আরিফ শাহরিয়ার

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২১ পিএম

আজ শুক্রবার বাদ জুমা বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তরুণ প্রকৌশলী আরিফ শাহরিয়ারের। আগামীকাল শনিবার দুপুরে বউভাতের আয়োজনও ঠিক ছিল। কিন্তু বিয়ের আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গেছেন। আলোকসজ্জায় সাজানো বর ও কনের দুই বাড়িতেই নেমে এসেছে শোক। গতকাল রাত পৌনে আটটার দিকে মারা যাওয়া আরিফ (২২) গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানিপাড়ার বাসিন্দা। কনের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় এলাকায়।


পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, আরিফ সম্প্রতি ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিনি চাকরি করতেন। বিয়ের জন্য প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর থেকে বর ও কনের দুই বাড়িতেই প্রস্তুতি চলছিল। বর বরণের জন্য কনের বাড়ির ফটক ও ঘর সাজানো হয়েছিল। দাওয়াতপত্রও বিলি করা হয়েছিল।


গতকাল রাতে আরিফের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই সময় তাঁর নিথর দেহ রাখা ছিল গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কফিনে। ডেভিড কোম্পানিপাড়ায় অবস্থিত স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের পরিচালক কায়সার প্লাবন বলেন, আগামীকাল দুপুরে কমিউনিটি সেন্টারে বউভাতের কথা ছিল। সবকিছু পণ্ড হয়ে গেল নিমেষে।


চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ


আরিফ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে ধারণা পরিবারের। আরিফের একমাত্র বড় বোন শারমিন সুলতানা শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে তাঁর ভাইয়ের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, চার দিন আগে আরিফ জ্বরে আক্রান্ত হন। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে গতকাল সকাল নয়টার দিকে তাঁকে শহরের হাসপাতাল রোডের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। শারমিনের অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখার পর বেলা একটার দিকে একজন চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দেন। ওষুধ নিয়ে আরিফকে বাড়িতে আনা হয়।


বিকেলে আরিফের অবস্থা আরও খারাপ হয়। সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারমিনের অভিযোগ, সেখানে জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা তাঁকে রিকশায় বসে থাকতে হয়। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেখেন। রাত পৌনে আটটার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হুদা। আজ শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, আজ দুপুরে প্রকৌশলী আরিফের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। গতকাল রাতেই তিনি মারা যান। তবে ঠিক কী কারণে মারা গেছেন, তা জানা যায়নি।


চিকিৎসক যা বলছেন


বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা শহরের হাসপাতাল রোডের মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক কাইয়ুম মিয়ার সঙ্গে কথা বলেছে গণমাধ্যম। 


মুঠোফোনে কাইয়ুম বলেন, ‘আরিফ শাহরিয়ার আমার পরিচিত। আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁর বিয়ের দাওয়াত আমাকেও দিয়েছিলেন। তাঁকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। চিকিৎসক মনির হোসেন তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। তারপরও হাসপাতালে ভর্তি না করে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’


বৃহস্পতিবার রাতে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছিলেন চিকিৎসক মেহেদী হাসান। তিনি আজ সকালে বলেন, ‘ওই রোগীকে (আরিফ শাহরিয়ার) হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আমরা পাই। সাধারণত জ্বরে হঠাৎ করে মারা যাওয়ার কথা নয়। আত্মীয়স্বজনের কাছে তাঁর বর্ণনা শুনে এবং আগের রিপোর্ট দেখে বোঝা গেছে, তিনি বেশ কয়েক দিন ধরে টাইফয়েডে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর ডেঙ্গুর উপসর্গ ছিল না। সম্ভবত তিনি স্ট্রোক বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।’


আজ বাদ জুমা গাইবান্ধা শহরের রেলস্টেশন জামে মসজিদে আরিফ শাহরিয়ারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শহরের পৌর কবরস্থানে তাঁর দাফন হয়।



সর্বশেষ সব খবর

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আজ ১৭ অক্টোবর, দুপুরে নগরীর জোড়াগেট সিডিসিতে কমিউনিটি লেড ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম (ফায়ার হাইড্রান্ট) স্থাপন কাজের উদ্ধোধনে সিস্টেমটিতে থাকা জনগণের জন্য ৩০ হাজার লিটার পানির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন চারটি পয়েন্ট, দৈনিক ৫ হাজার লিটার পানির ব্যবহার এবং তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর জন্য ২৫ হাজার লিটার সংরক্ষিত পানি এবং দুর্যোগ মুহূর্তে সেবাদানের জন্য ২০ জন দক্ষ স্বেচ্ছাসেবীর প্রশিক্ষণ প্রদানের সুবিধা উল্লেখ করে আওতায় থাকা সুবিধাভোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের অনুরোধ জানান। 


এ সময় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চীফ প্লানিং কমিউনিটি লিডারসহ কেসিসি ও প্রকল্পের অনেক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

খেলোয়াড় বাছাই উপলক্ষে বাফুফে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৫ পিএম

অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-২০২৭ ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম উপলক্ষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় টুর্নামেন্টের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. গোলাম ফারুক খোকন।


সভায় বাফুফের নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারদের খুঁজে বের করা, তাদের দক্ষতা বিকাশ এবং বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এ আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।


সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে গোলাম ফারুক খোকন বলেন, “ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; ফুটবল শৃঙ্খলা, ঐক্য, অধ্যবসায় ও নেতৃত্বের শিক্ষা দেয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ প্রতিটি এলাকায় অনেক প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার রয়েছে। তাদের সঠিকভাবে খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।”


তিনি বলেন, অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্টের এই বাছাইপর্ব তরুণ খেলোয়াড়দের নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, শৃঙ্খলা ও মাঠের পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


তরুণ ফুটবলারদের উদ্দেশে গোলাম ফারুক খোকন বলেন, “তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে এবং প্রশিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। তবে সততা, অধ্যবসায় ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবই একজন প্রকৃত খেলোয়াড়ের পরিচয়।”


তিনি আরও বলেন, দেশের ফুটবলের উন্নয়নে বাফুফের নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে তরুণ ফুটবলারদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।


বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-২০২৭ ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলাররা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


দেশের ফুটবলের উন্নয়ন, নতুন প্রতিভার বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশায় এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৭ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। 


আগামী ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ঠাকুরগাঁওয়ের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমা স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।


নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দেলাওয়ার হোসেন ও তার সমর্থক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের উসকানি দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।


অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দাখিল করা ভিডিও পর্যালোচনা করে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(খ) অনুচ্ছেদের বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।




এ অবস্থায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ২১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সমর্থনে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।


নোটিশে আরও বলা হয়, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৩ পিএম

নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারীসহ সাব রেজিস্টারের বিরুদ্ধে দলিল ও নকল প্রতি ঘুষ নেয়াসহ নানা দুর্নীতির অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও খাজনা-খারিজসহ প্রয়োজনীয় জরুরি কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও প্রতি দলিলে মোটা অংকের সম্মানি না দিলে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক দলিলে স্বাক্ষর করছেন না বলে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন দাতা-গ্রহীতারা।


গোপন সূত্রে জানা যায়, দাতা এবং গ্রহীতাদের মধ্যে যারা সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক দলিল প্রতি নির্ধারিত সম্মানি টাকা জমা দিচ্ছেন তাদের দলিলে কোনায় বিশেষ ধরনের চিহ্ন প্রদান করে এজলাসে পাঠানো হচ্ছে। আর যে সমস্ত দাতা ও গ্রহীতারা সম্মানি বা উৎকোচ দিচ্ছেন না, তাদের শতভাগ কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দিচ্ছেন সাব-রেজিস্টার। 


বারাইপুর গ্রামের মজিবুল হক জানান, আমার দলিলে সামান্য একটু দাগের ভুল হয়েছে এ কারণে আমি সাব-রেজিস্টার এবং তার অফিস সহকারিকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। 


আরেকজন সেবা গ্রহীতা জানান, আমি একজন ডাক্তার পরিচয় দেওয়ার পরেও আমার একটা দলিলে সরকারি খরচের বাইরে আরও দুই লাখ টাকা বেশি কমিশন দিতে হয়েছে। 


দলিল লেখক সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য জানান, সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও সাধারণ দলিল নিবন্ধনে ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয় দাতা গ্রহীতাদের। এ ছাড়াও আমমোক্তারনামা ও দানপত্রের মতো বিশেষ দলিলে ক্ষেত্রবিশেষে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়। 


তাছাড়া হেবা ঘোষণা দলিল, সরকারি ফি দলিল লেখক ও সাব রেজিস্টার দাতা গ্রহীতাদের কাছ থেকে জমির মূল্য অনুযায়ী প্রতি লাখে ১-২ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। কমিশন দলিলেও একই অবস্থা। সরকারি ফি ন্যূনতম হলেও নেয়া হয় প্রতি দলিলে ৩০-৪০ হাজার টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশি অ্যামাউন্ট নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। 


বায়না দলিলের সময় এক ধরনের মূল্য দেখানো হলেও মূল দলিলে সরকারের কর ফাঁকি দিতে জমির মূল্য কয়েকগুণ কম দেখানো হয়। এতে সরকারের এ দপ্তর প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ক্ষতির মুখে পড়ছে।


তথ্য বলছে, সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন ম্যানুয়াল-২০১৪ মানছেন না সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্টার সিরাজুল ইসলাম। এ মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই এ অফিসটি ঘুষ ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন তিনি।


সরকারি ফি’র বাইরে ঘুষ না দিলে কোনো কাজ হয় না সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। দলিলের নকল তুলতে সরকারি ফি ২৭০ টাকার বিপরীতে সেবাগ্রহীতাদের গুনতে হয় ২ হাজার টাকা। সরকারি ফি’র বাইরে পুরো টাকাই যায় সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের পকেটে। সাব কবলা দলিলের মূল্য এক হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হলে সরকারি ফি’র বাইরে সেরেস্তা বাবদ আড়াই হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। যদি দলিলের মূল্য এক লাখ টাকা বা অধিক মূল্য হয় তাহলে প্রতি লাখে ৩০০ টাকা করে বেশি দিতে হয়।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে বলেন, বিনিময় দলিল করতে ব্যাংক চালানের পরও অতিরিক্ত চার-পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হককে। বণ্টননামা এবং অসিয়ত দলিলের মূল্যের ওপরও অতিরিক্ত ১ শতাংশ হারে ঘুষ নেন তিনি। আবার নকলে তিনি ২-৩ মাস স্বাক্ষর করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোগান্তির পোহাতে হয় চরমে। এ সব ঘুষের টাকা অফিস সহকারী মোল্লার মাধ্যমে নিচ্ছেন। 


সোনাইমুড়ি দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দলিলের ক্ষেত্রে পে অর্ডার বাদে ২ শতাংশ টাকা হাতে নেওয়ার নিয়ম আছে। এছাড়া আর কোন টাকা নগদ নেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু আমরা অফিসারদের কাছে জিম্মি, তার বিরুদ্ধে কথা বললে অফিস থেকে দলিল লেখকদের বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।


এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্টার সিরাজুল হকের বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন কেটে দেয়। তারপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫১ পিএম

# অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোস পাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স  কিছুই ছিলনা রিসোর্টে  


# বাঁশ কাঠের উপরে থাকার রুম নিচে রান্নাঘর 


# ফ্রিজে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত


কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক এলাকায় বাঁশ-কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টুরেন্টে এন্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আগুনে রিসোর্টটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘেঁষা কাঠ ও বাঁশের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে ছিলনা অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স।


ফ্রিজের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 


আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন ওই রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়।


ফায়ারসার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টা ৫০ পর্যন্ত রিসোর্ট থেকে অন্তত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, আজ সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর দেওয়া হয়। সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। চারজন ব্যক্তি মারা গেছেন তিনতলার দুটি শৌচাগারে।


মোরশেদ বলেন, তীব্র বাতাসে কাঠের রিসোর্টে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোস পাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা দরকার। কিন্তু রিসোর্টটিতে এগুলোর কিছুই ছিল না। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। মাত্র সাত-আট মাস আগে রিসোর্টটি তৈরি হয়েছিল। জায়গাটির মালিকানা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানান তিনি।

 

নিহতদের মধ্যে রাজধানীর বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫) রয়েছেন।


অন্যদিকে আহতরা হলেন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।


কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহত ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপর একজন পড়ে গিয়ে আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


নিহতদের মধ্যে চারজনের শরীর এতটাই দগ্ধ হয়েছে যে, তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। 


আগুন থেকে বেঁচে ফেরা পর্যটক আব্দুল মান্নান বলেন, হঠাৎ দরজা খুলে দেখি ধোঁয়ায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তাৎক্ষণিক আমি ও আমার স্ত্রী পাশের নালায় লাফ দিয়ে বের হয়ে আসি। 


তিনি জানান, রিসোর্টটিতে ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো পর্যটক থাকতে পারেন। ঢাকার মিরপুর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে এসে তাঁরা ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন। সেখানে আরও দুই দিন থাকার কথা ছিল তাঁদের।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।


ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রিসোর্টটি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ঘেরা ছিল। নিচতলায় ছিল রান্নাঘর এবং ওপরের অংশে ছিল পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা। রিসোর্টটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সেই সতর্কতায় তারা কর্ণপাত করেনি। ধারণা করা হচ্ছে ফ্রিজ থেকে আগুনের সূত্রপাত। 


ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার হয়। দুপুর ১ টার পর টয়লেট থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শরীর এতোটা পুড়ে যায় যে, শনাক্ত করার মতো কোন অবস্থাই নেই। নিহতরা সবাই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 


রিসোর্টের ইনচার্জ মো. সুমন জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে তাঁরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।


তিনি বলেন, ফ্রিজ থেকে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নেভানোর চেষ্টা করি। ততক্ষণে রিসোর্টের এসি ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে পুরো রিসোর্টে আগুন ধরে যায়। 


উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আকতার জানিয়েছেন, পরে উদ্ধার হওয়া ৪ জনের অবশিষ্টাংশ পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এমএ মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 


তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ইতিমধ্যে ৬ মরদেহ শনাক্ত করেছেন এবং আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতরা সবাই পর্যটক।


জেলা প্রশাসক আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

নুর আলম ও স্ত্রী-সন্তান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ পিএম

কক্সবাজারে ইনানী রিসোর্টে আগুনে দগ্ধ হয়ে ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা ফারিয়া কবীর এবং তাদের পাঁচ বছরের শিশু সন্তান ফাইজান মারা গেছে। 


চাকরি সূত্রে গত আট বছর ধরে নুর আলম পরিবারসহ চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। ফারিয়া কবিরের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।


১৪ অক্টোবর বেড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা কক্সবাজার যান। আজ শনিবার সকালে কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে নিহত ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন ফারিয়া কবির (৩৩) এবং তার সন্তান ফাইজানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর