ছবি: নোবিপ্রবি ভলিবল কোর্ট
উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ক্রীড়া অবকাঠামোর বেশিরভাগই নিয়মিত ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। দীর্ঘদিন খেলাধুলার আয়োজন ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় নতুন নির্মিত কোর্টগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাস্কেটবল ও লন টেনিস কোর্ট থাকলেও সেগুলোতে নিয়মিত খেলাধুলার চিত্র নেই। অন্যদিকে, ভলিবল কোর্টের আশপাশে ব্যাপকভাবে আগাছা ও ঘাস জন্মেছে। কোথাও কোথাও ঘাস বুকসমান হয়ে যাওয়ায় কোর্টের স্বাভাবিক পরিবেশও নষ্ট হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সেগুলো সচল রাখা ও নিয়মিত ব্যবহারের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তাদের দাবি, নিয়মিত অনুশীলন, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা না করা হলে কোর্ট ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে সংস্কারের জন্য আবারও অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে, যা সরকারি অর্থের অপচয় ডেকে আনবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত ভলিবল ও বাস্কেটবল কোর্ট তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা। আর শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত লন টেনিস কোর্টে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৭০৪ টাকা। দুই প্রকল্প মিলিয়ে ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৫ টাকা।
সূত্র জানায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত লন টেনিস কোর্ট এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত বাস্কেটবল ও ভলিবল কোর্টের উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। তবে উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব কোর্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগের উদ্যোগে নিয়মিত কোনো প্রতিযোগিতা বা টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়নি।
কোর্টগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নোবিপ্রবির বাস্কেটবল খেলোয়াড় আলভি হাসান বলেন, ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু শুধু কোর্ট নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণের প্রায় এক বছর হতে চললেও সেখানে নিয়মিত খেলা, প্রশিক্ষণ বা অনুশীলনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কোর্ট থাকলেও বল, প্রশিক্ষক ও নিয়মিত খেলার সুযোগের সংকট রয়েছে। কোর্ট পরিচালনা ও সচল রাখার দায়িত্ব শারীরিক শিক্ষা বিভাগের, শিক্ষার্থীদের নয়।
ভলিবল কোর্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা বছর অনুশীলনের সুযোগ না দিয়ে কোনো টুর্নামেন্টের মাত্র দুই-তিন সপ্তাহ আগে অনুশীলন শুরু করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলোয়াড়ের সংকট নেই; প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কোচিং, প্রতিযোগিতা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
নোবিপ্রবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি জাহেদুল হক বলেন, বাস্কেটবল কোর্টটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলার আগ্রহ থাকলেও শরীরচর্চা বিভাগ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত লন টেনিস কোর্টটিও পর্যাপ্ত ব্যবহার হচ্ছে না। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে তারা খেলার সুযোগ পেত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া চর্চার পরিধি বাড়ত। এভাবে পড়ে থাকলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত কোর্টগুলো অযত্নে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্রীড়া কার্যক্রম ও তদারকির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর সঞ্জীব কুমার দে বলেন, বাস্কেটবল কোর্ট প্রস্তুত রয়েছে। টুর্নামেন্ট আয়োজন ও প্রশিক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে টুর্নামেন্ট ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন হলে কোচের ব্যবস্থাও করা সম্ভব।
ভলিবল কোর্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্ধারিত জায়গার বাইরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত কিছু জায়গায় বালু ভরাটের কাজ শেষ হলে সেখানে খেলা শুরু করা যাবে। লন টেনিস কোর্টটি মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বিশেষ প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরাও সেখানে অনুশীলনের সুযোগ পেতে পারে। তাঁর দাবি, জাতীয় মান বজায় রেখে কোর্টগুলো নির্মাণ করা হয়েছে এবং দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। পাশাপাশি বাস্কেটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শরীরচর্চা দপ্তরের পরিচালক জামাল উদ্দীন বলেন, ভলিবল কোর্ট দুটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু কোর্ট নির্মাণ করলেই হয় না, খেলোয়াড়দের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং উপযুক্ত মাটির ব্যবস্থাও প্রয়োজন। এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে। ভলিবল কোর্টের আশপাশের জায়গা প্রস্তুত করতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে চায় না কর্তৃপক্ষ।
লন টেনিস কোর্টের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোর্টটি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হলেও সেখানে যদি কেউ খেলতে না আসে, তাহলে শুধু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বিষয়টি সমাধান করা যাবে না। অল্পসংখ্যক মানুষের ব্যবহারের জন্য এত অর্থ ব্যয় করা কতটা যৌক্তিক ছিল, সেটি প্রকল্প গ্রহণের সময়ই বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। এখন অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে, তবে শিক্ষার্থীদের অর্থে বাস্তবায়িত এসব কাজের জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।
সার্বিক বিষয়ে নোবিপ্রবির উপাচার্য ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভলিবল ও বাস্কেটবল খেলার সুযোগ বাড়াতে মাঠ সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে মাঠ পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় খেলাধুলায় সমস্যা হয়। বৃষ্টি কমে গেলে মাঠ সংস্কারের কাজ করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলার সুযোগ তৈরি করা হবে।
শিক্ষকদের জন্য নির্মিত লন টেনিস কোর্ট সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, শিক্ষক ও খেলোয়াড়ের সংখ্যা কম থাকায় বর্তমানে সেখানে নিয়মিত খেলা হচ্ছে না। তবে শিক্ষক ও আগ্রহী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে খেলাটি নিয়মিত করার চেষ্টা করা হবে। উদ্বোধনের দিন শিক্ষক ও বাইরের অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং তিনি নিজেও ওই ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন।
জবিতে গ্রিন ভয়েসের সদস্য সংগ্রহ শুরু
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্পৃক্ততা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সদস্য সংগ্রহজ কার্যক্রম শুরু করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েসের জবি শাখা।
সংগঠনটির প্রকাশিত প্রচারপত্রে পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী জবি শিক্ষার্থীদের সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্রিন ভয়েস জবি শাখার সভাপতি নাজনীন আক্তার বৃষ্টি বলেন, “গ্রিন ভয়েসে সদস্য সংখ্যার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নেই। যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের প্রত্যেককেই আমরা আমাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিজস্ব চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নতুন ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে চাই।
নতুন সদস্য সংগ্রহের পর আগামী মাসের শুরুতেই আমরা একটি ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের পরিকল্পনা করেছি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করারও পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু সদস্য সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সদস্যরা পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি কমিউনিটি এনগেজমেন্ট, দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব তৈরি ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে।
গ্রিন ভয়েস জবি শাখা জানিয়েছে, শুধু পরিবেশ সংরক্ষণ নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতা তৈরি করাও তাদের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ক্যাম্পাস ও আশপাশের পরিবেশের প্রতি আরও সচেতন করে তোলার পাশাপাশি একটি ইতিবাচক ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমটি আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। সদস্য হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনলাইনে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশন লিংক:
https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSdrdzKbsl52XQs2ggfcmxegHg7FWT7M8cYYwYfQYyQlBwvl1g/viewform?usp=header
ইবি ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ নয় দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩ টার দিকে প্রশাসন ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বরাবর স্মারকলিপি দেন সংগঠনটির নেতারা।
তাদের দাবিসমূহ- আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী অপসারণ, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় সুপারিশ ভিত্তিতে হলে সিট বরাদ্দ বন্ধ করা, সিট বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট, স্থায়ী ও লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন, প্রতিটি হলের সিট বণ্টনের তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ করা, প্রতি ৬ (ছয়) মাস পরপর হলগুলোর সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে আবাসিক হলসহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, ডাইনিংগুলোতে সুষম ও মানসম্মত খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি রয়েছে।
শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, "আমরা আজকে ভিসি স্যারের সাথে হল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। হলের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছি। বিশেষ করে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া একটি অপ্রীতিকর ঘটনা এবং পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে অশান্ত পরিবেশ জন্য অন্যতম কারণ হলো হল গুলোতে অনিয়ম এবং বিশেষ করে হলে অবৈধ শিক্ষার্থী অবস্থান। জিয়া হলে অনেক শিক্ষার্থী অবৈধ ভাবে অবস্থান করছে। পাশাপাশি শাহ আজিজুর রহমান হলে দুই বছর যাবৎ অ্যালটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু অবৈধভাবে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে। আমরা এ সমস্যাগুলো হল প্রশাসনকে বারবার জানিয়েছি কিন্তু হল প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় নি। তারই প্রেক্ষিতে আমরা আজ উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপাচার্য পর্যন্ত আসছি। আশা করি তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন এবং এই সমস্যা সমাধান করবেন।"
তিনি আরও বলেন, ''আমাদের দাবি আদায় যদি না হয়, তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামবো। আমাদের দাবি না আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না।"
এসময় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, "শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিশৃঙ্খলার জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত আমি সেগুলো নিচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, "তোমাদের দাবিগুলোর সাথে আমার মতের কোন বিরোধ নেই। কিন্তু আমি দেখতেছি হল প্রশাসন কোন দায়িত্ব না নিয়ে সব সময় প্রশাসনের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছে। সেখানে তারা যদি প্রাথমিক সমস্যাগুলো চিহ্নত করতে পারত তাহলে সেটা ভালো হতো। আমি এ বিষয় নিয়ে তাদের সাথে বসবো।"
সিট বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট অনুযায়ী যারা এগিয়ে থাকবে তাদেরকে সিট বরাদ্দ দিব, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট হওয়ার আগে যদি সিট বরাদ্দের পর্যায় আসে তাহলে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট অনুযায়ী সিট বরাদ্দ দিব।"
অপ্রতিমের হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম
কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচার চাই, বিচার চাই—অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই মরলো কেন—প্রশাসন জবাব দে’, ‘নাহিদা ম্যাম কাঁদছে কেন—প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী অঞ্জন রায় বলেন, ‘এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে, অথচ পুলিশ প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ঘটনাস্থলে এমপি চলে আসেন, কিন্তু পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত হতে পারে না। এটা খুবই লজ্জাজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি। ১২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিকে গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা কোটবাড়ি বিশ্বরোড অবরোধ করব। এরপরও ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সারা বাংলাদেশ ব্লকেড করে দেব।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কিশোর অপ্রতিম। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি করেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নবীনবরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে দলীয় কার্যালয়ে গেছেন জবি ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে জবি ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে দলীয় কার্যালয়ে যান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সুমন সরদারও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নোটিশের জবাব দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, “সংগঠন ও দলের প্রতি আমার আনুগত্য, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকেই সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। দলের আদর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সিনিয়র নেতাদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখেই নোটিশের জবাব দিয়েছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আমি সতর্ক ও দায়বদ্ধ থাকব।”
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুহাম্মদ রাশেদ কাজী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুহাম্মদ রাশেদ কাজীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রশাসনিক কাজে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বক্তব্য নেওয়া কিংবা কোনো প্রশাসনিক বিষয়ে যোগাযোগের জন্য অনেক সময় পিএসের মাধ্যমে সময় নিতে হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত সাক্ষাৎ বা বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় না। কয়েকজনের অভিযোগ, সময় চাইলে কয়েক দিন পরের সিডিউল দেওয়া হলেও দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কিছু শিক্ষার্থী অপেক্ষা ছাড়াই উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জবি ক্যাম্পাস সাংবাদিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে দ্রুত উপাচার্যের বক্তব্য প্রয়োজন হলেও অনেক সময় পিএসের মাধ্যমে সময় নিতে গিয়ে বিলম্ব হয়। এতে সময়মতো সংবাদ প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সাংবাদিকের অভিযোগ করেন, উপাচার্যের বক্তব্য বা সাক্ষাৎকারের জন্য সিডিউল চাইলে অনেক সময় পাঁচ থেকে সাত দিন পরের সময় দেওয়া হয়। এমনকি নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করেও সাক্ষাৎ না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুধু সাংবাদিক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সামাজিক সংগঠনের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের একটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। সময় চাইলে কয়েক দিন পরের সিডিউল দেওয়া হয়। অথচ আমাদের পরে এসেও কয়েকজন ছাত্রনেতা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মাদারীপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনকে বন্ধু পরিচয় দেন সবার কাছে।
উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি নিতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিরাও অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর হল সংসদের সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভিসির সাক্ষাতের সময়সূচি নিতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিদের অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের মুখে পড়তে হচ্ছে। অথচ দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কেউ গেলে অপেক্ষা ছাড়াই সাক্ষাতের সুযোগ পান এমন অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, এর আগেও পিএসের আচরণ নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে সবার সঙ্গে সমান ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ফাতেমা তুজ জোহারার ওই পোস্টের মন্তব্যে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিহাদ অভিযোগ করেন, বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সংকট ও সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও পিএসের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি।
তিনি আরো দাবি করেন, বিভাগের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে আসার কথা বলার পর সিডিউলের জন্য আবেদন রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ ও সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা তৈরি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে। তাঁদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যোগাযোগ সহজ, স্বাভাবিক ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্যের পিএস মুহাম্মদ রাশেদ কাজী বলেন, 'এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। অভিযোগর বিষয়ে আমি একটি কথাও বলতে চাই না।'
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনার কাছ থেকেই মাত্র শুনলাম। এখন বিষয়টি আমার নলেজে এসেছে। আমি বিষয়টি দেখব।’
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের একাংশ’ শিরোনামে ছয় কবি-সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তার অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি নয়—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ছবিগুলো সরিয়ে নতুন ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে সংগ্রহশালার একটি ফ্রেমে পল্লিকবি জসীমউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, কবি আসাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজল ও ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হকের নামের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই ছয়জনের মধ্যে জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক ও আসাদ চৌধুরীর নামে ব্যবহৃত ছবিগুলো তাঁদের নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। আবুল ফজলের নামের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবিটিও তাঁর নয় বলে মনে করেন তিনি। শুধু মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটির সঙ্গে তাঁর চেহারার কিছুটা মিল পাওয়া গেছে।
অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, ‘জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক ও আসাদ চৌধুরীর নামের ওপরে যেসব ছবি আছে, সেগুলো মোটেও এসব ব্যক্তির নয়। আবুল ফজলের ছবিটিও তাঁর হওয়ার কথা নয়। শ্মশ্রুমণ্ডিত ভিন্ন আবুল ফজলই আমাদের কাছে পরিচিত। একমাত্র মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটি খানিকটা তাঁর চেহারার সঙ্গে যায়।’
ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক তারিক মনজুর। একই সঙ্গে ছয় সাহিত্যিকের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তারিক মনজুর বলেন, ‘খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের একাংশ’ শিরোনামে যে তালিকা করা হয়েছে, সেটি অসম্পূর্ণ। খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের তালিকা এত বড় যে বাস্তবে সবাইকে এক দেয়ালে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট কয়েকজনের ছবি টাঙানো সমীচীন হয়নি।
তবে ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। নকশার সময় ছবির মান বাড়াতে গিয়ে কয়েকটি ছবির চেহারা বদলে যায়। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন–বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম ঝুমা বলেন, ডিজাইনারকে ছবি দেওয়ার পর মান বাড়ানোর সময় দু-তিনটি ছবির চেহারা এক রকম হয়ে যায়।
এআই দিয়ে ছবি তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা জানতে চাইলে ফাতিমা তাসনিম বলেন, ‘এআই দিয়ে বানানো নয়। সবার ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া। সে ক্ষেত্রে ছবিগুলোর কোয়ালিটি এনহ্যান্স করতে গিয়ে হয়েছে।’
ফাতিমা তাসনিম আরও বলেন, অনেকগুলো ছবি একসঙ্গে থাকায় বিষয়টি প্রথমে তাঁদের নজরে আসেনি। পরে তিনি বিষয়টি দেখে ডিজাইনারকে জানান। এরপর নতুন ছবি পাঠানো হলে গতকাল তা প্রিন্ট করে সংগ্রহশালায় আগের ছবি পরিবর্তন করে এই ছবি লাগানো হয়েছে।
সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর ১৩ সেপ্টেম্বর আবার চালু করা হয়। সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগের কয়েকটি ছবি বাদ পড়েছে। যুক্ত হয়েছে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আব্দুল মালেকের ছবিও রাখা হয়েছে।
পরে ১৪ সেপ্টেম্বর সংগ্রহশালায় সাঁটানো মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান একজন শিক্ষার্থী।
এদিকে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত (পরে প্রয়াত) গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সংগ্রহশালায় টাঙিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা।
ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টাঙানোর ঘটনাটি তদন্তে ১৪ সেপ্টেম্বরই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে।