ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ মার্চ, ২০২৬, সময় : ২:৫০ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনে ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের আগ্রাসন শুরুর পর ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনো তাদের রণকৌশল প্রণয়ন ও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বজায় রেখেছে।


১৯৭৯ সালের বিপ্লব থেকে জন্ম নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান একটি জটিল ও স্তরভিত্তিক শাসনকাঠামো গড়ে তুলেছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে বরং ধর্মতাত্ত্বিক এই শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যেই তাদের সব প্রতিষ্ঠান ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে।


ইরানের ক্ষতবিক্ষত কিন্তু অবিচল এই ক্ষমতার স্তরে এখন কারা প্রভাব বিস্তার করছেন, সেটা নিয়ে আলোচনা করা যাক।


সর্বোচ্চ নেতাই কি সব নিয়ন্ত্রণ করছেন


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুর দিকের হামলায় ইরানের প্রবীণ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই নেতার প্রতি পুরো ব্যবস্থার নিরঙ্কুশ আনুগত্য ছিল এবং সব বড় সিদ্ধান্তে শেষ কথাটি তিনিই বলতেন।


ইরানের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ‘বেলায়াত-ই ফকিহ’ বা ‘ইসলামি আইনবিদের শাসন’ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা হলেন একজন বিজ্ঞ আলেম। তিনি শিয়া ইসলামের নবম শতাব্দীতে অন্তর্হিত হওয়া ‘দ্বাদশ ইমাম’-এর প্রতিনিধি হিসেবে পার্থিব ক্ষমতা পরিচালনা করেন।


সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর ‘বাইত’ নামে পরিচিত। এখানকার বিশাল জনবল ইরান সরকারের প্রতিটি স্তরের ওপর ছায়ার মতো নজর রাখে। এর ফলে সর্বোচ্চ নেতা সরাসরি আমলাতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পান।


নতুন নেতা হিসেবে মোজতবা আলী খামেনি তাঁর বাবার উত্তরাধিকার ও ব্যাপক আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা লাভ করেছেন। তবে তাঁর বাবার মতো প্রশ্নাতীত কর্তৃত্ব মোজতবার নেই। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পছন্দের ব্যক্তি হওয়ায় তিনি হয়তো এই কট্টরপন্থী সামরিক বাহিনীর কাছে দায়বদ্ধ।


ইসরায়েলি হামলায় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁকে বর্তমান যুদ্ধের একজন ‘জানবাজ’ বা আহত যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ইরানিরা এখনো তাঁর কোনো ছবি বা ভিডিও দেখেনি। তিনি কেবল দুটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


কতটা প্রভাবশালী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী


বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব কয়েক দশক ধরেই বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধ এবং আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ায় এই বাহিনী এখন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়েও বেশি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।


নেতৃত্বের শূন্যতা মোকাবিলায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিশেষ একটি ‘মোজাইক’ বা বহুমুখী সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি কমান্ডারের বিকল্প উত্তরসূরি আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকে। ফলে যুদ্ধের ময়দানে প্রতিটি ইউনিট নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম।


গত এক বছরে অনেক শীর্ষ কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হলেও তাঁদের জায়গায় দ্রুত অন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মূলত ১৯৮০-৮৮ সালের ইরাক যুদ্ধের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে কয়েক দশকের সম্পৃক্ততা এই বাহিনীকে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার শক্তি জুগিয়েছে।


রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা কী


ইরানের শাসনব্যবস্থায় ধর্মীয় শাসনের পাশাপাশি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূলত বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে মিলেই তারা দেশ পরিচালনা করে থাকে।


আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রধান উপদেষ্টা আলী লারিজানির মৃত্যু বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর জন্য বড় এক ধাক্কা। বিভিন্ন ক্ষমতার কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয় এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে লারিজানি অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন।


তবে লারিজানির শূন্যস্থানে এখন যিনি আসছেন, তিনি নিহত নেতাদের তুলনায় আরও বেশি কট্টরপন্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এখনো অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিক ইরানের শাসনব্যবস্থায় সক্রিয় রয়েছেন।


ইরানের বর্তমান ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা শীর্ষ ব্যক্তিত্ব কারা


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের অনেক শীর্ষ নেতা ও কমান্ডার নিহত হলেও দেশটির শাসনকাঠামোয় এখনো বেশ কিছু প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—


বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদি। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সর্বশেষ প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আহমদ ওয়াহিদি। তাঁর আগের দুজন প্রধান নিহত হওয়ার পর তিনি এ দায়িত্ব পান। কয়েক দশক ধরে প্রভাবশালী এই নেতা ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এর আগে তিনি কুদস ফোর্সের প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনেও তাঁর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।


নাম রয়েছে কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানির। ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর তিনি কুদস ফোর্সের দায়িত্ব নেন। অন্তরালে থেকে কাজ করা এই কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখেন।


আলোচনায় আছেন বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌপ্রধান আলীরেজা তাংসিরি। ২০১৮ সাল থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের যে রণকৌশল, তাতে তাংসিরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজ্ঞ একজন কমান্ডার।


পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের নাম বলতেই হয়। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক এই কমান্ডার ও তেহরানের সাবেক মেয়র বর্তমানে ইরানের জীবিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি ইরানের অবস্থান তুলে ধরতে বেশ সোচ্চার রয়েছেন।


ইসরায়েলি একটি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতা করছেন।


বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ গোলাম হোসেইন মহসেনি-এজেইও এই সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। সাবেক এই গোয়েন্দাপ্রধান একজন কট্টরপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালে ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা রাখার অভিযোগে তাঁর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।


প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বর্তমান পরিস্থিতিতে জোরালো ভূমিকা রাখছেন। ইরানের শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আগের চেয়ে কমে গেলেও জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় পেজেশকিয়ান এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তবে চলতি মাসের শুরুতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানি হামলার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তোপের মুখে পড়েন। পরে তিনি নিজের বক্তব্য আংশিক প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।


সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটির সাবেক প্রধান সাইদ জলিলিও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের এই আহত যোদ্ধা ইরানের রাজনীতির অন্যতম কট্টরপন্থী মুখ। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়া জলিলি এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে আপসহীন আলোচনার জন্য পরিচিত ছিলেন।


গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফির নাম এবার সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আলোচনায় ছিল। এই জ্যেষ্ঠ আলেম গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন প্রভাবশালী সদস্য, যাঁরা নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ করে থাকেন। খামেনির মৃত্যুর পর গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলেও তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরেক পরিচিত মুখ ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এখনকার ভূমিকা অসামান্য। প্রবীণ এই কূটনীতিক দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের স্পর্শকাতর আলোচনা চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি রাশিয়া, চীন ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করছেন।




সর্বশেষ সব খবর

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ পিএম

সাহসী ও উদ্ভাবনী সাতিহ্যকর্মের জন্য এ বছর নোবেলে পেয়েছেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন। ‘ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য’ তাঁকে পুরস্কারটি নেওয়ার কথা জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।


বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরস্কার ঘোষণা করে দ্য সুইডিশ একাডেমি। 


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো কর্মজীবনে অ্যান কারসন কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। 


১৯০১ সালের পর থেকে ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অ্যান কারসনসহ এ পর্যন্ত ১৯ জন নারী সাহিত্যে নোবেল পেলেন।


২০২৫ সালে যিনি পেয়েছিলেন


গত বছর সাহিত্যে নোবেল পান হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। অ্যাপোক্যালিপ্টিক আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে এমন এক গভীর ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন সাহিত্যকর্মের জন্য তাঁকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়।


ক্রাসনাহোরকাই এর জার্মান ভাষার উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’ সম্পর্কে নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এটি জার্মান সমাজের অস্থিরতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এতে জার্মানির একটি ছোট্ট শহরে সামাজিক অস্থিরতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বিপর্যস্ত জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। 


কবে কোন পুরস্কার


আগামীকাল শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।


পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।


মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তানে বিদ্যুতের ঘাটতি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে বিদ্যুতের ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। খবর এএনআইয়ের।


পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহও কমেছে।


দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে লাহোরে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। লাহোর ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (এলইএসসিও) এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট।


এলইএসসিও সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর পরের এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়ছে।


বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। একই সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় বিকল্প উৎস থেকেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।


বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো না গেলে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার পাশাপাশি দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


সূত্র: এএনআই

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৭ পিএম

জাপানের পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার (8 অক্টোবর) ভোরে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে চিবা ও ইবারাকি প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে কোনো ভূমিকম্পের পরই সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। খবর আনাদোলু এজেন্সির। 


জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) বরাত দিয়ে কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে (বুধবার ১৯টা ১৩ মিনিট জিএমটি) উত্তর-পূর্ব চিবা প্রিফেকচারে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮।


ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। জাপানের সাত মাত্রার ভূমিকম্প-তীব্রতা স্কেলে আসাহি শহরে এর তীব্রতা ছিল ৪। পাশের ইবারাকি প্রিফেকচারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়।


এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর ইবারাকি প্রিফেকচারে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জেএমএ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে (বুধবার ২২টা ১৪ মিনিট জিএমটি) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ০। হিতাচিওমিয়া শহরে এর তীব্রতা রেকর্ড করা হয় ৩।


দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে।


জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পের কোনোটিই সুনামির সৃষ্টি করেনি।


সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ১ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব চিবা এলাকায় ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব জাপানে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।


এ ছাড়া গত ২৩ আগস্ট ওই অঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে টোকিওতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ পিএম

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠী এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দেবেন। গতকাল বুধবার ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে তরুণদের এ দলটি। ভিডিওটিতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজকে দেখা গেছে। 


অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেছেন, বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ‘আমাদের ভোট বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ (সেভ আওয়ার ভোটস, সেভ ডেমোক্রেসি) স্লোগানের অধীনে আয়োজিত বিক্ষোভে রাঠী এবং রাজ অংশগ্রহণ করবেন।


স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং নাগরিকদের একটি জোট। সে জোটের অধীনেই আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বৃহত্তর সমাবেশেও এই দুজনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভগুলো আবর্তিত। তারা এসআইআর-কেন্দ্রিক কার্যক্রমকে ‘ভোট চুরি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আয়োজকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।


আজ বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে সমাজকর্মী ও নাগরিকদের ফ্রিডম পার্কে একত্রিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর ১০ অক্টোবর দিল্লির বিক্ষোভটিকে আয়োজকরা ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ এএম

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে রুশ বাহিনী। ৭ অক্টোবর বুধবারের এ হামলায় ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৮ জন। নিহত ২৮ জনের মধ্যে ৫ জন শিশুও আছে। ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারায় এই শিশুরা।


শক্তিশালী বিস্ফোরণের ধাক্কায় ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালার কাঁচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় এবং পাঁচতলা ভবনটির অর্ধেক অংশই পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।


প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। 


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে জানিয়েছে, রুশ হামলায় প্রিলুকির সেই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন।


হামলায় নিহতের পাশপাশি আহও হয়েছেন বহুসংখ্যক। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছিন, আহতদের মধ্যে আরও সাতজন শিশু রয়েছে। রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বেসামরিক সাধারণ শহর ও বেসামরিক  জীবনযাত্রাকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন তিনি।


“ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার হলো সন্ত্রাস সৃষ্টির এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ”, বিবৃতিতে বলেছেন জেলেনস্কি।


ইউক্রেনের নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন এএফপি-কে বলেন, “আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম।বিস্ফোরণে আমাদের জানালার কাঁচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে, আমরা নিজেদের শরীর দিয়ে আমাদের শিশু সন্তানকে আগলে রেখেছিলাম। আমার স্বামীর পিঠে এবং আমার শরীরেও কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে।”


“(হামলার সময়) আমাদের সন্তানের প্রচণ্ড মানসিক আঘাত বা ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ হয়েছিল এবং সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমের দিকে ছুটে গিয়েছিলাম এবং অ্যাপার্টমেন্টের সবকিছু যখন তছনছ হয়ে যাচ্ছিল, সে সময় আমরা সেখানেই ছিলাম।"


প্রিলুকির স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে আঘাত হানা শুরু করে রুশ বাহিনী। এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার তরফ থেকে একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিশেষ ভাবে বলা হয়েছিল।


উল্লেখ্য, শীতকাল ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজধানীতে হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে এবং প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বেজে চলেছে।


উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাতের জন্য সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।


ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো প্ল্যাটফর্মে গাঢ় রঙের হুডি পরে এবং চারপাশে ব্যাগ নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় এএফপি-কে বলেন, “আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি।”


“পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা কর্মস্থলে আটকা পড়েছিলাম এবং সবাই—আমাদের গ্রুপের চ্যাট বা বসরা—আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন।”


ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে রুশ বাহিনী।


প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ উল্লেখ করে করে জেলেনস্কি বলেছেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ এবং নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।


অনলাইন মার্কেটিংয়ে কর্মরত ৩১ বছর বয়সী ইউলিয়া শামরাই, যিনি প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির কাছেই থাকেন, বলেন, “এই হামলার মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার কোন সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না।”


সূত্র : এএফপি

সর্বশেষ সব খবর

সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পুরোনো ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৪ এএম

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।


বুধবার (৭ অক্টোবর) দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।


জিএসিএ জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক সময়ে দুই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ জন। আহতদের মধ্যে দুইজন সৌদি নাগরিক এবং বাংলাদেশি ও ফিলিপাইনের নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।


অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।


সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটিতে বিমানবন্দর দুটির অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দুই বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে।


ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।


সূত্র: আনাদোলু

সর্বশেষ সব খবর