দীপাবলিতে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে। ছবি: সংগৃহীত
প্রতীকী ছবি
ভুয়া সংবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের দোহাই দিয়ে চালু করা ‘চীন-পাকিস্তান তথ্য করিডোর’ (সিপিআইসি) মূলত সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার এবং স্বাধীন গণমাধ্যম দমনের এক বিপজ্জনক যৌথ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার তালিকার তলানিতে থাকা পাকিস্তান ও চীনের সরকার নিজেদের স্বার্থে নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার ও চিন্তার স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহার করছে।
দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবর ইসলামাবাদে অবস্থিত পাকিস্তান-চীন ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে সিপিআইসি চালু করা হয়। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইদং উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার প্রকল্পে সমর্থনের জন্য চীনা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান।
সিপিআইসির আওতায় দুই দেশের ১৮টি সংবাদমাধ্যম ও গবেষণা সংস্থা সংবাদ আদান-প্রদান, যৌথ কনটেন্ট তৈরি এবং তথাকথিত ‘বিভ্রান্তিকর’ খবরের জবাব দিতে কাজ করবে। মূলত বিলিয়ন ডলারের চীনা বিনিয়োগ প্রকল্প ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ (সিপেক)-এর ‘কণ্ঠস্বর’ হিসেবে এর ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রকাশ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এই উদ্যোগকে পাকিস্তানি গণমাধ্যমের ওপর চীনের বড় ধরনের কর্তৃত্ব ও তথ্য পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের যৌথ কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এই পরিকল্পনার অধীনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ও কয়েকটি বেসরকারি চ্যানেলের পাশাপাশি চীনের সিনহুয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) ও পিপলস ডেইলির মতো রাষ্ট্রীয় মাধ্যম যুক্ত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো এর অধীনস্থ সরকারি ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ ইউনিট, যা মূলত স্বাধীন সাংবাদিকদের জন্য একটি নতুন ফাঁদ তৈরি করেছে।
এমন এক সময়ে এই ইউনিট গঠন করা হয়েছে যখন পাকিস্তানে ‘ভুয়া খবর’ শব্দ দুটি ব্যবহার করেই যে কোনো সাংবাদিককে জেলে পুরে দেওয়া সম্ভব। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সরকার তাদের ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন (পেকা) সংশোধন করে ২৬-এ ধারা যুক্ত করে। এতে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়।
পরবর্তীতে আইনটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতা দমনে ব্যবহার করা হতে থাকে। বেলুচিস্তানের গ্বাদার বন্দরের দুর্নীতি কিংবা সিপেক-এর ঋণ নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা ‘ডন’ ও ‘রাফতার’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের গ্রেফতার ও আইনি নোটিশের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
স্বাধীন সংস্থা ‘ফ্রিডম নেটওয়ার্ক’-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পাকিস্তানে সাংবাদিকদের ওপর ১২৯টি আইনি ও শারীরিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে, যার বড় অংশই ঘটেছে পেকা আইনে। আরএসএফের ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম। কঠোর আইনি হয়রানির ভয়ে সাংবাদিকরা এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করছেন।
অপরদিকে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে চীনের অবস্থান ১৭৮তম এবং বর্তমানে ১২১ জন সংবাদকর্মীকে বন্দি করে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘সাংবাদিকদের কারাগারে’ পরিণত হয়েছে। কভিড-১৯ এর সময় উহান থেকে রিপোর্ট করায় কারাবরণকারী নাগরিক সাংবাদিক ঝাং ঝানকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুনরায় চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এমন এক পরিস্থিতিতে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এখন সিপিআইসির মাধ্যমে পাকিস্তানে সংবাদের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নির্ধারণের এখতিয়ার পাচ্ছে। ফ্রিডম হাউসের তথ্য মতে, বেইজিংয়ের অপছন্দের সংবাদ বন্ধে বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপ করা চীনের পুরোনো কৌশল।
কোন তথ্য বিভ্রান্তিকর তা নির্ধারণের ক্ষমতা নিরপেক্ষ কোনো কাঠামোর হাতে না রেখে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সরকারের হাতে তুলে দেওয়ায় চরম স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। যে সরকারগুলোর অনিয়ম উন্মোচন করা সাংবাদিকদের কাজ, তারাই এখন খবরের সত্যতা বিচারক। ফলে সিপেকের ঋণ, বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া, গ্বাদারের প্রতিবাদ কিংবা চীনা কর্মীদের ওপর হামলা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সাংবাদিকদের ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা সহজ হবে।
তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং) নীতিগতভাবে প্রয়োজনীয় হলেও সরকার যখন নিজের বিরুদ্ধে যাওয়া অনুসন্ধানের বিচারক বনে যায়, তখন নিরপেক্ষতা বজায় থাকে না। একটি নিরপেক্ষ রিপোর্ট প্রকাশ করার মাশুল হিসেবে যদি চাকরি হারানো বা গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তবে অনেক সাংবাদিকই আর অনুসন্ধানী প্রশ্ন তোলার ঝুঁকি নেবেন না। পরিণতিতে সত্য খবর জনসমক্ষে অধরাই থেকে যাবে এবং ক্ষমতাবানরা নিজেদের সর্বময় জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগালের উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগালের উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকাডুবির ঘটনায় ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে মাত্র একজনকে। দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ অন্য যাত্রীদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সেনেগালের রাজধানী ডাকার থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার উত্তরে কেবেমের উপকূলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
নৌকাটি অনিয়মিত পথে ইউরোপে অভিবাসনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে প্রতিবছর বহু অভিবাসীর মৃত্যু হচ্ছে। অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ওয়াকিং বর্ডারসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই এ পথে ৬৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় প্রাণ হারাচ্ছেন হাজারো মানুষ। সেনেগালের উপকূলে সর্বশেষ এ নৌকাডুবির ঘটনা সেই ঝুঁকির ভয়াবহতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
জাপানের মধ্যাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগাত রাতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন দোকানের জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, বিঘ্ন ঘটে ট্রেন চলাচলেও। এরপর রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে প্রথমটির তুলনায় কম মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৪ মিনিটে পশ্চিম শিজুওকা প্রিফেকচারে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তবে এর ফলে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আইচি প্রিফেকচারের এক জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে বেশির ভাগই সামান্য আহত হওয়ার ১৬টি খবর পেয়েছেন তারা।প্রতিবেশী শিজুওকা প্রিফেকচারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত তিন নারী জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে স্থানীয় পত্রিকা চুনাইচি শিমবুন ও তোকাই টেলিভিশন পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই অঞ্চলে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। আইচি অঞ্চলের তোয়োহাসি শহরে একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের কারণে রোববার সকালে আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিলম্ব ও স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনও ছিল। ভূমিকম্পের কম্পন পশ্চিমে ওসাকা পর্যন্ত অনুভূত হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে দ্বিতীয় তলার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পড়ে যাওয়ার পর সেখানে বসবাসকারী এক বিদেশিকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
পরে আরেক ভূমিকম্প
রোববার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে কুমামোতো অঞ্চলে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। দ্বিতীয় ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এখনো গত জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওই ভূমিকম্পে ৩৮ জন নিহত হন, বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন।
জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটিতে প্রতিবছর শত শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০১১ সালে সমুদ্রতলে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সুনামি আঘাত হানে জাপানে। এতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার গঠনের চেষ্টা চালালেও তাকে পাশ কাটিয়ে আইজেনকটকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এল।
প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় আইজেনকটকে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেবেন প্রেসিডেন্ট।
গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। নির্বাচনে আইজেনকটের চারদলীয় জোট ৪৮টি এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন।
নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এদিকে নেতানিয়াহুও সরকার গঠনের জন্য জোটের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।বর্তমানে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটের পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকটের জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার অবস্থানে পৌঁছেছে। যদিও এসব দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়াতে পারবেন। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে নীতিগত অবস্থান, মন্ত্রিত্ব বণ্টন ও জোটের শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে হবে তাঁকে। পাশাপাশি সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।
তবে আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট নেসেটের অন্য কোনো সদস্যকে একই দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ওই প্রার্থীও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। তিনিও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় একজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। তাঁকে সরকার গঠনের জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে।
তৃতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং দেশটিতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, এ নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। এর আগপর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ পরিচালনা করবে। সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।ইসরায়েলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রায় ১৯ বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত তিন দশকে একাধিক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন এই নেতা। এবারের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটের হাতে যাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন।হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলাসবাহি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলাসবাহি জানান, সানার পূর্বাঞ্চলে বানি হাশিশ জেলার আল শারিয়াহ গ্রামে কয়েক দফা বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
তার দাবি, হামলায় গ্রামের একাধিক বাড়িঘর ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্সকর্মী এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।আলাসবাহি আরও জানান, হামলার পর উদ্ধার তৎপরতা ও হতাহতের তথ্য হালনাগাদ করা হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়ায়। আহত অবস্থায় অন্তত ৩৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক তৎপরতার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এসব এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শোনা বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সম্পর্ক নেই।এদিকে রোববার ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। জাহাজ দুটি ‘অনুমোদনহীন পথে’ চলাচলের চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
তবে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের সঙ্গে তেলবাহী জাহাজ দুটির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কয়েক দিন আগেই দ্বীপটিতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই হামলা ছিল সীমিত পরিসরের। এর মাধ্যমে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।