ছবি : সংগৃহীত
১৯৮৬ সালের চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়ের সময় রিঅ্যাক্টর ফোর বিস্ফোরিত হয়। তখন গলিত পারমাণবিক জ্বালানি ও ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয় ‘এলিফ্যান্টস ফুট’ নামে একটি বিপজ্জনক বস্তু।
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল ভোর ১:২৩:৪৫ মিনিটে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ নম্বর রিঅ্যাক্টরটি বিস্ফোরিত হয়।
একটি নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ভুল নকশা এবং অসতর্ক অপারেশনের কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এই বিস্ফোরণে বিশাল পরিমাণে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে, যা ইউরোপজুড়ে পরিবেশ এবং মানব স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এটি এখনো তেজস্ক্রিয়ভাবে প্রাণঘাতী।
প্রাথমিক অবস্থায় বস্তুটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ হাজার রঞ্জেন বিকিরণ নিঃসরণ করত—যা কয়েক মিনিটের মধ্যেই মানুষকে হত্যা করার জন্য যথেষ্ট।
বস্তুটির কাছে মাত্র ৩০ সেকেন্ড দাঁড়ালেও দুই দিনের মধ্যে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পাঁচ মিনিটের সংস্পর্শ মৃত্যু নিশ্চিত করে।
এলিফ্যান্টস ফুট গলিত পারমাণবিক জ্বালানি, রিঅ্যাক্টরের কাঠামো, কংক্রিট ও বালুর মিশ্রণে তৈরি। ধ্বংসপ্রাপ্ত রিঅ্যাক্টরের নিচে জমে থাকা এটি হাতির পায়ের মতো।
২০০১ সালে বস্তুটির বিকিরণ প্রায় প্রতি ঘণ্টায় ৮০০ রঞ্জেন পরিমাপ করা হয়। অনুমান করা হয় এটি প্রায় ১০ হাজার বছর বিপজ্জনক থাকবে। তাই এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক পারমাণবিক বর্জ্যগুলোর মধ্যে একটি বলা হয়।
সাধারণ এক পরীক্ষা ডেকে এনেছিল ইতিহাসের ভয়াবহতম বিপর্যয়। ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্রে মুহূর্তেই বিস্ফোরণে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে ইউক্রেন থেকে ইউরোপে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরমাণু দুর্ঘটনা চেরনোবিল বিপর্যয়ের ৩৯ বছর পূর্তি আজ। পরমাণু কেন্দ্রটি অবস্থিত, ইউক্রেনের প্রিপিয়াত শহরে, যা এখন ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত।
২৬ এপ্রিল, ১৯৮৬। রাত ১ টা বেজে ২৩ মিনিট। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল পরমাণু পাওয়ার প্ল্যান্টের চার নম্বর রি-অ্যাক্টর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শকওয়েভে চলে যায় পুরো ভবন। পারমাণবিক বিক্রিয়া চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। একজন কর্মী জরুরি ভিত্তিতে শাটডাউন বাটনে চাপ দেন। পরমাণু বিক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে উল্টো ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
পুরো রিঅ্যাক্টরে আগুন ধরে উচ্চ তেজষ্ক্রিয় পদার্থ আগুনের সঙ্গে বাতাসে মিশে যায়। যে পরিমাণ পরমাণু তেজস্ক্রিয়তা সেই বিস্ফোরণ থেকে নির্গত হয়েছিল তা কয়েকশ' হিরোশিমা আণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তার সমান। এখন পর্যন্ত এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরমাণু বিপর্যয়, যার প্রভাব গিয়ে পড়ে ইউক্রেন থেকে শুরু করে গোটা ইউরোপে। ইতিহাসের ভয়াবহ এই বিপর্যয় পরিচিত চেরনোবিল বিপর্যয় নামে।
কিয়েভ থেকে উত্তরে ১০৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্ল্যান্টে সেসময় নিরাপত্তার পরীক্ষা চলছিলো। বিস্ফোরণের পর প্ল্যান্টে কর্মরত ৩১ কর্মী আর একজন অগ্নি নির্বাপণ কর্মীর মৃত্যু হয়। যাদের বেশিরভাগই অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তারা জানতেও পারেননি এতো বড় বিপর্যয় ঘটে গেছে। এই ঘটনার পর ক্যান্সারে আক্রান্ত হন হাজারও মানুষ। বিস্ফোরিত রিঅ্যাক্টরে আরও ইউরেনিয়াম থাকায় কয়েক মাস পর এই রিঅ্যাক্টরের চারপাশে বড় দেয়াল তুলে দেয় রাশিয়া। যদিও এখনও পর্যন্ত এই স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে পশ্চিমা বিশ্বের।
ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রিপিয়াত শহরে অবস্থিত এই চেরনোবিল নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের আশপাশের এলাকা পরিত্যক্ত রয়েছে। ভবন আর হাসপাতালগুলো ফাঁকা, ধ্বংসস্তূপও সেভাবেই রয়েছে। এলাকা দখলে নিয়েছে প্রকৃতি। রয়েছে বন্যপ্রাণীর বসতি। অথচ কোন এক সময় এখানে বসতি ছিল ৫০ হাজার মানুষের। বেশিরভাগই কাজ করতেন পরমাণু কেন্দ্রে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর ২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তেজস্ক্রিয়তায় বিষাক্ত থাকা এই স্থাপনার বাইরে ড্রোন হামলা করে রাশিয়া। সৃষ্টি হয় বড় গর্তের। ৩৯ বছর ধরে এই নগরী রয়ে গেছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ পরমাণু বিপর্যয়ের সাক্ষী। চেরনোবিলের আশাপাশ পরিণত হয়েছে ভুতুড়ে এক নগরীতে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: গেটি ইমেজেস
ইরানকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে রাশিয়া। তেহরান ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিলেই এই অর্থ স্থানান্তর করা হবে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও অর্থটি কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ কারণে অর্থ স্থানান্তর আটকে আছে।
ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে প্রথমবার এই ঋণের খবর প্রকাশিত হয়। এটি ইরানকে রাশিয়ার পরিকল্পিত ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানির পক্ষে। অন্যদিকে তেল মন্ত্রণালয় তেলশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থটি ব্যবহার করতে চায়। কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, অর্থটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বরাদ্দ দেওয়া হোক।
তবে অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্যও রাশিয়াকে দেয়নি ইরান সরকার।
এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগসহ অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে ইরান ও রাশিয়া।
গত জুনে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানায় ইরান। সে সময় দেশটির এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, মস্কো তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে। এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ।
ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (ভিটিবি) ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এ ছাড়া ইরানকে অর্থ স্থানান্তর ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ফ্রান্সিস হালজেন
পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন (৮২)। তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থান থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেছেন। এই নিউট্রিনো অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে কণা’ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। হালজেনের জন্ম বেলজিয়ামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
নিউট্রিনো হলো একটি মৌলিক উপ-পারমাণবিক কণা। এর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। ভর অত্যন্ত সামান্য, প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কণা চারপাশের সব জায়গাতেই আছে। কিন্তু সেগুলো দেখা যায় না। কোনো উপস্থিতি জানান না দিয়েই এগুলো পৃথিবী ও মানুষের শরীর ভেদ করে চলে যেতে পারে। একেবারে ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে একটি নিউট্রিনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে উপযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
হালজেন বুঝতে পেরেছিলেন, দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনোর গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব। পরে তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি বা মানমন্দির হলো এক ঘন কিলোমিটার আয়তনের বরফে স্থাপিত একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। সেখানে আলো শনাক্ত করার সেন্সর আছে। এটি ব্যবহার করে গবেষকেরা মহাবিশ্বের দূরবর্তী অঞ্চলের অত্যন্ত উচ্চশক্তির প্রক্রিয়া থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারেন।
বিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই মহাবিশ্বে প্রাকৃতিক কণা ত্বরক থাকার বিষয়ে ধারণা করছিলেন। এসব ত্বরকগুলো মানুষ নির্মিত যেকোনো কণা ত্বরকের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু ত্বরকগুলোর উৎস এখনো রহস্যময়। এগুলো কী, কোথায় আছে এবং এর ভেতরে প্রধানত কী ধরনের প্রক্রিয়া ঘটে- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে এই কণাকে শনাক্ত করার জন্য ফ্রান্সিস হালজেন ১৯৮৮ সালে একটি রূপকল্প তুলে ধরেন। সেটি অনুযায়ী, যখন একটি নিউট্রিনো কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন একটি আলোর ঝলকানি তৈরি হয়।
হিমবাহের স্বচ্ছ বরফে থাকা সেন্সরের মাধ্যমে সেই আলোর ঝলকানি শনাক্ত করা যায়। বরফের সুবিধাজনক কিছু বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এখানকার বরফগুলো অন্য কিছুর উপস্থিতিতে প্রভাবিত হয় না বললেই চলে। এলাকাটি ভূতাত্ত্বিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় ভূমিকম্পও হয় না।
হালজেন তাঁর রূপকল্প প্রকাশের পরপরই তা দ্রুত অন্য গবেষকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। কয়েক বছর পরই বরফের মধ্যে সেন্সর বসিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা চালানো হয়। নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো খুবই বিরল। তাই পর্যাপ্ত সংখ্যক সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন। এজন্য দক্ষিণ মেরুতে এক ঘন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘আইসকিউব’ মানমন্দির তৈরি করা হয়।
মানমন্দিরটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। এরপর গবেষকরা অল্প সময়ের মধ্যে প্রথম উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেন। কয়েক বছর পর তারা সৌরজগতের অনেক বাইরে থেকে আসা নিউট্রিনো আবিষ্কারের তথ্যও প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎস সন্ধানের কাজ পুরোদমে শুরু হয়।
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির প্রধান মার্ক পিয়ার্স বলেন, ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা একটি চমৎকার যন্ত্র উপহার দিয়েছেন। এটি নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ প্রশস্ত করেছে। দক্ষিণ মেরুর আইসকিউবের মাধ্যমে ক্রমাগত নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গবেষকরা মহাকাশের অজানা অনেক রহস্য উন্মোচন করতে পারবেন।
ইসরায়েলি সৈন্যদের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: আইডিএফ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে অথবা এককভাবে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। সোমবার (০৫ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছে তারা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া কিংবা আগাম হামলা চালানোর সম্ভাবনার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। তবে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা চালানোর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে সংবাদমাধ্যমটির মূল্যায়ন।
নতুন করে হামলা হলে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে : ইরান
ইসরায়েলের কাছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনও বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা রোববার জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলে আরও সেনা ও সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ওয়াল্লা জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলজুড়ে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োজিত সেনা, পাইলট, সহায়ক কর্মী ও লজিস্টিকস সদস্য রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও মার্কিন সেনা ও সামরিক বিমান ইসরায়েলে পৌঁছাতে পারে।
ওয়াল্লা আরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাত কিংবা আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত অবনতির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ও বজায় রাখা হচ্ছে।
এমন সময়ে এসব প্রতিবেদন সামনে এলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার বলেছেন, তেহরান একটি ন্যায্য সমাধানে পৌঁছাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ৭টি শর্ত উপস্থাপন করেছিল ইরান। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ইরানের ওই শর্তগুলো মেনে নেয়নি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ওমানি কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামি ও ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ।
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করা ওমানি কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামি তদন্তকারীদের বলেছেন, তিনি গাজার প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক থাকা আল হাম্মামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, তার পরিকল্পনা ছিল প্রথমে উড়োজাহাজটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা। এরপর ক্যাপ্টেনকে অচেতন করে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, প্রয়োজনীয় সব অবতরণ অনুমতি নিশ্চিত করা এবং পরে কোনো বিমানবন্দর স্থাপনা বা সেখানে থাকা উড়োজাহাজে বিমানটি বিধ্বস্ত করা।
আমি কোনো যাত্রীকে মরতে দিতে চাইনি
হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমের বরাতে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, এ কারণেই আল-হাম্মামি জর্ডানের আকাশসীমা পার হওয়ার আগ পর্যন্ত ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেননি বলে তদন্তকারীদের ধারণা। বিমানটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ১৭০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ইসরায়েলি।
তবে তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার আল-হাম্মামির হামলা ও ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পরও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর উড়োজাহাজের কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রী হামলাকারীকে ধরে ফেলেন। তাদের একজন বিমানটির নিয়ন্ত্রণ স্থির রাখেন। পরে দায়িত্বে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট ককপিটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইসলামপন্থি চরমপন্থী মতাদর্শে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার জানায়, ওমানি কর্তৃপক্ষের সন্দেহ ছিল আল হাম্মামি উগ্র মতাদর্শে জড়িয়ে পড়েছেন। এ কারণে তাকে দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থায় পাইলটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, কীভাবে আল হাম্মামি ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেলেন, তা খতিয়ে দেখবে ইসরায়েল। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই; এমন দেশের পাইলটদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয় না।’
চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইসরায়েল মনে করে না যে ফ্লাইদুবাইয়ের অন্যকোনো ক্রু সদস্য আল-হাম্মামির বিমান বিধ্বস্তের চেষ্টায় জড়িত ছিলেন। চ্যানেলটির আরও দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আল হাম্মামি বলেছেন, তিনি ‘গাজার প্রতিশোধ নিতে’ এই কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি শহীদ হয়ে মরতে চেয়েছিলাম।’
চ্যানেল ১২-এর দুই সূত্র আরও দাবি করেছে, রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সদস্যদের মোসাদের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আল হাম্মামি ইসরায়েলবিরোধী কয়েকটি দেশে স্বল্প সময়ের জন্য সফর করেছিলেন।
এদিকে সিএনএন দুই তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, গত বছর ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থার একটি চাকরি থেকে আল হাম্মামিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আল আরাবিয়াও এক তথ্যভিত্তিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ওমানি কর্তৃপক্ষ আল হাম্মামির মধ্যে উগ্রপন্থি মতাদর্শের উপস্থিতি শনাক্ত করেছিল।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আল হাম্মামি সিরিয়ায়ও সময় কাটিয়েছিলেন। এ কারণে সেখানে থাকা উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে তিনি প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
এবিসি নিউজ তদন্তসংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, প্রশিক্ষণার্থী থাকার সময় আল-হাম্মামির কাছে উগ্রপন্থি প্রচারসামগ্রী পাওয়ার অভিযোগও উঠেছিল।
৯/১১ স্টাইলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যাত্রীবাহী বিমানে হামলার ডাক আল কায়দার
গাজা যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর। এ হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন বলে সরকারি ইসরায়েলি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এএফপির হিসাবে জানা যায়।
এর জবাবে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়টি হামাস-নিয়ন্ত্রিত হলেও জাতিসংঘ এর পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় আরও ১ হাজার ৪৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং যুদ্ধের আগের তুলনায় অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক বলেন, নতুন করে হামলা হলে তার দৃঢ় জবাব দেওয়া হবে এবং এতে ইরানের প্রতিপক্ষদের আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল
কুহ-ই কোলাং বা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’- এ সম্ভাব্য হামলার জবাবে ইরান কী করবে; এমন প্রশ্নের জবাবে তালায়ি-নিক বলেন, নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে পাল্টা হামলার জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, সেগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত ও প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি, আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌ, স্থল ও আকাশযুদ্ধের বিভিন্ন ব্যবস্থা সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।
ইরানের ভয়ে যুক্তরাজ্য ছাড়লো মার্কিন বোমারু বিমান
তালায়ি-নিকের দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের যে অস্ত্র, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল, তার তুলনায় বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা আড়াই গুণ বেড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের পর এ সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, কিছু ধরনের অস্ত্রের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর নেটওয়ার্ক বর্তমানে ১ হাজারের বেশি অস্ত্র, সামরিক ব্যবস্থা, সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের বিভিন্ন ধরনের উপকরণ উৎপাদনে সক্ষম বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বন্ধ হয়নি বা কমেও যায়নি বলে জানিয়েছেন তালায়ি-নিক।
ইরান থেকে ‘পালিয়েছে’ মার্কিন বাহিনী
তিনি বলেন, বিদ্যমান চুক্তির আওতায় মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা সক্রিয় রয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা, দুই ক্ষেত্রেই দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি ও পরামর্শ আরও জোরদার হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে অথবা এককভাবে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি ইসরায়েল নিচ্ছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এই যুদ্ধ থামাতে পারবে না: আরাগচি
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছে তারা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া কিংবা আগাম হামলা চালানোর সম্ভাবনার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ওই যুদ্ধে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ফ্রান্সের লিয়নে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে আগুন জ্বলছে। ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্সে স্কুলের জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্দোলনের সবচেয়ে বড় কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ সদস্য ও ২১৫ কিশোর আহত হয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্সেই ও নঁতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও স্ট্রাসবুর্গ, লিয়ন ও রেন শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালান ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। পুলিশও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের সংগঠন জানিয়েছে, ফ্রান্সের অর্ধেকের বেশি স্কুল অবরুদ্ধ করা হয়েছে বা মঙ্গলবার বন্ধ ছিল। কোথাও কোথাও অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় আরও অর্থ বরাদ্দ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার এবং অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পূরণ করতে হবে। স্কুলগুলোতে পানির লিকেজ থেকে শুরু করে ইঁদুরের উপদ্রবের মতো সমস্যাও রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সেপ্টেম্বরে প্যারিসের দরিদ্র উপকণ্ঠে শুরু হওয়া আন্দোলনটি পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ সদস্য ও ২১৫ কিশোর আহত হয়েছেন।
সোমবার উত্তর ফ্রান্সে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় একটি গ্রেনেড হাতে তুলে নেওয়ার পর ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত ও বাহুর অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বাজেট ঘাটতি ও ঋণের চাপের মধ্যে শিক্ষাখাতে অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স