় ৬৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। মোতালিব লুঙ্গির মালিক আব্দুল মোতালেব প্রায় ৩২ লাখ টাকা এবং সম্রাট লুঙ্গির মালিক আবু তালহা প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছেন। এছাড়া বক্রম ছিল যেগুলো পুড়ে গেছে।


মিলের সিকিউরিটি ইনচার্জ জানান বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে কাপড়ের গোডাউন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে । অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৯ পিএম

দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে দীর্ঘ অভিযানের পর একটি নির্জন নারকেল বাগান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—মামলার প্রধান অভিযুক্ত রিপন টুডু (৩৫) ও তাঁর সহযোগী সুজন টুডু (২০)। পুলিশ জানিয়েছে, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পর মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজার সংলগ্ন এলাকার রিপন টুডুর সঙ্গে শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রায় ছয় মাস আগে জিন্নাতুন তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে রুহিকে নিয়ে রিপনের বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। এ সময় শিশুটিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ৫ জুন রাতে শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শিশুটির মৃত্যু হলে মরদেহ গোপন করার পরিকল্পনা করা হয়। পরে রিপন টুডু মোবাইল ফোনে সুজন টুডুকে ডেকে আনেন। তাঁরা মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ীর পাশের নারকেল বাগানে নিয়ে যান এবং সেখানে মাটিচাপা দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন।


পুলিশ আরও জানায়, ঘটনা গোপন রাখতে একই এলাকার কাছাকাছি আরেকটি গর্ত করে সেখানে একটি কুকুরের মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর সন্দেহভাজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।


তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে নারকেল বাগানে দ্বিতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশ। দীর্ঘ সময় মাটি খননের পর বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাটি তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কাজ করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।


দিনাজপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজের ঘটনা থেকে শুরু করে আসামীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং মরদেহ উদ্ধারের প্রতিটি ধাপ তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের গুরুতর অপরাধের রহস্য উদঘাটনে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালিত হচ্ছে।


সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জে যুবদলের সমাবেশ ও মিছিল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সমাবেশ ও মিছিল করেছে উপজেলা যুবদল।


আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা যুবদল আয়োজিত মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে। পরে মিছিলটি পার্টি অফিসের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।


উপজেলা যুবদলের সভাপতি মাহমুদুল হক টিপুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এর সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।


সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তাজুল ইসলাম ডালিম, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি বেলায়েত হোসেন বিলু, দপ্তর সম্পাদক বেলাল হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা প্রামানিক রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জোবায়েদ ইবনে রুবেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।


বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তারা দাবি করেন, বিএনপির নেতৃত্বে দেশ পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।


বক্তারা আরও বলেন, দেশের শান্তি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা যাতে জনজীবন ও দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।


কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ের যুবদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন

সর্বশেষ সব খবর