ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরানের চাবাহার বন্দরে অর্থায়ন বন্ধ করলো ভারত। ২০২৬ অর্থবছরের দেশটির কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহার প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।
গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পে বার্ষিক ১০০ কোটি রুপি করে বরাদ্দ দিচ্ছিল নয়াদিল্লি।
ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারতের অন্যতম কৌশলগত সংযোগ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও বৃহত্তর অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত যোগাযোগ জোরদারে এই বন্দরকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছিল ভারত।
ওমান উপসাগরের মুখে অবস্থিত চাবাহার ইরানের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর, যা দেশটিকে সরাসরি বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সঙ্গে যুক্ত করে। পাকিস্তান সীমান্তের পশ্চিমে অবস্থিত এই বন্দরটি ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরের বিপরীতে অবস্থান করছে। চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় গোয়াদার বন্দর উন্নয়ন করায় চাবাহারকে ওই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত পাল্টা ভারসাম্য হিসেবেও বিবেচনা করা হতো।
ইরানের কাছে চাবাহার ছিল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরির সুযোগ। আর ভারতের জন্য এটি ছিল পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র কার্যকর রুট, কারণ ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে স্থলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।
চাবাহার প্রকল্পে ভারতের সম্পৃক্ততার ইতিহাস দুই দশকেরও বেশি পুরোনো। ২০০২ সালে ইরানের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হাসান রুহানির সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেশ মিশ্রের আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পটির সূচনা হয়।
পরের বছর ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাইয়েদ মোহাম্মদ খাতামির ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার রোডম্যাপে চাবাহারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর ভারত ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়। পাকিস্তান-সমর্থিত তালেবানের বিরোধিতা এবং আফগানিস্তানে বিকল্প যোগাযোগপথ খোঁজার প্রয়োজনে চাবাহার প্রকল্প নতুন গুরুত্ব পায়। পরবর্তীতে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের অংশ হিসেবে গোয়াদার বন্দরের উন্নয়ন শুরু হলে চাবাহারের কৌশলগত তাৎপর্য আরও বেড়ে যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতি এই প্রকল্পকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও চাবাহার প্রকল্পে ভারতের জন্য ছয় মাসের ছাড় দিয়েছিল। সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৬ এপ্রিল।
গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চাবাহার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর একটি চিঠির মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের বিষয়টি জানায়, যা ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলে ভারতের অবস্থান আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটেই চাবাহার বন্দরে নতুন অর্থায়ন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি।
ছবি : সংগৃহীত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সেটি বাংলাদেশে আসেনি। তবে কেন বাংলাদেশের ওই বিমানটিকে উড়তে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের দাবি, আকাশসীমা বন্ধের বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয় বরং ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব আবেদন দেশটির প্রচলিত নিয়ম, বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়।
হাইকমিশন জানায়, রূপপুরের জ্বালানি পরিবহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো যে বিষয়টির কথা বলছে, সেটি মূলত ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমার অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত।
এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পাকিস্তান বলেছে, বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।
কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। তখন পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয় বলে জানান রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা।
তবে রোসাটম জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে পুনরায় ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু হয়ে বছরের শেষ নাগাদ সব চালান সম্পন্ন করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করেছে।
আমেরিকা যখন ইরানের বিমান খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সাফল্য উদযাপন করছে, ইরান অপরদিকে দাবি করছে- তারা শুধু তেহরান থেকেই প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে আমেরিকা ইরানের পুরো বিমান খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মতে, এ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে "অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ" করা। ওয়াশিংটন বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল নিয়ম মেনে চলার জন্য।
এরপর বেসেন্ট ঘোষণা দেন, সারাবিশ্বে ইরানের সমস্ত এয়ারলাইন্সের "কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'যদি তারা অবতরণ করে, তবে আপনি তাদের জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবেন না, অবতরণ পরিষেবা দিতে পারবেন না, এমনকি তাদের কাছে টিকিট বিক্রি পারবেন না- অন্যথায় আপনাকে ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হবে।'
মার্কিন এ পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে তেহরান সোমবার জানায়, তারা জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। তেহরানের ফ্লাইট অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর
তথ্য অনুযায়ী, রবিবার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করেছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের দুই দিনের দৈনিক গড় ফ্লাইট সংখ্যা (৮০ থেকে ৯০টি)-র তুলনায় এটি অনেক কম। ইরানের প্রধান দুটি এয়ারলাইন্স- জাতীয় পতাকাবাহী 'ইরাম এয়ার' এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন 'মাহান এয়ার' এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রবিবার তেহরান বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র ৫টি মাহান এয়ার এবং ২টি ইরান এয়ার পরিচালনা করেছে। অথচ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে তারা প্রত্যেকে গড়ে প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। এই পরিসংখ্যানটি বেসেন্টের দেওয়া তথ্যের (যিনি বলেছিলেন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে) চেয়ে বেশি, তবে তেহরান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি করা ৬০টি ফ্লাইটের চেয়ে কম।
বিমানবন্দরের পরিচালককে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে যে, 'এখনও ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বিমান পরিষেবা চালু রয়েছে।'
চীন, রাশিয়া এবং তুরস্ক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করছে তেহরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক মিত্র বেইজিং মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞাকে "অবৈধ এবং একপাক্ষিক" হিসেবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মাহান এয়ারের ফ্লাইটগুলো আগের মতোই চীনের বিমানবন্দরগুলোতে যাতায়াত বজায় রেখেছে।
রাশিয়া এবং পাকিস্তানেও ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে, যদিও কোনো দেশই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
তবে মাহান এয়ার জানিয়েছে, তুর্কি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা তুরস্কে তাদের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে। তা সত্ত্বেও জাতীয় পতাকাবাহী ইরান এয়ার ইস্তাম্বুলে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে, পাশাপাশি ইরানের আরও কয়েকটি ছোট এয়ারলাইন্স তুরস্কের অন্যান্য শহরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ এবং মালয়েশিয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রয়োগ করা হয়নি, যেখানে মূলত ইরানের ছোট এয়ারলাইন্সগুলো সেবা দিয়ে থাকে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে কি না, তা তারা এখনো ঘোষণা করেনি।
গাল্ফ বা পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ ইউরোপ, এশিয়া কিংবা আফ্রিকায় যেতে ইচ্ছুক ইরানি যাত্রীদের জন্য অন্যতম প্রধান সংযোগকেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূখণ্ডে ইরানের সব ধরনের আসা-যাওয়ার ফ্লাইট "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত" স্থগিত করেছে। কুয়েতের সিভিল এভিয়েশনের ডিরেক্টরেট জেনারেলের একটি সূত্র সোমবার এএফপি-কে জানান, সাত মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর কুয়েতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও তাদের বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে। ইরানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা 'আইএসএনএ' জানিয়েছে, ইরানি ফ্লাইটগুলো এখন আর আজারবাইজান ও জর্জিয়া এবং ইরাকে যেতে পারছে না। তবে ইরাক এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য ছাড় চাইছে ইরাক। ইরাক সরকার শনিবারে জানিয়েছে, ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পেতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে রোগী, শিক্ষার্থী ও পুণ্যার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখা থেকে বলা হয়েছে, 'ইরাকের কয়েকটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরকে এসব বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য ইরাক সরকার মার্কিন পক্ষের সাথে সরাসরি আলোচনা করছে।'
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি ছাড় পেলে চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা, ধর্মীয় সফর এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থসহ মানবিক কারণে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
ইরানি এয়ারলাইন্সগুলো মূলত ইরাকি শিয়া পুণ্যার্থীদের ইরানের পবিত্র শহরগুলোতে কিংবা ইরানিদের ইরাকের তীর্থস্থানগুলোতে যাতায়াতের সুবিধা দিয়ে থাকে। এছাড়া এ ফ্লাইটগুলো ইরানে পড়তে যাওয়া ইরাকি শিক্ষার্থী এবং সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের যাতায়াতে সাহায্য করে।
ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-ইউ টাউনশিপের একটি হাসপাতালে সামরিক সরকারের বিমান হামলায় রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বজনসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এ হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছেন, এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সোমবার গভীর রাতে ম্রাউক-ইউ জেনারেল হাসপাতালে সামরিক বিমানের ফেলা বোমা আঘাত হানে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা জানান, হামলায় হাসপাতালটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতালে সরাসরি বোমা আঘাত করায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তুর্কের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের। তবে মিয়ানমারে বিদ্যমান ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’র কারণে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালত বা ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’-এর মতো ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুসও হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ওই এলাকায় জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা ও অস্ত্রোপচারের প্রধান কেন্দ্র ছিল হাসপাতালটি। হামলায় এর অপারেশন থিয়েটার ও রোগীদের প্রধান ওয়ার্ড পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
টেডরস জানান, এ বছর মিয়ানমারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা কর্মীদের ওপর এটি ৬৭তম নিশ্চিত হামলা। স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রতিটি হামলা মানেই মানবতার ওপর হামলা।
ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং জানান, হামলার সময় ৩০০ শয্যার হাসপাতালটি রোগীতে পূর্ণ ছিল। চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ ছিল বেশি। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ৩১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং ৬৮ জন আহত হয়েছিলেন। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৩ জনে দাঁড়ায়।
হামলার পর হাসপাতালটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ছাদ ধসে পড়ে এবং স্তম্ভ ও বিম ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে হতাহতদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ম্রাউক-ইউয়ের ২৩ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, সোমবার রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে হাসপাতালটিতে আগুন জ্বলতে এবং অনেক মরদেহ ও আহত মানুষ পড়ে থাকতে দেখেছেন।
মিয়ানমারে সামরিক সরকার বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা বাড়িয়েছে। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত সরকার ২ হাজার ১৬৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে। ২০২৪ সালে এ ধরনের হামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭১৬টি।
২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাত চলছে। অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো আরাকান আর্মিসহ বড় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট বেঁধে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আরাকান আর্মি রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি থেকে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছে এবং বেলজিয়ামের চেয়েও বড় একটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের ম্রাউক-ইউ টাউনশিপ গত বছর থেকেই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কোনো লড়াই হয়নি।
ছবি : সংগৃহীত
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলেও ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে ৭৪ হাজারের বেশি পর্যটক ভারতে গেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। বিদেশি পর্যটক আগমনের হিসাবে আগস্টে বাংলাদেশ ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান উৎসদেশ।
ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে মোট বিদেশি পর্যটক আগমন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার। ২০২৫ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি পর্যটক আগমন বেড়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। এই বৃদ্ধিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভিসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আগমনের এই বৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে আগস্টে বাংলাদেশি পর্যটক বৃদ্ধির পেছনে চিকিৎসা, কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা নাকি অবকাশযাপন—কোন কারণের ভূমিকা কতটা, সে বিষয়ে আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভারতে যান। কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বাই ও দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের কাছে পরিচিত। এর পাশাপাশি কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার জন্যও বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি অংশ ভারতে যান।
বিশেষ করে কলকাতার নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে বাংলাদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। দুই দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির মিলও কলকাতাকে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, চীন থেকেও ভারতে পর্যটক আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগস্টে চীন থেকে ৯ হাজারের বেশি পর্যটক ভারতে গেছেন, যা ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে পর্যটক আগমন বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ করে। কানাডা, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা থেকেও পর্যটক আগমন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ও চীন থেকে পর্যটক আগমনের এই বৃদ্ধি ভারতের পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা কারণে এই দুই দেশের নাগরিকদের ভারতে ভ্রমণে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আগস্টের পরিসংখ্যানে দুই দেশ থেকেই পর্যটক আগমন বৃদ্ধির বিষয়টি নজর কেড়েছে।
পর্যটন নীতি-সংক্রান্ত সংস্থা ‘অতিথি ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হেমন্ত যোশি এই পরিসংখ্যানকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন। তবে তার মতে, মাত্র এক মাসের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পর্যটনে ঋতুভেদে পর্যটকের সংখ্যা ওঠানামা করে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
হেমন্ত যোশির মতে, শুধু বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেই পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না। পর্যটকরা কত দিন ভারতে অবস্থান করছেন, কত অর্থ ব্যয় করছেন এবং কোন কোন অঞ্চলে ভ্রমণ করছেন-এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশি পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণে উৎসাহিত করা গেলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসাসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাত উপকৃত হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, আগস্টের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে ভারতের বিদেশি পর্যটন বাজারে বাংলাদেশ ও চীনের পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির ধারা পরবর্তী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের প্রতি আবারও জোরালো সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ বিষয়ে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
ল্যাভরভ জানান, তারা গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ভারত ও ব্রাজিলের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন করেন। তবে নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানি বা জাপানের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কোনো অতিরিক্ত আসন না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক বার্তা দেন তিনি। তিনি দাবি করেন, এই দেশগুলো এখন সামরিকবাদ ও প্রতিশোধপরায়ণতার পথে হাঁটছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের যেকোনো সংস্কারে বিদ্যমান স্থায়ী সদস্যদের মূল ক্ষমতা বা ভেটো অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে কেবল রাশিয়াই নয়, সমর্থন জানিয়েছে মরিশাসও। মরিশাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুল তার ভাষণে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভারতের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে এই দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য (চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র) ছাড়াও ১০টি অস্থায়ী সদস্য রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনে সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট এবং পাঁচটি স্থায়ী সদস্যসহ দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন।
রাশিয়ার সমর্থন থাকলেও এবং অন্যান্য স্থায়ী সদস্যদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের তীব্র বিরোধিতার কারণে এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
এলএনজি পরিবহনের একটি ট্যাঙ্কার
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স ম্যাজুর’-এর মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। এ কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ব্লুমবার্গকে তথ্যটি জানিয়েছেন।
ফরাসি শব্দ ‘ফোর্স ম্যাজুর’ বলতে কোনো চুক্তির অপ্রত্যাশিত বা নিয়ন্ত্রণের বাইরের ঘটনাকে বোঝায়। এমন ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ করতে না পারা পক্ষকে দায়ী করা যায় না। কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে জানিয়েছে যে, এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
আরও দুজন ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অন্তত একজন ক্রেতাকে সরবরাহ স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। ইতালির এডিসন এসপিএ জানিয়েছে, তাদের এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করলেও কাতারএনার্জি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেয়নি। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাতারএনার্জি প্রায় প্রতি মাসেই ‘ফোর্স ম্যাজুর’ পরিস্থিতি ও সরবরাহ স্থগিতের বিষয়ে ক্রেতাদের জানিয়ে আসছে।
চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়েছে কাতার। কিন্তু এটি যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম। সম্প্রতি ইরান জানিয়েছে, প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে তারা কোনো ছাড় দেবে না। অন্যদিকে দেশটির সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো নিয়ে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপে এলএনজির দাম ২০২২ সালের শেষ দিকের পর প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।