• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৯ পিএম

গাইবান্ধায় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছেন নিয়ন হুদা (৪০) নামের এক যুবক। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কাজলঢোপ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।


নিখোঁজ নিয়ন হুদা গাইবান্ধা শহরের পশ্চিমপাড়া এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।


স্বজন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজার ছুটি কাটাতে সম্প্রতি বাড়িতে আসেন নিয়ন। বুধবার তিনি সদর উপজেলার কাজলডোপ এলাকায় তাঁর বড় ভায়রা মাকসুদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে চারজন একসঙ্গে বাড়ির পাশে ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে অন্য তিনজন নদী থেকে তীরে উঠে এলেও পানির তোড়ে বা স্রোতে নিখোঁজ হন নিয়ন। এর পর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে নদী থেকে নিয়নকে উদ্ধারের জন্য রংপুরের ডুবুরি দলের সহায়তা চাওয়া হয়।


গাইবান্ধা সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রিফাত আল মামুন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয়ভাবে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি রংপুরের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে পৌঁছালেই নদীতে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে।


এদিকে ছুটির দিনে বেড়াতে এসে এভাবে নদীতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নিয়নের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয়জনকে দ্রুত ফিরে পাওয়ার আশায় নদীর তীরে অপেক্ষা করছেন তাঁর স্বজনেরা।




সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১২ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১২ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১২ পিএম

রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি সই হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় ১১ দশমিক ৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ ও আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া, দুটি মেট্রোরেলের ডিপোর বিভিন্ন স্থাপনাও নির্মাণ করা হবে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।


সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।


তিনি নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব, প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের কল্যাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।চুক্তি অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১-এর ডিপো নির্মাণের জন্য সিপি-০২ প্যাকেজে ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।


এমআরটি লাইন-১-এর সিপি-০৭ প্যাকেজের আওতায়, পাতাল থেকে উড়াল পথে ওঠার স্থান থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল—এই তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।


এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের ডিপো নির্মাণের সিপি-০২ প্যাকেজে প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।


অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারা—এই পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এ কাজের চুক্তিও হয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।


সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণে অগ্রগতি হবে। একই সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাহিদা মোকাবিলা, যানজট কমানো এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়ে যাবে।


অনুষ্ঠানে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। এ ছাড়া জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ সব খবর

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৬ পিএম

‎গাইবান্ধায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার ‎(২৭ অক্টোবর) সূর্যোদয়ের সাথে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়, পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ও দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত এবং জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। 

‎

‎এরপর দুপুরে পৌরপার্কে জেলা যুবদলের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. মঈনুল হাসান সাদিক। 

‎

‎জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টুর সঞ্চলনায় আলোচনা সভা প্রধান বক্তা ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল। 

‎

‎বিশেষ বক্তা ছিলেন, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম লিপন, সিনিয়র যুগ্ন- সাধারণ সম্পাদক আহমেদ সেকেতুর রব অনিক। এছাড়া জেলা যুবদল সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

‎

‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‎যুবদলের ৪৮ বছরের ইতিহাস ও ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বক্তারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। 


‎সভা শেষে ব্যানার-ফেস্টুনসহ একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০১ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০১ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০১ পিএম

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটিতে ভ্রমণের পাশাপাশি রাতেও থাকতে পারবেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে সংশোধিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান বলেন, ‘নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি–মার্চে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে থাকা নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সেখানে সংশোধন করা হয়েছে। এখন পুরো সময়ই পর্যটকেরা দ্বীপে থাকতে পারবেন।’


এর আগে, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রোববার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে গত বছরের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছিল।


সেই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবেন। একই দিন ফিরে আসতে হবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ থাকবে। ফলে এবার পর্যটকদের যাতায়াতের সময়সীমা বাড়লেও রাতযাপনের ক্ষেত্রে গত বছরের নিয়মই বহাল থাকছে বলে ধারণা তৈরি হয়। এটা নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে একটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর রাতযাপনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। এবার সে বিষয়ে সংশোধিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগের মতোই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।


এবার দ্বীপে পর্যটক যাওয়ার দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার করা হয়েছে। প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে ১০০ টাকা।


এবারও সেন্ট মার্টিনে যেতে পর্যটকদের ট্রাভেল পাস নিতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর

আদালতের মামলায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভূয়া দলিল ও নামজারির ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ!


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৭ পিএম

খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর, দেড়ুলি ও কৃষ্ণনগর এলাকায় জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি এবং আদালতের মামলা ঘিরে একাধিক চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি উদ্ধারের আশ্বাসে তাঁদের অর্থ ও জমি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকটি ঘটনায় জাল দলিল তৈরি, রেকর্ড পরিবর্তন এবং আদালতের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের সত্যতা ও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উৎপল কুমার সাহা এবং তাঁর সঙ্গে নেহার মণ্ডল ও অসিত বিশ্বাসের সংশ্লিষ্টসহ অভিযোগ করা কয়েকজন ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের বেশ কয়েকটি জাল দলিল ও খতিয়ান নিয়ে প্রমানিত ভূমি অফিসে সুত্রে জানা যায়।


পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও জমির নামজারি নিয়ে প্রশ্নঃ ভুক্তভোগী আসলাম ফকির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নকুল চন্দ্র সাহা (১৭ সেপ্টেম্বর ২০১২)  এফএম আসলাম উদ্দিনকে একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল সম্পাদন করে দেন। দলিল নম্বর ৫৫১০/১২। পরবর্তী সময়ে (১২ অক্টোবর ২০১৫) ওই ক্ষমতাপত্রের সূত্রে ৫০ শতক জমির একটি সাফ-কবলা দলিল সম্পাদিত হয়, যার নম্বর ৪৮৩৬/১৫ বলে জানানো হয়েছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে জমির ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা কাটতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড পরিতোষ সাহার নামে করা হয়েছে। গত (২২ আগষ্ট ২০১৭) ৫৪২২/১৭ নং দানপত্রের দ্বারা মালিক হয়েছে। কিন্তু দান পত্রে নকুল কুমার সাহার কথিত স্বাক্ষর এবং এফ এম আসলাম ফকিরের ৫৫১০/২০১২ নং আমমোক্তারনামায় নকুলের স্বাক্ষরের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।যার মূল দলিল ডুমুরিয়া এসিল্যান্ড অফিসে অভিযুক্ত উৎপল সাহার পিতা দেখাতে পারেনি। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৮ শতক জমির নামজারি-সংক্রান্ত একটি মিস কেসের নম্বর এমএল ১৪১৭/১৮-১৯ এবং সংশ্লিষ্ট ধারায় ১৪০ ও ১১৭ উল্লেখ রয়েছে। 


ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, ৫৪২২/১৭ ও ২০৭৮/১৮ নম্বরের দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা ও নামপত্তন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নামজারি নথি তহসিল অফিস ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। 


বিদেশে বসবাসের দাবি, মালিকানা যাচাইয়ের প্রশ্ন

 

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আশুতোষ সাহা প্রায় ৩০ বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান। অন্যদিকে নকুল চন্দ্র সাহা ২০১৩ সালে দেশত্যাগ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মধ্যমগ্রামে বসবাস করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের বর্তমান অবস্থান, পরিচয়পত্র বা জম্মনিবন্ধন এবং জমি হস্তান্তরের সময়কার আইনগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।


জমি উদ্ধারের আশ্বাসে অর্থ ও জমি নেওয়ার অভিযোগ


ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার তরুণ কান্তি সাহা অভিযোগ করেন, দেড়ুলি এলাকার উৎপল সাহা তাঁর কাছে এসে নিজেকে আদালতের পেশকার পরিচয় দিয়ে জমি উদ্ধারের আশ্বাস দেন। তাঁর দাবি, নিজের জমির কাগজপত্র দেখানোর পর উৎপল সাহা তাঁকে জমি উদ্ধার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিনিময়ে তিন শতক জমি লিখে দিতে বলেন। 


তরুণ কান্তি সাহার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ৩ শতক জমি লিখে দেন। ৪ মাসের মধ্যে জমির কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাড়ে ৪ বছরেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং মামলা পরিচালনার খরচসহ বিভিন্ন সময়ে টাকা দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


প্রতিপক্ষের যোগসাজশের কারণে মামলা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, জিডি করার পরেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি। 


তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর কাছ থেকে ৪২টি মূল খতিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং স্বাক্ষর করা তিনটি ১০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল অলিখিত সাদা স্ট্যাম্প প্রতারণা করে নেওয়া হয়েছে। যাহা থানার জিডিতে উল্লেখ করেছেন ভ’ক্তভোগী তরুন কান্তি সাহা। এ ঘটনায় তিনি ৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে ডুমুরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যার নম্বর ৩৩১। ১৬ মাস অতিবাহিত হলেও এখন এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কোন তদন্ত করেনি। এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া থানার ওসিকে কল দিলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নাই। 


পুরোনো দলিল ও খতিয়ান নিয়ে বিরোধ


ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিএস দাগ নম্বর ১১৮, ২৩৭ ও ২৪৯ এবং খতিয়ান নম্বর ২৮০-সংক্রান্ত জমি নিয়েও বিরোধ রয়েছে। সন্তোষ কুমার সাহার নামে বিএস/বিআরএস রেকর্ড থাকার দাবি করে অভিযোগকারীরা জানান, পুরোনো দলিল ও মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এ ছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১০ তারিখের ৭৯০/২০১০ নম্বরের একটি দলিলকে ভুয়া বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ। তাঁদের দাবি, ওই দলিলের মাধ্যমে ৪৮৩ নম্বর দাগ এবং ৬৪ ও ২৬ নম্বর খতিয়ানের অধীন ৫ দশমিক ৭ শতক জমির নামজারি করা হয়েছিল। যার নথিপত্র ভূমি অফিসে পাওয়া যায়নি। পরে আসলাম ফকির ১৫০ ধারার অধীনে মামলা করে মূল খতিয়ান ফেরত পেয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের ভাষ্য। সংশ্লিষ্ট মামলার আদেশ ও ভূমি অফিসের নথি যাচাই করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।উৎপলের কারনে এলাকার সাধারন মানুষ আতষ্কিত।


এ চক্রের কাছে অসহায় মানুষ মামলা করে আদালতে দৌড়িয়ে সর্বোচ্চ খুইয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। উৎপল সব আদালতে ভ’মিদস্যু চক্রের প্রধান হিসাবে কাজ করে। 


অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, উৎপল সাহার সিন্ডিকেটের সঙ্গে নেহার মণ্ডল ও অসিত বিশ্বাসের ও ভূমি অফিসের অসৎ কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। নেহার মণ্ডল ও অসিত বিশ্বাসের নামে ডুমুরিয়া থানায় জিডি করা রয়েছে। 


আদালতের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উৎপল সাহা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে নিজেকে আদালতের পেশকার বা প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জমি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিতেন। তাঁদের দাবি, এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও জমি নেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উৎপল সাহা ২০১৮ সালে আদালতে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে চাকরি পান বলে খুলনা জেলা জজের ফুলতলা উপজেলা কোর্টের সেরেস্তাদার অফিস সূত্রে জানা যায়। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, দেড়ুলি এলাকায় তাঁর পরিবারের একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, যার ব্যয় আনু: ৫০ লাখ টাকা। কেবল সম্পদ বৃদ্ধি বা বাড়ি নির্মাণের ভিত্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত যে টাকার উৎস কোথায়।


প্রশাসনের বক্তব্য ও তদন্তের দাবি


খুলনা জেলা জজ আদালতের নাজির মো. জাকারিয়া শেখ জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


অন্যদিকে উৎপল সাহা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি আমার নিজের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে লড়ছি।”


ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট দলিল, নামজারি নথি, আদালতের মামলা, জিডি এবং ভূমি অফিসের রেকর্ড পরীক্ষা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জমির মালিকানা ও রেকর্ড নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা জরুরি।


এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উৎপল সাহা চাকরি পাওয়ার পূর্বে  তার পরিবার দু'মুঠো ভাত খেতে পারত না। আর সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করে গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি।

সর্বশেষ সব খবর

বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের মতবিনিময় সভা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১১ পিএম

নীলফামারীর নবাগত জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবিরের সাথে জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গদের পরিচিতি এবং মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবির। 


এসময় উপস্থিত ছিলেন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম, নীলফামারী জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা শাখার আমীর মোখলেছুর রহমান মাষ্টার, প্রেসক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব কামারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান কবির লেলিন, জেলা জামায়াতে সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য প্রভাষক সাদের হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা  কামরুজ্জামান, পঃ পঃ কর্মকর্তা নন্দা সেন গুপ্তা, প্রকৌশলী তারিকুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়িদুজ্জামান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস ছামাদ, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এস.এম গোলাম মোস্তফা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। উক্ত পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।


প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে নবাগত জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবির বলেন, মানবিক নৈতিকতা, অর্থনৈতিক ও সৃজনশীল সমাজ ব্যবস্থা গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।


এসময় তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নৈতিক দ্বায়িত্ববোধ থেকে দ্বায়িত্ব পালন করতে হবে সেই সঙ্গে, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে উঠতি বয়সের যুবকরা জরিয়ে পরছে তাই যুব সমাজকে কিশোর গাং, মাদক, জুয়া, মোবাইলে আসক্তি, ইভটিজিং অপরাধপ্রবণ কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করে মেধা মননশীলতায় গড়ে তুলতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৪ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৪ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


টোয়াবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক মেলা, বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৪ পিএম

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক মেলা, বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। আগামী ২৯-৩১ অক্টোবর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে। 


এ উপলক্ষে আজ ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার), ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিটিএফ ২০২৬-এর রূপরেখা আলোচনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ।


এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি ও প্রধান মেলা সমন্বয়কারী মো. রাফেউজ্জামান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার পিআর কামরুল ইসলাম, ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টের জেনারেল ম্যানেজার অশ্বনী নায়ার, টোয়াবের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাফত উদ্দিন আহমেদ, বিসিএফসিসিয়ের হেড অব সেলস রহমত আলী, টোয়াবের পরিচালক (মিডিয়া ও পিআর) মো. মিজানুর রহমান, পরিচালক (বাণিজ্য ও মেলা) আবুল বাসেত বাবু, সাবেক মেলা পরিচালক রেজাউল ইকরাম রেজা ও প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান। 


টানা ১৩ বার সফল আয়োজনের পর, এবারের ১৪তম আসরের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এআই পাওয়ার ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতের বিকাশ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সংযোগ জোরদার করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য।


তিন দিনব্যাপী চলা এই মেলায় নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টিরও বেশি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিনিধি ও সংস্থা অংশ নিবে। এ বছর মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।  


এছাড়াও, মেলায় ২০০-এরও বেশি বুথ ও স্টল, ২২০+ এক্সিবিটর, ২৫০+ কোয়ালিফাইড বায়ার, ২,৫০০+ ট্রেড ভিজিটর ও ৬০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করবে। একইসাথে, চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে ২০০টিরও বেশি এয়ারলাইন্স, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশ নিবে, যা বিটিটিএফ ২০২৬-কে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্যে একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে পরিণত করবে।


সংবাদ সম্মেলনে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “গত ১৩টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই মেলা দেশিয় পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সাথে বিটুবি নেটওয়ার্কিং ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”


মেলার সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। 


মেলার এয়ারলাইন্স পার্টনার হিসেবে থাকছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে থাকছে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস) পার্টনার হিসেবে সেবার, পিআর পার্টনার হিসেবে ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলোজি পার্টনার হিসেবে এম৩৬০আইসিটি, ট্রান্সপোর্ট পার্টনার হিসেবে থাকছে কনভয় সার্ভিস, ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে থাকছে মায়েস্ট্রো, অডিও ভিজ্যুয়াল পার্টনার হিসেবে থাকছে প্যানোরমা পিসি ক্রিয়েটরস ও রুচি এবং ভেন্যু পার্টনার হিসেবে থাকছে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি)।


বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এবং একইসাথে, বৈশ্বিক অংশীজনদের এই খাতের সাথে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশিয় পর্যটনের বিকাশে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে টোয়াব।

সর্বশেষ সব খবর