• প্রকাশ : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৯:০৫ এএম

ইসলামাবাদে প্রথম বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা রয়েছে অনিশ্চয়তায়। মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের একের পর এক অপরিপক্ব ও অগোছালো বক্তব্য এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর ধারাবাহিকতায় ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি দেশটি তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।


ঘটনার মোড় পরিবর্তনের সূত্রপাত গত শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার খোলার ঠিক পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির একটি এক্স পোস্ট থেকে।


সেখানে আব্বাস আরাগচি লিখেছিলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ায় এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার ঠিক করে দেওয়া পথ দিয়ে এই জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি যত দিন থাকবে, এই সুযোগও তত দিন থাকবে।


আরাগচির এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১২ ডলার কমে যায়। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় পাকিস্তানও। শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটির কর্মকর্তারা তখন তেহরানেই ছিলেন।


তবে আরাগচির পোস্টটি হয়তো অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ ছিল, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। তেলের দাম হুট করে পড়ে যাওয়ায় এর প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ খবরকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। 


ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব সিদ্ধান্তের জন্য তেহরানকে তিনি ধন্যবাদও জানান।


ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবিও করেছেন, বাজার প্রভাবিত করতেই আরাগচি ওই পোস্ট দিয়েছিলেন। ইরানি আইনপ্রণেতা মোর্তজা মাহমুদি বলেছেন, এখন যুদ্ধের পরিস্থিতি না থাকলে এক্সে এমন মন্তব্য করার জন্য আরাগচির অভিশংসন হওয়া উচিত ছিল। আরাগচির বিরুদ্ধে বারবার ‘ভুল সময়ে ভুল বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগও আনেন তিনি।


কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রভাবাধীন সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ আরাগচির পোস্টটিকে ‘ভুল অথবা অসম্পূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে। সংস্থাটি জানায়, ‘প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই পোস্টটি দেওয়া হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের শর্ত, বিস্তারিত তথ্য ও পদ্ধতি নিয়ে নানা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।’


কায়হানের মতো কট্টরপন্থী সংবাদপত্রগুলো আরাগচির কাছে তাঁর পোস্টটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল।


এমনকি ইরানের অভ্যন্তরে রাজনীতিতে মাহমুদ সাদেগির মতো আরাগচির প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরাও মনে করেন, এই ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে হওয়া উচিত ছিল। তাঁদের মতে, এমন কোনো মাধ্যমে এটি দেওয়া ঠিক হয়নি, যা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করে।


হরমুজে নতুন করে অচলাবস্থা শুরু হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, আগামী বুধবার দুই পক্ষের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী সপ্তাহ থেকেই তিনি আবারও বোমা হামলা শুরু করবেন। এ পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি বিপজ্জনক সংঘাতের পথ তৈরি করেছে। যদিও সেখানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নৌবাহিনীর মধ্যে সরাসরি কোনো যুদ্ধ হয়নি।


আগামীকাল সোমবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপক গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা আবার আলোচনায় বসতে রাজি নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ‘অযৌক্তিক’ দাবিদাওয়া তুলেছে।


ইরানের এই কঠোর অবস্থান থেকে বোঝা যায়, দেশটির পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে এখন আইআরজিসির প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। আইআরজিসি ভয় পাচ্ছিল যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি হয়তো ওয়াশিংটনকে সময়ের আগেই অপ্রয়োজনীয় কিছু ছাড় দিয়ে দিচ্ছেন।


ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট দেওয়ায় আইআরজিসির ক্ষোভ আরও বাড়ে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং শান্তি আলোচনা দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ট্রাম্পের ওই পোস্টগুলোর অনেক কথাই ছিল মিথ্যা।


পরে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়, ইসলামাবাদে আলোচনায় গালিবাফের সঙ্গী আরাগচি আসলে বলতে চেয়েছিলেন- যেসব জাহাজ আইআরজিসি নৌবাহিনীর অনুমতি নেবে, নির্ধারিত রুট ব্যবহার করবে এবং নির্ধারিত টোল পরিশোধ করবে, শুধু সেগুলোই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে।


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই এক সরকারি সাক্ষাৎকারে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনাই হয়নি।


ট্রাম্পের উদ্দেশে গালিবাফ সাফ জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি খোলা নাকি বন্ধ থাকবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানি সামরিক বাহিনী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পোস্ট নয়।


যুদ্ধ থামানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প এতটাই মরিয়া যে তিনি সবকিছু খুব দ্রুত শেষ করতে চাইছেন। কিন্তু পরিস্থিতি আসলে পুরোপুরি তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। কারণ, এর জন্য ইরানের রাজি হওয়া প্রয়োজন। 


অন্যদিকে ইরান এখনো বিশ্বাস করে, হরমুজ প্রণালি তাদের প্রধান শক্তির জায়গা। পরিস্থিতি তাদের পক্ষেই আছে। তাই আলোচনায় ফেরার জন্য ইরানের কোনো তাড়াহুড়ো নেই।


শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা অর্জনে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর শুরুটা হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে চাপ দেন।


ধারণা করা হয়েছিল, এই যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং প্রথম ধাপে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফিরে পাওয়াসহ একের পর এক ঘটনা ঘটবে, যা যুদ্ধ বন্ধের পথে নিয়ে যাবে।


কিন্তু ট্রাম্প অধৈর্য হয়ে আগেভাগেই অনেক বেশি অনুমান করে ফেলেন এবং একের পর এক ঘোষণা দিতে শুরু করেন। এর মধ্যে একটি ছিল- ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।


শনিবার সকালে ট্রাম্পের দেওয়া এই ঘোষণাই ইরানের আবার কঠোর হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। শর্তসাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় তাঁরা আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। ইরান দাবি করে, তারা ইতিমধ্যে ভারতীয় তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।


তেহরান থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় আবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এর পাশাপাশি আরও গভীর সমস্যা সামনে এসেছে। ইরান মনে করে, হরমুজ প্রণালির ওপর স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আইনগত ও নৈতিক অধিকার তাদের রয়েছে।


ইরানের আইনজীবী রেজা নাসরি এ বিষয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একটি সমুদ্রপথ বা প্রণালি তখনই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে, যখন সেটি কেবল যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যখন সেই পথ ব্যবহার করে সেটির পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের ওপর অন্য দেশ হামলা চালায় বা সেখানে স্থায়ী সামরিক আস্তানা গড়ে তোলে, তখন সেটি আর সাধারণ পথ থাকে না। তখন ওই উপকূলীয় দেশ নিরাপত্তার খাতিরে সেই পথ বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার রাখে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৫ পিএম

পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-ইউ টাউনশিপের একটি হাসপাতালে সামরিক সরকারের বিমান হামলায় রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বজনসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এ হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছেন, এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সোমবার গভীর রাতে ম্রাউক-ইউ জেনারেল হাসপাতালে সামরিক বিমানের ফেলা বোমা আঘাত হানে। 


আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা জানান, হামলায় হাসপাতালটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতালে সরাসরি বোমা আঘাত করায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।


জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।


তুর্কের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের। তবে মিয়ানমারে বিদ্যমান ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’র কারণে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালত বা ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’-এর মতো ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া হতে পারে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুসও হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ওই এলাকায় জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা ও অস্ত্রোপচারের প্রধান কেন্দ্র ছিল হাসপাতালটি। হামলায় এর অপারেশন থিয়েটার ও রোগীদের প্রধান ওয়ার্ড পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।


টেডরস জানান, এ বছর মিয়ানমারে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা কর্মীদের ওপর এটি ৬৭তম নিশ্চিত হামলা। স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রতিটি হামলা মানেই মানবতার ওপর হামলা।


ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং জানান, হামলার সময় ৩০০ শয্যার হাসপাতালটি রোগীতে পূর্ণ ছিল। চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ ছিল বেশি। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ৩১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং ৬৮ জন আহত হয়েছিলেন। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৩ জনে দাঁড়ায়।


হামলার পর হাসপাতালটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ছাদ ধসে পড়ে এবং স্তম্ভ ও বিম ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে হতাহতদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


ম্রাউক-ইউয়ের ২৩ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, সোমবার রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে হাসপাতালটিতে আগুন জ্বলতে এবং অনেক মরদেহ ও আহত মানুষ পড়ে থাকতে দেখেছেন।


মিয়ানমারে সামরিক সরকার বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা বাড়িয়েছে। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত সরকার ২ হাজার ১৬৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে। ২০২৪ সালে এ ধরনের হামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭১৬টি।


২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাত চলছে। অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো আরাকান আর্মিসহ বড় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট বেঁধে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।


সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আরাকান আর্মি রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি থেকে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছে এবং বেলজিয়ামের চেয়েও বড় একটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।


আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের ম্রাউক-ইউ টাউনশিপ গত বছর থেকেই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কোনো লড়াই হয়নি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১৬ পিএম

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলেও ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে ৭৪ হাজারের বেশি পর্যটক ভারতে গেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। বিদেশি পর্যটক আগমনের হিসাবে আগস্টে বাংলাদেশ ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান উৎসদেশ।


ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে মোট বিদেশি পর্যটক আগমন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার। ২০২৫ সালের আগস্টে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার।


অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি পর্যটক আগমন বেড়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। এই বৃদ্ধিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভিসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আগমনের এই বৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে আগস্টে বাংলাদেশি পর্যটক বৃদ্ধির পেছনে চিকিৎসা, কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা নাকি অবকাশযাপন—কোন কারণের ভূমিকা কতটা, সে বিষয়ে আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।


দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভারতে যান। কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বাই ও দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের কাছে পরিচিত। এর পাশাপাশি কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার জন্যও বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি অংশ ভারতে যান।


বিশেষ করে কলকাতার নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে বাংলাদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। দুই দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির মিলও কলকাতাকে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।


শুধু বাংলাদেশ নয়, চীন থেকেও ভারতে পর্যটক আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগস্টে চীন থেকে ৯ হাজারের বেশি পর্যটক ভারতে গেছেন, যা ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে পর্যটক আগমন বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ করে। কানাডা, জার্মানি, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা থেকেও পর্যটক আগমন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে।


বাংলাদেশ ও চীন থেকে পর্যটক আগমনের এই বৃদ্ধি ভারতের পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা কারণে এই দুই দেশের নাগরিকদের ভারতে ভ্রমণে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আগস্টের পরিসংখ্যানে দুই দেশ থেকেই পর্যটক আগমন বৃদ্ধির বিষয়টি নজর কেড়েছে।


পর্যটন নীতি-সংক্রান্ত সংস্থা ‘অতিথি ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হেমন্ত যোশি এই পরিসংখ্যানকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন। তবে তার মতে, মাত্র এক মাসের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পর্যটনে ঋতুভেদে পর্যটকের সংখ্যা ওঠানামা করে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।


হেমন্ত যোশির মতে, শুধু বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেই পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না। পর্যটকরা কত দিন ভারতে অবস্থান করছেন, কত অর্থ ব্যয় করছেন এবং কোন কোন অঞ্চলে ভ্রমণ করছেন-এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।


বিদেশি পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণে উৎসাহিত করা গেলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসাসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাত উপকৃত হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।


সব মিলিয়ে, আগস্টের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে ভারতের বিদেশি পর্যটন বাজারে বাংলাদেশ ও চীনের পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির ধারা পরবর্তী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের প্রতি আবারও জোরালো সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ বিষয়ে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।


ল্যাভরভ জানান, তারা গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে এবং এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ভারত ও ব্রাজিলের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন করেন। তবে নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানি বা জাপানের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কোনো অতিরিক্ত আসন না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক বার্তা দেন তিনি। তিনি দাবি করেন, এই দেশগুলো এখন সামরিকবাদ ও প্রতিশোধপরায়ণতার পথে হাঁটছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের যেকোনো সংস্কারে বিদ্যমান স্থায়ী সদস্যদের মূল ক্ষমতা বা ভেটো অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।


এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে কেবল রাশিয়াই নয়, সমর্থন জানিয়েছে মরিশাসও। মরিশাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুল তার ভাষণে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভারতের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে এই দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।


উল্লেখ্য, বর্তমানে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য (চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র) ছাড়াও ১০টি অস্থায়ী সদস্য রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনে সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট এবং পাঁচটি স্থায়ী সদস্যসহ দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন।


রাশিয়ার সমর্থন থাকলেও এবং অন্যান্য স্থায়ী সদস্যদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের তীব্র বিরোধিতার কারণে এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।


এলএনজি পরিবহনের একটি ট্যাঙ্কার

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৩ এএম

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স ম্যাজুর’-এর মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। এ কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ব্লুমবার্গকে তথ্যটি জানিয়েছেন।


ফরাসি শব্দ ‘ফোর্স ম্যাজুর’ বলতে কোনো চুক্তির অপ্রত্যাশিত বা নিয়ন্ত্রণের বাইরের ঘটনাকে বোঝায়। এমন ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ করতে না পারা পক্ষকে দায়ী করা যায় না। কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে জানিয়েছে যে, এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

দোহায় কাতারএনার্জির সদরদপ্তর

আরও দুজন ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অন্তত একজন ক্রেতাকে সরবরাহ স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। ইতালির এডিসন এসপিএ জানিয়েছে, তাদের এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।


বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করলেও কাতারএনার্জি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেয়নি। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাতারএনার্জি প্রায় প্রতি মাসেই ‘ফোর্স ম্যাজুর’ পরিস্থিতি ও সরবরাহ স্থগিতের বিষয়ে ক্রেতাদের জানিয়ে আসছে।


চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়েছে কাতার। কিন্তু এটি যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম। সম্প্রতি ইরান জানিয়েছে, প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে তারা কোনো ছাড় দেবে না। অন্যদিকে দেশটির সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো নিয়ে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপে এলএনজির দাম ২০২২ সালের শেষ দিকের পর প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নবজাতকদের ২২ ক্যারেটের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার প্রকল্প চালু করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। সোমবার(২৮ সেপ্টেম্বর) মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।


‘থাইমামান থাঙ্গা মোথাইরাম থিত্তাম’ বা ‘মাতুলের সোনার আংটি প্রকল্প’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের একটি করে সোনার আংটি দেওয়া হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তামিলনাড়ু সরকার ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বরাদ্দ দিয়েছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকজন নবজাতককে কোলে নিয়ে তাদের হাতে সোনার আংটি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। রাজ্য সরকারের ভাষ্য, নবজাতকদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানানো এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি মাতৃত্বের মর্যাদা রক্ষা, নারীদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে মানুষকে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও বাড়বে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি সংগ্রহ করা হয়েছে।


২০২৬ সালের ২২ জুন বা তার পরে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুরা এ সুবিধা পাবে। তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা যেসব মা গর্ভাবস্থায় পিকমি পোর্টালে নিবন্ধন করে আরসিএইচ আইডি পেয়েছেন, তাদের সন্তানদের এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।


রাজ্যের মন্ত্রী অরুণ রাজ বলেন, মামা ও ভাগনে-ভাগনির সম্পর্ক ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। এ সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানাতেই সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের সোনার আংটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুর জন্মের পর মামা যেমন তার বোন ও নবজাতকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন, এই আংটিও তেমন ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।


প্রকল্পের সূচনা মাদুরাই থেকে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শহরটির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বিবেচনায়। প্রতিটি আংটিতে আলাদা সিরিয়াল নম্বর থাকবে এবং নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্যাকেটে করে তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।


২২ জুন থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য জমে থাকা আংটি বিতরণে রাজ্যজুড়ে ১০৭টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০০ জন শিশুকে আংটি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময়ই আংটি দেওয়া হবে।


তবে প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সোনার আংটি কেনার জন্য তামিলনাড়ু মেডিকেল সার্ভিসেস কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের বক্তব্য, সংস্থাটির মূল দায়িত্ব ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটা করা। ফলে সোনার আংটি কেনার ক্ষেত্রে এ সংস্থাকে ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম

গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবি সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবি গিয়ে নেতানিয়াহু সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন বলেও জানা গেছে।


বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, এমন সময় নেতানিয়াহুর এই গোপন সফরের খবর সামনে এলো যখন হামাসের হামলার আগে পাওয়া কথিত গোয়েন্দা সতর্কবার্তা নিয়ে তাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক চলছে। যদিও এই সফরের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবি যান নেতানিয়াহু। সেখানে শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকের পর দিনের বাকিটা সময় আবুধাবিতে অবস্থান করেন তিনি।


অন্যদিকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় তার এই সফরের কথা প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে এমন সময় তিনি আবুধাবি সফর করলেন যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার আগে নেতানিয়াহু কথিত গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর বিতর্ক চলছে।


এর আগে গত শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, হামাসের ওই হামলার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে একটি গোপন সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে তিনি সেটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানাননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।


কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যে ব্যক্তিগত বিমানটিতে আবুধাবি গিয়েছিলেন, সেটির মালিকানা এক ইসরায়েলি ব্যবসায়ীর। নাম প্রকাশ না করা ওই ব্যবসায়ীর বিমানটি ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে ব্যবহার করেন।


সম্প্রচারমাধ্যমটি জানায়, বিকেলে বিমানটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায় এবং স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে আবুধাবিতে অবতরণ করে। চার ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিমানটি ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং রাত ১০টার কিছু পর সেখানে পৌঁছায়।


কান আরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালেও আবুধাবি সফরে একই বিমান ব্যবহার করেছিলেন নেতানিয়াহু।


আবুধাবিভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য ন্যাশনাল এক আমিরাতি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আমিরাত সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে আলোচনা করে। এসব আলোচনা সরাসরি দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হয় না।


২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। ২০২৪ সালে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।


২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার আগ্রাসনে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ যুদ্ধে গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।