সিলেট নগরের রায়নগরে নিজ বাসায় ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি। সোমবার (৩১ আগস্ট) পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সদস্য মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন,সিলেট নগরের রিকাবীবাজারে নির্মাণাধীন ইম্পালস টাওয়ারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। নিহত আবদুস সাত্তার এ-সংক্রান্ত দুর্নীতি ও ভূমি মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আবদুস সাত্তার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। একই সঙ্গে কোতোয়ালি থানায় করা একটি মামলার বাদীও ছিলেন তিনি। এসব মামলা প্রত্যাহারের জন্য সাত্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত বছরের ২৯ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রায়নগরে আবদুস সাত্তারের বাসায় যান। সেখানে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির ভূমির মালিকানা দাবি করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য সাত্তারকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করে কমিটি।
এ ঘটনায় নিহত সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই ঘটনার একটি মোবাইল রেকর্ডও রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ১৮ মে আদালত প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের হামলায় আবদুস সাত্তার ও মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম আহত হন। ইম্পালস টাওয়ারের জমি নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৫৬৪/৯৬ নম্বর আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ১৮৫২২/২০০৬ নম্বর দলিল তৈরি করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আদালতের রায়ে ১৮৫২২/২০০৬ ও ১৪০৬২/২০০৫ নম্বর দলিল অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পরে হাইকোর্ট বিভাগও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
কমিটির নেতারা বলেন, এসব ঘটনা ও পূর্বের বিরোধের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রায়নগরের তিন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং পূর্বের হুমকির সঙ্গে হত্যার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনার দাবি জানান তারা।
এদিকে, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আবদুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন বিকেলে ওই বাসার প্রতিবেশী বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ। পরে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।
রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় মানবপাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নুরালীপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি এলাকায় জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন। অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর একজন সদস্য আহত হন। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং মানবপাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই শতাধিক মানুষকে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রেখেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, বিকেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলি হয়। ওই এলাকায় মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে শতাধিক মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, লেদার পাহাড়ি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অভিযানকে কেন্দ্র করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসেরর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। । ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা
পিরোজপুর জামায়াতের আমির হলেন আব্দুর রব
দীর্ঘ ৩৫ বছরের নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখা। ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জন্য জেলা আমির নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা আব্দুর রব। এর আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সাল থেকে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পান মাওলানা আব্দুর রব। এবার রুকনদের ভোটে তিনি পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হলেন।
গত ৯ অক্টোবর পিরোজপুর শহরের টাউন স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা রুকন সম্মেলনে নতুন আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ৬৭২ জন নারী ও পুরুষ রুকন গোপন ব্যালটে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে নতুন আমিরদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য দেশের ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার নির্বাচিত আমিরদের নাম ঘোষণা করেন।
দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক রুকনদের প্রত্যক্ষ গোপন ভোটের ভিত্তিতেই এসব শাখার আমির নির্বাচিত হয়েছেন।
ভালুকায় জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন