ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ পিএম

এক সময় আশঙ্কা করা হতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরে এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বাস্তাবে রূপ নেয় আশঙ্কা। শুরু হয় হামলা পাল্টা হামলা। এক্ষেত্রে এখন কোনো অংশে পিছিয়ে নেই ইরানও।


প্রথম দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার ক্ষেত্রে ইরান কিছুটা সংযত থাকলেও পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। তেহরানের দাবি, তারা মূলত অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। 


তবে এরই মধ্যে ইরানের হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আর চুপ থাকতে চাইছে না। কোনো কোনো দেশ সামরিক পদক্ষেপের কথাও বিবেচনা করছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।


একই সঙ্গে ইরানকে মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এখন ইরান ও সৌদি আরব এক ধরনের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধেও বাড়ছে উত্তেজনা


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখনও চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলা হচ্ছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানও জবাব দিচ্ছে।


এই সংঘাত এখন আরও বড় আকারে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো যেকোনো মূল্যে নিরাপদ বাণিজ্যপথ ফিরিয়ে আনতে চায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


কিন্তু ইরান এ বিষয়ে কোনোভাবেই রাজি হচ্ছে না। তেহরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় ইরানে হামলার জন্য যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হবে, সেসব দেশকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।


এত দিন সৌদি আরব সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাইলেও পরিস্থিতির কারণে এখন দেশটিকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। তাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব সামরিকভাবে কতটা শক্তিশালী? ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে গেলে দেশটি কি টিকে থাকতে পারবে? কিংবা ইরান-সমর্থিত হুথিদের মোকাবিলাই বা কতটা সম্ভব?


সামরিক শক্তিতে ইরান এগিয়ে


২০২৬ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের (জিএফপি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তিতে সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইরান। বিশ্বের ১৪৫টি দেশের সামরিক শক্তির তালিকায় ইরানের অবস্থান ১৬তম। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের পরেই ইরানের অবস্থান। 


অন্যদিকে সৌদি আরবের অবস্থান ২৫তম। অর্থাৎ জিএফপি-এর হিসাবে সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতায় সৌদি আরবের চেয়ে ইরান এগিয়ে। তবে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলার কারণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংঘাতে ইরানের সামরিক শক্তি ঠিক কতটা ক্ষয় হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


জিএফপি-এর পাওয়ারইনডেক্স অনুযায়ী, ইরানের স্কোর ০ দশমিক ৩১৯৯। সৌদি আরবের স্কোর ০ দশমিক ৪৪৭৩। এই সূচকে স্কোর যত শূন্যের কাছাকাছি, সামরিক শক্তির অবস্থান তত শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


সামরিক জনবলে বড় ব্যবধান


ইরানের মোট জনসংখ্যা ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৭। দেশটিতে সামরিক বাহিনীতে কাজ করার মতো জনশক্তি রয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬ শতাংশ সামরিক দায়িত্ব পালনের উপযোগী।


অন্যদিকে সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩১ জন। দেশটিতে সামরিক বাহিনীতে কাজ করার মতো জনশক্তি প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ৩ হাজার ১০৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ।


সামরিক বয়সে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যাতেও ইরান এগিয়ে। দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ১৪ লাখ ১৪ হাজার মানুষ সামরিক বয়সে পৌঁছান। সৌদি আরবে এই সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ২১ হাজার।


সক্রিয় সেনাসদস্যেও ইরান অনেক এগিয়ে


ইরানের মোট সামরিক সদস্য প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় সামরিক সদস্য ৬ লাখ ১০ হাজার এবং রিজার্ভ সদস্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার।


অন্যদিকে সৌদি আরবের মোট সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় সদস্য ২ লাখ ৪৭ হাজার। GFP-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের কোনো রিজার্ভ সদস্য নেই। অর্থাৎ সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যাতেও ইরান সৌদি আরবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে।


স্থলবাহিনীতেও বড় ব্যবধান


ইরানের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সদস্য রয়েছে। দেশটির বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩৭ হাজার এবং নৌবাহিনীতে প্রায় ২০ হাজার সদস্য রয়েছেন।


অন্যদিকে সৌদি আরবের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৭৫ হাজার সদস্য রয়েছে। বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ সদস্য রয়েছেন। অর্থাৎ স্থলবাহিনীর জনবলে ইরান সৌদি আরবের তুলনায় অনেক এগিয়ে।


আধাসামরিক বাহিনীতেও ইরান এগিয়ে


আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যাতেও ইরানের অবস্থান শক্তিশালী। ইরানে এই বাহিনীর সদস্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার। সৌদি আরবে আধাসামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। ফলে সামরিক ও আধাসামরিক জনবলের ক্ষেত্রেও ইরানের পরিমাণ সৌদি আরবের চেয়ে বেশি।


তিন দিক থেকে নিরাপত্তা হুমকি সৌদি আরবের


বর্তমানে সৌদি আরবকে একসঙ্গে তিনটি দিক থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একদিকে ইরান, অন্যদিকে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়ারা।


সম্প্রতি হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরাক থেকে ড্রোন হামলা এবং ইরানের নতুন হুমকির পর সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে পূর্ব ইরাকে বিমান হামলা চালায়।


এ ছাড়া একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্চ মাসের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানের ভেতরেও গোপন প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তবে এই হামলার বিষয়ে সৌদি আরব বা ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।


বাণিজ্যপথ রক্ষায় সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট


বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।


সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোট গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে।


এই তিনটি জলপথ ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর হিসেবে বিবেচিত।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ার সময় এই জোট গঠনের ঘোষণা আসে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ একসময় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। সেখানে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।


ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বা সহযোগিতা করা এবং দেশটিকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া আঞ্চলিক দেশগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।


দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেয় কিংবা ওয়াশিংটনের জন্য ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তাকেও যুদ্ধের পরিণতি ভোগ করতে হবে।


এক বক্তব্যে আবদোল্লাহি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘ব্যাপক যুদ্ধংদেহী পথে’ আরও দ্রুত এগোচ্ছে।


ইরানি এই কমান্ডারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির পেছনে রয়েছে পুরো অঞ্চলজুড়ে আধিপত্য বিস্তার এবং নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার একটি ‘বিপজ্জনক কৌশল’।


মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র


আবদোল্লাহি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে যে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থ ও সম্পদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নিতে তারা পিছপা হবে না।


তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর অর্থ, সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও কৌশলগত সম্পদকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।


একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান


ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর এখন বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড এবং চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়নের সময় এসেছে বলে মনে করেন তিনি।


তিনি মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বা ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।


আবদোল্লাহির ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত ‘দূরদর্শিতার সঙ্গে’ কাজ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।


ইরানের দাবি, বদলে গেছে শক্তির ভারসাম্য


আবদোল্লাহি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য আর আগের মতো নেই।


তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তারা মুসলিম দেশগুলোর ভূখণ্ডের ‘আড়াল’ থেকে যুদ্ধ ও আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করছে এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য আঞ্চলিক সরকারগুলোর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।


তিনি বলেন, ইরান এখন স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলোকে বুঝতে হবে, তারা কার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে এবং সেই অবস্থানের সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে।


‘যুদ্ধের আগুনে পুড়তে হবে’


বক্তব্যের শেষ দিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা।


তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে নিজেকে ব্যবহার করতে দেয়, তাহলে সেই দেশও যুদ্ধের আগুন থেকে রেহাই পাবে না।


তার সতর্কবার্তা হলো-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমনভাবে অবস্থান নেওয়া যাবে না, যার ফলে কোনো দেশ নিজেই আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হয়ে পড়ে।


ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ফলে তেহরানের এই কঠোর বার্তা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।


শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে?


সামগ্রিক সামরিক শক্তিতে ইরান সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে। ১৪৫টি দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান ১৬তম, যেখানে সৌদি আরবের অবস্থান ২৫তম। সামরিক জনবল, সক্রিয় সেনাসদস্য, রিজার্ভ বাহিনী, স্থলবাহিনী ও আধাসামরিক সদস্যের সংখ্যাতেও ইরানের বড় ব্যবধান রয়েছে।


তবে সামরিক শক্তি শুধু সেনাসদস্যের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, অস্ত্রের মান, আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি, সামরিক জোট এবং সরবরাহব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।


তাই ইরান ও সৌদি আরব সরাসরি সংঘাতে জড়ালে শুধু র‌্যাংকিং দিয়ে ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বরং দুই দেশের শক্তির ধরন ও তাদের মিত্রদের ভূমিকা যুদ্ধের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব একদিকে ইরান ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল রাখতে সামরিক জোট গড়ে তুলছে। বিপরীতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতাকারী দেশগুলোকে সরাসরি সতর্ক করছে।



  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নবজাতকদের ২২ ক্যারেটের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার প্রকল্প চালু করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। সোমবার(২৮ সেপ্টেম্বর) মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।


‘থাইমামান থাঙ্গা মোথাইরাম থিত্তাম’ বা ‘মাতুলের সোনার আংটি প্রকল্প’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের একটি করে সোনার আংটি দেওয়া হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তামিলনাড়ু সরকার ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বরাদ্দ দিয়েছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকজন নবজাতককে কোলে নিয়ে তাদের হাতে সোনার আংটি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। রাজ্য সরকারের ভাষ্য, নবজাতকদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানানো এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি মাতৃত্বের মর্যাদা রক্ষা, নারীদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে মানুষকে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও বাড়বে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি সংগ্রহ করা হয়েছে।


২০২৬ সালের ২২ জুন বা তার পরে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুরা এ সুবিধা পাবে। তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা যেসব মা গর্ভাবস্থায় পিকমি পোর্টালে নিবন্ধন করে আরসিএইচ আইডি পেয়েছেন, তাদের সন্তানদের এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।


রাজ্যের মন্ত্রী অরুণ রাজ বলেন, মামা ও ভাগনে-ভাগনির সম্পর্ক ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। এ সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানাতেই সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের সোনার আংটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুর জন্মের পর মামা যেমন তার বোন ও নবজাতকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন, এই আংটিও তেমন ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।


প্রকল্পের সূচনা মাদুরাই থেকে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শহরটির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বিবেচনায়। প্রতিটি আংটিতে আলাদা সিরিয়াল নম্বর থাকবে এবং নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্যাকেটে করে তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।


২২ জুন থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য জমে থাকা আংটি বিতরণে রাজ্যজুড়ে ১০৭টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০০ জন শিশুকে আংটি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময়ই আংটি দেওয়া হবে।


তবে প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সোনার আংটি কেনার জন্য তামিলনাড়ু মেডিকেল সার্ভিসেস কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের বক্তব্য, সংস্থাটির মূল দায়িত্ব ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটা করা। ফলে সোনার আংটি কেনার ক্ষেত্রে এ সংস্থাকে ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম

গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবি সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবি গিয়ে নেতানিয়াহু সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন বলেও জানা গেছে।


বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, এমন সময় নেতানিয়াহুর এই গোপন সফরের খবর সামনে এলো যখন হামাসের হামলার আগে পাওয়া কথিত গোয়েন্দা সতর্কবার্তা নিয়ে তাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক চলছে। যদিও এই সফরের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবি যান নেতানিয়াহু। সেখানে শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকের পর দিনের বাকিটা সময় আবুধাবিতে অবস্থান করেন তিনি।


অন্যদিকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় তার এই সফরের কথা প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে এমন সময় তিনি আবুধাবি সফর করলেন যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার আগে নেতানিয়াহু কথিত গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর বিতর্ক চলছে।


এর আগে গত শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, হামাসের ওই হামলার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে একটি গোপন সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে তিনি সেটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানাননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।


কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যে ব্যক্তিগত বিমানটিতে আবুধাবি গিয়েছিলেন, সেটির মালিকানা এক ইসরায়েলি ব্যবসায়ীর। নাম প্রকাশ না করা ওই ব্যবসায়ীর বিমানটি ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে ব্যবহার করেন।


সম্প্রচারমাধ্যমটি জানায়, বিকেলে বিমানটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায় এবং স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে আবুধাবিতে অবতরণ করে। চার ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিমানটি ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং রাত ১০টার কিছু পর সেখানে পৌঁছায়।


কান আরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালেও আবুধাবি সফরে একই বিমান ব্যবহার করেছিলেন নেতানিয়াহু।


আবুধাবিভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য ন্যাশনাল এক আমিরাতি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আমিরাত সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে আলোচনা করে। এসব আলোচনা সরাসরি দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হয় না।


২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। ২০২৪ সালে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।


২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার আগ্রাসনে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ যুদ্ধে গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।




মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৬ পিএম

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ১০০ বছর। তার ছেলে মোখজানি মাহাথির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মাহাথির মোহাম্মদ ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।


এক্স-এ এক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মরহুম তুন ডক্টর সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। জাতি তাঁকে একজন মাতৃসুলভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ও তাঁর অবদানকে চিরকাল স্মরণ করবে।


আনোয়ার আরও বলেন, সিতি হাসমাহকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। 


উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালে সেলাঙ্গরের ক্লাং-এ জন্মগ্রহণকারী সিতি হাসমাহ ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রথম দিকের নারী চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অফ মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে কাজ করেন।


তিনি ১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতি চলতি বছরের আগস্ট মাসে তাঁদের ৭০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছেন।


মাহাথির ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এবং পুনরায় ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ এএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বাড়ছে। যুদ্ধ ফের শুরু হলে তার জন্য তেহরান ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ইরানের দেয়া সাত দিনের রোডম্যাপ যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করার পর এমন মন্তব্য করলেন তিনি।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু হলে তার দেশ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা কমাতে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছিল তেহরান। তবে ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।


এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ যুদ্ধে জয়ী হবে।


হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানের একটি দাবিকে কেন্দ্র করেও। তেহরান দাবি করেছে, তারা প্রণালীতে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন পানির নিচের ড্রোন জব্দ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।


অন্যদিকে, ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ ও ‘সন্ত্রাসবাদী’ কর্মকাণ্ডের সন্দেহে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনা হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন (পানির নিচের ড্রোন) জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স।


আইআরজিসির দাবি, জব্দ করা আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি একটি উন্নত প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় সাবমার্সিবল, যার নাম ‘রেমাস ৬০০’। বর্তমানে এটি আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের হেফাজতে রয়েছে এবং এর ভেতরে থাকা তথ্য উদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।


ফার্স নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির একটি বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোনটি জব্দ করা হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি জটিল ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সদস্যরা মার্কিন বাহিনীর উন্নতমানের ওই ড্রোন জব্দ করতে সক্ষম হন।


আইআরজিসি ড্রোনটিকে ‘মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেছে।


কীভাবে ড্রোনটি জব্দ করা হলো?


ইরানের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছিল। আইআরজিসির নৌবাহিনী গোয়েন্দা তথ্য ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা ব্যবহার করে সেটির গতিবিধি শনাক্ত করে। এরপর একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছে ইরান।


তবে ড্রোনটি ঠিক কোথায়, কখন এবং কীভাবে জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইআরজিসি বিস্তারিত কোনও তথ্য দেয়নি। একইভাবে ড্রোনটির সঙ্গে কোনও মার্কিন সামরিক সদস্য বা অন্য কোনও যান জড়িত ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।


‘রেমাস ৬০০’ কী?


ইরানের দাবি করা ড্রোনটি ‘রেমাস ৬০০’ নামে পরিচিত একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন। এ ধরনের যান সাধারণত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রতলের জরিপ, নজরদারি ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক গবেষণায় ব্যবহৃত হতে পারে।


এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন চালানোর জন্য সরাসরি কোনও মানবচালকের প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট রুট ও মিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো পানির নিচে চলাচল করতে পারে এবং বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।


ইরানের দাবি সত্য হলে, ড্রোনটি জব্দ করা তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এর ভেতরে থাকা তথ্য, সেন্সর, যোগাযোগব্যবস্থা এবং মিশনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে ইরান।


হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে।


পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।


ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েন রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার বিষয়টিকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরে আসছে।


এই পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের ইরানি দাবি দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক ও গোয়েন্দা উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেও একটি মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের দাবি করে আইআরজিসি। পরে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে জানায়, সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।


যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নেই


ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমে আইআরজিসির এই দাবি প্রকাশ করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


ফলে ইরান যে ড্রোনটি জব্দ করেছে বলে দাবি করছে, সেটি সত্যিই মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ‘রেমাস ৬০০’ কি না এবং সেটি কোনও গোয়েন্দা মিশনে নিয়োজিত ছিল কি না- তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


তবে ড্রোনটি বর্তমানে আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এর মাধ্যমে ড্রোনটির সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরীক্ষা করার সুযোগও তেহরান পেতে পারে।


হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যে এমন একটি ঘটনা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। 


সূত্র: আল-জাজিরা


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনো রূপান্তর নয়, বরং ভাঙন চলছে বলে মনে করেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বড় শক্তিগুলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেকে সরে গিয়ে ক্রমেই অন্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।


নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার আনিতা আনন্দ জাতিসংঘে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার গতিপথ বদলে গেছে। অর্থনৈতিক সংযুক্তি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের অন্যতম ভিত্তি হলো জাতিসংঘ সনদ। কিন্তু সেটিও এখন উপেক্ষিত।


এমন অবস্থায় কানাডার পরিকল্পনা তুলে ধরেন আনন্দ। তিনি বলেন, তাঁর দেশ আরও বেশি ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ অর্জনের পথে এগোবে। একক অংশীদারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও নতুনদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে।


অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কানাডা ছোট রাষ্ট্র, মধ্যম শক্তি ও বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক জোট গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কাজও অব্যাহত রাখবে। 


আনন্দ বলেন, ‘কেউ কেউ সম্পর্কের মাঝে আরও উঁচু দেয়াল তুলতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা থেকে সরে যেতে চাইছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বই সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার পথ।’


পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের বিষয়ে আনন্দ ইউক্রেন ও ন্যাটোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আর্কটিক অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানান। 


তিনি বলেন, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কানাডার উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। দিল্লি ও বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা হবে।


কানাডা উপসাগরীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকায় নতুন সুযোগ খুঁজছে। আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আনন্দ বলেন, তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।


ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয়পক্ষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি অটোয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে।