পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেশটির সামরিক নেতৃত্বের তিক্ত সম্পর্ক বেশ পুরানো। তিক্ততা ভুলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আর বিরোধে যাবেন না তিনি।আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন- এমন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। সরকার নয়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া কারাবন্দি এই নেতা। তাঁর ভাষায়, সরকারের সঙ্গে আলোচনা নিরর্থক। তাই তিনি শুধু ‘প্রকৃত কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গেই আলোচনা করবেন।
‘কারাগার থেকে মুক্তি পেলে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেনাবাহিনী কিংবা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সংঘাত বা সংঘাতমূলক অবস্থানে যাবেন না’ এমনটা জানিয়েছেন তাঁর দলের শীর্ষ প্রতিনিধি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র ও ইমরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফিকার বুখারি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুখারি জানান, শীর্ষ আদালতের আইনি অগ্রগতির পর দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অতীত ভুলে সমঝোতার পথ বেছে নিতে পারে পিটিআই। ইমরান খানকে ‘মহানুভব’ হিসেবে উল্লেখ করে বুখারি বলেন, ইমরান খান কাল মুক্তি পেলে দেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। এর মানে এই নয়, আপনাকে প্রতিষ্ঠানের বা সামরিক প্রধানের মুখোমুখি হতে হবে। দেশের ভালোর জন্য নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট চেপে রাখতে হয়।
তাঁর এই বক্তব্যকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ইমরানের দলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিতগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বক্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান ও সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কমানোর সম্ভাব্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
এরই মধ্যে ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির অভিযোগের পর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ।
সরকার না সেনাবাহিনী কার সঙ্গে সমঝোতা হচ্ছে
২০২৩ সালের ৯ মে থেকে কারাবন্দী ইমরান খানকে হঠাৎ হাসপাতালে নেওয়ার আদেশে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আইনাঙ্গনের অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হওয়া ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্টে দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ শতাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যেগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড এবং তার কারাবন্দিত্বকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা কঠোরভাবে দমন করে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ।
রাজনীতিতে তিন বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর পিটিআইয়ের জন্য এটি রাজনৈতিক পরিসর তৈরির ইঙ্গিত কিনা, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিশ্লেষক মনে করছেন, ইমরান খানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন জল্পনাও শুরু হয়েছে। পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠন কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জাতীয় সরকার গঠনের মতো কোনো প্রস্তাব ইমরান খান মেনে নিতে পারেন কিনা- তেমন ইস্যু নিয়েও কথাবার্তা চলছে অনেকের মধ্যে।
২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে। পরের বছর তাকে গ্রেপ্তার করা হলে সমর্থকেরা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। ওই সময় উত্তেজিত হয়ে তাঁর সমর্থকরা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালায়। ওই হামলার জন্য ইমরানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় ইমরানকে ক্ষমা চাইতে বলে সেনাবাহিনী।
২০২৪ সালের আগস্টে আদিয়ালা কারাগারে বসে ইমরান খান বলেছিলেন, সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমা চাইতে বলেছিল। কয়েকজন সাংবাদিক কারাগারের ভেতর স্থাপিত আদালতে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি জানিয়েছিলেন, ৯ মে তাকে গ্রেপ্তারের দিন সহিংস বিক্ষোভের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সেনাবাহিনী ক্ষমা চাইতে বলেছেন। তিনি ক্ষমা চাইবেন কিনা, জানতে চান সাংবাদিকরা। তাদের প্রশ্নের উত্তরে ইমরান খান বলেন, ক্ষমা চাওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে একজন সার্বক্ষণিক মেজর জেনারেলের নেতৃত্বে রেঞ্জার্সরা তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু ৭ মে থেকেই আইএসপিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আহমেদ শরীফ বলেছিলেন, পিটিআইর সঙ্গে যে কোনো সংলাপ হতে পারে যদি দলটি তার ‘নৈরাজ্যের রাজনীতি’র জন্য ক্ষমা চায়। কিন্তু বারবার ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন ইমরান। ওই সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংলাপে বসতেও রাজি ছিলেন না ইমরান।
তবে সম্প্রতি তিনি তাঁর অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এখন সরকার নয়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সরকারের সঙ্গে আলোচনা নিরর্থক। তাই তিনি শুধু ‘প্রকৃত কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গেই আলোচনা করবেন।
ইমরানের সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করে, সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধের কারণেই তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। ইমরান নিজেও অতীতে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। গত নভেম্বরে তার নামে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি মুনিরকে ইতিহাসের সবচেয়ে ‘স্বৈরাচারী একনায়ক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তখন ইমরান বলেছিলেন, তার সঙ্গে যা-ই করা হোক না কেন, তিনি সামরিক নেতৃত্বের কাছে মাথা নত করবেন না। তবে এখন তার দলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বক্তব্যে ভিন্ন সুর দেখা যাচ্ছে। তাহলে সেনাবাহিনী ও ইমরানের দলের কোনো সমঝোতা হয়েছে?
দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
এদিক সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ রায়ে বলেন, একজন বন্দির জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। আদালত নির্দেশ দেন, ইমরান খানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞও যুক্ত থাকবেন।
একই আদেশে দীর্ঘ কয়েক মাস পর তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তার বোন কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, তিনি দৃষ্টিশক্তি হ্রাসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তার আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ডান চোখে তার মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে। যদিও সে অভিযোগ অস্বীকার করেছিল পাকিস্তান সরকার।
হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়কে ব্যারিকেড বসানো, সাঁজোয়া যান টহল এবং যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালত পিটিআইকে হাসপাতালের বাইরে সংবাদ সম্মেলন বা সমাবেশ না করারও নির্দেশ দিয়েছে।পাকিস্তান।
ইমরান খান
কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অসুস্থতার অভিযোগের পর তাকে রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ জানিয়েছে, আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি এখনো পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চের নির্দেশের পর ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর এটি ইমরান খানের জন্য আদালত থেকে পাওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। ইমরান খান অবশ্য এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি ইমরান খানকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কয়েক মাস ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। মঙ্গলবার রাতে তার এক বোন কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।
ইমরান খানের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এর আগে ইমরান খানের একজন আইনজীবী দাবি করেছিলেন, কারাগারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ইমরানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞও যুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে তার জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।
ইমরান খানের সমর্থকদের হাসপাতালের সামনে জড়ো না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে কোনো সংবাদ সম্মেলন না করার জন্যও তার দলকে সতর্ক করেছে আদালত।
ইমরান খান পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
২০২৩ সালের আগস্টে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ শতাধিক মামলা হয়েছে। ইমরান খান এসব মামলাকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি গত বছরের শেষ দিকে পৃথক একটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
ইমরানের কারাবন্দিত্বকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে তার সমর্থকদের বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভের পর কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। কারাগারে থাকলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খান এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত।
সূত্র: বিবিসি
নাটালি হার্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে গত কয়েক বছরে যাদের সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, তাদের একজন নাটালি হার্প। ৩৫ বছর বয়সী এই সহকারী ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট টাইপ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের এক বক্তব্যের পর নাটালি হার্প আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন। তার মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
কেন আলোচনায় নাটালি হার্প
সম্প্রতি সিনেটর জন অসফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও নাটালি হার্পকে নিয়ে রসিকতা করে বক্তব্য দেন। তার দাবি, ৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ৩৫ বছর বয়সী সহকারী নাটালি হার্পের সঙ্গে এমন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, যা তাকে বিভ্রান্ত করেছে।
অসফ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজের যে কাজ, তা করতে চান না। বরং তিনি বলরুম তৈরি করতে চান এবং কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া অরক্ষিত উড়ন্ত প্রাসাদে (নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান) নাটালিকে নিয়ে ভ্রমণ করতে চান।’
অসফের এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় হোয়াইট হাউজ। ফলে হার্পের বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় চলে আসে।
ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের পরিচয়ের শুরু যেভাবে
ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা নাটালি হার্প একটি রক্ষণশীল খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠেন। প্রচলিত রাজনৈতিক পথ অনুসরণ না করেই তার হোয়াইট হাউজে যাত্রা শুরু হয়।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি আলোচনায় আসেন নিজের ক্যানসার চিকিৎসার অভিজ্ঞতা নিয়ে। ট্রাম্পের সমর্থিত ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের মাধ্যমে তিনি পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন হার্প।
২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এরপর ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে হার্পের পরিচিতি বাড়ে। ২০২০ সালের নির্বাচনি প্রচারেও তিনি ট্রাম্পের একটি উপদেষ্টা বোর্ডে যুক্ত হন।
ওই নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে যাওয়ার পর হার্প রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে (ওএএন) অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান।
২০২২ সালে তিনি ট্রাম্পের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে যোগ দেন।
‘হিউম্যান প্রিন্টার’ কেন বলা হয়
হোয়াইট হাউজে নাটালি হার্পের আনুষ্ঠানিক পদ হলো প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট। সাধারণত এই পদে সময়সূচি, যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ দেখভালের দায়িত্ব থাকে।
কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হার্পের ভূমিকা প্রচলিত দায়িত্বের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকেরা প্রায়ই তাকে ট্রাম্পের কাছাকাছি দেখতে পান। ওভাল অফিসের বৈঠক থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশে ট্রাম্পের বিভিন্ন সফরেও তাকে দেখা যায়।
হার্পকে অনেক সময় ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বলা হয়। কারণ, তিনি একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে ট্রাম্পের কাছে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কপি পৌঁছে দেন।
ট্রাম্প মুদ্রিত কাগজে বিভিন্ন তথ্য পড়তে পছন্দ করেন বলে তার এই দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কিছু সূত্রের ভাষ্য, ট্রাম্প কোন তথ্য বা আপডেট আগে দেখবেন, সে বিষয়েও হার্পের ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে তাকে ‘গেটকিপার’ বলেও বর্ণনা করা হয়।
ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভূমিকা
নাটালি হার্প ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্ট তৈরিতেও সহায়তা করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প একটি বক্তব্য দেখার সময় হার্প তার পাশে বসে ট্রাম্পের ভাষা ও ভঙ্গিতে একটি পোস্ট টাইপ করছেন।
ট্রাম্পের বার্তা তৈরিতে তার এই ঘনিষ্ঠ ভূমিকার কারণেই হোয়াইট হাউজে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
গোপন ফ্লাইটে ট্রাম্পের সঙ্গে হার্প
সম্প্রতি নাটালি হার্পকে নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হলো তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপনে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের ঘটনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ইরানি হামলার হুমকির তথ্য পাওয়ার পর ট্রাম্প তুরস্ক ছাড়ার সময় একটি ছোট দলের সঙ্গে গোপনে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করেন। ওই দলের সদস্যদের মধ্যে হার্পও ছিলে।
এই ঘটনাকেই সামনে এনে সিনেটর জন অসফ ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর অবশ্য হোয়াইট হাউজ হার্পের পক্ষ নেয়। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে তাকে ‘বিশ্বস্ত ও মূল্যবান’ সদস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি তথ্য নেই
নাটালি হার্পের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য নেই। তার সম্পর্কে প্রকাশিত বেশিরভাগ তথ্য এসেছে সাংবাদিকদের প্রতিবেদন, বই এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে।
হার্পের ভাই প্রেস্টন হার্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার বোন হোয়াইট হাউজে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আগের কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকেও চিঠি লিখেছিলেন।
তার ভাইয়ের ভাষ্য, ট্রাম্পের প্রতি হার্পের গভীর আনুগত্যের একটি কারণ হলো তিনি মনে করেন, ট্রাম্প তার জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেছিলেন।
সূত্র: বিবিসি
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী বিশাখাপত্তনমে হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষকের চড়ের আঘাতে শ্রেণিকক্ষেই ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে ওয়ান টাউন এলাকায় স্থানীয় ‘লিটল গার্ডেনস স্কুল’-এ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। খবর এনডিটিভির।
নিহত শিশুটির নাম প্রণয় তেজা, সে ওই স্কুলের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির (ইউকেজি) শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শিশুটি আগের দিনের হোমওয়ার্ক না করায় এবং প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই নারী শিক্ষক। এক পর্যায়ে তিনি শিশুটিকে চড় মারেন এবং ক্লাসের সবার সামনে তাকে লজ্জিত করার চেষ্টা করেন।
শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই নারী শিক্ষক শিশুটির জামা টেনে ধরছেন এবং তাকে চড় মারছেন। চড় মারার পরপরই শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে প্রথমে শিক্ষকের গায়ের ওপর ঢলে পড়ে এবং পরে মেঝেতে পড়ে যায়।
শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় কিং জর্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে ‘ব্রট ডেড’ বা মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তীব্র আতঙ্ক বা আঘাতের কারণে শিশুটি হার্ট অ্যাটাক বা শ্বাসরোধ হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় বিশাখাপত্তনম পুলিশ এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটির জাহাজ চলাচল এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমনকি প্রয়োজন হলে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে ইরান বলছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ চালু রেখেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির অপর পাড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ওমানকে বোমা হামলার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে প্রণালিটির যৌথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান কোনো চুক্তিতে গেলে তা ঠেকাতেই ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাহলে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার—ইরানের নাকি যুক্তরাষ্ট্রের?
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের প্রকৃত তথ্য থেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির প্রধান দুটি নৌপথ
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিকে মূলত একটি অভিন্ন জলপথ হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। তখন এটিকে ‘ইরানি’ বা ‘ওমানি’ নৌপথ হিসেবে আলাদা করে দেখা হতো না। জাহাজগুলো প্রণালির মাঝামাঝি দিয়ে নির্ধারিত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম অনুসরণ করে চলাচল করত।
কোন পথে জাহাজ চলবে, তা সাধারণত নির্ধারিত হতো কোন বন্দরে জাহাজ যাবে, ভাড়ার চুক্তির শর্ত এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে। সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তখন জাহাজ চলাচলের প্রধান নিয়ামক ছিল না।
তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর জলপথটি কার্যত দুটি প্রধান রুটে বিভক্ত হয়েছে।
ইরান প্রণালির উত্তর দিকের রুটটি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এই পথটি ইরানের উপকূল ঘেঁষে লারাক ও কেশম দ্বীপের কাছ দিয়ে গেছে এবং সরাসরি ইরানের বিভিন্ন বন্দর ও সমুদ্রভিত্তিক তেল স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে রয়েছে দক্ষিণের ওমানি রুট। এটি ওমানের কাছাকাছি এবং ইরানের উপকূল থেকে তুলনামূলক দূরে। যুক্তরাষ্ট্র এই পথ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই রুট দিয়েই চলাচল করছে।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে জাহাজ চলাচলের ধরন থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কার প্রভাব কতটা রয়েছে, তার একটি বাস্তব চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
জীবন বাঁচাতে কার্নিসে আশ্রয় দম্পতির
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেল। রাত দেড়টার পর একটি কক্ষের দরজায় জোরে ধাক্কা দেন কেউ। ভেতরে ছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি সোমাইয়া আখতার ও রেজাউল ইসলাম।
দরজার ওপাশ থেকে আগুন লাগার খবর শুনতেই দুজন জানালা দিয়ে বেরিয়ে কার্নিসে আশ্রয় নেন। হোটেলটি নিউমার্কেট এলাকায় চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায়।
ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহখানেক আগে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় বেড়াতে গিয়েছিলেন সোমাইয়া ও রেজাউল। শিখা ইন হোটেলে ওঠেন দুইদিন আগে। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে হোটেলটিতে আগুন লাগে।
সোমাইয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ তাদের কক্ষের দরজায় কেউ জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। ওই সময় তিনি জেগে ছিলেন। ধাক্কার শব্দে ঘুম ভাঙে রেজাউলের। দুজন বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুলে দেখেন বারান্দা ধোঁয়ায় ভরে গেছে।
চিৎকার, ধোঁয়া দেখেও সে সময় মাথা ঠান্ডা রেখেছিলেন রেজাউল। দ্রুত চিন্তা করে ঠিক করেন, দরজা দিয়ে নয়, জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন। স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান জানালার কাছে। এরপর নেমে যান কার্নিসে। এরপরের ঘটনার বর্ণনা দেন সোমাইয়া। বলেন, ‘কার্নিসে দাঁড়িয়ে হেল্প, হেল্প, আগুন, আগুন বলে চিৎকার করছিলাম।’
ধোঁয়ার কারণে তিনতলার কার্নিস থেকে ওই সময় রাস্তা ভালভাবে দেখা যাচ্ছিল না। নিচে থেকে ওপরে কারও অবস্থান বোঝার উপায় ছিল না। তাই মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন এই দম্পতি।
সোমাইয়া বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিলেন, তাদের ডেকে আমাদের বিপদের কথা বলি। প্রায় আধা ঘণ্টা আমরা কার্নিসে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’ পরে তিনতলার কার্নিস থেকে দুজনকে মইয়ের মাধ্যমে নামান দমকলকর্মীরা।
সোমাইয়া-রেজাউল ছাড়াও ওই ভবনের অন্য হোটেলগুলোতে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ছিলেন। তারা চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে ভারতে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়জন নিহতের খবর জানা গেছে। তাদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের পর দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের যৌথ সামরিক মহড়া ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১১ দিনের পরিবর্তে এবার ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া চলবে পাঁচ দিন।
একই সঙ্গে মহড়ার কিছু প্রশিক্ষণও কমিয়ে দেওয়া হবে। আজ বুধবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
১৭ আগস্ট শুরু হওয়া মহড়া ২১ আগস্ট শেষ হবে। আগে এটি ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা ছিল। মহড়ার কিছু মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও কমানো হবে। কিছু প্রশিক্ষণ বাতিল করে সিমুলেশনের মাধ্যমে করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, মহড়ার দ্বিতীয় ধাপও বাতিল করা হতে পারে। এই ধাপে প্রতিরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের পর পাল্টা হামলার অনুশীলন হওয়ার কথা ছিল।
গত রোববার ট্রাম্প মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ নির্দেশ দেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মহড়া কমানোর পেছনে ট্রাম্পের একাধিক লক্ষ্য থাকতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, ইরান পরিস্থিতি সামলানো এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আবার কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা এর মধ্যে থাকতে পারে।
এদিকে মহড়া কমানোর পরও উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার নিন্দা জানিয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ বলেছে, ওয়াশিংটন ও সিউলের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়া আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ চালিয়ে যাবে।
তবে এবার উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের নির্দেশ বা মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। এক বিশ্লেষকের মতে, এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ খোলা রাখতে চাইছে।
এদিকে কিম জং উনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য ট্রাম্প তার কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নভেম্বরে চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় এমন বৈঠক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রয়টার্স এ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এসব যৌথ মহড়াকে প্রতিরক্ষামূলক এবং উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া বরাবরই এসব মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স