টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ১২:৪১ পিএম

পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহেনা, হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার রায় হবে সোমবার (১ ডিসেম্বর)।


এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্রিটিশ এমপি ও সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের ১০ বছরের সাজা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৪৩ বছর বয়সী টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি তার মা, ভাই ও বোনকে শেখ হাসিনার মাধ্যমে প্লট পাইয়ে দিয়েছেন।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল রোববার (৩০ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যদি টিউলিপ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এবং দীর্ঘ সাজাপ্রাপ্ত হন তাহলে ব্রিটিশ এমপির পদ ছাড়ার চাপে পড়বেন তিনি।


এর আগে, গত ডিসেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগে টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সে সময়ও একই রকম চাপে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সিটি মিনিস্টারের পদ ছেড়ে সেবার বেঁচে যান।


রূপপুরের দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই সামনে আসে যুক্তরাজ্যে একটি ফ্ল্যাট নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন টিউলিপ। তিনি বলেছিলেন, বাবা-মায়ের থেকে ফ্ল্যাটটি পেয়েছেন। কিন্তু আসলে আওয়ামীপন্থি এক নেতার কাছ থেকে ফ্ল্যাট উপহার নিয়েছিলেন তিনি। ঘুষ হিসেবে তিনি এটি নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।


যদিও এরপর ব্রিটিশ সরকারের এক অভ্যন্তরীণ তদন্ত জানায়, টিউলিপ ফ্ল্যাট নিয়ে মিথ্যাচার করে মন্ত্রিত্বের কোনো ধারা লঙ্ঘন করেননি।


এদিকে বাংলাদেশে টিউলিপের মামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ব্রিটিশ আইনজীবী। তারা বলেছেন, এ মামলা স্বচ্ছ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের কাছে একটি চিঠিও দিয়েছেন তারা।


টিউলিপ মামলা ও আইনজীবীদের চিঠির ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৫ পিএম

ইরানের সাধারণ নাগরিকদের ‘মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ’ দেবে দেশটির সেনাবাহিনী।


ইরানি ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি (ডব্লিউএএনএ) জানায়, জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করতে একটি কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করতে যাচ্ছে ইরানি সেনাবাহিনী।


সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিষয়ক উপ-প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আলিয়ান-নেজাদ জানান, ‌‘জানফাদা’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচিটি আজ রোববার (০৪ অক্টোবর) থেকে রাজধানী তেহরানের তিনটি সুবিধাজনক স্থানে পরিচালিত হবে।


আলিয়ান-নেজাদ বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের ‘মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ’ এবং পরবর্তীতে আরও উন্নত কোর্স প্রদানের জন্য সেনাবাহিনীর চারটি শাখার সদস্যদের বিভিন্ন নির্ধারিত ‌‌‌‌‘ফিল্ড-গ্যারিসন’ সাইটে মোতায়েন করা হবে।


সূত্র: আল-জাজিরা


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের এক যুদ্ধবাজ দেশ ইসরায়েল। গাজায় গণহত্যাসহ হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। আর এসব যুদ্ধের জোরে ফুলেফেঁপে উঠেছে দেশটির ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি। গত পাঁচ বছরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। আর সে অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। খবর দ্য প্রিন্টের।


গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


‘ডিফেন্স ডিভিডেন্ডস অব দ্য আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৮৩০ কোটি ডলার। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সে আয় বেড়ে ২০২৫ সালে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলারে।


আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো। এ তিন দেশই ইসরায়েলের অস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হয়ে উঠেছে। তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কিনেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।


২০২২ সালে ইসরায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস আমিরাতের কাছে মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্পাইডার এমআর বিক্রি করে। একই বছর এলবিট সিস্টেমস ও ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজসহ (আইএআই) আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমিরাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি রপ্তানি করে।


শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই দুই পক্ষের সম্পর্ক সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিরক্ষা খাতেও তাদের সহযোগিতা বাড়ছে। আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ইডিজিই ইসরায়েলের অন্তত আটটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে।



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলেও এবার ট্রাম্প বলছেন, সেই পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে ইরান। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো আপস করবে না বলে জানিয়েছে।


বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি সমাবেশে যোগ দিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এরই মধ্যে অষ্টম মাসে পড়েছে।


ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ‘প্রায় ছেড়েই দিয়েছে’ বলে দাবি করার পাশাপাশি বর্তমানে তেলের দাম কমছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তি রয়েছে।


সাংবাদিকদের ট্রাম্প ট্রাম্প বলেন, ‘তেলের দাম কমছে। এখন তেলের দাম কম। বাইডেন প্রশাসনের সময়ের চেয়েও এখন দাম কম। অথচ তারা ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কিছুই করেনি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ইরান, আপনারা জানেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পরিকল্পনাই প্রায় ছেড়ে দিয়েছে।’


অবশ্য পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকার করে আসছে ইরান। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই কথা বলেন।


পেজেশকিয়ান বলেন, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে আনার প্রস্তাবও দেন তিনি।


তবে ইরান বলেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস তারা করবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কর্মসূচির কাঠামোগত কোনো পরিবর্তনও করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস উপকূলে ছয় আরোহী নিয়ে একটি মেডিকেল ফ্লাইট নিখোঁজ হয়েছে। বারমুডা থেকে রওনা হওয়া বিমানটির মাঝ আকাশে হঠাৎ রেডিও ও রাডার—দুই ধরনের যোগাযোগই বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। এর আগে বিমানটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নেমে আসে এবং পাইলট জরুরি পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন।


সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি মেডিকেল ফ্লাইট স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটিতে থাকা ছয়জনের সন্ধানে আকাশ ও সমুদ্রপথে তল্লাশি চালাচ্ছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।


যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বিবিসিকে জানিয়েছে, গালফস্ট্রিম জি-১০০ বিমানটির সঙ্গে হঠাৎই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় সময় রাত ১টার পরপরই বিমানটির সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।


ম্যাসাচুসেটসের নানটাকেট দ্বীপের উপকূলে আকাশ ও সমুদ্রপথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কোস্টগার্ডের নর্থইস্ট ডিস্ট্রিক্ট।


ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল।


কোস্টগার্ড প্রকাশিত বিমানের টেইল নম্বর অনুযায়ী, বিমানটি ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেসের। রোগীদের চিকিৎসা শেষে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক মেডিকেল ফ্লাইট পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি।


ল্যাটিটিউডের ফ্লাইট অপারেশন্স পরিচালক ক্ল্যারেন্স টোগেরেটজ সিবিসি নিউজকে জানান, বিমানে দুই পাইলট ও দুইজন মেডিকেল কর্মী ছিলেন। তারা সবাই কানাডার নাগরিক।


টোগেরেটজ জানান, একজন রোগী ও তার স্বজনকে নিতে ওই বিমানটির ক্রুরা বারমুডায় গিয়েছিলেন। ওই রোগী ও তার স্বজন কানাডার নাগরিক নন।


ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের ট্র্যাকার থেকে দেখা যায়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটি হঠাৎ অনেকটা নিচে নেমে আসে। প্রায় ৭ হাজার ৩০০ মিটার (২৪ হাজার ফুট) উচ্চতা থেকে বিমানটি নেমে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মিটার (১১ হাজার ফুট) উচ্চতায় চলে আসে।


লাইভএটিসি ডটনেট থেকে পাওয়া রেডিও যোগাযোগের তথ্যের ভিত্তিতে বোস্টন গ্লোব জানিয়েছে, বিমানটির পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছিল।


এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার পাইলটকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি কোনো নির্দেশনা দেখতে না পেয়েই এগিয়ে আসছেন? আপনি কি সেটাই বলেছেন? আপনি কি জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করছেন, নাকি করছেন না?’


পাইলটের জবাব শোনা যায়নি। এরপর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার বলেন, ‘আপনার কথা খুব দুর্বল শোনা যাচ্ছে। তাই আপনি জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন কি না, আপনার জবাবটা আমি শুনতে পাইনি।’


পরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার নিশ্চিত করেন যে পাইলট জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিলেন। এরপর স্থানীয় সময় রাত ১টার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডিসপ্যাচার জরুরি উদ্ধারকারী দলকে বিমানটির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। তিনি জানান, বিমানটিতে ‘বৈদ্যুতিক সমস্যা’ দেখা দিয়েছে।


পরে ওই ডিসপ্যাচার জানান, ‘বিমানটির রেডিও ও রাডার—দুটোরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’


সৌদি আরামকোর জ্বালানি তেল শোধনাগারে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ছবি: এএফপি

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণে জ্বালানি তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। গোষ্ঠীটির দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। গতকাল শনিবার ওই স্থাপনার আশপাশ থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা সৌদি আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে রিয়াদের কাছে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে।


ইয়াহিয়া সারির দাবি, হুতিদের হামলার কারণে রিয়াদের দক্ষিণে ওই তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোয় সৌদি আরব প্রায় ৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে দুই পক্ষই পরস্পরের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়ে আসছে।


হুতিরা ইয়েমেনের আরও কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে। ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।


এদিকে হুতিদের ওপর বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। সাম্প্রতিক এসব হামলায় হাজারো হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।


হুতিদের কোণঠাসা করতে বড় ধরনের অভিযান শুরুর পরিকল্পনাও করছে সৌদি আরব। ইরানপন্থী এই গোষ্ঠীকে পরাস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সৌদি আরব সহযোগিতা পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ইলন মাস্ক

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৮ পিএম

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। 


গতকাল শুক্রবার এক দিনেই তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলার। স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ার কারণে তার সম্পদে এই বড় উল্লম্ফন হয়েছে।


ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ২টা ১৫ মিনিটে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। আগের দিনের তুলনায় তার সম্পদ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।


এদিন মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে। 


এর আগে ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানিটি কয়েকটি সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পেসএক্সের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।


অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে ওঠে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে। এই সংখ্যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। 


ফলে টানা তৃতীয় বছর গাড়ি সরবরাহ কমার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হবে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।


ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় ইলন মাস্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুজনের সম্পদের ব্যবধান প্রায় ৬০০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।


ইলন মাস্ক এর আগে গত ১২ জুন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। ওই দিন তার সম্পদের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। জুনে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। এতে মাস্কের সম্পদের পরিমাণও দ্রুত বেড়ে যায়।


তবে জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে গেলে তিনি ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার তার সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস।


এরপর ২৯ জুন তিনি আবার সাময়িকভাবে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান। তবে ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় আবার তা হারান। জুলাইয়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেলে মাস্কের সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।


এখন স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মাস্কের সম্পদ আবার দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবারের হিসাবে তার সম্পদ ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা থেকে প্রায় ২০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কম। 

সূত্র: ইয়াহু ফাইনান্স