যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ পদক্ষেপকে ‘চমৎকার’ হিসেবে আখ্যায়িত এবং এর ফলে তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, আমিরাতের এ সিদ্ধান্তের ফলে তা কমতে পারে। এর প্রভাবে জ্বালানি তেল ও পেট্রলের (গ্যাসোলিন) দামও কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, শেষ পর্যন্ত এটি পেট্রল ও তেলের দাম কমানোর জন্য ভালো একটি উদ্যোগ হবে। সবকিছুই এর মাধ্যমে সস্তায় পাওয়া সম্ভব হবে।’
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে আইনজীবীদের আবেদন হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি আইনজীবীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজের যোগ্যতা অর্জনের জন্য বিদেশি আইনজীবীদের নতুন আবেদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট দীর্ঘ জট কমানো এবং প্রকৃতপক্ষে ব্রিটেনে আইন পেশায় কাজ করতে চান—এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার পেশা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (বিএসবি) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জমে থাকা আবেদনের চাপ কমাতে ‘ট্রান্সফারিং কোয়ালিফায়েড ল’ইয়ার’ (টিকিউএল) কর্মসূচির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
এর ফলে বিদেশি আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের জন্য নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না। তবে ব্রিটেনের অনুমোদিত কোনো ব্যারিস্টার চেম্বারে কাজের প্রস্তাব পেয়ে থাকলে তারা এর আওতামুক্ত থাকবেন। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আইনজীবীদের কাছ থেকে আবেদনের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পর এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বর্তমানে টিকিউএল কর্মসূচিতে জমা পড়া মোট আবেদনের অর্ধেকের বেশি আসছে এই তিন দেশ থেকে। মূলত টিকিউএল এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অন্য দেশের যোগ্য আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে নতুন করে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পান।
দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, গত তিন বছরে টিকিউএল কর্মসূচিতে আবেদনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১-২২ সালে যেখানে ৩২৫টি আবেদন জমা পড়েছিল, ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৪টিতে। এর ফলে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব বেড়েছে।
বিএসবি জানিয়েছে, বিদেশি প্রার্থীরা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি বা চ্যালেঞ্জ জানানোর সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় এই জট আরও বেড়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে টিকিউএলে আবেদনকারীদের অনেকেরই ব্রিটেনে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করার প্রকৃত ইচ্ছা নেই। তাদের অনেকে অন্য দেশেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএসবির মহাপরিচালক ফিল গোল্ডিং বলেন, ‘আমাদের প্রক্রিয়া ও নিয়মে পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে এই ব্যবস্থা তাদের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেয় যারা এই এখতিয়ারের মধ্যে আইন পেশায় কাজ করবেন। একই সঙ্গে এটি বর্তমানে জমে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদন কমাতেও সহায়তা করবে।’
ব্রিটিশ আইনের বিভিন্ন পরীক্ষায় বিদেশি প্রার্থীদের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যেই এই পরিবর্তন আনা হলো। এমনকি কেউ কেউ নিজেদের হয়ে পরীক্ষা দেয়ার জন্য ব্যারিস্টারদের অর্থ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে ‘অনিয়মের’ অভিযোগে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রার্থীদের অনলাইনে পরীক্ষা দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ব্রিটেনের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এরপর পরীক্ষায় প্রতারণার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে পরের বছর সব অনলাইন পরীক্ষা স্থগিত করে বিএসবি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন বিদেশি সব প্রার্থীকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত পরীক্ষাকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।
ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে, বিশেষ করে যারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় কাজ করেন না, তাদের আবেদন কেন এত বেড়েছে—তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে বিএসবি।
তবে কিছু আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে দুটি দেশের আইনি যোগ্যতা অর্জনের সুযোগকে আইনজীবীদের জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে প্রচার করছে। ফলে তারা নিজ দেশেই আইন পেশায় কাজ করলেও যুক্তরাজ্যের যোগ্যতা অর্জনে আগ্রহী হচ্ছেন।
এছাড়া ব্রিটিশ চেম্বারে প্রশিক্ষণকালীন পদ বা চাকরি পাওয়া বিদেশি ব্যারিস্টারদের জন্য ভিসার ব্যবস্থাও করে থাকে বার কাউন্সিল।
ছবি : সংগৃহীত
১ বছরে ২ ঈদ, হজ হয় ১ বার। শৈশব থেকে আমরা এমনই জেনে এসেছি। কিন্তু অচিরেই সেই ধারায় ছেদ পড়তে চলেছে। এমন এক বছর আসছে, যেখানে ২ হজ আর ৩ ঈদের দেখা মিলবে। এই তথ্য জানিয়েছেন সৌদি আরবের জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদ।
এর কারণ হিজরি চান্দ্র বর্ষ ও ইংরেজি সৌর বর্ষের হিসাবের পার্থক্য। হিজরি বছর চাঁদের কলার ওপর নির্ভর করে। এতে দিন থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫। ইংরেজি বছর সূর্যের হিসাবে চলে। এতে দিন থাকে ৩৬৫ বা ৩৬৬। তাই প্রতি বছর হিজরি তারিখ প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।
২০৩৯ সালের শুরুতেই আসবে প্রথম ঈদুল আজহা। তারিখ ৬ জানুয়ারি, হিজরি ১৪৬০ সালের ১০ জিলহজ। এটি হজের শেষ দিন এবং কোরবানির বড় উৎসব। প্রায় ১২ মাস পর চান্দ্র বছরের চক্র আবার ঘুরে আসবে। তখন আরেকটি হজ মৌসুম শুরু হবে। ২৬ ডিসেম্বর হবে দ্বিতীয় ঈদুল আজহা। সেটি হিজরি ১৪৬১ সালের ১০ জিলহজ।
এর মানে, এক সৌর বছরে মক্কায় দুবার হজ হবে। এটি খুবই বিরল। দুই হজেই আরাফার দিন আলাদা করে আসবে। ঈদের আগের এই দিনে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে জমায়েত হয়ে দোয়া করেন।
এই দুই ঈদের মাঝখানে পড়বে ঈদুল ফিতর। এটি ১৯ অক্টোবর হওয়ার কথা। ফলে এক বছরে দুটি কোরবানির ঈদ ও একটি আনন্দের ঈদ মিলিয়ে তিনটি ঈদ হবে।
এই পার্থক্য শুধু হজের মৌসুমে সীমাবদ্ধ নয়। রমজানেও কাছাকাছি সময়ে এমন ঘটনা ঘটবে। ২০৩০ সালে মুসলিমরা একই ইংরেজি বছরে দুটি রমজান পাবেন। একটি শুরু হবে জানুয়ারিতে, অন্যটি ডিসেম্বরে। ৩৩ বছর পর এমন হবে। এর আগে এটি ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে বেশিদিন বাঁচে বাংলাদেশিরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ শুমারিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে ২০২৩ সালে ভারতীয়দের গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর। পাকিস্তানিদের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ২ বছর। আর বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৭ বছর।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মানুষের বেঁচে থাকার সময় আরও বেশি। এ দুটি দেশের গড় আয়ু যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ৫ বছর এবং ৮১ দশমিক ৪ বছর। তবে বেশিদিন বাঁচা মানেই নির্দেশ করে না তারা সুস্থ জীবন-যাপন করেন। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার হার গড় আয়ুর চেয়ে কম।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) নতুন তথ্যটি প্রকাশ করে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি।
এদিকে করোনার আগে বৈশ্বিক গড় আয়ু যা ছিল ২০২৩ সালে এটি প্রায় আগের জায়গায় ফিরে এসেছে। তবে সুস্থভাবে মানুষের বেঁচে থাকার বিষয়টি ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে।
২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৩ বছরে। যা ২০১৯ সালের গড় আয়ু ৭৩ দশমিক ৪ বছরের প্রায় কাছাকাছি। ওই বছরের শেষ থেকে বিশ্বে করোনা মহামারি দেখা দেয় এবং ২০২০ সালে তাণ্ডব চালায়। ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৫ শতাংশে নামে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাটা ডিপার্টমেন্টের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক এ নিয়ে বলেছেন, “জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি গড় আয়ু হওয়া একটি বড় অর্জন। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষ যেন সুস্থ শরীর নিয়ে বেশিদিন বাঁচতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সাধারণ নাগরিকদের ‘মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ’ দেবে দেশটির সেনাবাহিনী।
ইরানি ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি (ডব্লিউএএনএ) জানায়, জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করতে একটি কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করতে যাচ্ছে ইরানি সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিষয়ক উপ-প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আলিয়ান-নেজাদ জানান, ‘জানফাদা’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচিটি আজ রোববার (০৪ অক্টোবর) থেকে রাজধানী তেহরানের তিনটি সুবিধাজনক স্থানে পরিচালিত হবে।
আলিয়ান-নেজাদ বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের ‘মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ’ এবং পরবর্তীতে আরও উন্নত কোর্স প্রদানের জন্য সেনাবাহিনীর চারটি শাখার সদস্যদের বিভিন্ন নির্ধারিত ‘ফিল্ড-গ্যারিসন’ সাইটে মোতায়েন করা হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের এক যুদ্ধবাজ দেশ ইসরায়েল। গাজায় গণহত্যাসহ হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। আর এসব যুদ্ধের জোরে ফুলেফেঁপে উঠেছে দেশটির ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি। গত পাঁচ বছরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। আর সে অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। খবর দ্য প্রিন্টের।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
‘ডিফেন্স ডিভিডেন্ডস অব দ্য আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৮৩০ কোটি ডলার। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সে আয় বেড়ে ২০২৫ সালে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলারে।
আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো। এ তিন দেশই ইসরায়েলের অস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হয়ে উঠেছে। তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কিনেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
২০২২ সালে ইসরায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস আমিরাতের কাছে মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্পাইডার এমআর বিক্রি করে। একই বছর এলবিট সিস্টেমস ও ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজসহ (আইএআই) আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমিরাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি রপ্তানি করে।
শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই দুই পক্ষের সম্পর্ক সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিরক্ষা খাতেও তাদের সহযোগিতা বাড়ছে। আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ইডিজিই ইসরায়েলের অন্তত আটটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলেও এবার ট্রাম্প বলছেন, সেই পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে ইরান। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো আপস করবে না বলে জানিয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি সমাবেশে যোগ দিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এরই মধ্যে অষ্টম মাসে পড়েছে।
ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ‘প্রায় ছেড়েই দিয়েছে’ বলে দাবি করার পাশাপাশি বর্তমানে তেলের দাম কমছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তি রয়েছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প ট্রাম্প বলেন, ‘তেলের দাম কমছে। এখন তেলের দাম কম। বাইডেন প্রশাসনের সময়ের চেয়েও এখন দাম কম। অথচ তারা ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কিছুই করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান, আপনারা জানেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পরিকল্পনাই প্রায় ছেড়ে দিয়েছে।’
অবশ্য পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকার করে আসছে ইরান। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে আনার প্রস্তাবও দেন তিনি।
তবে ইরান বলেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস তারা করবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কর্মসূচির কাঠামোগত কোনো পরিবর্তনও করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।