মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চান বলে জানিয়েছেন। তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহকারীদের বলেছেন, সম্ভব হলে আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই এ সংঘাতের অবসান চান।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর প্রায় এক মাস পর ট্রাম্প মনে করছেন সংঘাত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকের আগেই যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে তার।
তবে বাস্তবে পরিস্থিতি জটিল। শান্তি আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ট্রাম্পের হাতে কার্যকর বিকল্পও সীমিত। এদিকে, তিনি মাঝেমধ্যে মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছেন অন্যান্য ইস্যুতে—যেমন মধ্যবর্তী নির্বাচন, অভিবাসন নীতি ও ভোটার আইন। এমনকি এ যুদ্ধকে তিনি কখনো কখনো ‘বিভ্রান্তি’ হিসেবেও দেখছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট একাধিক বিষয় একসঙ্গে সামলাতে সক্ষম এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য পূরণে তিনি পুরোপুরি মনোযোগী। তার একমাত্র লক্ষ্য ‘বিজয়’।
সম্প্রতি ট্রাম্প কূটনীতির দিকেও কিছুটা ঝুঁকেছেন। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি থেকে তিনি আংশিক সরে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে চাপ বজায় রাখতে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের কিছু তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ধারণাও তুলেছেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেই।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান আলোচনায় না এলে সামরিক পদক্ষেপ বাড়ানো হবে। তবে ইরানের মাটিতে স্থলসেনা পাঠাতে অনীহা রয়েছে তার, কারণ এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। এখন পর্যন্ত এ সংঘাতে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মতে, তার অবস্থান কখনো কূটনীতি, আবার কখনো সামরিক কঠোরতার দিকে দোদুল্যমান। কিছু উপদেষ্টা ইরানে শাসন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে যুদ্ধের সমাপ্তি পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে নয়। তেহরান এখনো সরাসরি আলোচনায় রাজি হয়নি। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও ঝুঁকিপূর্ণ, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েল নিজস্ব সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও পাল্টা পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
এদিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে চাপ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে দ্রুত হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ কৌশলকে ‘বোমা দিয়ে দরকষাকষি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ সংঘাতকে একটি সীমিত ‘সামরিক অপারেশন’ হিসেবে দেখছেন। দেশের ভেতরেও তিনি রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ট্রাম্প রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। মার-এ-লাগোতে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ‘খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে’।
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
সাহসী ও উদ্ভাবনী সাতিহ্যকর্মের জন্য এ বছর নোবেলে পেয়েছেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন। ‘ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য’ তাঁকে পুরস্কারটি নেওয়ার কথা জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরস্কার ঘোষণা করে দ্য সুইডিশ একাডেমি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো কর্মজীবনে অ্যান কারসন কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
১৯০১ সালের পর থেকে ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অ্যান কারসনসহ এ পর্যন্ত ১৯ জন নারী সাহিত্যে নোবেল পেলেন।
২০২৫ সালে যিনি পেয়েছিলেন
গত বছর সাহিত্যে নোবেল পান হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। অ্যাপোক্যালিপ্টিক আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে এমন এক গভীর ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন সাহিত্যকর্মের জন্য তাঁকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়।
ক্রাসনাহোরকাই এর জার্মান ভাষার উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’ সম্পর্কে নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এটি জার্মান সমাজের অস্থিরতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এতে জার্মানির একটি ছোট্ট শহরে সামাজিক অস্থিরতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বিপর্যস্ত জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
কবে কোন পুরস্কার
আগামীকাল শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।
পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।
মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
পাকিস্তানে বিদ্যুতের ঘাটতি
পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে বিদ্যুতের ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। খবর এএনআইয়ের।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহও কমেছে।
দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে লাহোরে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। লাহোর ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (এলইএসসিও) এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট।
এলইএসসিও সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর পরের এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। একই সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় বিকল্প উৎস থেকেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো না গেলে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার পাশাপাশি দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: এএনআই
ছবি : সংগৃহীত
জাপানের পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার (8 অক্টোবর) ভোরে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে চিবা ও ইবারাকি প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে কোনো ভূমিকম্পের পরই সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) বরাত দিয়ে কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে (বুধবার ১৯টা ১৩ মিনিট জিএমটি) উত্তর-পূর্ব চিবা প্রিফেকচারে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। জাপানের সাত মাত্রার ভূমিকম্প-তীব্রতা স্কেলে আসাহি শহরে এর তীব্রতা ছিল ৪। পাশের ইবারাকি প্রিফেকচারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়।
এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর ইবারাকি প্রিফেকচারে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জেএমএ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে (বুধবার ২২টা ১৪ মিনিট জিএমটি) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ০। হিতাচিওমিয়া শহরে এর তীব্রতা রেকর্ড করা হয় ৩।
দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পের কোনোটিই সুনামির সৃষ্টি করেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ১ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব চিবা এলাকায় ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব জাপানে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
এ ছাড়া গত ২৩ আগস্ট ওই অঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে টোকিওতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠী এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দেবেন। গতকাল বুধবার ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে তরুণদের এ দলটি। ভিডিওটিতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজকে দেখা গেছে।
অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেছেন, বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ‘আমাদের ভোট বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ (সেভ আওয়ার ভোটস, সেভ ডেমোক্রেসি) স্লোগানের অধীনে আয়োজিত বিক্ষোভে রাঠী এবং রাজ অংশগ্রহণ করবেন।
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং নাগরিকদের একটি জোট। সে জোটের অধীনেই আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বৃহত্তর সমাবেশেও এই দুজনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভগুলো আবর্তিত। তারা এসআইআর-কেন্দ্রিক কার্যক্রমকে ‘ভোট চুরি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আয়োজকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে সমাজকর্মী ও নাগরিকদের ফ্রিডম পার্কে একত্রিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর ১০ অক্টোবর দিল্লির বিক্ষোভটিকে আয়োজকরা ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরছেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে রুশ বাহিনী। ৭ অক্টোবর বুধবারের এ হামলায় ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৮ জন। নিহত ২৮ জনের মধ্যে ৫ জন শিশুও আছে। ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারায় এই শিশুরা।
শক্তিশালী বিস্ফোরণের ধাক্কায় ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালার কাঁচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় এবং পাঁচতলা ভবনটির অর্ধেক অংশই পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে জানিয়েছে, রুশ হামলায় প্রিলুকির সেই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন।
হামলায় নিহতের পাশপাশি আহও হয়েছেন বহুসংখ্যক। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছিন, আহতদের মধ্যে আরও সাতজন শিশু রয়েছে। রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বেসামরিক সাধারণ শহর ও বেসামরিক জীবনযাত্রাকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন তিনি।
“ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার হলো সন্ত্রাস সৃষ্টির এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ”, বিবৃতিতে বলেছেন জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন এএফপি-কে বলেন, “আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম।বিস্ফোরণে আমাদের জানালার কাঁচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে, আমরা নিজেদের শরীর দিয়ে আমাদের শিশু সন্তানকে আগলে রেখেছিলাম। আমার স্বামীর পিঠে এবং আমার শরীরেও কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে।”
“(হামলার সময়) আমাদের সন্তানের প্রচণ্ড মানসিক আঘাত বা ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ হয়েছিল এবং সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমের দিকে ছুটে গিয়েছিলাম এবং অ্যাপার্টমেন্টের সবকিছু যখন তছনছ হয়ে যাচ্ছিল, সে সময় আমরা সেখানেই ছিলাম।"
প্রিলুকির স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে আঘাত হানা শুরু করে রুশ বাহিনী। এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার তরফ থেকে একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিশেষ ভাবে বলা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, শীতকাল ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজধানীতে হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে এবং প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বেজে চলেছে।
উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাতের জন্য সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো প্ল্যাটফর্মে গাঢ় রঙের হুডি পরে এবং চারপাশে ব্যাগ নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় এএফপি-কে বলেন, “আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি।”
“পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা কর্মস্থলে আটকা পড়েছিলাম এবং সবাই—আমাদের গ্রুপের চ্যাট বা বসরা—আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন।”
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে রুশ বাহিনী।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ উল্লেখ করে করে জেলেনস্কি বলেছেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ এবং নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
অনলাইন মার্কেটিংয়ে কর্মরত ৩১ বছর বয়সী ইউলিয়া শামরাই, যিনি প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির কাছেই থাকেন, বলেন, “এই হামলার মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার কোন সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না।”
সূত্র : এএফপি
সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পুরোনো ছবি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
জিএসিএ জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক সময়ে দুই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ জন। আহতদের মধ্যে দুইজন সৌদি নাগরিক এবং বাংলাদেশি ও ফিলিপাইনের নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটিতে বিমানবন্দর দুটির অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দুই বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
সূত্র: আনাদোলু