ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৯ পিএম

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন- ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এমন প্রতিবেদনের পর আনুষ্ঠানিক মার্কিন জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। 


তবে জার্নালের ওই প্রতিবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানায়। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। 


ইরানের দাবি, প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছাতে আন্তরিক হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে দুই পক্ষ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা শুরু করতে পারে বলেও জানান তিনি।


এই আলোচনার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও থাকতে পারে। তবে শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাব মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়েও ইরান নমনীয় হবে না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।


ইরানের শর্ত


ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় করতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত বন্ধের কথাও বলেছে তেহরান।


এর আগে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।


তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইরান তাঁর দাবিগুলো মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। 


তিনি তাঁর সহযোগীদের বলেছেন, নতুন করে ইরানে বোমা হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্স এ প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।


হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এরই মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে। 


এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ থেকে স্বস্তি চাচ্ছে তেহরান।


সৌদি আরবকে ঘিরেও উত্তেজনা


এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান সৌদি আরবের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। 


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার বিষয়ে অবহিত করেছেন।


একই সময়ে ইয়েমেনের হুথিদের হামলাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শনিবার জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া দুটি ড্রোন সৌদি রাজধানী রিয়াদের দিকে যাওয়ার পথে এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় প্রতিহত করা হয়েছে।


সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও শুক্রবার রিয়াদে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।


ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটিতে শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির হার বেড়েছে।




পাকিস্তানের পতাকা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। ডেরা ইসমাইল খান জেলার দারাজিন্দার কাছে আমান মেলা এলাকায় একটি পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে আজ শনিবার এ হামলা চালানো হয়েছে। 


আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে।


নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, শুল্ক বিভাগের কর্মী এবং দুজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। 


উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলছে। বেশ কয়েকজন হতাহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, মোগল কোট ও দারাজিন্দার কাছে ডেরা ইসমাইল খান-কোয়েটা সড়কের আমান মেলা চেকপোস্টে এই হামলা চালানো হয়েছে। এলাকাটি খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তের কাছে।


বিস্ফোরণের ধরন খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যদের পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


রেসকিউ ১১২২ জানিয়েছে, আহত ২০ জনকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন-দুই পরাশক্তি। গত মে মাসে দুই দেশের প্রেসিডেন্টরা বৈঠকে বসেছিলেন। তখন চীন সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। 


দুই নেতার ওই শীর্ষ বৈঠককে যদি ‘অচলাবস্থায় পর্যবসিত বৈঠক’ বলা হয়; তাহলে এ সপ্তাহে ওয়াশিংটনে তাঁদের শীর্ষ বৈঠকে বড় কোনো অগ্রগতির আশা যেন পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।


সি চিন পিং এবার সস্ত্রীক ওয়াশিংটন সফর করেছেন। হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে। দুই প্রেসিডেন্টের এ বৈঠককে কূটনীতির চেয়ে বরং ‘ডিপ্লোটেইনমেন্ট’ বলছেন অনেকেই। 


অর্থাৎ, কূটনীতি ও বিনোদন উদ্‌যাপনের মিশেল ছিল বৈঠকটি। এখানে বিরোধ দূর করা ও অগ্রগতির অর্জনের চেয়ে জাঁকজমক ও লোকদেখানো বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।




ট্রাম্প-সির এবারের বৈঠকে মোটাদাগে ফলাফল হলো- শিগগিরই চীন থেকে দুটি জায়ান্ট পান্ডা আটলান্টার চিড়িয়াখানায় পাঠানো হবে।


চীনের প্রেসিডেন্ট গত বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছান। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে সি’কে বরণ করে নিতে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ উড়োজাহাজের দোরগোড়ায় হাজির হন ট্রাম্প ও মেলানিয়া। দেওয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্পের নতুন হেলিপ্যাড ও মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার ঘুরে দেখেন সি। এরপর তাঁরা ৯০ মিনিট বৈঠক করেন।


ট্রাম্প বলেছেন, সির সঙ্গে তাঁর ‘দারুণ বৈঠক’ হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও ইরান যুদ্ধ নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন দুই নেতা। ট্রাম্প বলেন, সি ‘গ্রানাইটের প্রতি বেশ আগ্রহী’, এটা তিনি বৈঠকে জানতে পেরেছেন।


দুই বিশ্বনেতার এ বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সি চিন পিংয়ের প্রতি অতিমাত্রায় সম্মান দেখাচ্ছেন ট্রাম্প- মন্তব্য করেন জুলিয়ান গেউয়ার্টজ। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে চীন-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন।


কিন্তু বৈঠক থেকে বাস্তবিক কোনো অগ্রগতি কি হয়েছে? যদিও আগে থেকেই এ বৈঠক নিয়ে প্রত্যাশা বেশ কম ছিল। তবে প্রত্যাশার পারদ সেই পর্যায়েও উঠতে পারেনি।


যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অন্যতম বড় একটি বিষয়- বাণিজ্য। গত বছর ট্রাম্প চীনা পণ্যে একের পর এক শুল্ক আরোপ করেন। তখন হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে চীনের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ তোলা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৭ লাখ কর্মসংস্থান কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি।


চীন থেকে পণ্য আমদানি কমানো এবং চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই ছিল ট্রাম্পের শুল্কারোপের উদ্দেশ্য। কিছু ক্ষেত্রে সেটা কাজেও দিয়েছে। ২০২৪ সালে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে তা ২০ হাজার কোটি (২০০ বিলিয়ন) ডলারে নেমে এসেছে।


বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ বাণিজ্য ঘাটতির কিছু অংশ পূরণ হচ্ছে তৃতীয় দেশ হয়ে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর মাধ্যমে। চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গত বছর রেকর্ড ১ লাখ কোটি (১ ট্রিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪৩ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র আর চীন থেকে। কাজেই দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে দেশ দুটি যখন বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরে আসার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়, তখন শুধু চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা স্বস্তি পাননি, বিশ্ব অর্থনীতিতেও স্বস্তি এসেছিল।


আসছে নভেম্বরে এ সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চীনা অর্থনীতি মূলত রপ্তানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই বেইজিং সমঝোতার মেয়াদ ট্রাম্পের শাসনামল শেষ হওয়া পর্যন্ত বাড়ানোর চেষ্টা করছিল বলে খবর পাওয়া যায়। ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করবেন।


গত বৃহস্পতিবার জানা গেছে, চীনের প্রেসিডেন্টের তুমুল আলোচিত ওয়াশিংটন সফর থেকে উভয় দেশের বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরে আসার সমঝোতার মেয়াদ মাত্র দুই মাস বেড়েছে। এ বিষয়ে চিন্তক প্রতিষ্ঠান এশিয়া সোসাইটির জ্যেষ্ঠ ফেলো নিল টমাস বলেন, ‘বৈঠকটি জাঁকজমক ও আনুষ্ঠানিকতায় পূর্ণ ছিল। তবে এর বাইরে এটা বৈঠকের প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টিই তুলে ধরে।’


ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, এটা একেবারে স্পষ্ট, বৈঠকে মূল বিষয়বস্তুর চেয়ে প্রতীকী বিষয় ও আনুষ্ঠানিকতা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই মাসের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি এটাই প্রমাণ করে, বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে।


ট্রাম্প যখন চীনা পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করেছিলেন, তখন বেইজিংও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। ওই সময় বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় চীন। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প উৎপাদন ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এসব খনিজ খুবই দরকারি। কাজেই বেইজিংয়ের রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত চীনের ওপর ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতাকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছিল।


জুলিয়ান গেউয়ার্টজ বলেন, বেইজিংয়ের পাল্টা পদক্ষেপ ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। চীনের বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ কমিয়েছে।


বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে সামান্য অগ্রগতি ছাড়া দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকে আর কোনো বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি- চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে কোনো বিষয়েই উল্লেখযোগ্য অর্জন কার্যত নেই।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে তাইওয়ান ইস্যুকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখে চীন। তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে বেইজিং। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সরাসরি সহায়তা দেয়। এ সহায়তা কমিয়ে আনতে ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন সি।


বৈঠকের পর চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, সি ট্রাম্পকে বলেছেন, তিনি আশা করছেন, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সঠিক অবস্থান বজায় রাখবে’।


এখন ট্রাম্প যদি বলেন, ‘আমরা তাইওয়ানে স্বাধীনতা সমর্থন করছি না’, বেইজিং অবশ্যই স্বাগত জানাবে। কিন্তু সেটা হবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরোনো অবস্থান থেকে স্পষ্টত সরে আসা। সি’র এমন চাওয়ায় ট্রাম্প রাজি হয়েছেন কিনা, সেটা অবশ্য তিনি বলেননি।


তবে মনে হচ্ছে, তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ৪০০ কোটি (১৪ বিলিয়ন) ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ অনুমোদনের বিষয়টি ট্রাম্প এখনো এগিয়ে নেননি। চীন চায়, এ প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাক।


বৈঠক থেকে বড় কোনো অর্জনের খবর না আসাটা বরং চীনের জন্য একটি সাফল্য, বলেন নিল টমাস। তিনি আরও বলেন, চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বৈঠকটি দারুণ হয়েছে।


নিল টমাস বলেন, সি চিন পিং রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে বিপুল সম্মান পেয়েছেন। চীনের মানুষের কাছেও দারুণ কিছু ছবি পৌঁছেছে। এসব ছবিতে ট্রাম্প ও সিকে বিশ্বমঞ্চে সমমর্যাদার নেতা হিসেবে দেখা গেছে। অথচ এ জন্য চীনকে কোনো ছাড় দিতে কিংবা সমঝোতা করতে হয়নি।


আগামীকালের লংমার্চ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০৮ পিএম

ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের আগামীকালের লংমার্চ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার খাইবার পাখতুনখওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি লংমার্চের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর।


এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, ‘ইসলামাবাদ অভিমুখে আমাদের লংমার্চ ৪ অক্টোবর পেশোয়ার থেকে যাত্রা শুরু করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই সংগ্রাম শুধু সংবিধানের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব বা প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ইমরান খান যে “হাকিকি আজাদি”র (প্রাপ্য স্বাধীনতা) কথা বলেছেন, তা অর্জনের জন্য।’


দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন পিটিআই নেতা-কর্মীরা। এর অংশ হিসেবে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল, ২৭ সেপ্টেম্বর এটি হওয়ার কথা ছিল। ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী।


এদিকে পিটিআইয়ের লংমার্চ ঠেকাতে পাকিস্তান সরকার ইসলামাবাদে কয়েক হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে, মহাসড়কগুলোয় ব্যারিকেড দিয়েছে ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। 


জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পিটিআইয়ের লংমার্চ সামনে রেখে ইসলামাবাদ অভিমুখী প্রধান মহাসড়ক ও মোটরওয়েগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা চলাচল সীমিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার ইসলামাবাদসহ পাঞ্জাবের একাধিক জেলায় রেঞ্জার্স মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।


লংমার্চ নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে খাইবার পাখতুনখওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেন, ‘পিটিআইয়ের লোকজন এখন নিজেরাই গ্রেপ্তার হতে চাইছেন।’ 


তাঁর দাবি, দলের সদস্যরা এখন ‘(দল থেকে) বের হওয়ার পথ খুঁজছেন’।


হরমুজ প্রণালি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৯ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় বার্তার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগামী সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা দিয়েছে।


জাতিসংঘ অধিবেশনের এক ফাঁকে বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটন তাদের এই প্রস্তাব গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে সাত দিনের এই সময়সীমা গণনা শুরু হতে পারে। তবে শর্ত হল, ওয়াশিংটনকে তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং আরও কিছু নির্দিষ্ট দাবি পূরণ করতে হবে।


ইরানের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দেয়। মাঝে সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খোলা হলেও যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় আবার তা বন্ধ হয়ে যায়।


বর্তমানে উচ্চ যুদ্ধঝুঁকির বীমা খরচ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রণালিটি বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ আছে। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে নতুন করে ইরানের পরিকল্পনা জমা দেওয়ার খবরে আবার এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। 


ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের মাঝের এই জলপথ আবার উন্মুক্ত করতে বৃহস্পতিবার তেহরানের সাতদিনের পরিকল্পনায় কি আছে তা বিস্তারিত ব্যাখা করেছে আল জাজিরা।


গতকাল শুক্রবার আল জাজিরা এক্সপ্লেইনারে বলা হয়, নিউ ইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই পরোক্ষ যোগাযোগকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছে। কিন্তু যুদ্ধ সাত মাসে পা দিলেও তা বন্ধে দুই দেশের মধ্যে কোনো বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।


বিশ্লেষকরা আল জাজিরাকে বলেছেন, অবিলম্বে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ইরান এখনও গত জুনে হওয়া একটি চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী এগোতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরনো ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় ইরান এবং ওমানকে প্রধান ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।


যদিও দুই দেশের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ খুলতে ওই সমঝোতা চুক্তি ভেস্তে যায়। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ আছে দাবি করা যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করাকে যে কোনো আলোচনার মূল বিষয়বস্তু বানাতে চায়।


যদিও ইরান আগেই স্পষ্ট করেছিল, হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং মার্কিন হামলার সমাপ্তির নিশ্চয়তাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা পারমাণবিক কর্মসূচির মত বৃহত্তর কোনো শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না।


কি আছে ইরানের প্রস্তাবে


আব্বাস আরাঘচি নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। যদি কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা হয়, তাহলে সপ্তমদিনের শেষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং শান্তি আলোচনা ফের শুরু হবে।


তাদের পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ না দিলেও আরাঘচি বলছেন, এই প্রস্তাবের পরিকল্পনার সঙ্গে গত ১৭ জুন হওয়া সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে মিল আছে। তারা এই পরিকল্পনা গ্রহণ করার পরদিন থেকেই এই সময়সূচি শুরু হতে পারে, এবং সাত দিন পর প্রণালীটি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।


ফলে গত জুনে হওয়া সমঝোতা চুক্তিতে থাকা পরিকল্পনাগুলো আবার আলোচনায় এসেছে। ওই চুক্তিতে ছিল, ইরান পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য কোনো টোল বা মাশুল ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে; যা ছিল মূলত শান্তি আলোচনার জন্য বরাদ্দ করা সময়। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী হবে, তা ওই চুক্তিতে অস্পষ্ট রাখা হয়েছিল।


আরাঘচি স্পষ্ট করেননি যে নতুন প্রস্তাবেও একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না। এমনকি সাত দিনের সময়সূচি শুরু হওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, উভয় পক্ষ কীভাবে সেই পদক্ষেপগুলো যাচাই করবে, কিংবা হরমুজ প্রণালি খোলার পর জাহাজ চলাচলের জন্য কী ধরনের নিয়ম কার্যকর হবে, সে সম্পর্কেও তিনি কোনো তথ্য দেননি।


তবে বিশ্লেষকদের মতে, যে পরিকল্পনাই দেওয়া হোক, ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক আরবান কানিংহাম বলেন, “ইরান আগে যে ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে যুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তারা হরমুজ প্রণালিকেই তাদের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।


“হরমুজ প্রণালি হল ইরানের চূড়ান্ত রেড লাইন বা অতিক্রমণীয় সীমানা। ইরানিরা যুদ্ধের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না, তাই প্রণালির নিয়ন্ত্রণই তাদের অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র উপায়। আমি মনে করি না তারা এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসবে।”


জুন মাসের চুক্তিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?


গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। কারণ ইসরায়েল হামলা চালিয়ে লেবাননের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে। পাশাপাশি একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। এতে ইরানি তেল রপ্তানির ওপর মার্কিন ছাড় এবং হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যোগাযোগ আবার শুরুর বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।


তবে চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুতসহ অন্যান্য জটিল বিষয়গুলোকে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। 


আরবান কানিংহাম বলেন, “ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবটি তাদের আগের মডেলটিকেই অনুসরণ করছে। এর মাঝে সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু করা অগ্রাধিকার পাচ্ছে।


“তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব ইস্যুকে আলাদা আলাদাভাবে না দেখে, সবকিছুকে একটি একক প্যাকেজ হিসেবে ধরে আলোচনা করতে চায়।”


ইরানের নতুন প্রস্তাব কি যুক্তরাস্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে


মার্কিন নাগরিকরা যখন জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যের সঙ্গে লড়াই করছে, তখন জাতিসংঘের মত বৈশ্বিক মঞ্চে ইরানের এই প্রস্তাব দেওয়াকে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক চাল’ মনে করছেন কানিংহাম। 


তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ বন্ধে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটিই হয়ত শেষ সুযোগ বলে বর্ণনা করছে তেহরান। এভাবে ইরান মূলত তেল ও গ্যাসের দাম এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির একটি পদ্ধতি।


কানিংহাম বলছেন, ইরান ও ওমানের মধ্য দিয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালিটি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম এই অঞ্চলের বাইরেও বহুগুণ বেড়েছে, যা দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক তাগিদ দিচ্ছে।


এক্সপ্লেইনারে বলা হয়, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি আবার খোলার চুক্তি ট্রাম্পকে ভোটারদের কাছে যাওয়ার আগে জ্বালানির দাম কমানোর একটি সুযোগ দিতে পারে; যা নির্বাচনের আগে তার দল রিপাবলিকান পার্টিকে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সুবিধা দিতে পারে।


যদিও ট্রাম্প এই নির্বাচনি হিসাবটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান মূলত নভেম্বরে তার রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে কেমন ফল করে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। 


ট্রাম্প ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, ভোটের পরেই চুক্তি হবে। না হলে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। ফলে এই প্রশ্নটি থেকেই যায় যে, কম জ্বালানি মূল্যের সম্ভাবনা কি ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের প্রস্তাবিত আলোচনার শর্তাবলী মেনে নিতে রাজি করানোর জন্য যথেষ্ট কিনা?


কানিংহাম সন্দেহ প্রকাশ করেন, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি এভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে মূল সমস্যাটি আগের মতোই রয়ে গেছে, কারণ ইরানের প্রস্তাবটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেয় না।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতের জরুরি প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সম্মত হয়েছে দেশটির সরকার। অভিবাসন সংক্রান্ত কড়াকড়ির ফলে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়া এবং ফসল তোলার কাজে ব্যাঘাত ঘটার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে গ্রেইন প্রডিউসারস অস্ট্রেলিয়া (জিপিএ)।


রয়টার্সের খবরে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় গম, বার্লি ও ক্যানোলা রপ্তানিকারক দেশ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই তিন ধরনের ফসল কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। আর এসব ফসল ঘরে তুলতে দেশটির অনেক খামারই অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে।


এক বিবৃতিতে জিপিএ জানিয়েছে, বছরে অভিবাসীর সংখ্যা ব্যাপকহারে কমানোর নীতি ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কৃষি খাতের সংগঠনগুলোকে জরুরি শ্রমিকের আবেদন অগ্রাধিকার দিয়ে প্রক্রিয়াকরণের জন্য জমা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।


জিপিএর চেয়ারম্যান ম্যাথিউ ম্যাডেন বলেন, ‘এটি একটি সমাধান এবং এমন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’ 


তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, কতসংখ্যক ভিসা এর মাধ্যমে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে এবং এতে দ্রুত ভিসা অনুমোদন নিশ্চিত হবে কি না-সেটি এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানান তিনি।


ম্যাডেন বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি বাস্তবে কীভাবে কাজ করে, আমরা তা দেখব। তবে আশা করছি, এখন কৃষকদের কাছে এমন একটি ব্যবস্থা থাকবে, যার মাধ্যমে ফসল কাটার মৌসুমে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ শ্রমিকদের এখানে আনা সম্ভব হবে।’


সরকারের নতুন ব্যবস্থায় ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য তিন মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। 


কৃষি খাতের সংগঠনগুলো জানিয়েছে, খামার ও অন্যান্য গ্রামীণ ব্যবসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ‘ওয়ার্কিং হলিডে মেকার’ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৩ পিএম

জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করা দেশগুলোর তালিকা করেছেন এক ইসরায়েলি কূটনীতিক। এসব দেশের নেতাদের কেউ কেউ নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে এবং কেউ কেউ ভাষণের সময় অধিবেশনস্থল ত্যাগ করেন বলে ভয়েস অব এমিরেটসের খবরে বলা হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি ওই কূটনীতিক হলের সারিগুলোর মাঝ দিয়ে হাঁটছেন। তিনি বেরিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিনিধিদলের তালিকা করছেন।


দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম- ভয়েস অব এমিরেটস লিখেছে, ইসরায়েলি কূটনীতিকের নোট নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকমের প্রতিক্রিয়া আসছে।


একজন পর্যবেক্ষক রসিকতা করে লিখেছেন, “নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় শতাধিক প্রতিনিধি হল ছেড়ে যাওয়ার পর ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ঠিক কারা বেরিয়ে গেছেন, তা যাচাই করতে দেখা গেছে।


“ইসরায়েলের উচিত, অতিরিক্ত কাগজ সঙ্গে রাখা। কারণ নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্ত দেশগুলোর তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।”


গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি


জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও দুয়োধ্বনি শোনা যায়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদল এবং ওপরের গ্যালারিতে থাকা কিছু দর্শকের কাছ থেকে করতালি আসে। নেতানিয়াহু ভাষণ শুরুর আগেই হল ছেড়ে যাওয়া প্রতিনিধিদের তীব্র সমালোচনা করেন। 


তিনি তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ অভিহিত করে বলেন, “আর কোনো কাপুরুষ যদি এখনও হল ছেড়ে না গিয়ে থাকেন, তাহলে এখনই বেরিয়ে যেতে পারেন।”


বেরিয়ে যাওয়া দেশের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য


কোনো বিষয়ের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে জাতিসংঘের বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়া নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন অধিবেশনে এমন প্রতিবাদ দেখা গেছে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম লিখেছে, কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধি নেতানিয়াহুর ভাষণ শোনেননি। কারো হিসাবে, এমন দেশের সংখ্যা ৭৭।


কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম লিখেছে, কোনো কোনো আসন অধিবেশনের শুরু থেকে ফাঁকা ছিল। ফলে কোন দেশের খালি আসন দেখেই বলা যাবে না, তারা নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করেছে।


যেসব দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলন স্থলে ছিলেন, তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কলম্বিয়া, আজারবাইজান ও গ্রিস রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও হলে ছিল।


দ্য টাইমস অব ইসরায়েল লিখেছে, আরব দেশগুলোর মধ্যে আমিরাতই একমাত্র দেশ, যারা হল থেকে বেরিয়ে যায়নি।


এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ বা কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সংস্থা নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় হল ছেড়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিনিধিদলের তালিকা প্রকাশ করেনি।