• প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পরও ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের শত্রুতামূলক নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও তেহরানের প্রতি দেশটির নীতির মৌলিক পরিবর্তন হবে না।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রকাশিত খামেনির এক বার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘দলীয় মেরুকরণের পরিবর্তন’ ইরানি জনগণের প্রতি দেশটির শত্রুতা থেকে ওয়াশিংটনকে বিরত রাখতে পারবে না। 


খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জনগণের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চায়। তার দাবি, নিজেদের তৈরি করা এক কেলেঙ্কারির পর যুক্তরাষ্ট্রের পতন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশটির পতনের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়কে ইরানের নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের পরাজয়ের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন। তাদের বক্তব্য, এই নির্বাচনের ফল ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।তবে খামেনির বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ইরানের প্রতি দেশটির নীতিতে পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখছে না তেহরান। অর্থাৎ, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনে রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেও ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধ কমবে, এমন প্রত্যাশা করছে না দেশটির নেতৃত্ব।



সর্বশেষ সব খবর

আবদুল আল-সাইদ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী আবদুল আল–সাইদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে যাচ্ছেন তিনি।


আল–সাইদ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে দুই লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন।


মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইদ গত নভেম্বরে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সহযোগীরা জোর দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলন, আল-সাইদের মুসলিম পরিচয়, ইসরায়েল ইস্যুতে অবস্থান এবং প্রগতিশীল নীতিগুলো তাদের সম্প্রদায়গুলোকে ঝুঁকিতে ফেলবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।


তবে এ প্রচারণায় কান দেননি মিশিগানের ভোটারেরা

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।


দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত। আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব। আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার কোনো পথ বের করতে পারব।’


নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ট্রাম্প দায়ী করেছেন নিজের নাম ব্যালটে না থাকাকে। অর্থাৎ, তিনি নিজে প্রার্থী না হওয়ায় দলের প্রার্থীরা প্রত্যাশিত ফল পাননি বলে মনে করেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, ‘ব্যালটে আমি ছিলাম না। যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতাম!’নির্বাচনে নিজের সমর্থন দেওয়া পরাজিত প্রার্থীদের নিয়েও কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামের পরাজয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘দেখলাম ডারলিন হেরে গেছেন। বাহ, এটা তো অবিশ্বাস্য!’


এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি পদে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ; দুটির নিয়ন্ত্রণই রিপাবলিকানদের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ। সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সাধারণত আইন প্রণয়নের প্রস্তাব প্রথমে এই কক্ষে উত্থাপন ও আলোচনা করা হয়, পরে তা সিনেটে পাঠানো হয়।


সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, বিবিসি

সর্বশেষ সব খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৪ পিএম

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ১৯ নভেম্বর। গতকাল মঙ্গলবার আইসিজে এ তথ্য জানিয়েছে।


পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে এ মামলা করেছিল।


আইসিজে জানিয়েছে, ১৯ নভেম্বর গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টায় বিচারকেরা রায় পড়া শুরু করবেন।


মামলায় গাম্বিয়া অভিযোগ করেছিল, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান গণহত্যার শামিল ছিল। ওই অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।


রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ওই অভিযানে হত্যা, ব্যাপক ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধান কমিশন বলেছে, ওই অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ সংঘটিত হয়েছিল।


তবে মিয়ানমার গণহত্যার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বৈধভাবে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।


আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে করা ওই মামলায় এক দশকের বেশি সময় পর রায় হতে যাচ্ছে। এ ধরনের মামলায় আদালতের ইতিহাসে এটি হবে তৃতীয় রায়।


এই রায়ের প্রভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে করা অন্য মামলাগুলোর ওপরও পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলা। ইসরায়েল অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি বছরের শেষের পর ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র।


টেলিফোনে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে বিবি (বেনিয়ামিন) নেতানিয়াহু এবং আমি একটি চুক্তি করেছি। আমরা ইসরায়েলকে এক বছরে ৪০০ কোটি ডলার দিই। আমরা কয়েক মাস আগেই চুক্তি করেছি যে আমরা এটি বন্ধ করে দিচ্ছি।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘এতে তাদের কোনো সমস্যা নেই, কারণ তারা এখন খুব সফল একটি দেশ হয়ে উঠেছে। তাদের এই টাকার দরকার নেই। আর আমরাও ইসরায়েলকে আর টাকা দেব না।’


ট্রাম্প বলেন, ‘কাজেই এটা শুধুই অর্থের অপচয়। কারণ, আমরা আগেই একমত হয়েছি যে এই বছরের শেষ থেকে আমরা ইসরায়েলকে আর টাকা দিচ্ছি না।’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাদের প্রয়োজন হলে আমরা ইসরায়েলকে সাহায্য করব। তারা একটি দারুণ মিত্রদেশ। আর আমরাও সবার চেয়ে সেরা মিত্র।’


যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা দেয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী, এই তহবিলের বেশির ভাগ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র কিনতেই খরচ করতে হয়।


ট্রাম্পের এই ঘোষণা প্রায় পুরোপুরি মিথ্যা বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরের আগে শেষ হবে না। এই চুক্তির আওতায় ইহুদি রাষ্ট্রটি বছরে ৩৮০ কোটি ডলার পেয়ে থাকে।


নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এবং বারবার ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের কথা বলেছেন ঠিকই। তবে তিনি আগামী দশকে ধাপে ধাপে এটি করার কথা বলেছেন, ট্রাম্পের মতো হঠাৎ করেই সব বন্ধের কথা বলেননি।


প্রেসিডেন্ট তাঁর এই ঘোষণাকে ঠিক প্রমাণ করতে জোর দিয়ে বলেন যে ইসরায়েল একটি ভালো মিত্র এবং তারা এই নীতিকে সমর্থন করে। কিন্তু কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সকালে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের কাছেই ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি কতটা অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সহায়তা বন্ধের আকস্মিক ঘোষণায় ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ে চরম বিস্ময়।


ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বছরের শেষে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণায় তাঁরা অবাক হয়েছেন।


সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা জানিয়েছে, একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সহায়তা বন্ধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি।’ ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয় এটি বন্ধের ইচ্ছার কথা জানত। কিন্তু হঠাৎ করেই এখনই এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে আমরা অবাক হয়েছি।’


সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নাম প্রকাশ না করে শীর্ষস্থানীয় একজন ইসরায়েলি  কর্মকর্তার কথা তুলে ধরেছে। তিনি বলেছেন, এই ঘোষণার কারণে অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। 


তিনি বলেন, ‘দুই বছরের সহায়তা ছেড়ে দেওয়ার মানে হলো ৮০০ কোটি ডলার হারানো। আমরা এই অর্থ কোথায় পাব? এটা পরিষ্কার—নাগরিকদের করের টাকা থেকে নিতে হবে।’


ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে শিগগিরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে


ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের উল্লাস

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। ভোটের ফলাফলও আসতে শুরু করেছে। দেশটির কংগ্রেসের দুটি কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট- উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। 


জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধসের কারণে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।  ১০০ আসনের সিনেটে এবার দুটি শূন্য আসনসহ ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। 


দেশটির স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এর মধ্যে দুটিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এরই মধ্যে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে সাতটি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এখন পর্যন্ত কোনো আসনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জয়লাভের খবর পাওয়া যায়নি।  


সিবিএস নিউজের এক পূর্বাভাস জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিচ্ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হবে এবং রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন পাবে।


সবার মনোযোগ টেক্সাস, মিশিগান ও মেইন- এই তিনটি অঙ্গরাজ্যের দিকে। নির্বাচনে এই তিনটি অঙ্গরাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।  টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকে গত ৩০ বছরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটে যাননি, কিন্তু সাবেক স্কুল শিক্ষক জেমস টালারিকো সেই ইতিহাস বদলাতে চাইছেন। ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।


মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইদ এবং রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে লড়াই মনোযোগ কেড়েছে। যেখানে রোববার শেষ মুহূর্তে এল-সাইদের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারির প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রাথমিক ভোট গণনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের হিসাবে তিনি পেয়েছেন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৭২ হাজার ৬৪২টি ভোট গণনা করা হয়েছে। যা মোট ভোটের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ। এখনও প্রায় ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ভোট গণনা বাকি রয়েছে।


প্রাথমিক ফলে আবদুল এল-সাইয়েদ পেয়েছেন ৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৪৬ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্সের ঝুলিতে রয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৪ ভোট। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখিত লিডিয়া ক্রিস্টেনসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৯১ ভোট। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল-সাইয়েদকে হারাতে হলে মাইক রজার্সকে বাকি ভোটের অন্তত ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ পেতে হবে। 


মেইন অঙ্গরাজ্যের বর্তমান সিনেটর সুসান কলিন্স একজন রিপাবলিকান, যিনি ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।


ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য থাকা এই অঙ্গরাজ্যে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াই করছেন তিনি, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের এসব আসনের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। 


বর্তমানে দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছে। ভোট গণনা শুরুর পর প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করেছে। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। 


সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যের ফলাফল। এসব জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তবে ভোট গণনা শেষ হলেই সব আসনের ফলাফল দ্রুত জানা যাবে, এমন নয়। 


অঙ্গরাজ্যভেদে ভোট গণনার পদ্ধতি ও গতি আলাদা। কোথাও ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ ভোট গণনা হয়ে যায়। আবার কোথাও ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যালট গণনা করতে বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যে ফলাফল জানতে দেরি হতে পারে। 


প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতেও সময় লাগে। এ কারণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

পারমাণবিক বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে নাগরিকদের করণীয় বিষয়ে পাঁচটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হয়েছে। এতে বিস্ফোরণের সময় কীভাবে আশ্রয় নিতে হবে, তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে এলে কী করতে হবে এবং কখন আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জন্য প্রচারিত নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা, আশ্রয় গ্রহণ এবং তেজস্ক্রিয় দূষণ থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।


নির্দেশনাগুলো হলো:


বিস্ফোরণের ঝলকের দিকে তাকাবেন না, আশ্রয় নিন


পারমাণবিক বিস্ফোরণের তীব্র আলোর দিকে সরাসরি তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটলে দ্রুত শক্ত কোনো প্রতিবন্ধকের আড়ালে আশ্রয় নিতে হবে। বিস্ফোরণের তরঙ্গ পার না হওয়া পর্যন্ত উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।



বিস্ফোরণের পর নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করুন


বিস্ফোরণের তরঙ্গ চলে যাওয়ার পর নিকটস্থ ভবনে প্রবেশ করতে হবে। জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। বিস্ফোরণের পর বাইরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখা বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গাড়িকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়েছে।


তেজস্ক্রিয় কণা দূর করতে শরীরের খোলা অংশ ধুয়ে ফেলুন


তেজস্ক্রিয় ধুলার সংস্পর্শে এলে কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে শরীরের খোলা অংশ ধুয়ে ফেলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কন্ডিশনার ছাড়া সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। গোসল করা সম্ভব না হলে পানি বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ, হাত ও শরীরের অন্যান্য খোলা অংশ পরিষ্কার করতে হবে।


অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলে থাকুন


পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।


সরে যাওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন


২৪ ঘণ্টা পার হলেই আশপাশের পরিবেশ নিরাপদ হয়ে গেছে, এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না। নিরাপদে সরে যাওয়ার পথ সম্পর্কে সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে হবে। কোনো ভবনের ভেতরে আগুন লাগলে বা ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলে অন্য নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।


নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক সতর্কতা, উপযুক্ত আশ্রয় গ্রহণ এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপদে সরে যাওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।


সূত্র: এনডিটিভি

সর্বশেষ সব খবর