ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিন ধরে চলমান সামরিক অভিযানে ১৯৭ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা।
এছাড়া, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে জিও নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তান জুড়ে সমন্বিত ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পর সেনা অভিযান শুরু হয়। ওই দিন একযোগে প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায় ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন’ বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ওইদিনের হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
সপ্তাহান্তে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার এবং পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায়ও হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত তিন দিনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বেলুচিস্তানে।
হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। এই অভিযানে প্রথম ধাপে ৯২ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন।
দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর জঙ্গিরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।
আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী অটল সাহস ও পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে জঙ্গিদের অপচেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করেছে। তবে, তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য সেদিনই নিহত হন।
পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্যানিটাইজেশন অপারেশন চালানো হয়, যাতে হামলার পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী ও মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনা যায়।
আইএসপিআর জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণ মিলেছে যে এসব হামলা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত জঙ্গি নেতারা পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ঘটনার পুরো সময় তারা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি বেলুচিস্তানে কাজ করা অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানি নাগরিক এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। গত বছর সংগঠনটি ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালায়, যার ফলে দুই দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পাকিস্তান সরকারের দাবি, বেলুচ লিবারেশন আর্মিকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেয় ভারত। তাই এই সংগঠনটিকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে থাকে পাকিস্তান সরকার।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী বিশাখাপত্তনমে হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষকের চড়ের আঘাতে শ্রেণিকক্ষেই ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে ওয়ান টাউন এলাকায় স্থানীয় ‘লিটল গার্ডেনস স্কুল’-এ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। খবর এনডিটিভির।
নিহত শিশুটির নাম প্রণয় তেজা, সে ওই স্কুলের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির (ইউকেজি) শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শিশুটি আগের দিনের হোমওয়ার্ক না করায় এবং প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই নারী শিক্ষক। এক পর্যায়ে তিনি শিশুটিকে চড় মারেন এবং ক্লাসের সবার সামনে তাকে লজ্জিত করার চেষ্টা করেন।
শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই নারী শিক্ষক শিশুটির জামা টেনে ধরছেন এবং তাকে চড় মারছেন। চড় মারার পরপরই শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে প্রথমে শিক্ষকের গায়ের ওপর ঢলে পড়ে এবং পরে মেঝেতে পড়ে যায়।
শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় কিং জর্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে ‘ব্রট ডেড’ বা মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তীব্র আতঙ্ক বা আঘাতের কারণে শিশুটি হার্ট অ্যাটাক বা শ্বাসরোধ হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় বিশাখাপত্তনম পুলিশ এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটির জাহাজ চলাচল এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমনকি প্রয়োজন হলে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে ইরান বলছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ চালু রেখেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির অপর পাড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ওমানকে বোমা হামলার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে প্রণালিটির যৌথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান কোনো চুক্তিতে গেলে তা ঠেকাতেই ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাহলে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার—ইরানের নাকি যুক্তরাষ্ট্রের?
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের প্রকৃত তথ্য থেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির প্রধান দুটি নৌপথ
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিকে মূলত একটি অভিন্ন জলপথ হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। তখন এটিকে ‘ইরানি’ বা ‘ওমানি’ নৌপথ হিসেবে আলাদা করে দেখা হতো না। জাহাজগুলো প্রণালির মাঝামাঝি দিয়ে নির্ধারিত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম অনুসরণ করে চলাচল করত।
কোন পথে জাহাজ চলবে, তা সাধারণত নির্ধারিত হতো কোন বন্দরে জাহাজ যাবে, ভাড়ার চুক্তির শর্ত এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে। সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তখন জাহাজ চলাচলের প্রধান নিয়ামক ছিল না।
তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর জলপথটি কার্যত দুটি প্রধান রুটে বিভক্ত হয়েছে।
ইরান প্রণালির উত্তর দিকের রুটটি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এই পথটি ইরানের উপকূল ঘেঁষে লারাক ও কেশম দ্বীপের কাছ দিয়ে গেছে এবং সরাসরি ইরানের বিভিন্ন বন্দর ও সমুদ্রভিত্তিক তেল স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে রয়েছে দক্ষিণের ওমানি রুট। এটি ওমানের কাছাকাছি এবং ইরানের উপকূল থেকে তুলনামূলক দূরে। যুক্তরাষ্ট্র এই পথ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই রুট দিয়েই চলাচল করছে।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে জাহাজ চলাচলের ধরন থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কার প্রভাব কতটা রয়েছে, তার একটি বাস্তব চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
জীবন বাঁচাতে কার্নিসে আশ্রয় দম্পতির
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেল। রাত দেড়টার পর একটি কক্ষের দরজায় জোরে ধাক্কা দেন কেউ। ভেতরে ছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি সোমাইয়া আখতার ও রেজাউল ইসলাম।
দরজার ওপাশ থেকে আগুন লাগার খবর শুনতেই দুজন জানালা দিয়ে বেরিয়ে কার্নিসে আশ্রয় নেন। হোটেলটি নিউমার্কেট এলাকায় চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায়।
ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহখানেক আগে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় বেড়াতে গিয়েছিলেন সোমাইয়া ও রেজাউল। শিখা ইন হোটেলে ওঠেন দুইদিন আগে। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে হোটেলটিতে আগুন লাগে।
সোমাইয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ তাদের কক্ষের দরজায় কেউ জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। ওই সময় তিনি জেগে ছিলেন। ধাক্কার শব্দে ঘুম ভাঙে রেজাউলের। দুজন বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুলে দেখেন বারান্দা ধোঁয়ায় ভরে গেছে।
চিৎকার, ধোঁয়া দেখেও সে সময় মাথা ঠান্ডা রেখেছিলেন রেজাউল। দ্রুত চিন্তা করে ঠিক করেন, দরজা দিয়ে নয়, জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন। স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান জানালার কাছে। এরপর নেমে যান কার্নিসে। এরপরের ঘটনার বর্ণনা দেন সোমাইয়া। বলেন, ‘কার্নিসে দাঁড়িয়ে হেল্প, হেল্প, আগুন, আগুন বলে চিৎকার করছিলাম।’
ধোঁয়ার কারণে তিনতলার কার্নিস থেকে ওই সময় রাস্তা ভালভাবে দেখা যাচ্ছিল না। নিচে থেকে ওপরে কারও অবস্থান বোঝার উপায় ছিল না। তাই মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন এই দম্পতি।
সোমাইয়া বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে যারা যাচ্ছিলেন, তাদের ডেকে আমাদের বিপদের কথা বলি। প্রায় আধা ঘণ্টা আমরা কার্নিসে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’ পরে তিনতলার কার্নিস থেকে দুজনকে মইয়ের মাধ্যমে নামান দমকলকর্মীরা।
সোমাইয়া-রেজাউল ছাড়াও ওই ভবনের অন্য হোটেলগুলোতে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ছিলেন। তারা চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে ভারতে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়জন নিহতের খবর জানা গেছে। তাদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের পর দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের যৌথ সামরিক মহড়া ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১১ দিনের পরিবর্তে এবার ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া চলবে পাঁচ দিন।
একই সঙ্গে মহড়ার কিছু প্রশিক্ষণও কমিয়ে দেওয়া হবে। আজ বুধবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।
১৭ আগস্ট শুরু হওয়া মহড়া ২১ আগস্ট শেষ হবে। আগে এটি ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা ছিল। মহড়ার কিছু মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও কমানো হবে। কিছু প্রশিক্ষণ বাতিল করে সিমুলেশনের মাধ্যমে করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, মহড়ার দ্বিতীয় ধাপও বাতিল করা হতে পারে। এই ধাপে প্রতিরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের পর পাল্টা হামলার অনুশীলন হওয়ার কথা ছিল।
গত রোববার ট্রাম্প মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ নির্দেশ দেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মহড়া কমানোর পেছনে ট্রাম্পের একাধিক লক্ষ্য থাকতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, ইরান পরিস্থিতি সামলানো এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আবার কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা এর মধ্যে থাকতে পারে।
এদিকে মহড়া কমানোর পরও উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার নিন্দা জানিয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ বলেছে, ওয়াশিংটন ও সিউলের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়া আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ চালিয়ে যাবে।
তবে এবার উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের নির্দেশ বা মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। এক বিশ্লেষকের মতে, এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ খোলা রাখতে চাইছে।
এদিকে কিম জং উনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য ট্রাম্প তার কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নভেম্বরে চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় এমন বৈঠক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রয়টার্স এ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এসব যৌথ মহড়াকে প্রতিরক্ষামূলক এবং উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া বরাবরই এসব মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স
ছবি : সংগৃহীত
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয়। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন শণশিষ দত্ত, আফসানা শিম্মিন, দেবাশীষ দত্ত ও মোহাম্মদ আকরাম আলী। তারা সবাই বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে আহমেদ বাবু নামে আরও একজন নিহত হয়েছেন। তিনি ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আদম আলী।
নিহত ভারতীয় নাগরিকের নাম সন্দীপ পাসওয়ান। তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এবং ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন।
আগুন লাগার সময় হোটেলের অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে ছিলেন। ঘুমের মধ্যেই অনেকের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। যারা দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে বের হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের কেউ কেউ প্রাণে বেঁচেছেন। তবে কয়েকজন ঘুমের মধ্যেই মারা যান।
ভোররাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়ভাবে ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত নিউমার্কেট এলাকা। এর আশপাশের কলিন স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মার্কুইস স্ট্রিটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক আবাসিক হোটেল রয়েছে।
এসব এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০টি হোটেল রয়েছে।
নিউমার্কেট এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ফলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বেশির ভাগ বাংলাদেশি হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে আমিরাতের বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত তেহরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার চেয়েও আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ইরানের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষ করে দুবাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কিমিট আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের সঙ্গে দুবাইয়ের পণ্য ও আর্থিক লেনদেনের গুরুত্ব কোনোভাবেই কম করে দেখার সুযোগ নেই। ইরানে আমদানি করা পণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হলো দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
তার ভাষ্য, ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে আসে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের ভূমিকা ইরানকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
কিমিট বলেন, ‘অনেক দিক থেকেই আমিরাতের এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও আমিরাতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে পারে কি না—এ বিষয়ে কিমিট বলেন, তারা আপাতত পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে বলে তিনি মনে করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমিরাত ও ইরানের মধ্যে কী ঘটে, সেটিই এখন সবাই দেখবে এবং অপেক্ষা করবে।’
কিমিটের মতে, আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত ইরানের কাছে অত্যন্ত গুরুতর বার্তা বহন করছে। এমনকি তেহরান এটিকে যুদ্ধ ঘোষণার কাছাকাছি কোনো পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেন।
সূত্র: এনডিটিভি, আল জাজিরা