সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ এটিএম তুরাব আমাদের সকলের প্রেরণার উৎস। এ হত্যার সাথে জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তুরাব হত্যার বিষয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলকে সোচ্চার হবার পরামর্শ দেন তিনি। পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী ও এটিএম তুরাব পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আজ শনিবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান লোদী কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন। অনুভূতি ব্যক্ত করেন এটিএম তুরাব পদকের জন্য মনোনীত দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেড় হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ জায়গায় এসেছি। শহীদ তুরাবের রক্ত সিলেটের মাটিতে ঝরেছে।
তুরাব হত্যার বিচার বিলম্বিত হবার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, এ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন। যাতে তুরাবসহ এ ধরনের জঘন্য হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা দ্রুত গ্রেফতার হয় এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি হয়।
সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তুরাব শহীদ হয়েছেন। গত ১৫ বছর অপতথ্যের মাধ্যমে দেশকে তথ্য সন্ত্রাসে পরিণত করা হয়েছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দাফন হয়ে গেছে। বিগত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে মিডিয়া স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম চালাচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভেদাভেদ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের ব্যাপারে আমাদের সকলকে এক থাকতে হবে।
দেশপ্রেমের চেতনা নিয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, তুরাবের লাশ ছিনিয়ে নেয়ার অপচেষ্টার স্বাক্ষী আমরা। মামলায় আমাদের লোকজনকেও আসামি করা হয়। এটা হচ্ছে নির্মম বাস্তবতা। জুলাই বিপ্লবে তুরাব ও গোলাপগঞ্জের ৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যার অগ্রগতি নিয়ে তিনি সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটরের সাথে আলোচনা করেছেন। এ হত্যাকান্ডের বিলম্বে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধপরায়ণ হতে চাই না। এ হত্যার বিচারের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী (কয়েস লোদী) তুরাব হত্যার বিচার কার্যক্রম তুরাব হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া সাগর রুনি হত্যাকান্ডের মতো হয়ে যায় কিনা-এই আশংকা ব্যক্ত করেন। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত পুলিশ অফিসাররা গ্রেফতার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবাদ নয়, ফাঁসির দাবি নিয়ে আমরা দাঁড়িয়েছি’।
মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তুরাব জীবন দিয়েছেন। এ মামলার তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেছেন এ সরকার কোন অন্যায়কে ছাড় দেবে না। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন বলেন, রাজনীতির কারণে কারো রক্ত ঝরুক-এটা আমরা চাই না।
বক্তব্য রাখেন-ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও ইকরামুল কবির, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর, সাবেক কোষাধ্যক্ষ কবীর আহমদ সোহেল, ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্লাব সদস্য কবির আহমদ। পরে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আব্দুল কাদের তাপাদারের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিবৃন্দ।
ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক শেখ আশরাফুল আলম নাসির, পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুহিবুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য আমজাদ হোসাইন ও আনাস হাবিব কলিন্স, ক্লাব সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-জিয়াউস-শামস শাহীন, হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সেলিম আউয়াল, মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী (এহিয়া), কবির আহমদ, আশকার ইবনে আমিন লস্কর রাব্বী, জাবেদ আহমদ, আহবাব মোস্তফা খান, মো. বদরুর রহমান বাবর, শুয়াইবুল ইসলাম, নৌসাদ আহমদ চৌধুরী, মুনশী ইকবাল, শেখ আব্দুল মজিদ, মো. দুলাল হোসেন, মো. মারুফ হাসান, লুৎফুর রহমান তোফায়েল, এম রহমান ফারুক, শফিক আহমদ শফি, মামুন পারভেজ, লবীব আহমদ, মো. জুনেদ আহমদ, আব্দুল হান্নান, লোকমান আহমদ, সহযোগী সদস্য আকাশ চৌধুরী প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, একটি পক্ষ এই হত্যা মামলার আসামীদের রক্ষার জন্য শুরুতেই তৎপর ছিল। তুরাবের পরিবার যেন ইনসাফ পায়-তিনি সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় মানবপাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নুরালীপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি এলাকায় জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন। অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর একজন সদস্য আহত হন। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং মানবপাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই শতাধিক মানুষকে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রেখেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, বিকেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলি হয়। ওই এলাকায় মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে শতাধিক মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, লেদার পাহাড়ি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অভিযানকে কেন্দ্র করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসেরর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। । ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা
পিরোজপুর জামায়াতের আমির হলেন আব্দুর রব
দীর্ঘ ৩৫ বছরের নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখা। ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জন্য জেলা আমির নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা আব্দুর রব। এর আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সাল থেকে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পান মাওলানা আব্দুর রব। এবার রুকনদের ভোটে তিনি পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হলেন।
গত ৯ অক্টোবর পিরোজপুর শহরের টাউন স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা রুকন সম্মেলনে নতুন আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ৬৭২ জন নারী ও পুরুষ রুকন গোপন ব্যালটে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে নতুন আমিরদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য দেশের ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার নির্বাচিত আমিরদের নাম ঘোষণা করেন।
দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক রুকনদের প্রত্যক্ষ গোপন ভোটের ভিত্তিতেই এসব শাখার আমির নির্বাচিত হয়েছেন।
ভালুকায় জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন