ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১১ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে কয়েক মাস ধরেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত সংকুচিত হয়ে আছে। এবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ-লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী বাব আল-মান্দাব প্রণালিও হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ইরানের বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পথ ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের ভেতর দিয়ে তেল পরিবহনের ব্যবস্থা এবং লোহিত সাগর দিয়ে রপ্তানির পথ।


কিন্তু ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা সেই বিকল্প পথেও নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।


হরমুজে জাহাজ চলাচল কমেছে


যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে গড়ে মাত্র ১৯টিতে। বৃহস্পতিবার জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, ওই দিন মাত্র ৯টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।


ওমানের কাছাকাছি সমুদ্রপথ দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল সচল রাখার চেষ্টা করছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে এ পথও ঝুঁকিমুক্ত নয়। জুলাই ও আগস্টে ওমানের কাছাকাছি এলাকায় অন্তত ২৩টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ২২ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।


ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচলে অভ্যস্ত জাহাজ মালিকদের অনেকেই এখন ওই পথে যেতে অনাগ্রহী।


এর প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিতেও। বিশ্লেষক মিশেল ভিসে বকমানের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আগস্টে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।


সৌদির বিকল্প পথও চাপে


হরমুজ এড়িয়ে তেল রপ্তানিতে সৌদি আরবের একটি বড় সুবিধা হলো-দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে তেল লোহিত সাগরের বন্দরগুলোতে নেওয়া যায়।


ইরান হরমুজে চলাচল সীমিত করার পর এই পথের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। লোহিত সাগরের বন্দর থেকে জাহাজ দক্ষিণে বাব আল-মান্দাব হয়ে এশিয়ায় যেতে পারে। আবার উত্তর দিকে গিয়ে সুয়েজ খাল পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরেও পৌঁছানো যায়।


কিন্তু এখন বাব আল-মান্দাব নিয়েই নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে হুতিরা। ইয়েমেন সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ পেরিমও দখল করেছে। এর ফলে প্রণালিটির ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরির সক্ষমতা বেড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে লোহিত সাগর থেকে বাব আল-মান্দাব পেরিয়ে মাত্র দুটি সৌদি পণ্যবাহী জাহাজ গেছে।


পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনও বন্ধ


পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাইপলাইনটি একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।


ফলে হরমুজ এড়িয়ে সৌদি তেল বিশ্ববাজারে নেওয়ার যে বিকল্প ব্যবস্থা ছিল, সেখানেও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে তেল পরিবহনের আরেকটি পথ এখনো খোলা আছে। লোহিত সাগর থেকে জাহাজ বাব আল-মান্দাব হয়ে দক্ষিণে না গিয়ে উত্তরে সুয়েজ খাল ও ভূমধ্যসাগরের দিকে যেতে পারে।


সমস্যা হলো, সৌদি আরবের বড় তেল ক্রেতাদের অনেকেই এশিয়ায়। তাদের কাছে তেল পাঠাতে সুয়েজ হয়ে যাওয়ার পথ অনেক দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল।


তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে


পরিবহনপথ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রভাব এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে পড়েছে। শুক্রবার তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এই দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।


শুধু অপরিশোধিত তেলের বাজারেই নয়, জ্বালানির দাম বেড়েছে অন্য ক্ষেত্রেও। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে উঠেছে। ডিজেলের দামও ৬ ডলারের ছাড়িয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের জন্য বিশ্ববাজারে যাওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। বরং যেসব পথ এখনো খোলা আছে, সেগুলো ক্রমেই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, ব্যয়বহুল এবং সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।


হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে চলা সংকট তাই এখন আর শুধু একটি নৌপথের সমস্যা নয়। বাব আল-মান্দাবেও যদি পরিস্থিতির অবনতি হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট রয়েছে- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। 


তবে এই হিসাবটি দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) এবং মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের পরিমাণকে একসঙ্গে ধরে করা হয়েছে। ফলে এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি সঠিকভাবে উঠে আসে না।


মার্কিন জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত। মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের চারটি ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় এই তেল সংরক্ষণ করা হয়। এসব স্থাপনার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল।


অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া হিসাব অনুযায়ী, এসপিআরে রয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ ও ব্যবহার হয়। এই দুটি সংখ্যা ভাগ করে প্রায় ১৪ দিনের হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু এই হিসাবের সমস্যা হলো, এসপিআরে থাকা অপরিশোধিত তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রতিদিনের ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেলের হিসাবের মধ্যে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রয়েছে। এগুলো সরাসরি এসপিআরের অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়।


যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ কেবল কৌশলগত মজুতের ওপর নির্ভর করে না। দেশটির নিজস্ব অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বাণিজ্যিক মজুত, আমদানি, শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মজুত-সব মিলিয়ে একটি বড় সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দেশটির বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। 


একই সময়ে শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করে। অর্থাৎ দেশটির তেল সরবরাহ একটি চলমান ব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদন, আমদানি, বাণিজ্যিক মজুত, শোধন ও রপ্তানি—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করে।


এসপিআর যুক্তরাষ্ট্রের তেলের প্রধান ভাণ্ডার নয়; এটি জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য একটি ব্যাকআপ ব্যবস্থা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবরোধ বা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করতে এই মজুত ব্যবহার করা হয়।


১৯৭৩-৭৪ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৫ সালে কংগ্রেস এসপিআর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। দেশের তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও পরিবহন অবকাঠামোর কাছাকাছি মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে লবণের গুহায় এই মজুত গড়ে তোলা হয়।


২০২০ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল জমা ছিল। তবে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট নাগাদ এই পরিমাণ কমে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। বাইডেন ও ট্রাম্প—দুই প্রশাসনের সময়ই বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে এসপিআর থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এ সময় বাইডেন প্রশাসন এসপিআর থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়।


পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই সমন্বিত তেল ছাড়ার ফলে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১৭ থেকে ৪২ সেন্ট পর্যন্ত কমতে সহায়তা করেছিল। তবে এর ফলে কৌশলগত মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর মজুত পুনরায় পূরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে তেলের পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল।


২০২৬ সালে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্নের আশঙ্কার মধ্যে আবারও কৌশলগত মজুত ব্যবহার করা হচ্ছে। গত মার্চে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) ৩২টি সদস্য দেশ জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়। আইইএর ইতিহাসে এটি ছিল এ ধরনের সবচেয়ে বড় সমন্বিত পদক্ষেপ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।


ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল ২০২৬ এসপিআরে ৪১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। ২৮ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে। অর্থাৎ পাঁচ মাসেরও কম সময়ে এসপিআরের মজুত প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে এই কমে যাওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তেল সরবরাহ থেকে একই পরিমাণ তেল শেষ হয়ে গেছে-এমন নয়। একই সময়ে দেশটিতে তেল উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বাণিজ্যিক মজুত ও শোধনাগারের কার্যক্রম চলমান ছিল।


যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশীয় উৎপাদন, আমদানি ও বাণিজ্যিক মজুত। দেশটির শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেলকে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে।


সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল। শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এবং অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানিও করছে যুক্তরাষ্ট্র।


গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। অন্যদিকে এসপিআর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর অর্থ, এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার বিষয়টি সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থার বিকল্প নয়।


এসপিআরের মজুত কমে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। কারণ বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে সরকারের হাতে বাজারে দ্রুত তেল ছাড়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গেছে।


তবে এর অর্থ এই নয় যে, দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল বা অন্যান্য জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। বরং কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে সরকার আগের মতো বড় পরিমাণে জরুরি তেল বাজারে ছাড়তে পারবে না-এটাই মূল ঝুঁকি।


বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে পারে। তেলের আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়তে পারে। কারণ তেলের বাজার বৈশ্বিক। 


যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উৎপাদন থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দেশটির জ্বালানি দামের ওপর তার প্রভাব পড়ে।


জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একপর্যায়ে এসপিআর থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তখন বাজারকে উৎপাদন ও আমদানি বাড়ানো, রপ্তানি কমানো, বাণিজ্যিক মজুত ব্যবহার, শোধনাগারের কার্যক্রম পরিবর্তন অথবা জ্বালানির চাহিদা কমানোর মাধ্যমে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।


এ ছাড়া বর্তমান এসপিআর কর্মসূচির একটি অংশ তেল বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো এসপিআর থেকে অপরিশোধিত তেল নেয় এবং পরে সমপরিমাণ তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ব্যারেল ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে বর্তমানে নেওয়া কিছু তেল ভবিষ্যতে সরকারি মজুতে ফেরত আসতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কত দিনের তেল রয়েছে- এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বের করা সম্ভব নয়। কারণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য এক জিনিস নয়। এগুলোর উৎপাদন, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও ব্যবহারের হিসাবও আলাদা।


শুধু এসপিআরের ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে ভাগ করে ১৪ দিনের হিসাব করা তাই বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক চিত্র দেয় না।


যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল এসপিআর মজুতের পাশাপাশি প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। প্রতিদিন দেশটি প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে এবং বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে।


তবে এসপিআরের মজুত ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলায় সরকারের হাতে জরুরি তেলের মজুত আগের তুলনায় কম থাকবে। 


তাই যুক্তরাষ্ট্রে ‘১৪ দিনের তেল’ অবশিষ্ট থাকার দাবিটি সঠিক না হলেও, এসপিআরের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি দেশটির জন্য বাস্তব উদ্বেগের কারণ।

সর্বশেষ সব খবর

শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০০ পিএম

ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘ বিমানযাত্রা ও সময়ের পার্থক্যের কারণে ক্লান্ত থাকায় তিনি নৈশভোজে যাননি বলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।


গতকাল শনিবার বিকেলে নয়াদিল্লিতে পৌঁছে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন শি জিনপিং। একই দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন তিনি। দিনভর বিভিন্ন কূটনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর সময়ের পার্থক্যের কারণে শি জিনপিং বেশ ক্লান্ত ছিলেন। এ কারণেই তিনি মোদির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেননি।


শি জিনপিং ছাড়াও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ নৈশভোজে অংশ নেননি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসের অন্য কয়েকজন নেতা এতে অংশ নেন।


নৈশভোজে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, নির্মলা সীতারামন, পীযূষ গোয়েল, অশ্বিনী বৈষ্ণব ও শিবরাজ সিং চৌহান উপস্থিত ছিলেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও নৈশভোজে অংশ নেন।


কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদ ভবন থেকে দুটি বাসে করে মধ্য দিল্লির ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের অনুষ্ঠানে যান। দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন আজ শেষ হবে। এতে ১১টি সদস্য দেশের নেতা ছাড়াও ১০টি অংশীদার দেশের নেতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে নরেন্দ্র মোদির সাতটি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।


এর আগে শনিবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন মোদি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই নেতা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দিয়েছেন। তারা বলেন, ‘পার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়।’


বৈঠকে মোদি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থ-এই তিনটি বিষয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত করা উচিত।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে তাদের সর্বশেষ বৈঠকের পর ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে অগ্রগতি হয়েছে, দুই নেতা তা স্বাগত জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৯ পিএম

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেছেন কাশ্মীরের তিন নেতা। তাঁরা হলেন হুরিয়াত কনফারেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ উমর ফারুক, আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আল সাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারি। বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।


ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে।


বৈঠকের পর ভারতের সংবাদ সংস্থাকে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, কাশ্মীর থেকে একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে। তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলা নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁরা সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।


মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘এই অবিচার বন্ধ হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও লেবাননে যা ঘটছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে তিনি অন্যায় বলে মন্তব্য করেন।


বৈঠকের মূল বার্তা সম্পর্কে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘সব ধর্মই সত্য ও ন্যায়কে সমর্থন করে। আর সেই কারণেই আমাদের দেখা উচিত কে সঠিক পথে আছে। এই মুহূর্তে ইরান সঠিক পক্ষে রয়েছে; তারা নিজেদের রক্ষা করছে এবং তাদের ওপর একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’


ইরানি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে কাশ্মীরি নেতারা


মীরওয়াইজ উমর ফারুক ও ইমরান রেজা আনসারি দিল্লিতে ইরান দূতাবাস আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতেও অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়।


মীরওয়াইজ উমর ফারুকের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালির আমন্ত্রণে কাশ্মীরের নেতারা প্রদর্শনীতে যোগ দেন।


কাশ্মীর নিয়ে ভারত-ইরানের সংবেদনশীলতা


২০১৯ সালে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। এরপর কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বড় পরিবর্তন আসে। একই সময়ে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা দেয়।


ভারত বরাবরই বলে আসছে, পুরো কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান-সংক্রান্ত কাশ্মীরের বিষয়টি ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই সমাধানযোগ্য বলে দিল্লির অবস্থান।


অন্যদিকে, ২০১৯ সালে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কাশ্মীরের মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারত তখন এর প্রতিবাদ জানায়।


খামেনি ২০২০ সালের দিল্লির দাঙ্গা নিয়েও মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালে গাজার পাশাপাশি ভারতের মুসলমানদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের মুসলিম বলতে পারি না যদি আমরা মিয়ানমার, গাজা, ভারত বা অন্য যেকোনো স্থানে একজন মুসলিমের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে উদাসীন থাকি।’


তবে এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে।


চলতি বছরের গোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর কাশ্মীর ইস্যুতে তেহরানের অবস্থান নিয়ে ভারতে প্রতিক্রিয়া হয়। ইরানের দূতাবাসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্ট মুছে ফেলতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এমন প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাশ্মীরি নেতাদের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের সাক্ষাৎও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।


ভারত ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা পর্যবেক্ষণের বিষয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৮ পিএম

মার্কিন পণ্য বর্জন করে কানাডীয় পণ্য কেনার প্রবণতা বাড়ছে কানাডায়। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির সুপারমার্কেটগুলোতেও। ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনের কারণে পণ্যের উৎস স্পষ্টভাবে জানানোর পাশাপাশি নতুন নতুন দেশ ও অঞ্চল থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।


কানাডীয় পণ্যের দিকে ক্রেতাদের ঝোঁক


অন্টারিওর স্বাধীন মুদি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ভিন্সেস মার্কেটের প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো ত্রিমার্কি জানান, মার্কিন পণ্য বিক্রি নিয়ে সম্প্রতি অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গ্রেটার টরন্টো এলাকায় তাদের চারটি দোকানে বিক্রি হওয়া সবজির প্রায় ৯০ শতাংশই কানাডায় উৎপাদিত।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে এখন কুইবেক থেকে স্ট্রবেরি সংগ্রহ করছেন তারা। একই সঙ্গে ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিজ্ঞাপনের বাজেটও কমাতে হয়েছে।


ত্রিমার্কির ভাষায়, আগে ক্রেতাদের কাছে মূল বিষয় ছিল পণ্যের মান ও দাম। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়—পণ্যটি কোন দেশের।


পণ্যের উৎস স্পষ্ট করছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো


কানাডার সবচেয়ে বড় খাদ্যপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান লব্লও আগস্টে তাদের ফল ও তাজা খাবারের বিভাগে বড় আকারের কানাডীয় পতাকার চিহ্ন আবারও ব্যবহার শুরু করেছে। শুল্কের কারণে প্রভাবিত পণ্য চিহ্নিত করতে তারা ‘টি’ ট্যাগও ফিরিয়ে এনেছে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা সহজেই কানাডীয় পণ্য শনাক্ত করতে পারছেন।


দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম মুদি বিক্রেতা মেট্রোও জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কানাডীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত রাখবে।


কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রোসার্সের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্যারি স্যান্ডস মনে করেন, পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দেশের উৎস নিয়ে কানাডীয়দের মানসিকতায় স্থায়ী পরিবর্তন আসছে।


যুক্তরাষ্ট্র এখনো বড় সরবরাহকারী


তবে কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের গুরুত্ব এখনো অনেক বেশি। দেশটি মূল্যমানের হিসাবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তাজা সবজি আমদানিকারক। আমদানির অর্ধেকেরও বেশি এখনো আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এরপর রয়েছে মেক্সিকো।


তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কানাডার সবজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে, এই হার ছিল প্রায় ৬৯ শতাংশ।


ফল আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। জুলাই পর্যন্ত কানাডার অর্ধেকের বেশি ফল আমদানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।


বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব


যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে টানাপোড়েনও এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত ২১ আগস্ট দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে শুল্ক ও পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়।


এর ফলে কানাডীয় ক্রেতাদের একটি অংশ মার্কিন পণ্য এড়িয়ে স্থানীয় বা অন্য দেশের পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকছেন।


টরন্টোর ২৭ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী জন অ্যামবার্ডও তাদের একজন। তিনি জানান, সম্ভব হলে তিনি মার্কিন পণ্য না কিনে কানাডীয় ব্র্যান্ড ও ব্যবসাকে সমর্থন করেন। পণ্য কেনার আগে তিনি লেবেল দেখেন এবং প্রয়োজন হলে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সম্পর্কে তথ্য খোঁজেন।


বদলে যেতে পারে সরবরাহ ব্যবস্থা


বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেতাদের এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে কানাডার খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থানীয় উৎপাদকরা এতে লাভবান হওয়ার সুযোগ পেলেও ব্যবসায়ীদের জন্য মান, দাম এবং পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


ফলে মার্কিন পণ্য বর্জনের এই প্রবণতা শুধু ক্রেতাদের কেনাকাটার ধরনই বদলাচ্ছে না, বরং কানাডার সুপারমার্কেটগুলোর পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনছে।


সূত্র: রয়র্টাস

সর্বশেষ সব খবর

নিখোঁজ জাহাজ ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫২ পিএম

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪০ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী জাহাজ নিখোঁজ হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বরে) সকালে পূর্ব জাভার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়া থেকে বোর্নিও দ্বীপের দক্ষিণ কালিমন্তান প্রদেশের রাজধানী বানজারমাসিনের দিকে যাওয়ার পথে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে।


উদ্ধারকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটির নাম ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’। মাঝপথে বিরূপ আবহাওয়ার মুখে পড়ে জাহাজটির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।


বানজারমাসিনের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তা আরিয়ান্তো আরদি নিশ্চিত করেছেন যে, নৌযানটির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন জাভা সাগরে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও জানান, জাভা সাগরের বানজারমাসিন জেটি থেকে প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার (৯২ মাইল) দূরে অবস্থানকালে জাহাজটির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ সম্ভব হয়েছিল।


দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি কিংবা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। নৌযানটি শেষ পর্যন্ত কোনো চরে আটকে পড়েছে নাকি সাগরে ডুবে গেছে, তা নিশ্চিত করতে দ্রুতগতির উদ্ধারকারী ড্রেজার ও তল্লাশকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


উল্লেখ্য, ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাতায়াতের জন্য ফেরি ও যাত্রীবাহী জাহাজই সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে সঠিক তদারকির অভাব ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দেশটির নৌপথে প্রায়শই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

সর্বশেষ সব খবর

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই যোদ্ধা জাতি হয়ে থাকে, তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি হোক—এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার অভিযোগ, সেনাবাহিনীকে এড়িয়ে মার্কিন বাহিনী এখন সরাসরি ইরানের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তবে যা-ই ঘটুক, তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে মাথা নত করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।


রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান লেখেন, "যদি মার্কিনিরা যোদ্ধা হয়, তাহলে আমাদের বীর সেনাদের মোকাবেলা করুক। কেন তারা আমাদের বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে? মানুষ হলে কেন সাধারণ মানুষকে খাবার আর ওষুধ থেকে বঞ্চিত করছে?"


তিনি আরও বলেন, ইরানি জনগণকে গুণ্ডামির কাছে নতিস্বীকার করানো যাবে না—ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।


টানা ৪০ দিনের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও, সেই সময় থেকেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে মার্কিন বাহিনী। এর ফলে খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ইরানে প্রবেশ করতে পারছে না। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বার্তায় মূলত এই অবরোধেরই কড়া সমালোচনা উঠে এসেছে।


পাল্টা জবাবে ইরানও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল করে রেখেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল করত সেই প্রণালি দিয়ে, এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সর্বশেষ সব খবর