ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ পিএম

দক্ষিণ মরক্কোর উপকূলীয় শহর ইমসোয়ানের একটি সার্ফশপে (সার্ফিংয়ের সরঞ্জাম বিক্রির দোকান) কাজ করেন ২৬ বছর বয়সী হামজা (ছদ্মনাম)। দোকানে বসে মুঠোফোনে ইনস্টাগ্রাম দেখছিলেন তিনি। চোখের সামনে ভেসে উঠছিল শৈশবের বন্ধুদের ছবি। 


গত সেপ্টেম্বরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাছের ইউরোপের দেশ স্পেনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। দোকানের বাইরে তখন সার্ফিং শেষে ফিরছিলেন ক্লান্ত পর্যটকেরা। পাশেই বিলাসবহুল একটি বুটিক হোটেল, যার বেশির ভাগ অতিথিই তরুণ ইউরোপীয় সার্ফার।


হামজা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘স্পেনে যেতে গিয়ে আমার শৈশবের বন্ধুরা মারা যেতে পারত। তারপরও তাঁদের কাছে সেই ঝুঁকি নেওয়াটা সার্থক মনে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যেসব ছেলের সঙ্গে আমি বড় হয়েছি, তাঁদের অনেকেই দারিদ্র্যের এক অন্তহীন চক্রে আটকে পড়েছেন। যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।’


সেপ্টেম্বরে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় প্রবেশের আশায় মরক্কোর প্রায় চার হাজার তরুণ এবং সাবসাহারা আফ্রিকার কয়েকজন অভিবাসী সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ওই ঘটনার কথাই বলছিলেন হামজা। ইউরোপে ভালো জীবনের স্বপ্নে যাত্রা করা ওই মানুষের ভিড়ে ছিলেন তাঁর শৈশবের ছয় বন্ধুও।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেউতায় প্রবেশের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ার পর এই তরুণেরা ৫০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে স্পেনের ওই স্বায়ত্তশাসিত শহরের সীমান্তসংলগ্ন জনপদ বেলিউনেশে পৌঁছান।


উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতা ও মেলিইয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একমাত্র আফ্রিকান স্থলসীমান্ত। উন্নত জীবনের আশায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা সেখানে প্রায়ই দেখা যায়।


মরক্কো কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর দেশটির বিভিন্ন শহর থেকে আসা তিন হাজার মানুষ সীমান্তের বেড়া টপকে সেউতায় ঢোকার চেষ্টা করার সময় আটক হন। এ উদ্যোগের আয়োজনে জড়িত থাকার সন্দেহে প্রায় ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে কয়েকজন আলজেরীয় কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে মরক্কো। তবে আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম সে অভিযোগ অস্বীকার করে।


ঘটনার সময় মরক্কোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে মরক্কোর ঐতিহাসিক শহর তেতোয়ানের সরকারি কৌঁসুলি ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন।


‘মরক্কোতে জীবন যেন বৃথা’


সীমান্ত থেকে যাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই শত শত মানুষের বিপরীতে হামজার বন্ধুরা ছিলেন সেউতায় পৌঁছাতে সক্ষম হওয়া হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যে।


হামজা বলেন, ‘আমার বন্ধুরা এখন কেমন আছে, আমি জানি না। তারা খুব একটা কিছু বলে না। সম্ভবত কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ার ভয়ে।’


এটাই প্রথম নয়। এর আগেও ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন হামজার শৈশবের বন্ধুরা।


২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হামজার নিজ শহর এল জাদিদা থেকে ১৭ তরুণ স্পেনে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বের হন। আটলান্টিক উপকূলের এ বন্দরনগরী কাসাব্লাঙ্কার কাছাকাছি। ওই সময় তাঁরা নৌকায় করে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছান।


মুঠোফোনে সেই বন্ধুদের একজনের পাঠানো একটি বার্তা দেখান হামজা। বর্তমানে তিনি আইবেরীয় উপদ্বীপে বসবাস করছেন। হামজা বলেন, ‘ইনস্টাগ্রামে এটিই তার সর্বশেষ পোস্ট। দেখে মনে হচ্ছে সে যেন ছুটি কাটাচ্ছে। কিন্তু আমি জানি, স্পেনে তার জীবন মোটেও সহজ নয়।’


ভিডিওতে দেখা যায়, হামজার সেই বন্ধু-যিনি একজন ফুটবলার-সমুদ্রসৈকতের কাছের একটি রৌদ্রোজ্জ্বল উন্মুক্ত চত্বরে বসে পানীয় পান করছেন। পেছনে বাজছে প্রাণবন্ত সংগীত।


হামজা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘ওর প্রতিভা আছে। স্পেনে সুযোগ পাওয়ার আশায় আছে। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এখন পর্যন্ত সব ক্লাবই তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে।’


হোটেলের সার্ফিং পরিবেশের সঙ্গে মানানসই পোশাক পরা হামজা সেউতায় আটকে পড়া তাঁর ছয় বন্ধুর ভবিষ্যৎ নিয়ে মিশ্র অনুভূতির কথা জানান।


ভালো বেতন, শিক্ষিত মা–বাবা এবং ভূতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকার কারণে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার কথা হামজা কখনো ভাবেননি। তবে তাঁর বন্ধুরা কেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তিনি বুঝতে পারেন।


হামজা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা দেখে ইউরোপের মানুষের জীবন কেমন। তাদের কারও কারও মনে হয়, মরক্কোতে থেকে তারা শুধু জীবনটাই নষ্ট করছে। হয়তো এটাই তাদের জন্য নতুন একটি সুযোগ।’


টিকটক–ইনস্টাগ্রামে ইউরোপ–যাত্রার স্বপ্ন ভাগাভাগি


সেউতার ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভাইরাল প্রবণতার কথাও উঠে আসে হামজার সঙ্গে আলাপে। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে বহু তরুণ নিজেদের ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন ও যাত্রার গল্প ভাগাভাগি করছিলেন।


এসব পোস্টে প্রায়ই ব্যবহার করা হতো ‘হাররাগা’ শব্দটি। উত্তর আফ্রিকার কথ্য আরবি থেকে আসা এ শব্দের অর্থ হলো পরিচয় গোপন রাখতে অবৈধভাবে অভিবাসনের আগে নিজের পরিচয়পত্র পুড়িয়ে ফেলা মানুষ।


মরক্কোর অভিবাসনবিষয়ক পরামর্শক ও গবেষক আলী জুবেইদি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘অভিবাসীদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা ছড়াতে শুরু করল, তখন আমি ভেবেছিলাম, এটি মজা। পরে বুঝলাম, বিষয়টি সত্যি।’


আলী জুবেইদির মতে, গত সেপ্টেম্বরে যা ঘটেছিল, তা ২০২১ সালের গণ–অভিবাসনের চেষ্টার তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। ২০২১ সালে আট হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কেউ সীমান্তের দেয়াল টপকে, কেউ আবার মরক্কোর সৈকত থেকে সাঁতরে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।


ওই সময় পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে মাদ্রিদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মরক্কো কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে সীমান্তে যেতে দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল স্পেন।


কিন্তু গত সেপ্টেম্বরের চিত্র ছিল ভিন্ন। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নিজেরাই সংগঠিত হয়েছিলেন মরক্কোর তরুণেরা। এ ক্ষেত্রে মানব পাচারকারী বা দালালদের কোনো ভূমিকা ছিল না।


এর আগে সীমান্ত পার হওয়ার বেশির ভাগ চেষ্টাই করতেন সাবসাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা। কিন্তু সেপ্টেম্বরে সেউতায় যাওয়ার চেষ্টাকারীদের বড় অংশই ছিলেন মরক্কোর নাগরিক। জুবেইদির ভাষ্য, এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পরিচিতিও ছিল ভিন্ন।


জুবেইদি বলেন, ‘সাধারণত যাঁরা অবৈধভাবে অভিবাসনের চেষ্টা করেন, তাঁরা মরক্কোর তরুণ, দীর্ঘদিন রাস্তায় থাকছেন, কাজ নেই, পরিবারের সহায়তা পান না—এমন সব ব্যক্তি। কিন্তু সেপ্টেম্বরে আমরা এমন অনেককে দেখেছি, যাঁদের চাকরিবাকরি আছে ও মাসে ৪–৫ হাজার দিরহাম (প্রায় ৪৫০ মার্কিন ডলার) আয়ও করেন।’


জুবেইদির মতে, এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ ছিল হতাশা ও অসন্তোষ।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি ও বাস্তবতায় বিপুল ফারাক


হামজার জন্মশহরের বাসিন্দাদের কাছে নিজ দেশ মরক্কো ছেড়ে বিদেশে যাওয়া এক বড় স্বপ্ন। এর পেছনেও রয়েছে একই কারণ। হামজা বলেন, এখানকার তরুণদের আলোচনার মূল বিষয়ই বিদেশে যাওয়া।


ফোনে আরও কিছু পোস্ট দেখান হামজা। সেখানে সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে পারা মানুষদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ স্পেনে ঢোকার জন্য মানব পাচারকারীদের অর্থ দিতে বছরের পর বছর কাজ করেছেন।


এ সময় কথোপকথনে যোগ দেন হামজার এক বন্ধু। তিনি বলেন, ‘আমি এমন মানুষকে চিনি, যাঁরা মরক্কো থেকে সেউতার সাত কিলোমিটার দূরত্ব সাঁতরে পাড়ি দেওয়ার জন্য মাসের পর মাস অনুশীলন করেছেন।’


ইউরোপে যেতে সফল হওয়া ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। সেখানে ঐতিহাসিক স্থাপনার সামনে তোলা সেলফির পাশাপাশি দেখা যায় পার্টির নানা ভিডিও।


তবে হামজা জানেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা সেই জীবনের সঙ্গে বাস্তবতার বড় ফারাক রয়েছে। তিনি বলেন, দেখলে মনে হয়, সবাই জীবনের সেরা সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা তো তাঁদের রাস্তায় ঘুমানোর ছবিগুলো পোস্ট করেন না।


সেউতা সীমান্তের কোল ঘেঁষে থাকা এমদিক-ফেনিদেক প্রদেশের তরুণদের কাছে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্নটা একেবারে হাতের নাগালের বিষয় ছিল। মরক্কোর তাঞ্জার-তেতোয়ান অঞ্চলে বসবাসকারী বাসিন্দাদের এক বড় অংশই এভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছে।


কোভিড-১৯ মহামারির পর সীমান্ত–বাণিজ্য ও সীমান্ত পেরিয়ে কর্মসংস্থানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরে স্পেনের সঙ্গে মরক্কোর কূটনৈতিক টানাপোড়েনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এতে ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন।


অস্থায়ী হিসেবে শুরু হওয়া এসব বিধিনিষেধ পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও মরক্কোর মধ্যে হওয়া বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়। ২০২১ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অভিবাসন ঠেকানো এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদারের বিনিময়ে মরক্কোকে ৫০ কোটি ইউরো দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ব্রাসেলস।


মরক্কোর সঙ্গে এ সহযোগিতা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুরূপ চুক্তিগুলো মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরণার্থীদের ইউরোপে পৌঁছানো ঠেকাতে ইইউ জেনেশুনেই মরক্কোসহ তৃতীয় দেশগুলোকে সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে ফেলেছে।


২০২২ সালের জুনে স্পেনের মেলিইয়া শহরের সীমান্তে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনাকে এসব নীতির ক্ষতিকর প্রভাবের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে উত্তেজনার জেরে ওই ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হন।


এসব নীতির মানবিক মূল্য সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে ফেনিদেকে। আগে প্রতিদিন হাজারো মরক্কোর বাসিন্দা কাজের জন্য সেউতায় যাতায়াত করতেন। সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকাটিতে বেকারত্ব বেড়ে যায়। গত পাঁচ বছরে ফেনিদেকের মানুষের আয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।


‘সোজা পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলাম’


এমদিক–ফেনিদেক প্রদেশেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা ১৭ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী বুশরা আবজাইউর মতে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির পর তৈরি হওয়া হতাশা মানুষকে ইউরোপে যাওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে।


মিডল ইস্ট আইকে এই স্কুলছাত্রী বলেন, ‘মরক্কোতে তরুণদের পরিস্থিতি খুব কঠিন। আমার আশপাশে যাদের দেখি, প্রায় সবাই বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।’


বুশরার ভাই ২০২১ সালের গণ–অভিবাসনের সময় মরক্কো ছেড়েছিলেন। চার বছর পরও স্পেনে টিকে থাকার সংগ্রাম করছিলেন তিনি। বহুবার তাঁকে রাস্তায় রাত কাটাতে হয়েছে। তারপরও তাঁর তথাকথিত ‘সফলতার গল্প’ অনুপ্রাণিত করেছে বুশরার এক চাচাতো ভাইকে, যিনি গত সেপ্টেম্বরে সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা করেন।


এখন সেউতার একটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ১৭ বছর বয়সী ইব্রাহিম (ছদ্মনাম) জানায়, সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আহ্বান দেখে বা কোনো পরিকল্পনা করে সীমান্ত পার হয়নি। সে বলেন, ‘আমি ফেনিদেকের বাসিন্দা। সীমান্তে প্রতিদিন কী হয়, আমি নিজের চোখেই দেখি। আলাদা করে আর কিছু জানার দরকার হয় না।’


ইব্রাহিমের ভাষায়, ‘মরক্কো ভেঙে পড়েছে। দারিদ্র্যই আমাকে সাগরে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করেছে।’


ইব্রাহিম যেদিন সেউতার উদ্দেশে সাঁতরে রওনা দেয়, সেদিন স্পেন–মরক্কো সীমান্তসংলগ্ন আকাশ ছিল মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন। সাত কিলোমিটারের সেই যাত্রার কথা স্মরণ করে সে বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, জীবনে এমন সুযোগ আর না–ও আসতে পারে।’ সে আরও বলে, ‘আমার কাছে সাঁতারের কোনো সরঞ্জাম ছিল না। পথও চিনতাম না। তবু সোজা পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলাম।’


ইব্রাহিম ভাগ্যবান ছিল। কিন্তু গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহরের উপকূলের কাছে তাঁদের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।


ওই সময় অনেকে আবার মরক্কো পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। পরে বাসে করে তাঁদের দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেউতাভিত্তিক স্প্যানিশ বেসরকারি সংস্থা ‘নো নেম কিচেন’– এর মুখপাত্র ফ্রানচেসকা ফুসারো মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানান।


ফুসারো বলেন, তরুণেরা যাতে আবার সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা না করেন, সে জন্য মরক্কো কর্তৃপক্ষ নিয়মিতই এ পদ্ধতি অনুসরণ করে।


ইব্রাহিমের ভাষায়, সমুদ্রে কাটানো সেই কয়েক ঘণ্টা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। বলে, ‘আমার মনে হচ্ছিল, জীবনের সব স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমি ভেবেছিলাম, এবার হয়তো মারা যাব। তখন ভবিষ্যতের কথা ভাবছিলাম, প্রিয়জনদের কথা ভাবছিলাম। বিশেষ করে বারবার মনে পড়ছিল মায়ের কথা।’


এদিকে সেউতায় গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টায় অর্ধলাখের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রবেশ করেন। স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত পার হতে গিয়ে এ সময় অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে। সীমান্তের স্পেন অংশে উদ্ধার করা হয় ৫৭ জনের মরদেহ। মরক্কোর দিকেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।


সর্বব্যাপী ‘দমন-পীড়ন’


মরক্কোর নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক খালিদ মুনার মতে, গত সেপ্টেম্বরে যা ঘটেছে, তা শুধু উন্নত জীবনের খোঁজে তরুণদের দেশ ছাড়ার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ নয়। বলেন, ‘এটি একধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ। তরুণেরা অভিবাসনকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা মরক্কোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।’


খালিদ মুনা বলেন, দমন-পীড়নের মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন তরুণদের জন্য শক্তিশালী একটি হাতিয়ার। তাঁর ভাষায়, জনপরিসরে দমন-পীড়ন সব সময়ই রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলের তরুণদের একত্র হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।


বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও দীর্ঘদিন ধরেই মরক্কোতে মানবাধিকার দমনের অভিযোগ তুলে আসছে।


হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরক্কোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংগঠন করার অধিকারের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে হাইপ্রোফাইলের মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের কারাবন্দী করা এবং হয়রানির ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিতর্কিত পশ্চিম সাহারা অঞ্চলের ঘটনাও রয়েছে।


মুনা ও জুবেইদির মতে, মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের দুর্বল অবস্থাও তরুণ মরক্কোবাসীদের দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করছে।


২০২৩ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মরক্কোর ৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ (প্রায় ২৫ লাখ) বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন। অর্থাৎ শুধু আয়ের অভাব নয়, শিক্ষা, মৌলিক অবকাঠামো, সেবাসহ নানা ক্ষেত্রেই তাঁরা বঞ্চিত।


বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আরও ১০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েন। ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশে।


বুশরার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপ সম্পর্কে যে অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর ধারণা ছড়িয়ে পড়ে, সেটিও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে। তিনি বলেন, স্পেনে পৌঁছাতে পেরেছে-এমন মানুষের গল্প আর অভিবাসনে উৎসাহ জোগানো অসংখ্য গান তরুণদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়।


বুশরা বলেন, ‘মরক্কোর তরুণদের মধ্যে বারবার এমন চিন্তা ফিরে আসছে-এ নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন।’


এদিকে দক্ষিণ মরক্কোর সমুদ্রসৈকতে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন হামজা। চলতি বছর তিনি ইউরোপে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং শিক্ষার্থী ভিসার জন্য আবেদন করবেন। তবে তিনি জানেন, পরিবারের সমর্থন না থাকায় তাঁর বন্ধুদের সে সুযোগ নেই।


আরও একবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুদের খোঁজ করেন হামজা। ইউরোপে কষ্টে দিন কাটালেও লজ্জায় তাঁরা পরিবারের সদস্য ও পরিচিত ব্যক্তিদের সামনে সুখী জীবনের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। হামজা জানেন, তাঁদের কেউ কেউ রাতে রাস্তায় ঘুমান। কিন্তু স্বজনদের চোখে তাঁরা যেন পূরণ করে ফেলেছেন ‘ইউরোপ-যাত্রার স্বপ্ন’।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ এএম

সৌদি আরবে হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। সোমবার তিন দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় আইন অনুযায়ী সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা মোতায়েন করা হবে। এর লক্ষ্য হলো সামরিক প্রস্তুতি ও সমন্বয় জোরদার করা এবং বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় জোটের সক্ষমতা বাড়ানো।


বিবৃতিতে তিন দেশ জোর দিয়ে বলেছে, তাদের প্রত্যেকের নিরাপত্তা সম্মিলিত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মক্কা চুক্তির আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হলে তিন দেশের প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং নিজেদের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার সামর্থ্য আরও শক্তিশালী হবে।


তিন দেশের জোট জানিয়েছে, পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় জোটের সম্মিলিত সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১২ এএম

নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।


দেশটির এভিয়েশন বিষয়ক মন্ত্রী ফেসটাস কেয়ামো বলেছেন, সোমবার (৫ অক্টোবর) বিমানটি নাইজেরিয়ার অর্থনৈতিক হাব লাগোসে একটি রুটিন মিশনে ছিল। সে সময় দেশটির অনডো প্রদেশের ইগবোকোডা এলাকায় এটি বিধ্বস্ত হয়।


তিনি আরও জানান, সোমবার উড্ডয়নের পর স্থানীয় সময় সকাল ৯টার সময় রাডারের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এডো প্রদেশ থেকে লাগোসের যাত্রাপথের মাঝামাঝি জায়গায় এটি বিধ্বস্ত হয়।


নাইজেরিয়ার একটি নৌঘাঁটির কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়।


দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি এটিআর-৪২ মডেলের ছিল এবং দুর্ঘটনার পরপরই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা যখন নৌকায় করে অভিযান চালাচ্ছিলেন তখন উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।


স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বিমানটি কিছু গাছ ভেঙে ফেলেছে। আমরা কয়েকজনের দেহাবশেষ, কিছু জামা ও কিছু জুতা পেয়েছি।


চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল।ছবি: স্ট্যানফোর্ড হেলথ কেয়ার

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৬ পিএম

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি। বিজয়ীরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানি পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, মস্তিষ্ক কীভাবে মানুষের অনুভূতি, আচরণ ও শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, তা দীর্ঘকাল ধরে একটি রহস্য হয়ে ছিল। বিংশ শতাব্দীতে গবেষকরা মস্তিষ্কের কোন অংশটি কোন কাজে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন।


তবে সে সময় যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা দিয়ে ‘ঠিক কী কারণে কী ঘটে’ সেটি প্রমাণ করা সম্ভব ছিল না। তারা মস্তিষ্কের খসড়া ‘ম্যাপিং’ বা মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। এর ফলে অসংখ্য প্রশ্ন ও অজানা বিষয় থেকে যায়। কিন্তু এখন দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে।


চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির প্রধান পের সভেনিংসন বলেন, ‘অপটোজেনেটিকসের কারণে এখন এমনভাবে মস্তিষ্কের ম্যাপিং তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা একসময় আমরা কেবল স্বপ্নই দেখতাম।’


‘অপটোজেনেটিকস’ আলো দিয়ে স্নায়বিক সংকেত নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল অ্যাসেম্বলি বলে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গড়ে তোলে তা দেখা সম্ভব।


নোবেল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেগম্যান ও নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামে একটি প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁরা দেখতে পান, এই প্রোটিনটি যেকোনো কোষে প্রবেশ করানো হলে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।


অন্যদিকে, গবেষণাগারে ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিনের জিন প্রবেশ করান ডাইসেরথ। এরপর ওই কোষগুলোতে নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়বিক সংকেত (নার্ভ সিগন্যাল) চালু বা ট্রিগার করতে সক্ষম হন। পরে তিনি দেখান, জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও স্নায়ুকোষের জন্য আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচটি কাজ করে।


নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, অপটোজেনেটিকস পদ্ধতি ব্যবহার করে গবেষকরা নির্দিষ্ট স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়বিক পথগুলো (নিউরাল সার্কিট) উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব পথ স্নায়বিক ও মানসিক বিভিন্ন রোগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।


চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রায়োগিক ক্ষেত্রেও (ক্লিনিক্যাল মেডিসিন) এই পদ্ধতি ব্যবহার শুরু হয়েছে। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির ব্যক্তিদের চোখের আলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় গবেষকরা পদ্ধতিটি কাজে লাগাচ্ছেন।


নোবেল কর্তৃপক্ষ লিখেছে, অপটোজেনেটিকস মস্তিষ্ক সম্পর্কে এতদিনের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন নতুন আবিষ্কার সামনে আসছে। মস্তিষ্ক আসলে কীভাবে কাজ করে- সেই রহস্য সমাধানে এসব আবিষ্কার সাহায্য করছে। 


২০২৫ সালে যারা পেয়েছিলেন


‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য গত বছর পুরস্কার পেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী মেরি ই ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও জাপানের শিমন সাকাগুচি।


তখন নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, মানবদেহে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয়। তা না হলে এটি অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে পারে। তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের পথ খুলে দিয়েছে।


মেরি ই ব্রাঙ্কো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার। ফ্রেড রামসডেল সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকস এর বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং শিমন সাকাগুচি জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক।


চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত ২৩২ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসায় নোবেল দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ৩১ বছর বয়সে পুরস্কারটি পান কানাডার ব্রেডরিক ব্যান্টিং। ৮৭ বছর বয়সে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটন রোস। 


কবে কোন পুরস্কার


মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান ও বুধবার রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে ও শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে আগামী শুক্রবার। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।


পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।


মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৭ পিএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও মুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। তবে দুই দফায় এ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন রাজপথে নামছে ইমরানের দল। শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া আলোচনা গতকাল স্থানীয় সময় সকাল পর্যন্ত চলেছে। কিন্তু এক পর্যায়ে আলোচনা ভেস্তে যায়। এর পর দুপুর দেড়টা থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে দলটি।


পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রদেশ থেকে পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা ইসলামাবাদে আসবেন। বিভিন্ন জায়গায় বিরতি দিয়ে আগামী ৮ অক্টোবর ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন তারা।   পিটিআই প্রথমে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের লংমার্চের সময় নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু ইসলামাবাদে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের পর রক্তক্ষয়ের আশঙ্কায় সেদিন কর্মসূচি স্থগিত করে এটি ৪ অক্টোবর নিয়ে যাওয়া হয়।


জানা গেছে, আলোচনায় পিটিআইয়ের প্রধান দাবি ছিল ইমরান খানের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে দিতে হবে, তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবেন। এর সঙ্গে আরও দাবি ছিল, ইমরানের তিন আটক বোনের মুক্তি ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া।


ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি গতকাল রোববার হেলিকপ্টারে করে লাক্কি মারওয়াত পৌঁছেছেন। কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই যে লংমার্চ আয়োজন করেছে, তিনি সেই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই সেখানে যান। লংমার্চটি পাকিস্তানের পেশোয়ার-করাচি ইন্দাস হাইওয়ের গান্ধী চক থেকে শুরু হওয়ার কথা।


মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মাইদাদকেলের কাছে একটি বিশেষ হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেপির মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টার থেকে নামার সময় সেখানে পিটিআইয়ের বিপুলসংখ্যক কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক লংমার্চে ‘রাষ্ট্রীয় হেলিকপ্টার ব্যবহারের’ জন্য আফ্রিদির সমালোচনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহারের ঘটনাকে ‘ইসলামাবাদ হাইকোর্টের আদেশের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘প্রদেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছে।’


এর আগে সাবেক খাইবার পাখতুনখোয়া মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুরের নেতৃত্বে পিটিআইয়ের কর্মী ও সমর্থকরা দলের লংমার্চে যোগ দিতে ডেরা ইসমাইল খান থেকে রওনা হন। ডিআই খান থেকে যাত্রা শুরুর আগে গান্দাপুর জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভ অবশ্যই শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সহিংসতা, ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।


এদিকে লংমার্চ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাঁজোয়া যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও রাখা হয়েছে। কেপির মুখ্যমন্ত্রীর স্বরাষ্ট্র ও উপজাতীয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী তারিক সাদ তাঁর বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, পিটিআই নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘শান্তিপূর্ণ লংমার্চ’ আজ গান্ধী চক থেকে শুরু হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলো থেকে আসা গাড়িবহরও এতে যোগ দেবে।


বিজেপিতে যোগ দিলেন কোয়েল মল্লিক

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৪ পিএম

অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার সকালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দিতে বিধানসভায় যান পশ্চিমবঙ্গের এই অভিনেত্রী। এর এক দিন আগে তাকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিজেপি।


রোববার বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে দলটির প্রার্থী হচ্ছেন কোয়েল মল্লিক। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন কোয়েল। গত ১৬ জুলাই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তার ছেড়ে দেওয়া আসনেই আগামী ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


কোয়েলের বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে তার পদত্যাগের পর থেকেই আলোচনা চলছিল। ১৬ জুলাই পদত্যাগের পর তিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। এরপরই তার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।


এর আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইককে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। এবার কোয়েল মল্লিকের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করেছিল। মার্চে নির্বাচনের পর ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। তবে কোনো অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগেই ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন।


এবার নিজের ছেড়ে দেওয়া সেই আসনের উপনির্বাচনেই বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক। সোমবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বিধানসভায় যান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৯ পিএম

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের একটি পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশনা দেওয়া হয় গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে। চুল্লিটি মহাকাশ যাত্রায় টিকে থাকার পাশাপাশি চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই চলতে পারবে। নাসা ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছে। সংস্থাটির এই তাড়াহুড়োর পেছনে একটি কারণ আছে। চীনের সঙ্গে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাশিয়া। আর তাই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে যেতে নাসা তাদের সময়সূচি এগিয়ে এনেছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও চীন– উভয়ই সবার আগে চাঁদে নিজেদের ঘাঁটি স্থাপন করতে চায়। তাদের লক্ষ্য উপগ্রহটিতে জমে থাকা বরফ বা পানির মতো সম্পদের সন্ধান করা এবং সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান চালানো। এই অভিযানের জন্য চাঁদের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। দুই পরাশক্তির বিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষাটি পূরণের মূল হাতিয়ার হলো একটি পারমাণবিক চুল্লি।


দেশগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুল্লিগুলো চাঁদে পৌঁছানোর পরই কেবল সেগুলো চালু করা হবে। তবে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন বিজ্ঞানী এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, কয়েকটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের পরও দেশগুলো মহাকাশ গবেষণায় অনেক বেশি তাড়াহুড়ো করছে।


গত ছয় বছরে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার একাধিক রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ ও বিস্ফোরিত হয়েছে। চুল্লি স্থাপনে কোনো ব্যর্থতার কারণে মারাত্মক পরিণতিসহ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক এডউইন লিম্যান বলেন, মহাকাশ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যদি পারমাণবিক শক্তি যুক্ত হয়, তবে তা সম্ভাব্য আরও বিপদের দিকে মোড় নিতে পারে।


এদিকে, উপগ্রহটিতে যে কোনো স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। পারমাণবিক চুল্লিগুলো চালানোর জন্য সূর্যের আলো দরকার হয় না। এগুলো আকারেও বেশ ছোট হতে পারে। নাসা ও কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের মতে, সঠিকভাবে নকশা করা গেলে এগুলো পরিচালনায় মানুষের হস্তক্ষেপেরও তেমন প্রয়োজন হবে না।


প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নাসা ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে মঙ্গলগ্রহে একটি মহাকাশযান পাঠাতে চায়, যেটিতে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। এর আগে প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়সূচি কয়েক দফায় পেছানো হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশগুলো তাদের কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া চাঁদের অমসৃণ পৃষ্ঠে ভারী এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ নামাতে সক্ষম ল্যান্ডারও কারও কাছে নেই।


যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জানিয়েছে, চাঁদে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাদের চুল্লিগুলো নিষ্ক্রিয় থাকবে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এটিকে ‘আন-ইরেডিয়েটেড’ বা তেজস্ক্রিয়তামুক্ত বলা হয়। এর ফলে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রকেট উৎক্ষেপণের সময়। মহাকাশে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিওপোল্ড সুমারার বলেন, উৎক্ষেপণের মুহূর্তটিতে প্রচুর ঝুঁকি থাকে। অতীতে রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে।


বেশির ভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রই (লঞ্চপ্যাড) কোনো না কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি অবস্থিত। কোনো চুল্লি পানিতে আছড়ে পড়লে নিউট্রনের গতি কমে যায়। ফলে পরমাণু বিভাজনের শঙ্কা বাড়ে। এটি একটি চুল্লিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে।


পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৯ সালে রাশিয়ায় সম্ভবত এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় চুল্লিচালিত একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যর্থ হয়ে শ্বেত সাগরে (হোয়াইট সি) আছড়ে পড়ে। তবে রাশিয়া এই দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি চুল্লিচালিত ছিল না।


নাসা বলেছে, তারা বিপদ এড়াতে সক্ষম এমন নকশা তৈরি করছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি কোম্পানি রোসাটম মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিষয় :