ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১০ মে, ২০২৬, সময় : ৮:৫৬ এএম

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফের কাছে নোঙর করা হান্টাভাইরাস-আক্রান্ত একটি প্রমোদতরী থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে স্পেন। 


স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান ‘স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে’ এবং এমএস হন্ডিয়াস নামের ওই প্রমোদতরীর সব যাত্রীর শরীরেই এখনও কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। প্রথম উদ্ধার অভিযানের সময় একটি লম্বা ক্যামেরার লেন্সে দেখা যায়, যাত্রীরা জাহাজের ডেকে বা জানালার কাছে সাদা মেডিকেল মাস্ক পরে ঘোরাঘুরি করছেন।


প্রথম উদ্ধারকারী নৌকাটিতে বেশ কয়েকজন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসেছিলেন এবং ভূমির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ভিডিও ও ছবি তুলছিলেন, যেখানে সাদা সুরক্ষা পোশাক পরা কর্মকর্তারা তাদের সাথে দেখা করেন।


জাতীয়তা অনুযায়ী তাদের দলে ভাগ করা হবে এবং ছোট নৌকায় করে উপকূলে আনা হবে। স্থানীয় বিমানবন্দরে চার্টার্ড বিমান প্রস্তুত থাকবে, যাতে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়।


বিমানবন্দরের টারম্যাকে থাকা যাত্রীদের ফুটেজে দেখা গেছে, এই কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীরা যাত্রীদের পোশাকের ওপর সাদা হ্যাজম্যাট স্যুট পরিয়ে দিচ্ছেন এবং বিমানে ওঠার আগে বিমানের সিঁড়ির পাশেই তাদের ওপর পানি ছিটিয়ে দিচ্ছেন।


সর্বপ্রথম ১৪ জন স্পেনীয় নাগরিক জাহাজ থেকে নামবেন। এরপর ডাচ, গ্রিক এবং জার্মান যাত্রীসহ নেদারল্যান্ডসের ফ্লাইটে যারা যাবেন তারা এবং ক্রুদের একটি অংশ নামবেন। 


এরপর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য ফ্লাইটগুলো ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সর্বশেষ ফ্লাইটটি সোমবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাহাজে প্রথম এক যাত্রীর মৃত্যুর এক মাস পর আজ রোববার ভোরে হন্ডিয়াস নামের প্রমোদতরীটি গ্রানাদিয়া বন্দরে প্রবেশ করে।


সূর্য ওঠার পর দেখা যায়, জাহাজটি উপকূলের কাছাকাছি নোঙর করা আছে। সামরিক পুলিশের নৌযান টহল দিচ্ছে এবং ১০০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ক্রুকে নামতে সাহায্য করার জন্য উপকূলে একটি বড় কার্যক্রম চলছে।


আজ স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় ৬টা) একটি মেডিকেল টিম সবার শরীরে ভাইরাসের কোনো লক্ষণ আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে জাহাজে ওঠে।


জাহাজটিকে গ্রহণ করার জন্য সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এটিকে সরাসরি তীরে ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি: এটি দ্বীপের কাছাকাছি আসতেই এর চারপাশে এক নটিক্যাল মাইলের একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।


স্থানান্তরের সময় হন্ডিয়াসের কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তেনেরিফের ক্যান্ডেলেরিয়া হাসপাতালে কয়েক ডজন নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একটি কঠোর আইসোলেশন সুবিধায় সংক্রামক রোগ মোকাবেলার জন্য টেস্টিং কিট ও ভেন্টিলেটরসহ সম্পূর্ণ সজ্জিত একটি শয্যা রয়েছে।


ওই ইউনিটের প্রধান নিবিড় পরিচর্যা চিকিৎসক মার মার্টিন আমাকে বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ সেখানে কর্মীদের জন্য ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক প্রতিরক্ষামূলক স্যুট, মাস্ক এবং গ্লাভস মজুত করে রাখা হয়েছে। মার্টিন আরও বলেন, আমরা আগে কখনো [হান্টাভাইরাস] দেখিনি। তবে এটি একটি ভাইরাস, যার কিছু জটিলতা রয়েছে, যেমনটা আমরা প্রতিদিন সামলে থাকি। এজন্য আমরা পুরোপুরি প্রশিক্ষিত।


এই ভাইরাসের বিরল আন্দিজ স্ট্রেইনের বিস্তার রোধে গৃহীত জটিল অভিযানটিকে স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘অভূতপূর্ব’ বলে বর্ণনা করেছেন। 


গতকাল শনিবার তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এর সংক্রমণের ঝুঁকি কম। আমরা বিশ্বাস করি যে, আতঙ্ক, ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তি জনস্বাস্থ্য রক্ষার মূল নীতির পরিপন্থি।


গতকাল তেনেরিফের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এই শিল্প বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। স্পেনের সামরিক পুলিশ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দল উভয়ই সেখানে বড় অভ্যর্থনা তাঁবু স্থাপন করেছে এবং সমুদ্রের পাড়ে যাওয়ার পথটি সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


জাহাজ ছেড়ে যাওয়া স্পেনীয় নাগরিকদের বিমানে করে মাদ্রিদে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে তাদের গোমেজ উলা সামরিক হাসপাতালে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ আইসোলেশনে থাকাটা বেশ কষ্টকর হবে। এই ভাইরাসের সুপ্তাবস্থা নয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে, এবং স্পেন বা অন্য কোথাও লোকজনকে কতদিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।


যাত্রীদের নামানোর তদারকি করতে বর্তমানে তেনেরিফে থাকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস, এই প্রাদুর্ভাবের প্রতি কর্তৃপক্ষের ‘কঠিন ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার’ প্রশংসা করেছেন।


এরসঙ্গে আর্জেন্টিনার একেবারে দক্ষিণাঞ্চলের একটি ল্যান্ডফিল সাইটের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা পাখি পর্যবেক্ষকদের কাছে জনপ্রিয়। ইঁদুরের মাধ্যমে সেখানে ভাইরাসটি ছড়ায় এবং মানুষ থেকে মানুষের সংক্রমণ হওয়ার ঘটনা বেশ বিরল, তবে প্রমোদতরীর তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ডব্লিউএইচও প্রধান উদ্বিগ্ন স্প্যানিশদের অনুরোধ করেছেন যেন তারা উদ্ধার অভিযানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর আস্থা রাখেন।


তিনি স্বীকার করেছেন, ‘আপনাদের উদ্বেগ যৌক্তিক। কারণ, কোভিডের অভিজ্ঞতার ওই ট্রমা এখনও আমাদের মনে আছে।’ 


তবে তিনি যোগ করেছেন যে, ‘ভাইরাসটি কীভাবে কাজ করে এবং যেকোনো সমস্যা এড়াতে স্পেন সরকার যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে’ তার কারণে এখন এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম।


হন্ডিয়াসকে তাদের দ্বীপে ঘুরিয়ে আনা হচ্ছে জানতে পেরে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আশঙ্কা করে শুক্রবার বন্দর শ্রমিকদের একটি দল স্থানীয় পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হয়ে জোরদার প্রতিবাদ জানায়।


এরপর গতকাল অনেক রাতে সাবধানে সাজানো সব পরিকল্পনা মুহূর্তের জন্য বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে, যখন ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো ক্লাভিজো বলেন যে, একদিনের মধ্যে যাত্রী নামানোর কাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জাহাজটিকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেবেন না। পরবর্তীতে মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়।


ক্লাভিজো এরপর টিভিতে দাবি করেন যে হান্টাভাইরাস বহনকারী একটি ইঁদুর ‘মাঝরাতে জাহাজ থেকে নেমে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।’ এরপর স্বাস্থ্য সচিবকে সামনে এসে জোর দিয়ে বলতে হয় যে এ ধরনের কোনো দৃশ্যপটের ‘ঝুঁকি নেই’।


মুখ দেখার জন্য স্বচ্ছ প্যানেলযুক্ত একটি র‍্যাকে দুটি ধূসর মাস্ক রাখা আছে। আইসোলেশন ইউনিটে অপেক্ষমাণ ধূসর মাস্ক। সামগ্রিকভাবে, এই দ্বীপের মানুষ আশ্বস্ত বলে মনে হচ্ছে যে ঝুঁকি কম।


তেনেরিফের রাজধানী সান্তা ক্রুজে নিজের সন্তানের সঙ্গে হাঁটতে বের হওয়া জেনিফার নামের এক নারী আমাকে বলেন, ‘অবশ্যই ভাইরাসটি বিপজ্জনক। তবে তারা বলছে, এটি সংক্রমিত হওয়ার জন্য খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে আসতে হবে। আমরা যদি সতর্ক থাকি, তবে আশা করি এটি খুব বেশি গুরুতর হবে না।’


সবাই তেনেরিফে হন্ডিয়াস থেকে নামবেন না


প্রমোদতরীটিকে নেদারল্যান্ডসে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রায় ৩০ জন ক্রু সদস্য জাহাজে থেকে যাবেন। তবে বেশিরভাগ মানুষের জন্যই অবশেষে সমুদ্রে কাটানো কয়েক সপ্তাহের ভয় ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এখন শুরু হবে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইন।




ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো। ছবি: বিবিসি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ এএম

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জিম্বাবুয়ের আলোচিত ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো ও তার স্ত্রী লুসি মুতেকে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্বে মারোনদেরা এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছয়জনের মধ্যে দুজন পাইলট ছিলেন।


পরিবারের পক্ষ থেকে হারবার্ট চিভায়ো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।



সরকারি মুখপাত্র নিক মাংগোয়ানা জানান, হেলিকপ্টারটিতে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তিনজন যাত্রী ও দুজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কেউ বেঁচে নেই বলেও জানান তিনি।


বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চিভায়ো ও তার স্ত্রী চিকোম্বার গান্দামি এলাকায় নির্মাণাধীন তাদের গ্রামীণ বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর কুডেঙ্গা ফার্ম এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) পরিবহনমন্ত্রী ফেলিক্স মোহোনার নেতৃত্বে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছেন।


প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।


৪৩ বছর বয়সী চিভায়ো ‘স্যার উইকনেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। সরকারি বিভিন্ন বড় চুক্তির মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক পরিচিতি গড়ে তোলেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।


সরকারি চুক্তি নিয়ে অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছিল। তবে তিনি বরাবরই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।


চিভায়োর মৃত্যুতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া শোক প্রকাশ করেছেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোও তাকে ‘প্রিয় বন্ধু’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি প্রিন্স সালমান। ছবি : গেটি ইমেজেস

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’


এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’


সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্ব ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা চেয়েছিল কি না এবং ট্রাম্প তা কেন প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।


ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।


নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সূত্র : সিবিএস নিউজ


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত সীমিত হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে; সম্প্রতি পেন্টাগনের এমন একটি প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা কম।’ তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি মাত্রায় অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।


ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন মাত্রায় মজুত করছি, যা এর আগে কখনো করিনি।’


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনার সময় ব্যাপক গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


তবে ওই প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।


যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কত অর্থ ব্যয় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এর খরচ ভেনেজুয়েলায় এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র যত অর্থ আয় করে, তার চেয়েও কম হবে।


ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে। ওই অভিযানে গোলাবারুদের ব্যবহার মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।


সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।


সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’


এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’


সূত্র : টাইম ম্যাগাজিন


ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৬ এএম

ইরানকে নতজানু করার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের জন্য ইরান উন্মুক্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক খাতের ব্যক্তিদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।


পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে আমাদের সমাজের অধিকার রক্ষা করি। আমরা কখনো সংলাপ থেকে পালিয়ে যাইনি এবং ভবিষ্যতেও যাব না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও তিনবার আমাদের দেশে হামলা চালিয়েছে।’


‘চুক্তি’ বলতে পেজেশকিয়ান সম্ভবত জুনের মাঝামাঝি সময়ে তার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেছেন।


ওই সমঝোতার মাধ্যমে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে। ইরানের অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখে সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে।


পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘শত্রুরা ভেবেছিল, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতের পর জনগণ, কমান্ডার ও বিজ্ঞানীরা ভেঙে পড়বে। কিন্তু আমাদের জাতীয় ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং সংহতি আরও বেড়েছে।’


তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও শাহাদাতের মাধ্যমে আমাদের নতজানু করার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।’


সূত্র : সিবিএস নিউজ


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরোনো ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৮ পিএম

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি সমর্থন দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।


ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।


নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের একদিন আগে নেতানিয়াহু তাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং দিয়েছিলেন। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন নেতানিয়াহু।


সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ এবং লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: আলজাজিরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৩ পিএম

ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় তিনি ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকিও দেন।


বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো সামরিক পদক্ষেপ নেবে।


ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা তাদের উড়িয়ে দেব, অথবা একটি চুক্তি করব।’


তিনি আরও বলেন, ‘সময় এসে যাচ্ছে। যে কোনোভাবেই হোক, বিষয়টি খুব শিগগির শেষ হবে।’


ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এবং সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


সূত্র: আলজাজিরা