• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলা বাজার থেকে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাদের আটক করে মোগলাবাজার থানা পুলিশ।


থানার ওসি (তদন্ত) মো. এরশাদুল হক ভূঁইয়া জানান, অন্তত ৪টি হাইয়েস গাড়িতে করে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মোগলাবাজার থানা এলাকায় পৌঁছে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অন্তত ২টি হায়েস গাড়িসহ ২০ নেতাকর্মীকে আটক করতে সক্ষম হয়।


তিনি জানান, এসময় আরও দুটি হায়েস গাড়ি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ওই গাডিগুলোতে অন্তত আরও ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী থাকতে পারে বলে ধারনা তাদের। তিনি জানান, এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়েছে।




ডাকাতসহ ডাকাতি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০০ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আবুল হোসেন নামের এক জমি ব্যবসায়ীর বাড়িতে পরিবারের সকলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৭ ভরি স্বর্ণ, নগদ টাকাসহ মালামাল লুটের ঘটনায় স্বর্ণ উদ্ধার ও ধারালো অস্ত্রসহ ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ভুলতা পুলিশ ফাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।


এর আগে, ভোর তিনটার দিকে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগর পাড়া কাজীবাড়ি এলাকায় ঘটে এ ডাকাতির ঘটনা। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নরসিংদী জেলার মাধবদী এলাকার মো: তামজিদ মিয়া মো: শাহিন মিয়া মো: শামিম মিয়া হৃদয় দাস ও কুমিল্লা জেলার হোমনা এলাকার মো: শরিফ মিয়া।


ডাকাতের কবলে পড়া ব্যবসায়ী পরিবারের বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, ভোর তিনটার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একদল মুখোশ পরা ডাকাত ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবুল হোসেনের বাড়ির গেট ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। পরে আবুল হোসেনের ছেলে আলামিন মিয়া ও আল জাবের হোসেনসহ পরিবারের সকলকে বেঁধে রেখে ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা আলমারি ভেঙে ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৩ লাখ টাকা ও মালামাল লুট করে। পড়ে পরিবারের লোকজনের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।


এ ঘটনার খবর পেয়ে রুপগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। পরে সকালে ভুলতা পুলিশ ফাড়ি এলাকায় ডাকাত সন্দেহে ৫ ডাকাতকে গণপিটুনি দেয় বলে পুলিশ সংবাদ পায়। পরে পুলিশ তাদের সোয়া ৬ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, পিকআপভ্যান, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও ডাকাতের ব্যবহৃত মালামালসহ গ্রেফতার করে। 


ওসি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।


নার্গিসের চিকিৎসায় সহায়তার আবেদন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৯ পিএম

মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের নার্গিস। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জীবন বাঁচাতে দ্রুত অপারেশনসহ পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় আড়াই লাখ টাকা।


নার্গিসের গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামে বসবাস করছেন। চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসারে সহযোগিতা করতেন নার্গিস। বর্তমানে তিনি ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


নার্গিসের স্বামী ওহিদুল আলম একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সম্প্রতি তাকে হঠাৎ চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। ফলে সংসারে নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকট। একদিকে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।


চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নার্গিসের অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় দেড় লাখ টাকা। অপারেশনের পর তাকে রেডিওথেরাপি দিতে আরও প্রায় এক লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। কিন্তু এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা তাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।


পরিবারের সদস্যরা জানান, সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষগুলো যদি নার্গিসের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে নার্গিস সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন- এমন আশায় সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা।


নার্গিসের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে সরাসরি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা করা যেতে পারে।

বিকাশ (ব্যক্তিগত): ০১৮৭৭-৭০৯৪৮০


থানার দরজা ভেঙে বেরিয়ে ভুয়া স্লোগান ২২ কিশোরের

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৫ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা।


গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়ে থানার দরজা ভেঙে বেরিয়ে যায় ২২ কিশোর। এদিকে থানার সামনে ওইসব কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের একটি হট্টগোলের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।


অভিভাবকরা জানান, আটক কিশোরদের মধ্যে বেশিরভাগের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ সংক্রান্ত রেকর্ড খাতায় কোনো অভিযোগ নেই। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেল থেকে আটক কিশোরদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন দাউদকান্দি মডেল থানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন।


একপর্যায়ে সেখানে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানার একটি কক্ষে আটক রাখা কিশোরদের কয়েকজন একপর্যায়ে ওই কক্ষের চেয়ার-টেবিল ও দরজা ভেঙে বের হয়ে যায়।


পরে আটক কিশোরদের একটি অংশ থানার সামনে জড়ো হয়ে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকে। এদিকে পুলিশি অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সদস্যদের ভাষ্যমতে আটক সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাই তাদের আটক করে থানায় আনা হয়।


এদিকে ঘটনাস্থলে এসে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।


দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, তেমন কিছু হয়নি। অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরার কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ জনকে আটক করা হয়। তাদের স্বজনরা একসঙ্গে আসায় একটু ভিড় হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাছাই বাছাই শেষে বাকি ছয়জনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


এদিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অফিসিয়াল পেজে জানানো হয়েছে, কুমিল্লা জেলার প্রত্যেকটি থানায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।


ওই পোস্টে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার  মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ প্রত্যেকটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে, যেখানে বখাটেদের উৎপাত রয়েছে ওই সব স্থানে অভিযান চালানো হয়। 


এ অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন। অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আগের কোনো অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের অভিযান চলবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৩ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। 


পরে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ ভেঙে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক প্রকৌশলীকে বদলিসহ দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলজিইডি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল।


এলজিইডি নোয়াখালী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর।


শুরুতে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর কাজটি হাত বদল হয়ে ৫ কোটি ৬১ লাখ নতুন ব্যয়ে মো. ফরহাদ নামে একজন ঠিকাদার পান।


নির্মাণের শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রিজটির নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম তাদের চোখে ধরা পড়ে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পর কিছু কাজ সংশোধন করা হয়।


তবে, শেষের দিকে রাতের অন্ধকারে ব্রিজের ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে তার এবং নিম্নমানের সিমেন্ট দিয়ে কোনোমতে কাজ করে চলে যান ঠিকাদারের লোকজন। দিনে এসব স্লাবে পথচারীদের পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ভেঙে পড়ে। একই ঘটনা ঘটে সেতুর রেলিংয়ের ক্ষেত্রেও।


অনিক নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, “ব্রিজটির কাজে শুরু থেকেই নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে। আমরা এসব বিষয়ে বার বার এলজিইডিতে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি। সরাসরি ঠিকাদারের লোকদেরকে অনিয়ম দেখিয়ে দিয়েছি।


“কিন্তু এরপরও তারা কাজটা ভালোভাবে না করে রডের স্থলে চিকন তার দিয়ে কোনো রকমে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করছে।”


মো. হাসান সোহেল নামে অপর এক যুবক বলেন, “এ ব্রিজের ফাইলিং থেকেই নানা অনিয়ম আমাদের চোখে পড়ে। আমরা একাধিবার এসব অনিয়ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছি। তারা দিনে কাজ করে না, রাতের অন্ধকারে কাজ করে।


তিনি আরও বলেন, “এ ব্রিজটি দিয়ে বেগমগঞ্জ, করিরহাট ও সদর উপজেলার চার ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করবে। জেলা শহরের যাতায়াতের জন্য ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিম্নমানের কাজের কারণে এখনে কোনো দুরঘনা ঘটলে এর দায় কে নিবে আমরা জানতে চাই।”


স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি অর্থের অপচয় ঠেকাতে এবং উন্নয়ন কাজে গুণগত মান ঠিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন। এছাড়া এসব অনিয়মের সঙ্গে যারা যারা জড়িত প্রত্যেকের বিচার চান তারা।


নিম্নমানের কাজ ভেঙে অপসারণ


এ বিষয়ে এলজিইডি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, “সোমবার নির্মাণকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন এলজিইডির সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা। এ সময় দেখা যায়, সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবের কাজ নিম্নমানের, যা নকশা ও স্পেসিফিকেশন-বহির্ভূত। একই সঙ্গে রেলিংয়ের রডের কাজও নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়।”


তিনি আরো বলেন, “আমি নিজে সরেজমিনে ব্রিজের ফুটপাতের স্ল্যাবের কাজ নিম্নমানের কাজ দেখে ঠিকাদারের লোকজনকে দ্রুত স্ল্যাবগুলো ভেঙে অপসারণ করতে বলে আসি। সেই আলোকে মঙ্গলবার আমাদের লোকজনের উপস্থিতিতেই ফুটপাতের স্ল্যাবগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছিল। এ সময় উৎসুক লোকজন মোবাইলে সে দৃশ্য ধারণ করে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে দেয়।”


নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল বলেন, “এর মধ্যে স্ল্যাব এবং রেলিংয়ের যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে সেগুলা সব ভেঙে অপসারণ করা হয়েছে। আমিসহ আমাদের জেলা, উপজেলা এবং ঢাকা থেকে একাধিক টিম বিষয়টি গুরত্ব সহকারে মনিটরিং করছি।”


এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সকে দেওয়া চিঠিতে নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্মাণকাজের ত্রুটিগুলো সংশোধন করে আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়।


নকশা ও স্পেসিফিকেশন-বহির্ভূত কোনো কাজের বিল পরিশোধ করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল।


তবে মেসার্স হক ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, “কাজটি হক ট্রেডার্স পেলেও আমরা করছি না। আমাদের লাইসেন্সে সেনবাগের কয়েকজন মিলে কাজটি করছেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম ফরহাদ।”


মো. ফরহাদ বলেন, “ব্রিজের কাজটি আমরা শুরু থেকে ভালোভাবে করে আসছি। কয়েকদিন আগে আমার অজান্তে ব্রিজের ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলজিইডির প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে স্ল্যাব ও রেলিংয়ের যেসব অংশে কাজ ভালো হয়নি তা ভেঙে ফেলা হয়েছে।”


নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে কাজ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা


এদিকে নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।


চিঠিতে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়ে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।


অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কারণ দর্শানোর আগেই তাকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ।


তিনি বলেন, “আমি দুই মাস হয়েছে বেগমগঞ্জে যোগদানের। ব্রিজটির কাজে অনিয়মের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে যেসব জায়গায় কাজের মান খারাপ হয়েছে সেগুলো ভেঙে অপসারণ করেছি। এবার আজ (বৃহস্পতিবার) জানলাম আমাকে রাঙামাটি জেলায় বদলী করা হয়েছে।”


এছাড়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


তদন্তে কমিটি


এলজিইডির নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ব্রিজটির কাজে অনিয়ম তদন্তে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ.এস.এম মহসীনকে দিয়ে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


কমিটিকে তদন্ত করে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে এ.এস.এম মহসীন বলেন, “তদন্ত কমিটির চিঠি হাতে পাওয়ার পর আমি সরেজমিনে ব্রিজটি দেখে এসেছি। প্রাথমিকভাবে কাজে কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। এসব বিষয়ে রোববারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিব।”


এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে বদলী করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তবে কাউকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানা নেই।”


সিলেট ওয়াইফাই সিটি প্রকল্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৭ পিএম

প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে  সিলেটকে দেশের প্রথম ‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে নেওয়া প্রকল্পটি চালুর দেড় বছরের মধ্যেই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নগরের ৬৫টি এলাকায় ১২৬টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছিল ওয়াইফাইয়ের যন্ত্রপাতি। এখন সেসবের অনেকগুলোই পড়ে আছে পরিত্যক্ত হিসেবে। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এসব যন্ত্রপাতি।


প্রকল্পটি কেন বন্ধ হলো, এ নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) পরস্পরের দিকে দায় ঠেলছে। 


সিসিকের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার কাঠামো নিশ্চিত না করেই প্রকল্পটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। 


অন্যদিকে বিসিসির দাবি, কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিয়ম মেনেই প্রকল্পটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


২০২০ সালের এপ্রিলে সিলেটকে দেশের প্রথম ‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন নগরের ৬৫টি এলাকার ১২৬টি পয়েন্টে বিনা মূল্যে ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়। প্রতিটি পয়েন্টে একসঙ্গে ৫০০ জন ব্যবহারকারীকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্পের প্রথম বছর ইন্টারনেট সেবার ব্যয় বহন করে বিসিসি। পরে প্রকল্পটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


সিসিক সূত্রে জানা যায়, হস্তান্তরের পর প্রায় ছয় মাস সেবা চালু থাকার পর সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।


সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব বিশ্বাস জানান, ‘প্রকল্পটি চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এটি এখন অনেকটা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে খুঁটির সঙ্গে স্থাপন করা কিছু যন্ত্রপাতি এখনো রয়েছে। কিন্তু ব্যান্ডউইথ না থাকায় নগরবাসী এ সেবা পাচ্ছেন না। এছাড়া ওয়াইফাই প্রকল্পটি ব্যয়বহুল এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বেশি।’


সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানান, ‘প্রকল্পের সার্ভারে সিটি করপোরেশনকে কখনোই অ্যাকসেস দেওয়া হয়নি। শুধু অবকাঠামো হস্তান্তর করে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতি মাসের ইন্টারনেট বিল পরিশোধের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের ওপর দেওয়া হয়।’ 


তবে সিসিকের এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় বিসিসি। সংস্থাটির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মধুসুদন দত্ত জানান, ‘প্রকল্পটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত নথিপত্রও রয়েছে। হস্তান্তরের পর প্রকল্পটি চালু রাখা হবে কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় বিসিসির পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। তবে অতিরিক্ত সময়ের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে কোনো অর্থ দাবি করা হয়নি।’


প্রকল্পটি শুধু নগরে বিনা মূল্যে ইন্টারনেট দেওয়ার উদ্যোগ ছিল না, সিলেটকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট নগর হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তাই দুই পক্ষের সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে যথাযথ পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আবারো প্রকল্পটি চালুর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।


এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান জানান, ‘উদ্যোগটির ধারণা ভালো ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেবাটি চালু রেখে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এটি দেশের অন্য বিভাগীয় শহরগুলোর জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারত। ‘ওয়াইফাই সিটি’ ও ‘স্মার্ট সিটি’ এখন বিশ্বজুড়ে পরিচিত ধারণা। সিলেটে এই উদ্যোগ ভালোভাবে শুরু করে ধরে রাখা গেলে অন্য বিভাগীয় শহরেও এমন প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো এবং নগরবাসী উপকৃত হতে পারতেন।’


নামপ্রকাশে অনিষ্চুক একজন শিক্ষক জানান, দেশের উন্নয়নে সিলেটের প্রবাসীদের ভূমিকা খুব বেশী। অথচ সিলেটের প্রতি যে সরকার ক্ষমতায় তারা বিমাতা সুলভ আচরন করে। সিলেটে অনেক মেগা প্রকল্প চালু করে তা বাস্তুবায়ন না করে তা লুটে নেয়া বা বন্ধ করা সিলেট বাসীর প্রতি অন্যায় করা হয়। যা মেনে নেয়া যায় না।


ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ন্যায় বিচারের দাবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৫ পিএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের জগতরায় গোপালপুর বাজারে একটি মনোহারী দোকানে হামলা, ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে গাইবান্ধা থানায় এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর স্ত্রী শ্রীমতি সুধা রানী।


এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে পূর্বের একটি কাপড় বিক্রির টাকা নিয়ে ব্যবসায়ী নয়ন চন্দ্র মহন্তের সঙ্গে শফিকুল ইসলাম ওরফে হাউদার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় শফিকুল ইসলাম ব্যবসায়ীকে মারধরের চেষ্টা ও পরে পরিবারের সদস্যদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, একই দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শফিকুল ইসলাম, বিপুল মিয়া, আরিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন লাঠি, লোহার রড ও শাবল নিয়ে দোকানের সামনে এসে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে নয়ন চন্দ্র মহন্তকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


এজাহারে দাবি করা হয়, হামলাকারীরা লোহার রড ও শাবল দিয়ে নয়ন চন্দ্র মহন্তের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং এক চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। হামলাকারীরা তার দুই ছেলে লক্ষণ চন্দ্র মহন্ত ও রামচন্দ্র মহন্তকেও মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


এছাড়া দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে দিনের বিক্রির ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।


এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা নং-৩৭/৪৬১, তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দায়ের করা হয়েছে।