ইসলামাবাদের সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (ডানে)
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ইরান যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, সে বিষয়ে তাদের কাছ থেকে একটি ‘স্পষ্ট অঙ্গীকার’ প্রয়োজন।
ভ্যান্স আরও বলেন, ‘সহজ কথা হলো, আমাদের এমন একটি জোরাল প্রতিশ্রুতি দেখতে হবে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এমনকি দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম- এমন কোনো সরঞ্জাম বা প্রযুক্তিও তারা অর্জনের চেষ্টা করবে না।’
Vice President JD Vance gives an update in Pakistan:
"The simple fact is that we need to see an affirmative commitment that they will not seek a nuclear weapon, and they will not seek the tools that would enable them to quickly achieve a nuclear weapon." pic.twitter.com/il4THN5DwV
— The White House (@WhiteHouse) April 12, 2026
সূত্র: ডন
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র মসজিদে নববির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয়। অবশ্য হুতিদের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জোটের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
হুতিদের সঙ্গে লড়াইরত সৌদি জোটের দাবি, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্ত করে তারা নিশ্চিত হয়েছে, হুতিরাই পবিত্র মদিনার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ হামলার পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়নে জড়িত ছিল।
তবে হুতি সামরিক বাহিনীর সূত্র সাবা নিউজ এজেন্সিকে বলেছে, সৌদি জোটের এ দাবি মিথ্যা। তারা হুতিদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীতে হামলাচেষ্টার অভিযোগও এনেছিল। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আর এ ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন করে মদিনায় হামলার অভিযোগ তুলেছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব বলেছিল, তারা মক্কা নগরীর দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি জোট তখন দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কা নগরী লক্ষ্য করে এটি ছিল হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুতিরা মক্কা বা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলাচেষ্টা করার কথা অস্বীকার করেছে।
মদিনার ঘটনা নিয়ে সৌদি জোট বলেছে, মসজিদে নববি ও মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে বারবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুসলিমদের উসকে দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জোটটি। মুসলিমদের পবিত্র স্থান এবং মুসল্লিদের জন্য তারা নিরাপত্তাব্যবস্থা অটুট রাখবে বলেও জানিয়েছে।
এদিকে হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় সৌদি জোট হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।
ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সৌদি জোট আরও বলেছে, তারা হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা আজ শুক্রবার ভোরে জানান, হুতিরা এডেনে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি জোট বা হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। ছবি: রয়টার্স
চলতি বছর নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং উপকূল আক্রমণকারী দুটি উভচর সেনাদল (ল্যান্ডিং গ্রুপ) মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তুতি চলছে। তার আগে এরই মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে গেছে বলে আল-জাজিরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, সান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে সোমবার ‘মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ও পশ্চিম এশিয়া অভিমুখে রওনা হয়েছে। এই ল্যান্ডিং ফোর্স গ্রুপে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।
চলতি বছর নভেম্বরের শেষের মধ্যেই ইরানের চারপাশে এসব রণতরী ও ল্যান্ডিং সেনা গ্রুপ পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েন করা সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ সামরিক শক্তি জড়ো করা হচ্ছে। এর ফলে ইরানকে মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সামনে অনেক বিকল্প পথ খোলা থাকবে।
পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি ক্রিপ্টো-ভিত্তিক একটি গোপন ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরান ব্যবহার করত।
এর উদ্দেশ্য ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা করা এবং তেহরানের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার পথ বন্ধ করা।
ছবি : সংগৃহীত
মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে (কাবা শরিফ) আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর উপস্থিতির খবর অস্বীকার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) তারা জানিয়েছে, পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা এবং তাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা বাহিনী এবং তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করছে যে, এই ঘটনা নিয়ে যেসব দাবি বা খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।’ তবে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্পর্কে বিবৃতিতে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরে দাবি করা হয়েছিল যে, বিস্ফোরক ভেস্ট পরিহিত এক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী কাবা শরিফের (গ্র্যান্ড মসজিদের কেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামের পবিত্রতম স্থাপনা) দিকে এগিয়ে গিয়েছিল এবং নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে আটক করেছিল।
ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো। ছবি: বিবিসি
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জিম্বাবুয়ের আলোচিত ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো ও তার স্ত্রী লুসি মুতেকে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্বে মারোনদেরা এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছয়জনের মধ্যে দুজন পাইলট ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে হারবার্ট চিভায়ো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
সরকারি মুখপাত্র নিক মাংগোয়ানা জানান, হেলিকপ্টারটিতে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তিনজন যাত্রী ও দুজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কেউ বেঁচে নেই বলেও জানান তিনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চিভায়ো ও তার স্ত্রী চিকোম্বার গান্দামি এলাকায় নির্মাণাধীন তাদের গ্রামীণ বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর কুডেঙ্গা ফার্ম এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) পরিবহনমন্ত্রী ফেলিক্স মোহোনার নেতৃত্বে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।
৪৩ বছর বয়সী চিভায়ো ‘স্যার উইকনেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। সরকারি বিভিন্ন বড় চুক্তির মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক পরিচিতি গড়ে তোলেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
সরকারি চুক্তি নিয়ে অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছিল। তবে তিনি বরাবরই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
চিভায়োর মৃত্যুতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া শোক প্রকাশ করেছেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোও তাকে ‘প্রিয় বন্ধু’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি প্রিন্স সালমান। ছবি : গেটি ইমেজেস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’
এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’
সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্ব ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা চেয়েছিল কি না এবং ট্রাম্প তা কেন প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র : সিবিএস নিউজ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত সীমিত হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে; সম্প্রতি পেন্টাগনের এমন একটি প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা কম।’ তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি মাত্রায় অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন মাত্রায় মজুত করছি, যা এর আগে কখনো করিনি।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনার সময় ব্যাপক গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কত অর্থ ব্যয় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এর খরচ ভেনেজুয়েলায় এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র যত অর্থ আয় করে, তার চেয়েও কম হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে। ওই অভিযানে গোলাবারুদের ব্যবহার মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।
সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’
এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’
সূত্র : টাইম ম্যাগাজিন