সাইফ আল-ইসলাম।

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:২৫ এএম

লিবিয়ার সাবেক নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ৫৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার তার রাজনৈতিক দলের প্রধান নিশ্চিত করেছেন, যাকে একসময় ব্যাপকভাবে তার বাবার উত্তরাধিকারী হিসেবে মনে করা হতো।


তার আইনজীবী এএফপি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে যে, একটি ‘চার সদস্যের কমান্ডো’ ইউনিট জিনতান শহরে তার বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও এই হামলার পিছনে কে বা কারা থাকতে পারে তা এখনও স্পষ্ট নয়। খবর- লিবিয়ান নিউজ এজেন্সি


এদিকে এই ঘটনার পৃথক আরেকটি বর্ণনায়, তার বোন লিবিয়ান টেলিভিশনে বলেছিলেন যে তিনি লিবিয়া-আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে তার বাবার পরে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং ভয়ঙ্কর ব্যক্তি হিসেবে দেখা হতো। তার পিতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১১ সালে এক বিদ্রোহের সময় ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত লিবিয়া শাসন করেছিলেন।


১৯৭২ সালে জন্মগ্রহণকারী সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ২০০০ সাল থেকে গাদ্দাফি শাসনের পতন পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।


তার বাবার ক্ষমতাচ্যুতির পর, সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি - যার বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ নৃশংসভাবে দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিযোগ ছিল - জিনতান শহরের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে প্রায় ছয় বছর ধরে কারাগারে বন্দি ছিলেন। ২০১১ সালে বিরোধীদের বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকার কারণে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।


এমনকি দেশটির পশ্চিমে অবস্থিত ত্রিপোলি শহর, যার নিয়ন্ত্রণ জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকারের হাতে, সেখানকার একটি আদালত ২০১৫ সালে তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু দুই বছর পর পূর্বাঞ্চলীয় শহর টোব্রুকের মিলিশিয়া তাকে সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় মুক্তি দেয়।


গাদ্দাফির উৎখাতের পর থেকে, বিভিন্ন মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে লিবিয়া এবং বর্তমানে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের মধ্যে বিভক্ত। তার বাবা দেশটির নেতা থাকাকালীন, সরকারে কোনও আনুষ্ঠানিক ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও উচ্চ-স্তরের আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। যার মধ্যে এমন কিছু ছিল যে কারণে তার বাবা নিজের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিও ত্যাগ করেছিলেন।


এই ধরনের চুক্তির ফলে উত্তর আফ্রিকার দেশটির উপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং কেউ কেউ গাদ্দাফিকে একজন সংস্কারবাদী এবং পরিবর্তিত লিবিয়ার গ্রহণযোগ্য মুখ বলে মনে করেছিলেন। সাইফ আল-ইসলাম সবসময় অস্বীকার করেছেন যে তিনি তার বাবার কাছ থেকে ক্ষমতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেতে চান। তিনি বলেছিলেন যে ক্ষমতার লাগাম "একটি খামার নয় যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায়।" তবে, ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। পরবর্তীতে ওই নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।


রয়টার্সের এক রিপোর্ট বলছে, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে পড়া সাইফ আল-ইসলাম অনর্গল ইংরেজি বলেন এবং পশ্চিমা মহলে একসময় তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তবে ২০১১র ঘটনাবলীর সময় পিতার পক্ষ নেবার পর তার সেই ভাবমূর্তি অনেকটাই বদলে যায়।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ এএম

সৌদি আরবে হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। সোমবার তিন দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় আইন অনুযায়ী সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা মোতায়েন করা হবে। এর লক্ষ্য হলো সামরিক প্রস্তুতি ও সমন্বয় জোরদার করা এবং বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় জোটের সক্ষমতা বাড়ানো।


বিবৃতিতে তিন দেশ জোর দিয়ে বলেছে, তাদের প্রত্যেকের নিরাপত্তা সম্মিলিত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মক্কা চুক্তির আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হলে তিন দেশের প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং নিজেদের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার সামর্থ্য আরও শক্তিশালী হবে।


তিন দেশের জোট জানিয়েছে, পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় জোটের সম্মিলিত সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১২ এএম

নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।


দেশটির এভিয়েশন বিষয়ক মন্ত্রী ফেসটাস কেয়ামো বলেছেন, সোমবার (৫ অক্টোবর) বিমানটি নাইজেরিয়ার অর্থনৈতিক হাব লাগোসে একটি রুটিন মিশনে ছিল। সে সময় দেশটির অনডো প্রদেশের ইগবোকোডা এলাকায় এটি বিধ্বস্ত হয়।


তিনি আরও জানান, সোমবার উড্ডয়নের পর স্থানীয় সময় সকাল ৯টার সময় রাডারের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এডো প্রদেশ থেকে লাগোসের যাত্রাপথের মাঝামাঝি জায়গায় এটি বিধ্বস্ত হয়।


নাইজেরিয়ার একটি নৌঘাঁটির কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়।


দেশটির বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি এটিআর-৪২ মডেলের ছিল এবং দুর্ঘটনার পরপরই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা যখন নৌকায় করে অভিযান চালাচ্ছিলেন তখন উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।


স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বিমানটি কিছু গাছ ভেঙে ফেলেছে। আমরা কয়েকজনের দেহাবশেষ, কিছু জামা ও কিছু জুতা পেয়েছি।

সর্বশেষ সব খবর

চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল।ছবি: স্ট্যানফোর্ড হেলথ কেয়ার

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৬ পিএম

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি। বিজয়ীরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানি পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, মস্তিষ্ক কীভাবে মানুষের অনুভূতি, আচরণ ও শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, তা দীর্ঘকাল ধরে একটি রহস্য হয়ে ছিল। বিংশ শতাব্দীতে গবেষকরা মস্তিষ্কের কোন অংশটি কোন কাজে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন।


তবে সে সময় যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা দিয়ে ‘ঠিক কী কারণে কী ঘটে’ সেটি প্রমাণ করা সম্ভব ছিল না। তারা মস্তিষ্কের খসড়া ‘ম্যাপিং’ বা মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। এর ফলে অসংখ্য প্রশ্ন ও অজানা বিষয় থেকে যায়। কিন্তু এখন দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে।


চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির প্রধান পের সভেনিংসন বলেন, ‘অপটোজেনেটিকসের কারণে এখন এমনভাবে মস্তিষ্কের ম্যাপিং তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা একসময় আমরা কেবল স্বপ্নই দেখতাম।’


‘অপটোজেনেটিকস’ আলো দিয়ে স্নায়বিক সংকেত নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল অ্যাসেম্বলি বলে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গড়ে তোলে তা দেখা সম্ভব।


নোবেল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেগম্যান ও নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামে একটি প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁরা দেখতে পান, এই প্রোটিনটি যেকোনো কোষে প্রবেশ করানো হলে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।


অন্যদিকে, গবেষণাগারে ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিনের জিন প্রবেশ করান ডাইসেরথ। এরপর ওই কোষগুলোতে নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়বিক সংকেত (নার্ভ সিগন্যাল) চালু বা ট্রিগার করতে সক্ষম হন। পরে তিনি দেখান, জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও স্নায়ুকোষের জন্য আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচটি কাজ করে।


নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, অপটোজেনেটিকস পদ্ধতি ব্যবহার করে গবেষকরা নির্দিষ্ট স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়বিক পথগুলো (নিউরাল সার্কিট) উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব পথ স্নায়বিক ও মানসিক বিভিন্ন রোগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।


চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রায়োগিক ক্ষেত্রেও (ক্লিনিক্যাল মেডিসিন) এই পদ্ধতি ব্যবহার শুরু হয়েছে। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির ব্যক্তিদের চোখের আলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় গবেষকরা পদ্ধতিটি কাজে লাগাচ্ছেন।


নোবেল কর্তৃপক্ষ লিখেছে, অপটোজেনেটিকস মস্তিষ্ক সম্পর্কে এতদিনের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন নতুন আবিষ্কার সামনে আসছে। মস্তিষ্ক আসলে কীভাবে কাজ করে- সেই রহস্য সমাধানে এসব আবিষ্কার সাহায্য করছে। 


২০২৫ সালে যারা পেয়েছিলেন


‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য গত বছর পুরস্কার পেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী মেরি ই ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও জাপানের শিমন সাকাগুচি।


তখন নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, মানবদেহে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয়। তা না হলে এটি অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে পারে। তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের পথ খুলে দিয়েছে।


মেরি ই ব্রাঙ্কো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার। ফ্রেড রামসডেল সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকস এর বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং শিমন সাকাগুচি জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক।


চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত ২৩২ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসায় নোবেল দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ৩১ বছর বয়সে পুরস্কারটি পান কানাডার ব্রেডরিক ব্যান্টিং। ৮৭ বছর বয়সে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটন রোস। 


কবে কোন পুরস্কার


মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান ও বুধবার রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে ও শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে আগামী শুক্রবার। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।


পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।


মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৭ পিএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও মুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। তবে দুই দফায় এ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন রাজপথে নামছে ইমরানের দল। শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া আলোচনা গতকাল স্থানীয় সময় সকাল পর্যন্ত চলেছে। কিন্তু এক পর্যায়ে আলোচনা ভেস্তে যায়। এর পর দুপুর দেড়টা থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে দলটি।


পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রদেশ থেকে পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা ইসলামাবাদে আসবেন। বিভিন্ন জায়গায় বিরতি দিয়ে আগামী ৮ অক্টোবর ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন তারা।   পিটিআই প্রথমে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের লংমার্চের সময় নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু ইসলামাবাদে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের পর রক্তক্ষয়ের আশঙ্কায় সেদিন কর্মসূচি স্থগিত করে এটি ৪ অক্টোবর নিয়ে যাওয়া হয়।


জানা গেছে, আলোচনায় পিটিআইয়ের প্রধান দাবি ছিল ইমরান খানের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে দিতে হবে, তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবেন। এর সঙ্গে আরও দাবি ছিল, ইমরানের তিন আটক বোনের মুক্তি ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া।


ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি গতকাল রোববার হেলিকপ্টারে করে লাক্কি মারওয়াত পৌঁছেছেন। কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই যে লংমার্চ আয়োজন করেছে, তিনি সেই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই সেখানে যান। লংমার্চটি পাকিস্তানের পেশোয়ার-করাচি ইন্দাস হাইওয়ের গান্ধী চক থেকে শুরু হওয়ার কথা।


মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মাইদাদকেলের কাছে একটি বিশেষ হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেপির মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টার থেকে নামার সময় সেখানে পিটিআইয়ের বিপুলসংখ্যক কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক লংমার্চে ‘রাষ্ট্রীয় হেলিকপ্টার ব্যবহারের’ জন্য আফ্রিদির সমালোচনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহারের ঘটনাকে ‘ইসলামাবাদ হাইকোর্টের আদেশের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘প্রদেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছে।’


এর আগে সাবেক খাইবার পাখতুনখোয়া মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুরের নেতৃত্বে পিটিআইয়ের কর্মী ও সমর্থকরা দলের লংমার্চে যোগ দিতে ডেরা ইসমাইল খান থেকে রওনা হন। ডিআই খান থেকে যাত্রা শুরুর আগে গান্দাপুর জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভ অবশ্যই শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সহিংসতা, ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।


এদিকে লংমার্চ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাঁজোয়া যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও রাখা হয়েছে। কেপির মুখ্যমন্ত্রীর স্বরাষ্ট্র ও উপজাতীয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী তারিক সাদ তাঁর বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, পিটিআই নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘শান্তিপূর্ণ লংমার্চ’ আজ গান্ধী চক থেকে শুরু হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলো থেকে আসা গাড়িবহরও এতে যোগ দেবে।

সর্বশেষ সব খবর

বিজেপিতে যোগ দিলেন কোয়েল মল্লিক

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৪ পিএম

অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার সকালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দিতে বিধানসভায় যান পশ্চিমবঙ্গের এই অভিনেত্রী। এর এক দিন আগে তাকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিজেপি।


রোববার বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে দলটির প্রার্থী হচ্ছেন কোয়েল মল্লিক। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন কোয়েল। গত ১৬ জুলাই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তার ছেড়ে দেওয়া আসনেই আগামী ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


কোয়েলের বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে তার পদত্যাগের পর থেকেই আলোচনা চলছিল। ১৬ জুলাই পদত্যাগের পর তিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। এরপরই তার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।


এর আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইককে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। এবার কোয়েল মল্লিকের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করেছিল। মার্চে নির্বাচনের পর ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। তবে কোনো অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগেই ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন।


এবার নিজের ছেড়ে দেওয়া সেই আসনের উপনির্বাচনেই বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক। সোমবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বিধানসভায় যান।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৯ পিএম

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের একটি পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশনা দেওয়া হয় গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে। চুল্লিটি মহাকাশ যাত্রায় টিকে থাকার পাশাপাশি চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই চলতে পারবে। নাসা ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছে। সংস্থাটির এই তাড়াহুড়োর পেছনে একটি কারণ আছে। চীনের সঙ্গে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাশিয়া। আর তাই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে যেতে নাসা তাদের সময়সূচি এগিয়ে এনেছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও চীন– উভয়ই সবার আগে চাঁদে নিজেদের ঘাঁটি স্থাপন করতে চায়। তাদের লক্ষ্য উপগ্রহটিতে জমে থাকা বরফ বা পানির মতো সম্পদের সন্ধান করা এবং সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান চালানো। এই অভিযানের জন্য চাঁদের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। দুই পরাশক্তির বিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষাটি পূরণের মূল হাতিয়ার হলো একটি পারমাণবিক চুল্লি।


দেশগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুল্লিগুলো চাঁদে পৌঁছানোর পরই কেবল সেগুলো চালু করা হবে। তবে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন বিজ্ঞানী এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, কয়েকটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের পরও দেশগুলো মহাকাশ গবেষণায় অনেক বেশি তাড়াহুড়ো করছে।


গত ছয় বছরে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার একাধিক রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ ও বিস্ফোরিত হয়েছে। চুল্লি স্থাপনে কোনো ব্যর্থতার কারণে মারাত্মক পরিণতিসহ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক এডউইন লিম্যান বলেন, মহাকাশ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যদি পারমাণবিক শক্তি যুক্ত হয়, তবে তা সম্ভাব্য আরও বিপদের দিকে মোড় নিতে পারে।


এদিকে, উপগ্রহটিতে যে কোনো স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। পারমাণবিক চুল্লিগুলো চালানোর জন্য সূর্যের আলো দরকার হয় না। এগুলো আকারেও বেশ ছোট হতে পারে। নাসা ও কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের মতে, সঠিকভাবে নকশা করা গেলে এগুলো পরিচালনায় মানুষের হস্তক্ষেপেরও তেমন প্রয়োজন হবে না।


প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নাসা ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে মঙ্গলগ্রহে একটি মহাকাশযান পাঠাতে চায়, যেটিতে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। এর আগে প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়সূচি কয়েক দফায় পেছানো হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশগুলো তাদের কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া চাঁদের অমসৃণ পৃষ্ঠে ভারী এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ নামাতে সক্ষম ল্যান্ডারও কারও কাছে নেই।


যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জানিয়েছে, চাঁদে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাদের চুল্লিগুলো নিষ্ক্রিয় থাকবে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এটিকে ‘আন-ইরেডিয়েটেড’ বা তেজস্ক্রিয়তামুক্ত বলা হয়। এর ফলে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রকেট উৎক্ষেপণের সময়। মহাকাশে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিওপোল্ড সুমারার বলেন, উৎক্ষেপণের মুহূর্তটিতে প্রচুর ঝুঁকি থাকে। অতীতে রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে।


বেশির ভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রই (লঞ্চপ্যাড) কোনো না কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি অবস্থিত। কোনো চুল্লি পানিতে আছড়ে পড়লে নিউট্রনের গতি কমে যায়। ফলে পরমাণু বিভাজনের শঙ্কা বাড়ে। এটি একটি চুল্লিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে।


পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৯ সালে রাশিয়ায় সম্ভবত এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় চুল্লিচালিত একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যর্থ হয়ে শ্বেত সাগরে (হোয়াইট সি) আছড়ে পড়ে। তবে রাশিয়া এই দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি চুল্লিচালিত ছিল না।


নাসা বলেছে, তারা বিপদ এড়াতে সক্ষম এমন নকশা তৈরি করছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি কোম্পানি রোসাটম মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর