• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৯ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের রেজিষ্ট্রেশন ফি জবির প্রথম সমাবর্তন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা বেশি নির্ধারণ এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফি বৃদ্ধি ও প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বইছে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও সমালোচনার ঝড়।


আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি প্রকাশ করে রেজিষ্ট্রেশনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৫,০০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৫,৫০০ টাকা; স্নাতকোত্তর ও এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৬,০০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৬,৫০০ টাকা; এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৬,৫০০ টাকা ও সনদ ফি ১,০০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৭৫০০ এবং স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৮,০০০ টাকা ও মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা মিলে সর্বমোট ৮৮০০ ধার্য করা হয়েছে। এর সঙ্গে ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জও সংযোজিত হবে।


প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন ফি ২,০০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নিবন্ধন ফি ছিল যথাক্রমে ৩,০০০ টাকা ও ৪,০০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি ছিল ৪০০ টাকা। 


এছাড়া প্রথম সমাবর্তনে সার্ভিস চার্জ ছিল মাত্র ১ শতাংশ। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে যেখানে ব্যাংক চার্জসহ মূল সনদ ও নিবন্ধন ফি বাবদ সর্বমোট ৩,৩২০ টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে জবিতে প্রায় দ্বিগুণ ফি ধার্য করায় শিক্ষার্থীরা একে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখছেন।


ফলে সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম স্মৃতিময় ও মর্যাদাপূর্ণ অর্জন হলেও অতিরিক্ত ফির কারণে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল অর্থাৎ সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে সুযোগ দেওয়াকে সমাবর্তনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার সামিল বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।


উম্মে হাবিবা নামে এক জবি শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সম্ভবত একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যারা প্রফেশনাল বা ইভেনিংয়ের শিক্ষার্থীদেরও টাকা দরকার বলে সমাবর্তন দিচ্ছে। আমরা যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী, তাদের সাথে প্রফেশনালে ডিগ্রি কেনা শিক্ষার্থীদেরও একসাথে মিলিয়ে সমাবর্তন দিতে চাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েটদের সম্মান, তা অপমান ডেকে আনুক আমরা চাই না। সংস্কার না আনলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেবে না।”


আরেক শিক্ষার্থী ইব্রাহিম ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে লেখেন, “মনে হচ্ছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সমাবর্তনের খরচা এবার বেশি। সমাবর্তনের টুপির জাহাজ আটকে গেছে, তাই টাকা বেশি লাগবে।”


এ বিষয়ে জবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন জানান, মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সেন্ট্রাল কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কমিটির অনুমোদিত এই সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি আর পুনর্বিবেচনা বা ফি কমানোর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।


ফি বৃদ্ধি ও প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “ছয় বছর আগের তুলনায় বর্তমানে সবকিছুর দাম ও সমাবর্তন আয়োজনের খরচ বহুগুণ বেড়েছে। একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, ডিন ও চেয়ারম্যানদের সর্বসম্মত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ২০০০ টাকা ফি বাড়ানো হয়েছে। এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।”


প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “প্রথম সমাবর্তনেও প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। এবার তাদের বাদ দিলে তা নিয়ে আলাদা বিতর্ক তৈরি হতে পারতো। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”


উল্লেখ্য, জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।




নোবিপ্রবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৪ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রশাসন। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের শিক্ষা শাখা থেকে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কেউ ভুয়া প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতারণার শিকার হতে পারেন। প্রতারকরা বিভিন্ন কৌশলে বিকাশ/নগদসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের PIN, OTP, Verification Code ও Account Information সংগ্রহের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা করে আসছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের সচেতন ও নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে PIN, OTP, Verification Code, Password কিংবা Account Information কোনো অবস্থাতেই শেয়ার করা যাবে না। ফোন করে কেউ টাকা পাঠাতে, কোনো কোড জানাতে অথবা কোনো লিংকে প্রবেশ করতে বললেও তাতে সাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী কিংবা পরিচিত কোনো ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ আর্থিক লেনদেনের অনুরোধ জানালে যথাযথভাবে পরিচয় ও বিষয়টি যাচাই না করে কোনো ধরনের লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সন্দেহজনক কোনো ফোনকল, SMS, মেসেজ বা লিংক পাওয়া গেলে তাতে সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিকটস্থ থানায় বিষয়টি অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করছে, এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সদস্যের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞপ্তিতে সবাইকে সতর্কতা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতারণা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোবিপ্রবির রেজিস্ট্রার দপ্তরের শিক্ষা শাখা থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৯ পিএম

নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গি’ ও ‘বোমা মারতে পারে’- এমন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি।

গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) একটি ক্লাসে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। 


পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী লিখিতভাবে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা ডেকে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


বিষয়টি নিশ্চিত করে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সভায় একটি রেজুলেশন নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্সগুলো পুনর্বণ্টন করে অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।


অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়ে উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। বিভাগ থেকে ঘটনাটি তাদের অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।


শিক্ষার্থীর অভিযোগ


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মল্লিকার ভাষ্য, ঘটনার দিন তাসনিম সিরাজ মাহবুবের একটি কোর্সের ক্লাস চলছিল। ক্লাসের শুরুতে তিনি শিক্ষকের ডেস্কের বাম পাশে বসেছিলেন। এ সময় শিক্ষকের সঙ্গে দুইবার চোখাচোখি হওয়ার পর শিক্ষক তাঁকে ওই জায়গায় বসে থাকলে অস্বস্তি ও অনিরাপদ বোধ করছেন বলে জানান এবং অন্য শিক্ষার্থীদের ভিড়ের মধ্যে গিয়ে বসতে বলেন।


মল্লিকা বলেন, “শিক্ষক আমাকে একপর্যায়ে বলেন, ‘তুমি এখানে বসে থাকলে আমার আনকমফোর্টেবল ফিল হচ্ছে, আমার আনসেফ ফিল হইতেছে। আমি চাচ্ছি যে তুমি ক্রাউডের মধ্যে গিয়ে বসো।’ এরপর তিনি ক্লাস থেকে বের হয়ে যান।’’


মল্লিকার অভিযোগ, নেকাব ও হিজাব নিয়ে এর আগেও ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়েছে। শিক্ষক তার পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করেছেন এবং কেন এভাবে পোশাক পরেছেন, তা জানতে চেয়েছেন। এ সময় শিক্ষক নিজের হজ করার বিষয় উল্লেখ করে সেখানে মুখ খোলা রাখা যায় বলেও মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।


এর আগের একটি ক্লাসে শিক্ষক তাকে মুখ ঢেকে এভাবে চললে নেকাব খুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন মল্লিকা। 


তিনি বলেন, শিক্ষক তাকে বলেছেন, তিনি জানেন না ওই শিক্ষার্থী কে। তখন তিনি অফিস আওয়ারে দেখা করে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার এবং পরিচয়পত্র দেখানোর প্রস্তাব দেন।


তবে এরপরও প্রতিদিন তাকে শনাক্ত করার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক আপত্তি জানিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মল্লিকা। তার দাবি, বুধবারের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং নিকাব ও পোশাক নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


‘জঙ্গি’ ও ‘বোমা মারতে পারে’ মন্তব্যের অভিযোগ


ইংরেজি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাইসা মণি সুমিও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাসে ইসলামবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেন। 


তার দাবি, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পোশাক নিয়ে শিক্ষককে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থী একটি নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণ করেন বলেই এভাবে পর্দা করেন।


সুমির অভিযোগ, এ সময় শিক্ষক কোনো মাযহাব না মানার বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং ইসলাম পালনের ক্ষেত্রে হজ, নামাজ, রোজা ও যাকাতের প্রসঙ্গ তোলেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে সমর্থন করার কারণে তার প্রতিও শিক্ষক ক্ষুব্ধ হন বলে দাবি করেন সুমি।


সুমির ভাষ্য, একপর্যায়ে শিক্ষক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ‘জঙ্গি’ এবং তিনি ‘বোমা মারতে পারেন’- এমন মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনের মানুষের পোশাকের ভিন্নতার উদাহরণ দিয়ে পর্দার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যের কথা বললেও শিক্ষক তাকে কথা বলার সুযোগ দেননি।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই ক্লাসে পোশাকের সীমা নিয়েও শিক্ষক মন্তব্য করেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান বলে দাবি করেন সুমি।


অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সুমির দাবি, শিক্ষক নিজেকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হিসেবে উল্লেখ করে কেউ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না- এমন কথাও বলেছেন। একই সঙ্গে ক্লাসের বড় একটি অংশে শিক্ষক নিজের পরিবারের বিষয়ে কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য


ঘটনার দিন বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরদিন জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।


এরপর শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্সগুলো পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৯ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস (এমআইইটি) ২০২৬’ শীর্ষক ৩য় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত আন্তর্জাতিক এ কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। 




অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে আমাদের সামনে যেমন বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তেমনি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হচ্ছে। তাই শুধু প্রচলিত শিল্পের ওপর নির্ভর না করে আমাদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন এসেছে। এসব উদ্ভাবনকে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পণ্যে রূপান্তর এবং বাজারজাত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।


তিনি আরও বলেন, আমাদের স্থানীয় সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান বের করতে হবে। এক্ষেত্রে ফান্ডিং অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উদ্যোগের অভাব। আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া সম্ভব। এ সময় ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র ও উদ্ভাবনগুলোর সারসংক্ষেপ করে কীভাবে সেগুলো বাজারে নিয়ে আসা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জনান তিনি।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা ও রোবোটিকসসহ উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তাই গবেষণাকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সবার জন্য সহজলভ্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। 


উপাচার্য আরও বলেন, এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা অংশগ্রহণ করছেন এবং গৃহীত গবেষণাপত্রের ২৪ শতাংশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা সম্মেলনের আন্তর্জাতিক পরিসর ও গবেষণা সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বক্তব্যে গবেষকদের জন্য এ সম্মেলনটিকে একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম উল্লেখ করে দেশকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান ও কনফারেন্সের অর্গানাইজিং চেয়ার মো. ইফতেখারুল আলম ইফাতসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ।


কনফারেন্সে কী-নোট স্পিকার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. লতিফুর খান, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির এলমোর স্কুল অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক মুহাম্মদ এম. হুসেইন, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক শেখ মো. শরিফুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মূরস প্রফেসর ঝুহান। এতে ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে ছিলেন আহসান উল্ল্যাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিম আখত্রা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ম্যাথমেটিক্স এন্ড কম্পিউটার সায়েন্স ডিভিশনের পোস্ট ডক্টরাল অ্যাপয়েন্টি ড. আহমেদুর রহমান শোভন।


উল্লেখ্য, এবার কনফারেন্সে মোট ৩৩৫ টি পেপারের মধ্যে ৫৪ টি পেপার চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, ইন্টারনেট অফ থিংস, ক্লাউড কম্পিউটিং, সেন্সিং এবং নিরাপত্তার মতো প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের  পেশাজীবী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিনিময় ও তাদের অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ ফলাফল তুলে ধরার সুযোগ করে  দেওয়াই এই সম্মেলনের লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষকদের তাদের মৌলিক, অভিনব এবং অপ্রকাশিত গবেষণাপত্র এই সম্মেলনে জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কনফারেন্সে বাংলাদেশ ছাড়াও ইতালী, আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ, বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক গবেষক তাদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। কনফারেন্সের সহযোগী হিসেবে রয়েছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ (CNSER), ক্রিয়েটিভ ইনস্টিটিউটস অব ক্যারিয়ার্স, টেকনোলজি এন্ড রিসার্চ (CICTR) এবং স্প্রিংগার।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীনে নতুন দু’টি বিভাগ চালুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বিভাগ দুটি হলো— ‘তুলনামূলক তাফসীর’ ও ‘সিরাত আল-নাবাবিয়া’। 


ইউজিসির ইন্সপেকশন ও মনিটরিং শাখা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুমতি দেওয়া হয়। বিষয়টি আজ (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানিয়েছেন।


চিঠিতে বলা হয়, কমিশন কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক অবকাঠামো ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা, বিধিবদ্ধ বিধান, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন এবং স্নাতকদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিভাগ দুটি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


ইউজিসির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগ দুটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। প্রতিটি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে প্রতি শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। তবে আপাতত বিভাগ দুটির শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পদ ছাড় করা হয়নি। শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা বিবেচনায় পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পদ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এই দুই বিভাগ চালুর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এক ধাপ এগিয়ে গেল। আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই দুই বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য ঠিক রেখেই একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।


এর আগে গত বছরের ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩০তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিভাগ দুটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৩১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিভাগ দুটির কার্যক্রম শুরুর কথা জানানো হয়েছিল। তবে ইউজিসির অনুমোদনের প্রেক্ষিতে এখন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগ দুটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ তৈরি হলো।


শিক্ষার্থীরা বর্তমান প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, দীর্ঘদিন পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য পূরণের পথে দেখে ভালো লাগলো। আগামীতে একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হোক সেটাই আমাদের চাওয়া।


এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি নতুন বিভাগ, দুটি নতুন সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে। তুলনামূলক তাফসির ও আস-সীরাহ আন-নববিইয়া নামে দুটি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে।  একটি বিশ্ববিদ্যালয় যখন নতুন বিভাগ খোলে, তখন শুধু কিছু নতুন আসন তৈরি হয় এমন না, বরং এর মাধ্যমে একটি নতুন জ্ঞানচর্চার দরজা খুলে যায়? সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি বাংলাদেশের ইসলামী উচ্চশিক্ষার গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন—ইউজিসি (UGC), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য, প্রশাসন, একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও শিক্ষকবৃন্দকে এবং যাদের চিন্তা ও প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে তাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।


‘তাফসির’ থেকে ‘তুলনামূলক তাফসির’


কুরআনের তাফসির মুসলিম জ্ঞান-ঐতিহ্যের অন্যতম সমৃদ্ধ শাখা। কিন্তু তাফসিরের ইতিহাস শুধু একটি বই বা একজন মুফাসসিরের ব্যাখ্যার ইতিহাস নয়। তাবারি, ইবন কাসির, কুরতুবি, রাযি, ইবন আশুরসহ বিভিন্ন যুগের মুফাসসিরগণ তাঁদের নিজস্ব জ্ঞানভুবন, পদ্ধতি ও সময়ের বাস্তবতার আলোকে কুরআনকে ব্যাখ্যা করেছেন। তুলনামূলক তাফসির সেই বৈচিত্র্যকে গবেষণার বিষয় করে।


নোবিপ্রবিতে বৃহত্তর বরিশাল স্ট‍ুডেন্ট'স ফোরাম-র নেতৃত্বে সাজিদ-মেহেদী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৪ এএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বৃহত্তর বরিশাল স্ট‍ুডেন্ট'স ফোরাম-র ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাজিদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান। 


নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন এসিসিই বিভাগের মো. হাসান আলী ও সিএসটিই বিভাগের তাসীন ইসলাম ঋজু। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সিয়াম মাহমুদ ও সমাজকর্ম বিভাগের প্রীতম কীর্ত্তনিয়া এবং কৃষি বিভাগের সৈকত বড়াল। এছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন টিএইচএম বিভাগের মো. কাওসার মাহমুদ এবং সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শিক্ষা বিভাগের মুঈন উদ্দিন। 


ফোরামের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এসিসিই বিভাগের অর্নব দাস ও উপ দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ফলিত গণিত বিভাগের সাইদুল ইসলাম সিয়াম। এছাড়া অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মো. মারুফ হোসেন। উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের মো. জাবের। প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সমাজকর্ম বিভাগের নাহিয়ান চৌধুরী। উপ-প্রচার সম্পাদক হয়েছেন বাংলা বিভাগের হামিম। 


আইন সম্পাদক হয়েছেন আইন বিভাগের মো. তানভীর রেসাদ। ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন বিজিই বিভাগের ইবাদুর রহমান। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের আফরিন জান্নাত মুনিহা। 


ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এমবিজি বিভাগের মো. তানভীর হোসেন এবং উপ-ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিএসটিই বিভাগের কার্তিক চন্দ্র পাল। ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের ফেরদৌসি বিনতে হাফিজ এবং উপ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন সিএসটিই বিভাগের সাইমা আক্তার। ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পরিসংখ্যান বিভাগের মো. শাকিল রহমান এবং উপক্রীড়া বিষয় সম্পাদক হয়েছেন ইএসডিএম বিভাগের দেবাঞ্জন সমদ্দার।


এছাড়া আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শিক্ষা বিভাগের উম্মে হাবিবা। উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিজিই বিভাগের মিজানুর রহমান। তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইআইটি বিভাগের আঁখি আজাদ। উপ-তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একই বিভাগের মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আবির। শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ফার্মেসী বিভাগের জিমহা আক্তার। সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের মেহেরুন্নেসা মীম। পরিবেশ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সুরাইয়া তাবাসসুম সেতু। ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ইএসডিএম বিভাগের কামরুল ইসলাম মিথুন। প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইসিই বিভাগের মো. নাজমুল হোসেন। গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফলিত গণিত বিভাগের স্বাক্ষর মুখার্জী। 


নতুন কমিটি নিয়ে সভাপতি মো. সাজিদ তালুকদার বলেন, বৃহত্তর বরিশাল স্টুডেন্ট’স ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের এই সংগঠন হবে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।


সকলের মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে ফোরামকে আরও সুন্দর, সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে চাই। চলুন, আমরা একসাথে স্বপ্ন দেখি, একসাথে এগিয়ে যাই-আমাদের ঐক্যই হোক আমাদের শক্তি, আর আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠুক বৃহত্তর বরিশালের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।


সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান বলেন, বৃহত্তর বরিশাল স্টুডেন্টস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমি ফোরামের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, বড় ভাই-বোনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তারা আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, আমি সেই বিশ্বাসের যথাযথ মূল্য দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে বৃহত্তর বরিশালের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী,কর্মকর্তাসহ সকলকে সঙ্গে নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য বজায় রেখে কাজ করতে চাই। ফোরামের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি বৃহত্তর বরিশালের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।


নতুন কমিটি বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইবাদুর রহমান বলেন, অনেক দিনের স্থবিরতার পর নতুন কমিটি আসায় স্বাভাবিকভাবেই সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। নতুন নেতৃত্ব সেই প্রত্যাশা পূরণে পরিষদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাণবন্ত, কার্যকর ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে—এটাই আমাদের কাম্য।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৮ এএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে( বাকৃবি) নিপীড়নবিরোধী দিবস ও শহীদ আবরার ফাহাদ এর সপ্তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণ ও ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ও শারীরিক নির্যাতন (র‍্যাগিং ও নিপীড়ন) বন্ধের প্রতীক হিসেবে তাদের এ আয়োজন।


বুধবার( ৭ অক্টোবর) বাদ আছর বাকৃবির সেন্ট্রাল মসজিদে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মসজিদ সংলগ্ন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন শাখা ছাত্রশিবির।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, সাথী, কর্মী ও সমর্থকরা।


বাকৃবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেছেন। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের জন্য অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস জোগায়। শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা চাই, কোনো শিক্ষার্থী যেন মতের ভিন্নতার কারণে নিপীড়ন বা হয়রানির শিকার না হন। শহীদ আবরারের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।


উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। গতবছর শহীদ আবরার ফাহাদের ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ ঘোষণা ও তা যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।