ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যখন ইরানে হামলা শুরু করে, তখন তেহরান আশপাশের আরব দেশগুলোয় পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় সৌদি আরবও হামলার শিকার হয়। এর জবাবে ইরানেও একাধিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
যদিও সৌদির এ হামলা চালানো হয়েছে বেশ গোপনে। বিষয়টির সঙ্গে জানাশোনা রয়েছে-এমন দুজন পশ্চিমা কর্মকর্তা ও ইরানের দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
রয়টার্স বলছে, ইরানের ভূখণ্ডে সৌদি আরবের এমন সরাসরি সামরিক অভিযানের খবর আগে কখনোই জানা যায়নি। কাজেই এটা স্পষ্ট করছে যে প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় সৌদি আরব অনেক বেশি সাহসী হয়ে উঠছে।
ওই দুজন পশ্চিমা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমানবাহিনী গত মার্চের শেষের দিকে অভিযান পরিচালনা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের একজন বলেন, ‘সৌদি আরব আক্রান্ত হওয়ার পরই পাল্টা জবাব দিতে হামলার পথ বেছে নেয়।’
সৌদি আরবের এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। আর সৌদি সরকার এসব হামলার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার কিংবা অস্বীকার-কোনোটাই করেনি। আদৌ হামলা চালানো হয়েছিল কি না, জানতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থাটি। এ বিষয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরাসরি কিছু বলতে চাননি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর সামরিক সম্পর্ক রয়েছে সৌদি আরবের। নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য দেশটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধ মার্কিন সামরিক ছাতার নিচে থাকা সৌদি আরবকেও অরক্ষিত করে তুলেছে। ওই সময় মার্কিন সুরক্ষাবলয় ভেদ করেই সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে ইরান।
প্রতিবেশীদের পাল্টা আঘাত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও দ্রুত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) ছয়টি দেশে হামলা চালায়। এর মধ্যে সৌদি আরবও ছিল। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে।
ইরানের পক্ষ থেকে শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোয় থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নয়; বরং বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর, তেল শোধনাগারেও হামলা চালানো হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালি। এতে বাধাগ্রস্ত হয় বিশ্ববাণিজ্য। ক্ষতির মুখে পড়ে ইরানের তেলসমৃদ্ধ প্রতিবেশীরাও।
ওই সময় ইরানে পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত-গত সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এর পরপরই সৌদি আরবের ‘গোপনে’ হামলার খবর জানাল রয়টার্স।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির সময়ে ইরানের হামলায় বিপর্যস্ত উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো যে পাল্টা আঘাত হেনেছে, সে খবর এত দিন অনেকটা আড়ালে ছিল। কিন্তু যুদ্ধের সময় দেশ দুটির (সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব) মনোভাব পুরোপুরি ভিন্ন দেখা গেছে। আরব আমিরাত বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। দেশটি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ক্ষয়ক্ষতির মূল্য আদায় করতে চেয়েছে। তেহরানের সঙ্গে খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ করেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবকে সংঘাত আরও বাড়তে না দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে সৌদি আরব। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরাসরি কিছু বলতে রাজি হননি। তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উত্তেজনা প্রশমন, সংযম প্রদর্শন ও উত্তেজনা কমানোর পক্ষে আমরা আমাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি, যাতে এ অঞ্চল ও সৌদি আরবের জনগণের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।’
হামলা ও উত্তেজনা প্রশমন
সংশ্লিষ্ট ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানকে এসব হামলার কথা জানানো হয়েছে। আরও হামলা হলে কড়া পাল্টা জবাবের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এরপর দেশ দুটি নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে। উত্তেজনা কমিয়ে আনতে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছায়।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান-বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে সৌদি আরবের প্রতিশোধমূলক হামলা এবং এরপর উত্তেজনা কমিয়ে আনার পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ বাস্তবে উপলব্ধি করেছে যে নিয়ন্ত্রণহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি অগ্রহণযোগ্য মূল্য ডেকে আনতে পারে।
ওয়াশিংটন ও তেহরান গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। যুদ্ধবিরতির আগে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা প্রশমনের এ অনানুষ্ঠানিক চেষ্টা বাস্তব রূপ পায়। বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। জবাব মেলেনি।
ইরানের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, তেহরান ও রিয়াদ উত্তেজনা কমাতে রাজি হয়েছে। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ‘শত্রুতা বন্ধ করা, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা ও উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকানো’।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও সৌদি আরব। আঞ্চলিক নানা সংঘাতে এত দিন দেশ দুটি পরস্পরবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সমর্থন করে এসেছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতার ফলে দেশ দুটি কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে একমত হয়।
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বেশির ভাগ উপসাগরীয় দেশ জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে গভীর সংকটে পড়ে। তবে লোহিত সাগর দিয়ে নৌ চলাচল উন্মুক্ত থাকায় জ্বালানি তেল রপ্তানি চালু রাখতে পেরেছে সৌদি আরব। এ কারণে যুদ্ধের মধ্যেও দেশটি অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক সুরক্ষিত থাকতে পেরেছে।
হামলা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
গত ১৯ মার্চ রাজধানী রিয়াদে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘প্রয়োজন মনে করলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।’ এর ঠিক তিন দিন পর রিয়াদে নিযুক্ত ইরানের সামরিক অ্যাটাশে ও ইরানি দূতাবাসের চারজন কর্মকর্তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সৌদি আরব।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চের একেবারে শেষের দিকে এসে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা অনেকটাই ফিকে হয়ে আসতে শুরু করে। দেশ দুটির মধ্যে একটি বোঝাপড়া তৈরি হয়। এর পেছনে কাজ করেছিল পারস্পরিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং হামলা হলে কড়া পাল্টা জবাব দেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের হুমকি।
যদিও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে দেশটির ভূখণ্ডে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। এপ্রিলের ১ থেকে ৬ তারিখে সংখ্যাটি নেমে দাঁড়ায় ২৫-এর কিছু বেশিতে।
ওই সময়ে ইরাকের ভূখণ্ড থেকেও সৌদি আরবে বেশ কিছু হামলা হয়েছিল। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশটির দিকে ৩১টি ড্রোন ও ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
এ পরিস্থিতিতে ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিশোধ নিতে নতুন করে ভাবতে শুরু করে সৌদি আরব। তবে দৃশ্যপটে হাজির হয় পাকিস্তান। সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে দেশটি। সেই সঙ্গে চলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, সংযমের আহ্বান। সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর উত্তেজনা অনেকটা ফিকে হয়।
ছবি : সংগৃহীত
১ বছরে ২ ঈদ, হজ হয় ১ বার। শৈশব থেকে আমরা এমনই জেনে এসেছি। কিন্তু অচিরেই সেই ধারায় ছেদ পড়তে চলেছে। এমন এক বছর আসছে, যেখানে ২ হজ আর ৩ ঈদের দেখা মিলবে। এই তথ্য জানিয়েছেন সৌদি আরবের জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদ।
এর কারণ হিজরি চান্দ্র বর্ষ ও ইংরেজি সৌর বর্ষের হিসাবের পার্থক্য। হিজরি বছর চাঁদের কলার ওপর নির্ভর করে। এতে দিন থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫। ইংরেজি বছর সূর্যের হিসাবে চলে। এতে দিন থাকে ৩৬৫ বা ৩৬৬। তাই প্রতি বছর হিজরি তারিখ প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।
২০৩৯ সালের শুরুতেই আসবে প্রথম ঈদুল আজহা। তারিখ ৬ জানুয়ারি, হিজরি ১৪৬০ সালের ১০ জিলহজ। এটি হজের শেষ দিন এবং কোরবানির বড় উৎসব। প্রায় ১২ মাস পর চান্দ্র বছরের চক্র আবার ঘুরে আসবে। তখন আরেকটি হজ মৌসুম শুরু হবে। ২৬ ডিসেম্বর হবে দ্বিতীয় ঈদুল আজহা। সেটি হিজরি ১৪৬১ সালের ১০ জিলহজ।
এর মানে, এক সৌর বছরে মক্কায় দুবার হজ হবে। এটি খুবই বিরল। দুই হজেই আরাফার দিন আলাদা করে আসবে। ঈদের আগের এই দিনে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে জমায়েত হয়ে দোয়া করেন।
এই দুই ঈদের মাঝখানে পড়বে ঈদুল ফিতর। এটি ১৯ অক্টোবর হওয়ার কথা। ফলে এক বছরে দুটি কোরবানির ঈদ ও একটি আনন্দের ঈদ মিলিয়ে তিনটি ঈদ হবে।
এই পার্থক্য শুধু হজের মৌসুমে সীমাবদ্ধ নয়। রমজানেও কাছাকাছি সময়ে এমন ঘটনা ঘটবে। ২০৩০ সালে মুসলিমরা একই ইংরেজি বছরে দুটি রমজান পাবেন। একটি শুরু হবে জানুয়ারিতে, অন্যটি ডিসেম্বরে। ৩৩ বছর পর এমন হবে। এর আগে এটি ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে বেশিদিন বাঁচে বাংলাদেশিরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ শুমারিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে ২০২৩ সালে ভারতীয়দের গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর। পাকিস্তানিদের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ২ বছর। আর বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৭ বছর।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মানুষের বেঁচে থাকার সময় আরও বেশি। এ দুটি দেশের গড় আয়ু যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ৫ বছর এবং ৮১ দশমিক ৪ বছর। তবে বেশিদিন বাঁচা মানেই নির্দেশ করে না তারা সুস্থ জীবন-যাপন করেন। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার হার গড় আয়ুর চেয়ে কম।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) নতুন তথ্যটি প্রকাশ করে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি।
এদিকে করোনার আগে বৈশ্বিক গড় আয়ু যা ছিল ২০২৩ সালে এটি প্রায় আগের জায়গায় ফিরে এসেছে। তবে সুস্থভাবে মানুষের বেঁচে থাকার বিষয়টি ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে।
২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৩ বছরে। যা ২০১৯ সালের গড় আয়ু ৭৩ দশমিক ৪ বছরের প্রায় কাছাকাছি। ওই বছরের শেষ থেকে বিশ্বে করোনা মহামারি দেখা দেয় এবং ২০২০ সালে তাণ্ডব চালায়। ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৫ শতাংশে নামে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাটা ডিপার্টমেন্টের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক এ নিয়ে বলেছেন, “জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি গড় আয়ু হওয়া একটি বড় অর্জন। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষ যেন সুস্থ শরীর নিয়ে বেশিদিন বাঁচতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সাধারণ নাগরিকদের ‘মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ’ দেবে দেশটির সেনাবাহিনী।
ইরানি ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি (ডব্লিউএএনএ) জানায়, জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করতে একটি কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করতে যাচ্ছে ইরানি সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিষয়ক উপ-প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আলিয়ান-নেজাদ জানান, ‘জানফাদা’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচিটি আজ রোববার (০৪ অক্টোবর) থেকে রাজধানী তেহরানের তিনটি সুবিধাজনক স্থানে পরিচালিত হবে।
আলিয়ান-নেজাদ বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের ‘মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ’ এবং পরবর্তীতে আরও উন্নত কোর্স প্রদানের জন্য সেনাবাহিনীর চারটি শাখার সদস্যদের বিভিন্ন নির্ধারিত ‘ফিল্ড-গ্যারিসন’ সাইটে মোতায়েন করা হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের এক যুদ্ধবাজ দেশ ইসরায়েল। গাজায় গণহত্যাসহ হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। আর এসব যুদ্ধের জোরে ফুলেফেঁপে উঠেছে দেশটির ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি। গত পাঁচ বছরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। আর সে অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। খবর দ্য প্রিন্টের।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
‘ডিফেন্স ডিভিডেন্ডস অব দ্য আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৮৩০ কোটি ডলার। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সে আয় বেড়ে ২০২৫ সালে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলারে।
আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো। এ তিন দেশই ইসরায়েলের অস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হয়ে উঠেছে। তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কিনেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
২০২২ সালে ইসরায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস আমিরাতের কাছে মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্পাইডার এমআর বিক্রি করে। একই বছর এলবিট সিস্টেমস ও ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজসহ (আইএআই) আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমিরাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি রপ্তানি করে।
শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই দুই পক্ষের সম্পর্ক সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিরক্ষা খাতেও তাদের সহযোগিতা বাড়ছে। আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ইডিজিই ইসরায়েলের অন্তত আটটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলেও এবার ট্রাম্প বলছেন, সেই পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে ইরান। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো আপস করবে না বলে জানিয়েছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি সমাবেশে যোগ দিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এরই মধ্যে অষ্টম মাসে পড়েছে।
ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ‘প্রায় ছেড়েই দিয়েছে’ বলে দাবি করার পাশাপাশি বর্তমানে তেলের দাম কমছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তি রয়েছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প ট্রাম্প বলেন, ‘তেলের দাম কমছে। এখন তেলের দাম কম। বাইডেন প্রশাসনের সময়ের চেয়েও এখন দাম কম। অথচ তারা ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কিছুই করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান, আপনারা জানেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পরিকল্পনাই প্রায় ছেড়ে দিয়েছে।’
অবশ্য পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকার করে আসছে ইরান। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে আনার প্রস্তাবও দেন তিনি।
তবে ইরান বলেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস তারা করবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কর্মসূচির কাঠামোগত কোনো পরিবর্তনও করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস উপকূলে ছয় আরোহী নিয়ে একটি মেডিকেল ফ্লাইট নিখোঁজ হয়েছে। বারমুডা থেকে রওনা হওয়া বিমানটির মাঝ আকাশে হঠাৎ রেডিও ও রাডার—দুই ধরনের যোগাযোগই বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। এর আগে বিমানটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নেমে আসে এবং পাইলট জরুরি পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি মেডিকেল ফ্লাইট স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটিতে থাকা ছয়জনের সন্ধানে আকাশ ও সমুদ্রপথে তল্লাশি চালাচ্ছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বিবিসিকে জানিয়েছে, গালফস্ট্রিম জি-১০০ বিমানটির সঙ্গে হঠাৎই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় সময় রাত ১টার পরপরই বিমানটির সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
ম্যাসাচুসেটসের নানটাকেট দ্বীপের উপকূলে আকাশ ও সমুদ্রপথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কোস্টগার্ডের নর্থইস্ট ডিস্ট্রিক্ট।
ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল।
কোস্টগার্ড প্রকাশিত বিমানের টেইল নম্বর অনুযায়ী, বিমানটি ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেসের। রোগীদের চিকিৎসা শেষে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক মেডিকেল ফ্লাইট পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি।
ল্যাটিটিউডের ফ্লাইট অপারেশন্স পরিচালক ক্ল্যারেন্স টোগেরেটজ সিবিসি নিউজকে জানান, বিমানে দুই পাইলট ও দুইজন মেডিকেল কর্মী ছিলেন। তারা সবাই কানাডার নাগরিক।
টোগেরেটজ জানান, একজন রোগী ও তার স্বজনকে নিতে ওই বিমানটির ক্রুরা বারমুডায় গিয়েছিলেন। ওই রোগী ও তার স্বজন কানাডার নাগরিক নন।
ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের ট্র্যাকার থেকে দেখা যায়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটি হঠাৎ অনেকটা নিচে নেমে আসে। প্রায় ৭ হাজার ৩০০ মিটার (২৪ হাজার ফুট) উচ্চতা থেকে বিমানটি নেমে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মিটার (১১ হাজার ফুট) উচ্চতায় চলে আসে।
লাইভএটিসি ডটনেট থেকে পাওয়া রেডিও যোগাযোগের তথ্যের ভিত্তিতে বোস্টন গ্লোব জানিয়েছে, বিমানটির পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছিল।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার পাইলটকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি কোনো নির্দেশনা দেখতে না পেয়েই এগিয়ে আসছেন? আপনি কি সেটাই বলেছেন? আপনি কি জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করছেন, নাকি করছেন না?’
পাইলটের জবাব শোনা যায়নি। এরপর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার বলেন, ‘আপনার কথা খুব দুর্বল শোনা যাচ্ছে। তাই আপনি জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন কি না, আপনার জবাবটা আমি শুনতে পাইনি।’
পরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার নিশ্চিত করেন যে পাইলট জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিলেন। এরপর স্থানীয় সময় রাত ১টার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডিসপ্যাচার জরুরি উদ্ধারকারী দলকে বিমানটির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। তিনি জানান, বিমানটিতে ‘বৈদ্যুতিক সমস্যা’ দেখা দিয়েছে।
পরে ওই ডিসপ্যাচার জানান, ‘বিমানটির রেডিও ও রাডার—দুটোরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’