কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১২ মে, ২০২৬, সময় : ৮:২১ এএম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন কোনো আকস্মিক উত্তেজনার ফল নয়। বরং মধ্যপ্রাচ্যকে সহিংসভাবে পাল্টে দিতে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশে এই যুদ্ধ। আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল–থানি।


আল–জাজিরাকে দেওয়া এক বিস্তৃত ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক ওই অঞ্চলের দ্রুত পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন।


শেখ হামাদ সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা এ যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিণতি। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তথাকথিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের আকাঙ্ক্ষার বিষয়েও সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানান।


শেখ হামাদ বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চলের বড় ধরনের এক পুনর্গঠনের সাক্ষী হচ্ছি।’ আগামী কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রূপরেখা কেমন হবে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সেটা নির্ধারণ করে দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


নেতানিয়াহুর ‘ভ্রান্ত ধারণা’ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভুল পদক্ষেপ


মধ্যপ্রাচ্যে আসন্ন সংঘাতের বিষয়ে শেখ হামাদ গত বছরই সতর্ক করেছিলেন। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন, যাতে সামরিক হামলা প্রতিরোধ করা যায়।


শেখ হামাদ ইরানের সঙ্গে সংঘাত উসকে দেওয়ার একটি চেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। এ জন্য তিনি ইসরায়েলের ভেতরের একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীকে দায়ী করেন, যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন নেতানিয়াহু।


শেখ হামাদের মতে, এই গোষ্ঠীটি সেই ১৯৯০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করে আসছে।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদসহ আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে দ্বিধা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনের কাছে একটি ‘ভ্রান্ত ধারণা’ সফলভাবে বিক্রি করতে সক্ষম হন বলে মনে করেন শেখ হামাদ।


শেখ হামাদ বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) মার্কিন প্রশাসনকে বোঝাতে সক্ষম হন, এই যুদ্ধ হবে সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে।’


কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীলতার সমালোচনা করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি সব সময়ই বলপ্রয়োগ এড়িয়ে চলার সক্ষমতায় নিহিত ছিল, তা প্রয়োগ করার মধ্যে নয়।’


কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সব পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। শেখ হামাদ মনে করেন, এ বছরের শুরুতে জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান যুদ্ধ এড়াতে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই আলোচনাকে যদি আরও দুই সপ্তাহ বেশি সময় দেওয়া হতো, তবে এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো।


শেখ হামাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, এই যুদ্ধের প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে নেতানিয়াহু সামনে চলে এসেছেন। তাঁর মতে, নেতানিয়াহু এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে জোরপূর্বক আঞ্চলিক জোট গঠনে তাঁর ধারণা এবং ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনাকে সামনে আনছেন—যা ইসরায়েলের ডানপন্থীদের একটি ধারণা। তাদের মূল লক্ষ্য প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর আরও গভীরে ইসরায়েলের সীমানার সম্প্রসারণ।


হরমুজ প্রণালি: নতুন বৈশ্বিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু


তেহরানের কৌশল মূল্যায়ন করে শেখ হামাদ বলেন, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে প্রতিপক্ষের প্রাথমিক সামরিক হামলার সামনে ইরান সফলভাবে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। পরে নতুন একটি কৌশলগত সুবিধা বুঝতে পেরে দেশটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সময়ক্ষেপণ করে। এই কৌশলগত সুবিধার মূল ভিত্তি ছিল, হরমুজ প্রণালিকে কাজে লাগানোর সক্ষমতা।


এই জলপথকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাকে যুদ্ধের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিণতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন শেখ হামাদ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এখন এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংকীর্ণ জলপথকে নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তুলনায় বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এটি আরও তাৎক্ষণিক ও গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।


শেখ হামাদ বলেন, ওয়াশিংটন নয়, এই (হরমুজ প্রণালি) সংকটের সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভোগ করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হওয়ার পর ইরান পাল্টা জবাব দিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জ্বালানি, শিল্প ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।


শেখ হামাদ ইরানের ওইসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার অজুহাতে ওইসব হামলা চালিয়েছিল। অথচ উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্টভাবেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।


এর ফলে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের অনেক রাজনৈতিক পুঁজি হারিয়েছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিঘ্ন নিয়ে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়েছে। তবে শেখ হামাদ জোর দিয়ে বলেন, ভৌগোলিক কারণ দেশগুলোর সহাবস্থানকে অনিবার্য করে তুলেছে। তাই তিনি তেহরানের সঙ্গে একটি খোলামেলা ও যৌথ উপসাগরীয় সংলাপের আহ্বান জানান—যেখানে বিচ্ছিন্ন ও এককভাবে যোগাযোগের পরিবর্তে বাস্তবসম্মত ভবিষ্যৎ কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


‘গালফ ন্যাটো’ গড়ার আহ্বান


শেখ হামাদ জোর দিয়ে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ইরান, ইসরায়েল বা বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নয়; বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন।


এর মোকাবিলায় শেখ হামাদ একটি সামরিক জোট ‘গালফ ন্যাটো’ গঠনের প্রস্তাব দেন। এটি হবে একটি যৌথ রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা প্রকল্প, যা শুরু হবে কৌশলগতভাবে ঘনিষ্ঠ উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে। সৌদি আরব হবে এর নিরপেক্ষ মেরুদণ্ড।


কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যুক্তি, ইউরোপীয় ইউনিয়নও শুরুতে অল্প কয়েকটি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয়েছিল এবং পরে তা সম্প্রসারিত হয়েছে। একই ধরনের একটি মডেলের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক আইনের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে এবং সদস্যরাষ্ট্রের জন্য আইন সমান, মেনে চলা বাধ্যতামূলক ও সম্মানযোগ্য হবে।


যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রসঙ্গে শেখ হামাদ স্বীকার করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো কয়েক দশক ধরে প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চীনকে নিয়ন্ত্রণ এবং এশিয়ার দিকে ওয়াশিংটনের কৌশলগত ঝোঁক বিবেচনায় উপসাগরীয় অঞ্চল আর দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর করতে পারবে না। তাই তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে স্বার্থভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন।


নেতানিয়াহুর আঞ্চলিক কৌশলগত হিসাব-নিকাশ


মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শেখ হামাদ সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের শাসনব্যবস্থার পতনে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিপ্লবের শুরুর দিকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাবেক প্রেসিডেন্টকে তাঁর জনগণের কথা শোনার পরামর্শ দিয়েছিলেন।


কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নতুন সিরীয় নেতৃত্বের বাস্তববাদী অবস্থানের প্রশংসা করেন, বিশেষ করে ইসরায়েলি উসকানি এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে তাদের কৌশলের কথা উল্লেখ করে। পাশাপাশি তিনি প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ ও আসাদ সরকারের অব্যবস্থাপনার পর দেশকে পুনর্গঠন করতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্নির্মাণের ওপর মনোযোগ দেওয়ায় আহ্বান জানান।


আল–জাজিরার সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ একটি গোপন কূটনৈতিক ইতিহাসও প্রকাশ করেন। শেখ হামাদ বলেন, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে বিল ক্লিনটন প্রশাসনের একটি বার্তা পৌঁছে দিতে কাতারি নেতৃত্ব তাঁকে তেহরানে পাঠিয়েছিল। ওই বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরান তার নবজাত পারমাণবিক কর্মসূচি রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করবে অথবা আন্তর্জাতিক কোনো ব্যবস্থার অধীনে তা গ্রহণ করবে।


সেখানে কাতার কেবল একজন বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করেছিল। তারপরও তেহরান সে সময় দোহাকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সমন্বিত বা সংগতিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।



সর্বশেষ সব খবর

চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল।ছবি: স্ট্যানফোর্ড হেলথ কেয়ার

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৬ পিএম

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি। বিজয়ীরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানি পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, মস্তিষ্ক কীভাবে মানুষের অনুভূতি, আচরণ ও শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, তা দীর্ঘকাল ধরে একটি রহস্য হয়ে ছিল। বিংশ শতাব্দীতে গবেষকরা মস্তিষ্কের কোন অংশটি কোন কাজে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন।


তবে সে সময় যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা দিয়ে ‘ঠিক কী কারণে কী ঘটে’ সেটি প্রমাণ করা সম্ভব ছিল না। তারা মস্তিষ্কের খসড়া ‘ম্যাপিং’ বা মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। এর ফলে অসংখ্য প্রশ্ন ও অজানা বিষয় থেকে যায়। কিন্তু এখন দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে।


চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির প্রধান পের সভেনিংসন বলেন, ‘অপটোজেনেটিকসের কারণে এখন এমনভাবে মস্তিষ্কের ম্যাপিং তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা একসময় আমরা কেবল স্বপ্নই দেখতাম।’


‘অপটোজেনেটিকস’ আলো দিয়ে স্নায়বিক সংকেত নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল অ্যাসেম্বলি বলে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গড়ে তোলে তা দেখা সম্ভব।


নোবেল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেগম্যান ও নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামে একটি প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁরা দেখতে পান, এই প্রোটিনটি যেকোনো কোষে প্রবেশ করানো হলে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।


অন্যদিকে, গবেষণাগারে ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিনের জিন প্রবেশ করান ডাইসেরথ। এরপর ওই কোষগুলোতে নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়বিক সংকেত (নার্ভ সিগন্যাল) চালু বা ট্রিগার করতে সক্ষম হন। পরে তিনি দেখান, জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও স্নায়ুকোষের জন্য আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচটি কাজ করে।


নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, অপটোজেনেটিকস পদ্ধতি ব্যবহার করে গবেষকরা নির্দিষ্ট স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়বিক পথগুলো (নিউরাল সার্কিট) উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব পথ স্নায়বিক ও মানসিক বিভিন্ন রোগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।


চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রায়োগিক ক্ষেত্রেও (ক্লিনিক্যাল মেডিসিন) এই পদ্ধতি ব্যবহার শুরু হয়েছে। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির ব্যক্তিদের চোখের আলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় গবেষকরা পদ্ধতিটি কাজে লাগাচ্ছেন।


নোবেল কর্তৃপক্ষ লিখেছে, অপটোজেনেটিকস মস্তিষ্ক সম্পর্কে এতদিনের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন নতুন আবিষ্কার সামনে আসছে। মস্তিষ্ক আসলে কীভাবে কাজ করে- সেই রহস্য সমাধানে এসব আবিষ্কার সাহায্য করছে। 


২০২৫ সালে যারা পেয়েছিলেন


‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য গত বছর পুরস্কার পেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী মেরি ই ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও জাপানের শিমন সাকাগুচি।


তখন নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, মানবদেহে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয়। তা না হলে এটি অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে পারে। তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের পথ খুলে দিয়েছে।


মেরি ই ব্রাঙ্কো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার। ফ্রেড রামসডেল সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকস এর বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং শিমন সাকাগুচি জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক।


চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত ২৩২ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসায় নোবেল দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ৩১ বছর বয়সে পুরস্কারটি পান কানাডার ব্রেডরিক ব্যান্টিং। ৮৭ বছর বয়সে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটন রোস। 


কবে কোন পুরস্কার


মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান ও বুধবার রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে ও শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে আগামী শুক্রবার। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।


পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।


মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৭ পিএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও মুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। তবে দুই দফায় এ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন রাজপথে নামছে ইমরানের দল। শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া আলোচনা গতকাল স্থানীয় সময় সকাল পর্যন্ত চলেছে। কিন্তু এক পর্যায়ে আলোচনা ভেস্তে যায়। এর পর দুপুর দেড়টা থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে দলটি।


পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রদেশ থেকে পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা ইসলামাবাদে আসবেন। বিভিন্ন জায়গায় বিরতি দিয়ে আগামী ৮ অক্টোবর ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন তারা।   পিটিআই প্রথমে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের লংমার্চের সময় নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু ইসলামাবাদে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের পর রক্তক্ষয়ের আশঙ্কায় সেদিন কর্মসূচি স্থগিত করে এটি ৪ অক্টোবর নিয়ে যাওয়া হয়।


জানা গেছে, আলোচনায় পিটিআইয়ের প্রধান দাবি ছিল ইমরান খানের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে দিতে হবে, তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবেন। এর সঙ্গে আরও দাবি ছিল, ইমরানের তিন আটক বোনের মুক্তি ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া।


ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি গতকাল রোববার হেলিকপ্টারে করে লাক্কি মারওয়াত পৌঁছেছেন। কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই যে লংমার্চ আয়োজন করেছে, তিনি সেই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই সেখানে যান। লংমার্চটি পাকিস্তানের পেশোয়ার-করাচি ইন্দাস হাইওয়ের গান্ধী চক থেকে শুরু হওয়ার কথা।


মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মাইদাদকেলের কাছে একটি বিশেষ হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেপির মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টার থেকে নামার সময় সেখানে পিটিআইয়ের বিপুলসংখ্যক কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক লংমার্চে ‘রাষ্ট্রীয় হেলিকপ্টার ব্যবহারের’ জন্য আফ্রিদির সমালোচনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহারের ঘটনাকে ‘ইসলামাবাদ হাইকোর্টের আদেশের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘প্রদেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছে।’


এর আগে সাবেক খাইবার পাখতুনখোয়া মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুরের নেতৃত্বে পিটিআইয়ের কর্মী ও সমর্থকরা দলের লংমার্চে যোগ দিতে ডেরা ইসমাইল খান থেকে রওনা হন। ডিআই খান থেকে যাত্রা শুরুর আগে গান্দাপুর জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভ অবশ্যই শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সহিংসতা, ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।


এদিকে লংমার্চ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাঁজোয়া যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও রাখা হয়েছে। কেপির মুখ্যমন্ত্রীর স্বরাষ্ট্র ও উপজাতীয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী তারিক সাদ তাঁর বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, পিটিআই নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘শান্তিপূর্ণ লংমার্চ’ আজ গান্ধী চক থেকে শুরু হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলো থেকে আসা গাড়িবহরও এতে যোগ দেবে।

সর্বশেষ সব খবর

বিজেপিতে যোগ দিলেন কোয়েল মল্লিক

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৪ পিএম

অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার সকালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দিতে বিধানসভায় যান পশ্চিমবঙ্গের এই অভিনেত্রী। এর এক দিন আগে তাকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিজেপি।


রোববার বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে দলটির প্রার্থী হচ্ছেন কোয়েল মল্লিক। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন কোয়েল। গত ১৬ জুলাই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তার ছেড়ে দেওয়া আসনেই আগামী ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


কোয়েলের বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে তার পদত্যাগের পর থেকেই আলোচনা চলছিল। ১৬ জুলাই পদত্যাগের পর তিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। এরপরই তার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।


এর আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইককে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। এবার কোয়েল মল্লিকের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করেছিল। মার্চে নির্বাচনের পর ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। তবে কোনো অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগেই ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন।


এবার নিজের ছেড়ে দেওয়া সেই আসনের উপনির্বাচনেই বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক। সোমবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বিধানসভায় যান।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৯ পিএম

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের একটি পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশনা দেওয়া হয় গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে। চুল্লিটি মহাকাশ যাত্রায় টিকে থাকার পাশাপাশি চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই চলতে পারবে। নাসা ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছে। সংস্থাটির এই তাড়াহুড়োর পেছনে একটি কারণ আছে। চীনের সঙ্গে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাশিয়া। আর তাই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে যেতে নাসা তাদের সময়সূচি এগিয়ে এনেছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও চীন– উভয়ই সবার আগে চাঁদে নিজেদের ঘাঁটি স্থাপন করতে চায়। তাদের লক্ষ্য উপগ্রহটিতে জমে থাকা বরফ বা পানির মতো সম্পদের সন্ধান করা এবং সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান চালানো। এই অভিযানের জন্য চাঁদের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। দুই পরাশক্তির বিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষাটি পূরণের মূল হাতিয়ার হলো একটি পারমাণবিক চুল্লি।


দেশগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুল্লিগুলো চাঁদে পৌঁছানোর পরই কেবল সেগুলো চালু করা হবে। তবে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন বিজ্ঞানী এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, কয়েকটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের পরও দেশগুলো মহাকাশ গবেষণায় অনেক বেশি তাড়াহুড়ো করছে।


গত ছয় বছরে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার একাধিক রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ ও বিস্ফোরিত হয়েছে। চুল্লি স্থাপনে কোনো ব্যর্থতার কারণে মারাত্মক পরিণতিসহ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক এডউইন লিম্যান বলেন, মহাকাশ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যদি পারমাণবিক শক্তি যুক্ত হয়, তবে তা সম্ভাব্য আরও বিপদের দিকে মোড় নিতে পারে।


এদিকে, উপগ্রহটিতে যে কোনো স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। পারমাণবিক চুল্লিগুলো চালানোর জন্য সূর্যের আলো দরকার হয় না। এগুলো আকারেও বেশ ছোট হতে পারে। নাসা ও কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের মতে, সঠিকভাবে নকশা করা গেলে এগুলো পরিচালনায় মানুষের হস্তক্ষেপেরও তেমন প্রয়োজন হবে না।


প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নাসা ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে মঙ্গলগ্রহে একটি মহাকাশযান পাঠাতে চায়, যেটিতে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। এর আগে প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়সূচি কয়েক দফায় পেছানো হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশগুলো তাদের কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া চাঁদের অমসৃণ পৃষ্ঠে ভারী এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ নামাতে সক্ষম ল্যান্ডারও কারও কাছে নেই।


যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জানিয়েছে, চাঁদে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাদের চুল্লিগুলো নিষ্ক্রিয় থাকবে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এটিকে ‘আন-ইরেডিয়েটেড’ বা তেজস্ক্রিয়তামুক্ত বলা হয়। এর ফলে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রকেট উৎক্ষেপণের সময়। মহাকাশে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিওপোল্ড সুমারার বলেন, উৎক্ষেপণের মুহূর্তটিতে প্রচুর ঝুঁকি থাকে। অতীতে রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে।


বেশির ভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রই (লঞ্চপ্যাড) কোনো না কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি অবস্থিত। কোনো চুল্লি পানিতে আছড়ে পড়লে নিউট্রনের গতি কমে যায়। ফলে পরমাণু বিভাজনের শঙ্কা বাড়ে। এটি একটি চুল্লিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে।


পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৯ সালে রাশিয়ায় সম্ভবত এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় চুল্লিচালিত একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যর্থ হয়ে শ্বেত সাগরে (হোয়াইট সি) আছড়ে পড়ে। তবে রাশিয়া এই দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি চুল্লিচালিত ছিল না।


নাসা বলেছে, তারা বিপদ এড়াতে সক্ষম এমন নকশা তৈরি করছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি কোম্পানি রোসাটম মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২২ এএম

ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই ঘাঁটিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘটনার পর ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল। খবর বিবিসির।

 

রবিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কেন এসব বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কারণ জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র।


তবে ব্রিটিশ সরকারের সূত্রগুলো ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তটি ফেয়ারফোর্ডের সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত—এমন বিষয় অস্বীকার করেনি। বিবিসি জানিয়েছে, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল পর্যায়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের ব্রিটিশ সমপদস্থ কর্মকর্তাদের-কে বিষয়টি জানিয়েছে। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

ফেয়ারফোর্ডে সন্দেহজনক গাড়ি, গ্রেপ্তার ৬

 

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক গাড়ি’ চলাচলের খবর পেয়ে পুলিশকে সতর্ক করা হয়। এর পর ঘাঁটির আশপাশ থেকে পাঁচজনকে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের পুলিশি জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তারা সবাই লন্ডনের বাসিন্দা ব্রিটিশ নাগরিক। প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত বিবেচনায় ওই পাঁচজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


পরে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককেও লন্ডন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। শনিবার পুলিশ জানায়, তাকেও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত


ঘটনার কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে তিনি এর পক্ষে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। ইরান অবশ্য এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।


এর আগে, ষষ্ঠ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, এই ঘটনায় ‘স্পষ্টতই কোনো বিদেশি পক্ষের হাত’ রয়েছে। তবে টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এর বেশি কিছু জানাতে পারেননি।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, 'আমরা তাদের সম্পর্কে সবকিছু জানি। আমরা তাদের ছেড়ে দিতাম না।'


তবে ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে 'খুব ঘনিষ্ঠভাবে' কাজ করেছে।


ইরানের হামলার আশঙ্কা


আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বহু দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর (ইউএসএএফ) একটি অগ্রবর্তী অপারেটিং ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বোমারু বিমানগুলো এই ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছে।


ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ফেয়ারফোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ব্রিটেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, 'ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি আমাদের বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।'


ফেয়ারফোর্ডের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সব বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে ওই ঘাঁটির নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ এএম

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) ২৭ সেনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। আদালতের নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় সম্মুখসারির অবস্থান ছেড়ে পিছু হটার দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উভিরার সামরিক আদালতে ২১তম সিম্বা ব্যাটালিয়নের অন্তত ১১২ সেনার বিচার শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর।


আগস্টে পূর্ব কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় সামরিক নির্দেশ অমান্য ও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।


আদালত জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ৫৪ সেনাকে শুক্রবার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ সেনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে, পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় অন্তত ২১ সেনাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া সেনাদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন।


কৌঁসুলিরা জানান, উভিরাকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকাগুলো নিরাপদ রাখতে এসব সেনাকে মোতায়েন করা হয়েছিল।


এর আগে মে মাসে একই ধরনের ঘটনায় ডিআর কঙ্গোর একটি সামরিক আদালত ৫৮ সেনাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সম্মুখসারি থেকে সরে যাওয়ায় ‘নির্দেশ অমান্যের’ অভিযোগে তাদের সাজা দেওয়া হয়।


স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সর্বশেষ এই বিচার চলার মধ্যেও উভিরা এলাকায় এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।


পূর্ব কঙ্গোর চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান পক্ষ এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ২০২৫ সালের শুরুতে গোমা ও বুকাভু শহর দখলের পর গোষ্ঠীটি পূর্ব কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।


কঙ্গো সরকার, জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো এম২৩-কে সমর্থনের জন্য প্রতিবেশী রুয়ান্ডাকে দায়ী করে আসছে। তবে রুয়ান্ডা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সর্বশেষ সব খবর