ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট রয়েছে- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এই হিসাবটি দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) এবং মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের পরিমাণকে একসঙ্গে ধরে করা হয়েছে। ফলে এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি সঠিকভাবে উঠে আসে না।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত। মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের চারটি ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় এই তেল সংরক্ষণ করা হয়। এসব স্থাপনার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া হিসাব অনুযায়ী, এসপিআরে রয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ ও ব্যবহার হয়। এই দুটি সংখ্যা ভাগ করে প্রায় ১৪ দিনের হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু এই হিসাবের সমস্যা হলো, এসপিআরে থাকা অপরিশোধিত তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রতিদিনের ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেলের হিসাবের মধ্যে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রয়েছে। এগুলো সরাসরি এসপিআরের অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ কেবল কৌশলগত মজুতের ওপর নির্ভর করে না। দেশটির নিজস্ব অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বাণিজ্যিক মজুত, আমদানি, শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মজুত-সব মিলিয়ে একটি বড় সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দেশটির বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।
একই সময়ে শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করে। অর্থাৎ দেশটির তেল সরবরাহ একটি চলমান ব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদন, আমদানি, বাণিজ্যিক মজুত, শোধন ও রপ্তানি—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করে।
এসপিআর যুক্তরাষ্ট্রের তেলের প্রধান ভাণ্ডার নয়; এটি জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য একটি ব্যাকআপ ব্যবস্থা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবরোধ বা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করতে এই মজুত ব্যবহার করা হয়।
১৯৭৩-৭৪ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৫ সালে কংগ্রেস এসপিআর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। দেশের তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও পরিবহন অবকাঠামোর কাছাকাছি মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে লবণের গুহায় এই মজুত গড়ে তোলা হয়।
২০২০ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল জমা ছিল। তবে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট নাগাদ এই পরিমাণ কমে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। বাইডেন ও ট্রাম্প—দুই প্রশাসনের সময়ই বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে এসপিআর থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এ সময় বাইডেন প্রশাসন এসপিআর থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই সমন্বিত তেল ছাড়ার ফলে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১৭ থেকে ৪২ সেন্ট পর্যন্ত কমতে সহায়তা করেছিল। তবে এর ফলে কৌশলগত মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর মজুত পুনরায় পূরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে তেলের পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল।
২০২৬ সালে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্নের আশঙ্কার মধ্যে আবারও কৌশলগত মজুত ব্যবহার করা হচ্ছে। গত মার্চে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) ৩২টি সদস্য দেশ জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়। আইইএর ইতিহাসে এটি ছিল এ ধরনের সবচেয়ে বড় সমন্বিত পদক্ষেপ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল ২০২৬ এসপিআরে ৪১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। ২৮ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে। অর্থাৎ পাঁচ মাসেরও কম সময়ে এসপিআরের মজুত প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে এই কমে যাওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তেল সরবরাহ থেকে একই পরিমাণ তেল শেষ হয়ে গেছে-এমন নয়। একই সময়ে দেশটিতে তেল উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বাণিজ্যিক মজুত ও শোধনাগারের কার্যক্রম চলমান ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশীয় উৎপাদন, আমদানি ও বাণিজ্যিক মজুত। দেশটির শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেলকে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল। শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এবং অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানিও করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। অন্যদিকে এসপিআর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর অর্থ, এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার বিষয়টি সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থার বিকল্প নয়।
এসপিআরের মজুত কমে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। কারণ বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে সরকারের হাতে বাজারে দ্রুত তেল ছাড়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল বা অন্যান্য জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। বরং কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে সরকার আগের মতো বড় পরিমাণে জরুরি তেল বাজারে ছাড়তে পারবে না-এটাই মূল ঝুঁকি।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে পারে। তেলের আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়তে পারে। কারণ তেলের বাজার বৈশ্বিক।
যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উৎপাদন থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দেশটির জ্বালানি দামের ওপর তার প্রভাব পড়ে।
জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একপর্যায়ে এসপিআর থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তখন বাজারকে উৎপাদন ও আমদানি বাড়ানো, রপ্তানি কমানো, বাণিজ্যিক মজুত ব্যবহার, শোধনাগারের কার্যক্রম পরিবর্তন অথবা জ্বালানির চাহিদা কমানোর মাধ্যমে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।
এ ছাড়া বর্তমান এসপিআর কর্মসূচির একটি অংশ তেল বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো এসপিআর থেকে অপরিশোধিত তেল নেয় এবং পরে সমপরিমাণ তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ব্যারেল ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে বর্তমানে নেওয়া কিছু তেল ভবিষ্যতে সরকারি মজুতে ফেরত আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কত দিনের তেল রয়েছে- এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বের করা সম্ভব নয়। কারণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য এক জিনিস নয়। এগুলোর উৎপাদন, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও ব্যবহারের হিসাবও আলাদা।
শুধু এসপিআরের ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে ভাগ করে ১৪ দিনের হিসাব করা তাই বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক চিত্র দেয় না।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল এসপিআর মজুতের পাশাপাশি প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। প্রতিদিন দেশটি প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে এবং বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে।
তবে এসপিআরের মজুত ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলায় সরকারের হাতে জরুরি তেলের মজুত আগের তুলনায় কম থাকবে।
তাই যুক্তরাষ্ট্রে ‘১৪ দিনের তেল’ অবশিষ্ট থাকার দাবিটি সঠিক না হলেও, এসপিআরের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি দেশটির জন্য বাস্তব উদ্বেগের কারণ।
ভারতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার তালিকা কারচুপি ও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
রোববার রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দেওয়া ভাষণে ভারতের শীর্ষ বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী মোদী ও অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্টভাবে বলেন, ইন্ডিয়া জোট ভারতের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেবে না। ভোট চুরি করে আপনারা কোথাও পালাতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফেরানোই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রধান লক্ষ্য।
সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের মন্তব্যের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, তারা বলছে নরেন্দ্র মোদী নাকি কোথাও যাবেন না। আসল কথা হলো, ওনাকে কোথাও পালাতে দেয়া হবে না! সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পর আমরা আপনাদের কাছে আসব এবং আপনাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা থেকে সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, দেশের প্রতি সাতজন ভোটারের মধ্যে একজনের (প্রায় ১৫ শতাংশ) ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে শাসকদল এনডিএ ও বিরোধী জোটের ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ফলে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম কাটার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, গত নির্বাচনটি ছিল পুরোপুরি অবৈধ। এ ধরনের কারচুপিকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের প্রত্যক্ষ সহায়তা ছাড়া নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।
ভাষণে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী নেতা বলেন, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দখল করে গুটিকয়েক শিল্পপতি- আম্বানি ও আদানিদের হাতে সুবিধা তুলে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকদের সামান্য ঋণ মওকুফ না করে জেলে পাঠানো হচ্ছে।
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেন যে, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ বা জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ঘৃণা নেই। তবে বিজেপি-আরএসএস যে ঘৃণার রাজনীতি ছড়িয়ে দেশের ক্ষতি করছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষাই বিরোধীদের প্রধান ধর্ম বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মণিপুরে নতুন করে সংঘাত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার ও রোববার (১ নভেম্বর) দুটি পৃথক ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘাতকবলিত রাজ্যটিতে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাজ্যের নোনে জেলায় ‘অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের’ মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের তিনজন নিহত হন।
এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে কাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানের সময় মরদেহ দুটি পাওয়া যায় বলে পুলিশের আরেকটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
কুকি সম্প্রদায়ের একটি শীর্ষ সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে দায়ী করেছে। তাদের ভাষায়, নিজ ভূমিতে কুকিদের ওপর এটি ছিল ‘সরাসরি ও বিনা উসকানিতে চালানো হামলা’।
এদিকে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারতের সরকারের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানত খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর আবাসভূমির দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এক নাগা ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এরপর মে মাসে তিন কুকি যাজক হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।
কুকি-নাগা সংঘাতের পাশাপাশি মণিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে কুকিদের দীর্ঘদিনের সহিংস বিরোধও চলছে। ২০২৩ সালের মে মাসে অর্থনৈতিক সুবিধা ও চাকরির কোটা নিয়ে বিরোধ থেকে এই সংঘাত শুরু হয়।
এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের অনেকে এখনো অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন।
সূত্র: রয়টার্স
সংগৃহীত
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় মদপানে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় বাড়িতে তৈরি করা মদ পান করেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের তৈরি মদের সঙ্গে ১৩ জনের মৃত্যুর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ইন্দোরের বাসিন্দা। গত সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য খোঁজেন তিনি। সেখান থেকে পাওয়া অসম্পূর্ণ তথ্য কাজে লাগিয়ে পরে ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের সন্ধান শুরু করেন।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, এরপর ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামে একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অজয়। সেখান থেকে একটি রাসায়নিক সংগ্রহ করেন তিনি।
পুলিশের অভিযোগ, ওই রাসায়নিক ব্যবহার করে অজয় ও তার সহযোগীরা বেআইনিভাবে মদ তৈরি শুরু করেন। ১ অক্টোবর রাসায়নিক হাতে পাওয়ার পর পুরোনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তৈরি করা তরল ভরে বিক্রি শুরু করেন তারা। এমনকি আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে গ্রামাঞ্চলেও সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
এতে ক্রেতাদের পক্ষে আসল ও নকল মদের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। রাসায়নিক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্দোরের আরেক বাসিন্দা আমন কাসলিওয়ালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন মদের নমুনাও পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ওমর আবদুল্লাহ ও নিধি রাজদান
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ নিধি রাজদান নামে এক হিন্দু নারী সাংবাদিককে বিয়ে করেছেন। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) তারা এ ঘোষণা দিয়েছেন।
৫৬ বছর বয়সী ওমর এক্সে লিখেছেন, “গতকাল এক নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে।” এতে নিধি রাজদানকে ট্যাগ করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়েটি সম্পন্ন হয়। এতে পরিবারের কাছের সদস্যরা আসেন।
যারমধ্যে ছিলেন ওমর আব্দুল্লাহর বাবা ফারুক আব্দুল্লাহ এবং মোলি আব্দুল্লাহ। অপরদিকে নিধি রাজদনের বাবা এমকে রাজদান এবং শার্লা রাজদানও উপস্থিত ছিলেন।
ওমর আব্দুল্লাহ এর আগে পায়েল আব্দুল্লাহ নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে দুই সন্তানও আছে। তবে স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। এ কারণে তিনি তাকে ডিভোর্স দিতে চান। পরে তাদের এই বিয়ের সম্পর্কটি কয়েক বছর ধরে ঝুলে থাকার পর গত জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত বিচ্ছেদ হয়।
এরআগে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা মামলা তুলে নিতে সম্মত হন এবং বিচ্ছেদ চূড়ান্ত করেন।
এদিকে তার সাবেক স্ত্রী পায়েল আব্দুল্লাহও হিন্দু ছিলেন। বিয়ের আগে তার নাম ছিল পায়েল নাথ। ওমর আব্দুল্লাহর সঙ্গে বিয়ের পর তিনি নিজের নাম পাল্টে রাখেন পায়েল আব্দুল্লাহ।
সূত্র: এনডিটিভি
ছবি : সংগৃহীত
কলকাতায় ফের বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ঘেরাওকে কেন্দ্র করে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীন সনাতনী রাষ্ট্রের দাবি এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির’ দাবিতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজপথে নেমেছিল ‘বঙ্গসেনা’ নামের একটি কট্টরপন্থি সংগঠন। তবে পুলিশের বাধার মুখে মিশনের মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি তারা।
শনিবার শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে মিছিল বের করেন বঙ্গসেনার কর্মী-সমর্থকেরা। মিছিলের সামনের সারিতে দেখা যায় বিপুল সংখ্যক গেরুয়া বসনধারী ও সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনীদের। সেখান থেকে বিভিন্ন স্লোগান তুলে মিছিলটি পার্ক সার্কাসের বাংলাদেশ মিশনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
মিছিলটি উপ-হাইকমিশনের কাছাকাছি আসা মাত্রই প্রস্তুত থাকা কলকাতা পুলিশ ডাবল ব্যারিকেড তুলে সেটিকে থামিয়ে দেয়। মিশন থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ আগেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়া হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সামান্য বচসা ও ধাক্কাধাক্কি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে প্রশাসন। ব্যারিকেডের সামনেই অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বঙ্গসেনার সদস্যরা।
এই কর্মসূচির কারণে পার্ক সার্কাস ও সংলগ্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। শনিবারে মিশন বন্ধ থাকার কারণে এদিন কোনো স্মারকলিপি জমা দিতে পারেননি সংগঠনের প্রতিনিধিরা। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে উপ-হাইকমিশন ও তার আশপাশের এলাকায় আগাম অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে এটি বাংলাদেশ মিশনের সামনে দ্বিতীয়বার উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনা। এর আগে গত ৩ অক্টোবর ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ এবং বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের সন্ন্যাসীরা প্রায় একই দাবিতে মিশনের বাইরে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেবারে অবশ্য তারা মিশনের কর্মকর্তাদের কাছে একটি স্মারকলিপি তুলে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যদের মধ্যে তুমুল মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ বা যৌনতা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের জেরে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় সংসদ সদস্যদের পরস্পরের দিকে কিল-ঘুষি, লাথি ও চেয়ার ছুড়তে দেখা যায়। অধিবেশনকক্ষের পাশাপাশি পার্লামেন্ট ভবনের করিডোরেও ছড়িয়ে পড়ে হাতাহাতি।
চলতি বছরের শুরুতে বিরোধী দল স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দেশে ‘কোনো অসন্তুষ্ট নারী থাকবে না’—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ লক্ষ্য পূরণে দলটি ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়। দলটির দাবি ছিল, যৌন অসন্তুষ্টির কারণে মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে, যা মোকাবিলায় এ ধরনের মন্ত্রণালয় প্রয়োজন।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ক্ষমতাসীন সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টির সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান বিরোধী দলকে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে দলটির নেতা নারেক রাপেতিয়ানকে নারীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
বিতর্কের সময় চাখোয়ান রাপেতিয়ানকে ‘আপাদমস্তক ঝামেলা’ বলে কটাক্ষ করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে চাখোয়ানের বক্তব্য দেওয়ার ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় সংসদ সদস্যদের একে অপরকে ঘুষি ও লাথি মারতে দেখা যায়। পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ভাহাগন আলেকসানিয়ান বিরোধী আইনপ্রণেতাদের দিকে একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন। অন্যদিকে চাখোয়ানকে বিরোধী সংসদ সদস্য গার্নিক দাভতিয়ানের দিকে পানি ছিটাতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন আইনপ্রণেতা পানির বোতল ছোড়েন এবং পার্লামেন্টের কয়েকটি টেবিল ভেঙে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার অধিবেশন মুলতবি না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, সবাই যেন ঘটনাটি সরাসরি দেখতে পারেন। তবে সংঘর্ষের মাত্রা বেড়ে গেলে শেষ পর্যন্ত অধিবেশনে বিরতি ঘোষণা করতে হয়। বিরতির পরও হাতাহাতি থামেনি; পার্লামেন্টের করিডোরেও দুই পক্ষের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা দুই দলের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করেন। কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আঘাতপ্রাপ্ত ও ছেঁড়া পোশাকে চেম্বার থেকে বের হতে দেখা যায়।
ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান সহিংসতার নিন্দা জানান। তবে একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের ভূমিকার প্রতি সমর্থনও জানান তিনি। পাশিনিয়ান বলেন, ‘আমি সহিংসতার নিন্দা করি, তবে আজ সিভিল কন্ট্রাক্ট উপদল যে ব্যবস্থা নিয়েছে আমি তাকে সমর্থন করি; কারণ বিরোধী দলে থাকার মানে এই নয় যে কেউ উদ্ধত আচরণ করবে। চেয়ার ছুড়ে মারা হোক বা অন্যকিছু, এটি ছিল যথাযথ ও সঠিক।’
পরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কৌতুক করে লেখেন, ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ নামের দলটির সংসদ সদস্যরা ‘শারীরিকভাবে ততটা শক্তিশালী নন’।
সেই পোস্টের মন্তব্যে চাখোয়ান বলেন, ‘আমার কিছুটা খারাপ লাগছে। তারা [স্ট্রং আর্মেনিয়া] লড়াই শুরু করে আর তারপর পালিয়ে যায়।’
চাখোয়ান পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের আচরণকে ‘গুণ্ডামি’ হিসেবে অভিহিত করে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংঘাত উসকে দিয়ে মার না খেয়ে পালিয়ে যাওয়া চলবে না।’
অন্যদিকে, বিরোধী নেতা কারাপেতিয়ান সংঘর্ষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ঘটনাটিকে ‘খাঁটি আর্মেনীয় ধাঁচের পুরুষে পুরুষে স্বাভাবিক লড়াই’ বলে বর্ণনা করেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরক্ত করে আসা ব্যক্তিরা এবার সরাসরি জবাব পেয়েছেন।
এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে চাইলে আর্মেনিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
এদিকে একই দিনে আলবেনিয়ার পার্লামেন্টেও বিরোধী আইনপ্রণেতাদের বিক্ষোভ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বিরোধী সংসদ সদস্যরা স্মোক বোমা বিস্ফোরণ ঘটান এবং ডায়াস অবরুদ্ধ করেন।
বিতর্কিত একটি রিসোর্ট প্রকল্পকে কেন্দ্র করে আলবেনিয়ায় কয়েক মাস ধরে চলা ‘ফ্লেমিংগো আন্দোলন’ পরে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব আলবেনিয়া-সংক্রান্ত একটি আইনের সংশোধনী নিয়ে ভোটাভুটির সময় ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন বিরোধী সদস্যরা। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগ দাবি করেন।