সংগৃহীত ছবি
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিরাপদে সংরক্ষণ করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র এমন বলেছে।
সূত্রের দাবি, প্রতিপক্ষ যেন সহজে ইউরেনিয়াম মজুতের ধারেকাছে পৌঁছাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ইরান কিছু টানেল ধ্বংস করেছে এবং প্রবেশপথে বিস্ফোরক মাইন বসিয়ে দিয়েছে। সমৃদ্ধ এ ইউরেনিয়ামের সক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পর্যায়ের।
এখন ইরান থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ প্রায় আধা টন ইউরেনিয়াম ভিন্ন দেশের পক্ষে সংগ্রহ করার কাজটিও আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ হয়ে গেছে। এক মাস আগেও পরিস্থিতি এত জটিল ছিল না। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান চালিয়ে ইউরেনিয়াম জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এ নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় একটি বড় জটিলতা তৈরি করেছে। কারণ, এ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া ও ধ্বংস করার দায়িত্ব কে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল সিএনএন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াটাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রাখা হয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, দুই দেশ এমন একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে, যার আওতায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। পরে সেটি ধ্বংস করে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
তবে চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য মিলছে না। তাই পুরো বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। একটি খসড়া চুক্তির বিষয়বস্তু ফাঁস হওয়ার পর ট্রাম্প তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সূত্রগুলো বলছে, এখন ইরানের জন্যও এ ইউরেনিয়াম সরানো খুব কঠিন ও বিপজ্জনক কাজ হবে। কারণ, এর জন্য ভারী খননযন্ত্র প্রয়োজন হবে এবং মাইন অপসারণের মতো তৎপরতা চালাতে হবে। এ কাজগুলো কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ।
পারমাণবিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ স্কট রোয়েকার বলেছেন, যদি খবরটি সত্যি হয়, তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করার কাজটি আরও জটিল হয়ে যাবে।
স্কট রোয়েকার ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনএনএসএ) পারমাণবিক উপাদান অপসারণ দপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, যদি আলোচনায় ইরানকে ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত এক জায়গায় এনে দেখাতে ও পরে তুলে দিতে বলা হয়, তবে এর দায়িত্ব মূলত তার ওপরই পড়বে।
কিন্তু সমস্যা হলো, ইরান হয়তো দাবি করতে পারে যে ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বা উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এতে আন্তর্জাতিক মহল নিশ্চিত হতে পারবে না যে ভবিষ্যতে সেই উপাদান আবার ব্যবহার করা হবে কি না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ইরানের ইস্পাহান পারমাণবিক স্থাপনার বিধ্বস্ত টানেলের ভেতরে আছে। কিছু অংশ অন্য জায়গায় রাখা আছে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারণা।
এর আগে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মে মাসের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালিয়ে এ পারমাণবিক উপাদানগুলো দখল করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সেটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।
এর পর থেকে ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করার স্থানগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে।
ট্রাম্প আগেও স্বীকার করেছেন যে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়িয়ে ইরান কখনো ওই ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক উপাদান উদ্ধার করতে পারবে কি না, তা নিয়ে মে মাসে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ওখানে কী হচ্ছে, আমরা ঠিকই জানি। এখন পর্যন্ত কেউ এর কাছেও যেতে পারেনি।’
তবে দুটি সূত্রের মতে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করায় ইরান হয়তো তাদের এ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক সম্পদ ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে তৎপর হয়েছে।
এখন দ্রুতই যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েও যায়, তারপরও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে হলে সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ পারমাণবিক ইউনিটের প্রয়োজন হবে। এই ইউনিট টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ আলোচক জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি এ ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান থেকে ইউরেনিয়াম নিয়ে আসার কাজ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। এমনকি সবচেয়ে অভিজ্ঞ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদেরও এটি শেষ করতে অনেক সময় লাগবে। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, ইউরেনিয়াম সরাতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের দ্বিসাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
বাংলাদেশের এক মন্ত্রী সম্প্রতি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে নতুন করে পর্যালোচনার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (এনএসএ) ঢাকা সফরের খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য বা হালনাগাদ খবর নেই।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আবারও জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যু তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং এটি ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে কোনো বহিঃস্থ পক্ষের কোনো অধিকার বা এখতিয়ার নেই।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে ভারত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর প্রকাশিত আইবিএসএ যৌথ বিবৃতিতে গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন না করার কথা বলা হয়েছে।
ভারত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নিয়ে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কোনো আলোচনা করেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বৈঠকে উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানে অটল রয়েছে।
পারস্য উপসাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় নাবিকের সংখ্যা সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রণধীর জয়সোয়াল বলেন, পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে ভারতের ছয়টি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। এ ছাড়া ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে ১২টি জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজে ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া পুরো অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দেশটির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নিয়মিত এসব নাবিকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সম্প্রতি হাঙ্গেরির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) তুরস্কের সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এসসিওতে নতুন কোনো সদস্য নেওয়ার বিষয়টি সংগঠনটির সব সদস্যরাষ্ট্রের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
ঈদে ছুটি মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ায়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রাষ্ট্রীয় ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মুসলিমদের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এর আগে অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির আইনে দুই ঈদের পৃথক স্বীকৃতি ছিল না।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ শীর্ষক অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭ (এবি ২০১৭)-এ স্বাক্ষর করেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। সান ফ্রান্সিসকোর ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি বিলটি উত্থাপন করেন।
তবে এই স্বীকৃতির অর্থ ঈদের দিন ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি দপ্তর, স্কুল, আদালত, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে- এমন নয়। আইনে সরকারি ক্যালেন্ডারে ঈদকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মী, স্কুল জেলা ও কমিউনিটি কলেজের জন্য কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে শাওয়াল মাসের প্রথম দিনকে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখকে ঈদুল আজহা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ঈদের তারিখ প্রতিবছর পরিবর্তিত হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো ইংরেজি তারিখের পরিবর্তে ইসলামি মাসের তারিখকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।
আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এটি মূলত বেসামরিক বা সরকারি ক্যালেন্ডারভিত্তিক স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আচার বা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে না।
মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন আইনে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদের নামাজ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে সেটিকে অনুমোদিত অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
ফলে ঈদের দিন ক্লাস, পরীক্ষা বা অন্য কোনো শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অনুপস্থিতির সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ঈদের দিন স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
তবে স্কুল বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক নয়। সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। একইভাবে কমিউনিটি কলেজগুলোও স্থানীয় চুক্তির মাধ্যমে ঈদের দিন বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করতে পারবে।
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ম্যাট হ্যানি এবি ২০১৭ উত্থাপন করেন। বিভিন্ন কমিটির অনুমোদনের পর ২৬ মে অ্যাসেম্বলিতে বিলটি ৬৪-১ ভোটে পাস হয়।
পরে সিনেটের অনুমোদন এবং সংশোধনীতে অ্যাসেম্বলির সম্মতির পর ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এতে স্বাক্ষর করেন।
আশ কালরা, স্টেফানি নগুয়েন ও আইশা ওয়াহাবসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। কেয়ার-ক্যালিফোর্নিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স এবং মুসলিম ইমপ্যাক্ট কাউন্সিলও বিলটির পক্ষে কাজ করেছে।
নতুন আইনের ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ঈদের দিনের অনুপস্থিতির জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি হলো এবং সরকারি কর্মীদের জন্যও ঈদের স্বীকৃতি সরকারি কাঠামোয় যুক্ত হলো। স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো স্থানীয়ভাবে ঈদের দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তবে ঈদের স্বীকৃতি পাওয়ার পরও আদালত, সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি বা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ছবি : সংগৃহীত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সেটি বাংলাদেশে আসেনি। তবে কেন বাংলাদেশের ওই বিমানটিকে উড়তে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের দাবি, আকাশসীমা বন্ধের বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয় বরং ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব আবেদন দেশটির প্রচলিত নিয়ম, বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়।
হাইকমিশন জানায়, রূপপুরের জ্বালানি পরিবহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো যে বিষয়টির কথা বলছে, সেটি মূলত ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমার অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত।
এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পাকিস্তান বলেছে, বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।
কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। তখন পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয় বলে জানান রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা।
তবে রোসাটম জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে পুনরায় ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু হয়ে বছরের শেষ নাগাদ সব চালান সম্পন্ন করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করেছে।
আমেরিকা যখন ইরানের বিমান খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সাফল্য উদযাপন করছে, ইরান অপরদিকে দাবি করছে- তারা শুধু তেহরান থেকেই প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে আমেরিকা ইরানের পুরো বিমান খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতে, এ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে "অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ" করা। ওয়াশিংটন বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল নিয়ম মেনে চলার জন্য।
এরপর বেসেন্ট ঘোষণা দেন, সারাবিশ্বে ইরানের সমস্ত এয়ারলাইন্সের "কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'যদি তারা অবতরণ করে, তবে আপনি তাদের জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবেন না, অবতরণ পরিষেবা দিতে পারবেন না, এমনকি তাদের কাছে টিকিট বিক্রি পারবেন না- অন্যথায় আপনাকে ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হবে।'
মার্কিন এ পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে তেহরান সোমবার জানায়, তারা জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। তেহরানের ফ্লাইট অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর
তথ্য অনুযায়ী, রবিবার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করেছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের দুই দিনের দৈনিক গড় ফ্লাইট সংখ্যা (৮০ থেকে ৯০টি)-র তুলনায় এটি অনেক কম। ইরানের প্রধান দুটি এয়ারলাইন্স- জাতীয় পতাকাবাহী 'ইরাম এয়ার' এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন 'মাহান এয়ার' এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রবিবার তেহরান বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র ৫টি মাহান এয়ার এবং ২টি ইরান এয়ার পরিচালনা করেছে। অথচ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে তারা প্রত্যেকে গড়ে প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। এই পরিসংখ্যানটি বেসেন্টের দেওয়া তথ্যের (যিনি বলেছিলেন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে) চেয়ে বেশি, তবে তেহরান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি করা ৬০টি ফ্লাইটের চেয়ে কম।
বিমানবন্দরের পরিচালককে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে যে, 'এখনও ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান পরিষেবা চালু রয়েছে।'
চীন, রাশিয়া এবং তুরস্ক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করছে তেহরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক মিত্র বেইজিং মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞাকে "অবৈধ এবং একপাক্ষিক" হিসেবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মাহান এয়ারের ফ্লাইটগুলো আগের মতোই চীনের বিমানবন্দরগুলোতে যাতায়াত বজায় রেখেছে।
রাশিয়া এবং পাকিস্তানেও ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে, যদিও কোনো দেশই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
তবে মাহান এয়ার জানিয়েছে, তুর্কি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা তুরস্কে তাদের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে। তা সত্ত্বেও জাতীয় পতাকাবাহী ইরান এয়ার ইস্তাম্বুলে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে, পাশাপাশি ইরানের আরও কয়েকটি ছোট এয়ারলাইন্স তুরস্কের অন্যান্য শহরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ এবং মালয়েশিয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রয়োগ করা হয়নি, যেখানে মূলত ইরানের ছোট এয়ারলাইন্সগুলো সেবা দিয়ে থাকে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে কি না, তা তারা এখনো ঘোষণা করেনি।
গাল্ফ বা পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ ইউরোপ, এশিয়া কিংবা আফ্রিকায় যেতে ইচ্ছুক ইরানি যাত্রীদের জন্য অন্যতম প্রধান সংযোগকেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূখণ্ডে ইরানের সব ধরনের আসা-যাওয়ার ফ্লাইট "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত" স্থগিত করেছে। কুয়েতের সিভিল এভিয়েশনের ডিরেক্টরেট জেনারেলের একটি সূত্র সোমবার এএফপি-কে জানান, সাত মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর কুয়েতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও তাদের বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে। ইরানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা 'আইএসএনএ' জানিয়েছে, ইরানি ফ্লাইটগুলো এখন আর আজারবাইজান ও জর্জিয়া এবং ইরাকে যেতে পারছে না। তবে ইরাক এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য ছাড় চাইছে ইরাক। ইরাক সরকার শনিবারে জানিয়েছে, ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পেতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে রোগী, শিক্ষার্থী ও পুণ্যার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখা থেকে বলা হয়েছে, 'ইরাকের কয়েকটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরকে এসব বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য ইরাক সরকার মার্কিন পক্ষের সাথে সরাসরি আলোচনা করছে।'
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি ছাড় পেলে চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা, ধর্মীয় সফর এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থসহ মানবিক কারণে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
ইরানি এয়ারলাইন্সগুলো মূলত ইরাকি শিয়া পুণ্যার্থীদের ইরানের পবিত্র শহরগুলোতে কিংবা ইরানিদের ইরাকের তীর্থস্থানগুলোতে যাতায়াতের সুবিধা দিয়ে থাকে। এছাড়া এ ফ্লাইটগুলো ইরানে পড়তে যাওয়া ইরাকি শিক্ষার্থী এবং সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের যাতায়াতে সাহায্য করে।
ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-ইউ টাউনশিপের একটি হাসপাতালে সামরিক সরকারের বিমান হামলায় রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বজনসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এ হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছেন, এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সোমবার গভীর রাতে ম্রাউক-ইউ জেনারেল হাসপাতালে সামরিক বিমানের ফেলা বোমা আঘাত হানে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা জানান, হামলায় হাসপাতালটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতালে সরাসরি বোমা আঘাত করায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তুর্কের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের। তবে মিয়ানমারে বিদ্যমান ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’র কারণে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালত বা ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’-এর মতো ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুসও হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ওই এলাকায় জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা ও অস্ত্রোপচারের প্রধান কেন্দ্র ছিল হাসপাতালটি। হামলায় এর অপারেশন থিয়েটার ও রোগীদের প্রধান ওয়ার্ড পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
টেডরস জানান, এ বছর মিয়ানমারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা কর্মীদের ওপর এটি ৬৭তম নিশ্চিত হামলা। স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রতিটি হামলা মানেই মানবতার ওপর হামলা।
ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং জানান, হামলার সময় ৩০০ শয্যার হাসপাতালটি রোগীতে পূর্ণ ছিল। চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ ছিল বেশি। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ৩১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং ৬৮ জন আহত হয়েছিলেন। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৩ জনে দাঁড়ায়।
হামলার পর হাসপাতালটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ছাদ ধসে পড়ে এবং স্তম্ভ ও বিম ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে হতাহতদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ম্রাউক-ইউয়ের ২৩ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, সোমবার রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে হাসপাতালটিতে আগুন জ্বলতে এবং অনেক মরদেহ ও আহত মানুষ পড়ে থাকতে দেখেছেন।
মিয়ানমারে সামরিক সরকার বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা বাড়িয়েছে। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত সরকার ২ হাজার ১৬৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে। ২০২৪ সালে এ ধরনের হামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭১৬টি।
২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাত চলছে। অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো আরাকান আর্মিসহ বড় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট বেঁধে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আরাকান আর্মি রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি থেকে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছে এবং বেলজিয়ামের চেয়েও বড় একটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের ম্রাউক-ইউ টাউনশিপ গত বছর থেকেই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কোনো লড়াই হয়নি।
ছবি : সংগৃহীত
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলেও ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে ৭৪ হাজারের বেশি পর্যটক ভারতে গেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। বিদেশি পর্যটক আগমনের হিসাবে আগস্টে বাংলাদেশ ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান উৎসদেশ।
ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে মোট বিদেশি পর্যটক আগমন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার। ২০২৫ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি পর্যটক আগমন বেড়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। এই বৃদ্ধিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভিসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আগমনের এই বৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে আগস্টে বাংলাদেশি পর্যটক বৃদ্ধির পেছনে চিকিৎসা, কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা নাকি অবকাশযাপন—কোন কারণের ভূমিকা কতটা, সে বিষয়ে আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভারতে যান। কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বাই ও দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের কাছে পরিচিত। এর পাশাপাশি কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার জন্যও বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি অংশ ভারতে যান।
বিশেষ করে কলকাতার নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে বাংলাদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। দুই দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির মিলও কলকাতাকে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, চীন থেকেও ভারতে পর্যটক আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগস্টে চীন থেকে ৯ হাজারের বেশি পর্যটক ভারতে গেছেন, যা ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে পর্যটক আগমন বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ করে। কানাডা, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা থেকেও পর্যটক আগমন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ও চীন থেকে পর্যটক আগমনের এই বৃদ্ধি ভারতের পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা কারণে এই দুই দেশের নাগরিকদের ভারতে ভ্রমণে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আগস্টের পরিসংখ্যানে দুই দেশ থেকেই পর্যটক আগমন বৃদ্ধির বিষয়টি নজর কেড়েছে।
পর্যটন নীতি-সংক্রান্ত সংস্থা ‘অতিথি ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হেমন্ত যোশি এই পরিসংখ্যানকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন। তবে তার মতে, মাত্র এক মাসের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পর্যটনে ঋতুভেদে পর্যটকের সংখ্যা ওঠানামা করে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
হেমন্ত যোশির মতে, শুধু বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেই পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না। পর্যটকরা কত দিন ভারতে অবস্থান করছেন, কত অর্থ ব্যয় করছেন এবং কোন কোন অঞ্চলে ভ্রমণ করছেন-এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশি পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণে উৎসাহিত করা গেলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসাসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাত উপকৃত হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, আগস্টের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে ভারতের বিদেশি পর্যটন বাজারে বাংলাদেশ ও চীনের পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির ধারা পরবর্তী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।