বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, চা বাগান এলাকার দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট দ্রুত নিরসনে সরকার সুনির্দিষ্ট ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের অভিঘাত সামলে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সিএসআর তহবিলের সহযোগিতায় প্রতিকূল আবহাওয়ায় কর্মরত চা-শ্রমিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ সুরক্ষা সামগ্রী হিসেবে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সিলেট সফরকালে সরজমিনে চা বাগান ঘুরে দেখেন। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও কাদার মধ্যে চা শ্রমিক মা-বোন এবং ভাইদের কষ্ট করে কাজ করতে দেখে তিনি ব্যথিত হন। সেখান থেকেই তাঁদের সুরক্ষায় এই রেইনকোট বিতরণের চিন্তাভাবনা শুরু হয়।”
চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাগানে আকস্মিক জটিল রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে ২-৩টি বাগান নিয়ে একটি করে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা যায়। বাগানে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাব দূর করতে জাতীয় ভিত্তিতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ (ইউএনও) স্থান নির্ধারণসহ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী স্কুল নির্মাণ করা হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক পেশায় যুক্ত হতে পারে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রসূতি মায়েদের দ্রুত চিকিৎসার সুবিধার্থে বাগানগুলোতে কমিউনিটি ক্লিনিক বা হেলথ সেন্টার গড়ে তোলা হবে। চা বাগান এলাকার কাঁচা ও জীর্ণ রাস্তা সংস্কার করে টেকসই সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গত ২০ দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও লাইট সুইট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০-৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই মূল্যের সম্ভাব্য ধাক্কা সামলাতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলা নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এফএসআরইউ’র যান্ত্রিক ত্রুটি কেটে যাওয়ায় সয়াবিন তেল রিফাইনারি ও চিনি প্রসেসিং কারখানাগুলো এখন পূর্ণ উদ্যমে উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না। কোনো অসাধু চক্র যাতে দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ উদ্যোগে বাজার তদারকি আরও নিবিড় ও কঠোর করা হচ্ছে। এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
ধুঁকতে থাকা চা শিল্পকে পুনরায় স্বমহিমায় ফেরাতে এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই ও লাভজনক করতে নানা উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। যেসব বাগানের কাছাকাছি বিদ্যুৎ সঞ্চালন বা ইভাকুয়েশন লাইন রয়েছে, সেগুলোতে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট (সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র) স্থাপনে সরকার সহায়তা ও উৎসাহ দেবে। এ ছাড়া মূল চা গাছের ক্ষতি না করে বাগানের অব্যবহৃত উপযোগী জায়গায় মসলাজাতীয় ফসল ও টিম্বার (কাষ্ঠল গাছ) চাষের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা হচ্ছে।
২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে সংগত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিতে হঠাৎ কোনো আকস্মিক চাপ যাতে না পড়ে এবং নতুন করে মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য একবারে না দিয়ে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুক্ত বাজার অর্থনীতির নিয়মে বেসরকারি খাতও বেতন সমন্বয় করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বন্ধ ও অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোকে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় এনে সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী কেবল মুখরোচক কথা না বলে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনগণের কল্যাণে কার্যকর ও গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সিলেট জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ফয়সল আহমদ চৌধুরী, মাহবুব কাদির শাহী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ আহমদ, টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চা বাগান ব্যবস্থাপক, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং এলাকাভিত্তিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
লালমনিরহাটে ড্রামট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ড্রামট্রাকের চাপায় বিপ্লব মিয়া (২২) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার আরও অন্তত ৩জন যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের দক্ষিণ গোপাল রায় এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত বিপ্লবসহ কয়েকজন যুবক নামুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা শেষে অটোরিকশায় করে কাকিনা বাজারের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বালুভর্তি ড্রামট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিপ্লব মিয়ার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরে মাওলা জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কয়লা উত্তোলনের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সোনাইমুড়ীতে ছাত্রদলের আনন্দ শোভাযাত্রা
আদাবর থানা। ছবি : সংগৃহীত
বর-কনের প্রতীকী। ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার তালায় উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দুটি বাল্যবিয়ে পণ্ড করা হয়েছে। আকস্মিক এ অভিযানে অপ্রাপ্তবয়সী মেয়েদের বিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ দুটি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। পুরো অভিযানটি সমন্বয় করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার।
প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রথম অভিযান হয় উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের হাজরাপাড়া এলাকায় শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানতে পারেন, তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজেরপাড়া এলাকায় ধুমধাম করে একটি বাল্যবিয়ে চলছে। কনে ওই এলাকার বাসিন্দা এবং বর পার্শ্ববর্তী খলিশখালী এলাকার অপ্রাপ্তবয়সী ওসমান গাজী।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নির্দেশে তালা উপজেলা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার রিংকু আইচ, কুমিরা ইউনিয়ন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংগীত শিক্ষক শম্পা ভট্টাচার্য এবং ক্লাবের দপ্তরি মিনা দে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এছাড়া পাটকেলঘাটা থানার ওসির সহযোগিতায় এসআই আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিমও ঘটনাস্থলে যায়। তবে অভিযানের টের পেয়ে বর দ্রুত কনেকে গাড়িতে তুলে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়েছেন এবং আগামী সোমবার সকাল ১০টায় মেয়েসহ অভিভাবকদের ইউএনও মহোদয়ের অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে কুমিরা মধ্যপাড়া এলাকা প্রথম ঘটনাটি প্রতিরোধ করে ফেরার সময় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কুমিরা মধ্যপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়সী এক মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই বিয়েটিও সফলভাবে প্রতিরোধ করেন।
এ ক্ষেত্রেও মেয়ের পরিবার থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেয়েসহ অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তালা উপজেলার পৃথক এলাকায় বাল্যবিয়ে বন্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বিয়ের দুটি বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া অভিভাবকদের আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাউখালী থানা। ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিচয়ে সরকারি অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। ঘর মেরামতের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা বলে ফাইল প্রস্তুত ও আনুষঙ্গিক খরচের নামে বিকাশে টাকা নেয় চক্রটি। একই কায়দায় আরেক মুক্তিযোদ্ধার কাছেও টাকা দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় বিড়ালজুরি ও কচুয়াকাঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজ (৭৫) জানান, শুক্রবার সকালে বিড়ালজুরি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজম আলী খান তাকে ফোন করে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতের জন্য সরকারি অনুদানের টাকা এসেছে। এ বিষয়ে ইউএনওর একটি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
পরে ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি জানান, ঘর মেরামতের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে বরাদ্দের টাকা পেতে ফাইল প্রস্তুত ও অন্যান্য খরচ বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে একটি নম্বরে ৪২ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। খাইরুল আলম ফিরোজ বলেন, কোনো কিছু যাচাই না করেই তিনি ওই নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে ৪২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে খোঁজখবর নিয়ে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আজম আলী খান বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে একটি অচেনা নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। ফোনে এক ব্যক্তি নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে এলাকায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা থাকলে তাকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন। তাদের জন্য বরাদ্দ বা ভাতা রয়েছে বলেও জানান। পরে তিনি নিজের ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজকে বিষয়টি জানিয়ে ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে জানতে পারেন, এটি প্রতারণা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু খাইরুল আলম ফিরোজ নন, একই ইউনিয়নের কচুয়াকাঠি এলাকার আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকেও একই কায়দায় ফোন করে ঘর মেরামতের বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে ৪২ হাজার টাকা দাবি করে প্রতারক চক্রটি।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। এটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে তার কোনো দাপ্তরিক নির্দেশনা নেই। এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে কাউখালী থানার ওসিকে বলা হয়েছে।