ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা
যুদ্ধ বন্ধ ও বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি করতে ইরানের সঙ্গে এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস এমনটাই মনে করছে।
দুজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ইরানের জবাব আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
তবে সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর দুই পক্ষ এবারই চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আটকে থাকা কয়েক শ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে। এ ছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা সব বিধিনিষেধ তুলে নেবে।
এ সমঝোতা স্মারকের অনেক শর্তই চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করছে। ফলে আবারও যুদ্ধ শুরু বা দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরির আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্মুখযুদ্ধ থামলেও শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান না-ও হতে পারে।
হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কয়েক ভাগে বিভক্ত। তাই দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা কঠিন হতে পারে। এমনকি প্রাথমিকভাবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে কি না, তা নিয়ে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এর আগে বিভিন্ন আলোচনা ও বর্তমান যুদ্ধ চলাকালেও মার্কিন কর্মকর্তারা একাধিকবার চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিই আলোর মুখ দেখেনি।
তবে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানের ঘোষণা থেকে সরে এসেছেন। মূলত আলোচনায় অগ্রগতির কারণেই তিনি এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নেপথ্যের খবর হলো, এক পৃষ্ঠার এই ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক নিয়ে এখন দর-কষাকষি চলছে। ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সমঝোতা স্মারকের বর্তমান খসড়া অনুযায়ী, এই অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করা হবে। এরপর শুরু হবে ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনা। এ সময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চূড়ান্ত ও বিস্তারিত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।
দুটি সূত্রের দেওয়া তথ্য বলছে, এই আলোচনা ইসলামাবাদ অথবা জেনেভায় হতে পারে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওই ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দেওয়া বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন বাহিনী আবার অবরোধ আরোপ করতে পারবে, অথবা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার মেয়াদ নিয়ে এখন মূল দর-কষাকষি চলছে। তিনটি সূত্র বলছে, এই মেয়াদ হবে অন্তত ১২ বছর। তবে একটি সূত্র জানায়, এটি ১৫ বছর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের দাবিতে অটল ছিল।
সূত্রটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে এমন একটি শর্ত যুক্ত করতে চায়, যাতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের নিয়ম ভাঙলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বেড়ে যাবে। আর এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত নিম্ন মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।
সমঝোতা স্মারকে ইরান অঙ্গীকার করবে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এ সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডেও জড়াবে না তারা।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান যেন কোনো ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা না করে, এমন একটি ধারা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করছে।
ওই কর্মকর্তার মতে, ইরান কঠোর তদারকি ব্যবস্থার আওতায় থাকতেও রাজি হবে। ফলে জাতিসংঘের পরিদর্শকেরা যেকোনো সময় ইরানি স্থাপনায় আকস্মিক পরিদর্শন (স্ন্যাপ ইন্সপেকশন) করতে পারবেন।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের শত শত কোটি ডলার অর্থ পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেবে ওয়াশিংটন।
সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র দাবি করেছে, ইরান তাদের কাছে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে রাজি হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। তবে তেহরান এত দিন সেটা মানতে চায়নি।
একটি সূত্রের দাবি, এসব তেজস্ক্রিয় পদার্থ যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মঙ্গলবার বলেন, ‘আমাদের এক দিনেই মূল চুক্তিটি লিখে ফেলতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।’
রুবিও আরও বলেন, ‘পুরো বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও কৌশলগত। তবে আমাদের এমন একটি কূটনৈতিক সমাধান দরকার, যেখানে আলোচনার বিষয়গুলো স্পষ্ট থাকবে। চুক্তিটি ফলপ্রসূ করতে হলে শুরুতেই তারা কতটা ছাড় দিতে রাজি, তাও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।’
তবে রুবিও ইরানের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনকে ‘উন্মাদ’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁরা শেষ পর্যন্ত আদৌ কোনো চুক্তিতে আসবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নবজাতকদের ২২ ক্যারেটের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার প্রকল্প চালু করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। সোমবার(২৮ সেপ্টেম্বর) মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
‘থাইমামান থাঙ্গা মোথাইরাম থিত্তাম’ বা ‘মাতুলের সোনার আংটি প্রকল্প’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের একটি করে সোনার আংটি দেওয়া হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তামিলনাড়ু সরকার ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বরাদ্দ দিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকজন নবজাতককে কোলে নিয়ে তাদের হাতে সোনার আংটি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। রাজ্য সরকারের ভাষ্য, নবজাতকদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানানো এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি মাতৃত্বের মর্যাদা রক্ষা, নারীদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে মানুষকে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও বাড়বে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি সংগ্রহ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ২২ জুন বা তার পরে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুরা এ সুবিধা পাবে। তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা যেসব মা গর্ভাবস্থায় পিকমি পোর্টালে নিবন্ধন করে আরসিএইচ আইডি পেয়েছেন, তাদের সন্তানদের এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
রাজ্যের মন্ত্রী অরুণ রাজ বলেন, মামা ও ভাগনে-ভাগনির সম্পর্ক ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। এ সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানাতেই সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের সোনার আংটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুর জন্মের পর মামা যেমন তার বোন ও নবজাতকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন, এই আংটিও তেমন ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রকল্পের সূচনা মাদুরাই থেকে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শহরটির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বিবেচনায়। প্রতিটি আংটিতে আলাদা সিরিয়াল নম্বর থাকবে এবং নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্যাকেটে করে তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
২২ জুন থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য জমে থাকা আংটি বিতরণে রাজ্যজুড়ে ১০৭টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০০ জন শিশুকে আংটি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময়ই আংটি দেওয়া হবে।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সোনার আংটি কেনার জন্য তামিলনাড়ু মেডিকেল সার্ভিসেস কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের বক্তব্য, সংস্থাটির মূল দায়িত্ব ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটা করা। ফলে সোনার আংটি কেনার ক্ষেত্রে এ সংস্থাকে ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান
গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবি সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবি গিয়ে নেতানিয়াহু সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন বলেও জানা গেছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, এমন সময় নেতানিয়াহুর এই গোপন সফরের খবর সামনে এলো যখন হামাসের হামলার আগে পাওয়া কথিত গোয়েন্দা সতর্কবার্তা নিয়ে তাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক চলছে। যদিও এই সফরের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আবুধাবি যান নেতানিয়াহু। সেখানে শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকের পর দিনের বাকিটা সময় আবুধাবিতে অবস্থান করেন তিনি।
অন্যদিকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় তার এই সফরের কথা প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে এমন সময় তিনি আবুধাবি সফর করলেন যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার আগে নেতানিয়াহু কথিত গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর বিতর্ক চলছে।
এর আগে গত শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, হামাসের ওই হামলার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে একটি গোপন সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে তিনি সেটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানাননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যে ব্যক্তিগত বিমানটিতে আবুধাবি গিয়েছিলেন, সেটির মালিকানা এক ইসরায়েলি ব্যবসায়ীর। নাম প্রকাশ না করা ওই ব্যবসায়ীর বিমানটি ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে ব্যবহার করেন।
সম্প্রচারমাধ্যমটি জানায়, বিকেলে বিমানটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায় এবং স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে আবুধাবিতে অবতরণ করে। চার ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিমানটি ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং রাত ১০টার কিছু পর সেখানে পৌঁছায়।
কান আরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালেও আবুধাবি সফরে একই বিমান ব্যবহার করেছিলেন নেতানিয়াহু।
আবুধাবিভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য ন্যাশনাল এক আমিরাতি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আমিরাত সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে আলোচনা করে। এসব আলোচনা সরাসরি দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হয় না।
২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। ২০২৪ সালে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার আগ্রাসনে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ যুদ্ধে গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ১০০ বছর। তার ছেলে মোখজানি মাহাথির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মাহাথির মোহাম্মদ ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
এক্স-এ এক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মরহুম তুন ডক্টর সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। জাতি তাঁকে একজন মাতৃসুলভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ও তাঁর অবদানকে চিরকাল স্মরণ করবে।
আনোয়ার আরও বলেন, সিতি হাসমাহকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালে সেলাঙ্গরের ক্লাং-এ জন্মগ্রহণকারী সিতি হাসমাহ ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রথম দিকের নারী চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অফ মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে কাজ করেন।
তিনি ১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতি চলতি বছরের আগস্ট মাসে তাঁদের ৭০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছেন।
মাহাথির ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এবং পুনরায় ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বাড়ছে। যুদ্ধ ফের শুরু হলে তার জন্য তেহরান ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ইরানের দেয়া সাত দিনের রোডম্যাপ যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করার পর এমন মন্তব্য করলেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু হলে তার দেশ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা কমাতে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছিল তেহরান। তবে ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ যুদ্ধে জয়ী হবে।
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানের একটি দাবিকে কেন্দ্র করেও। তেহরান দাবি করেছে, তারা প্রণালীতে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন পানির নিচের ড্রোন জব্দ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ ও ‘সন্ত্রাসবাদী’ কর্মকাণ্ডের সন্দেহে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনা হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন (পানির নিচের ড্রোন) জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স।
আইআরজিসির দাবি, জব্দ করা আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি একটি উন্নত প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় সাবমার্সিবল, যার নাম ‘রেমাস ৬০০’। বর্তমানে এটি আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের হেফাজতে রয়েছে এবং এর ভেতরে থাকা তথ্য উদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
ফার্স নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির একটি বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোনটি জব্দ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি জটিল ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সদস্যরা মার্কিন বাহিনীর উন্নতমানের ওই ড্রোন জব্দ করতে সক্ষম হন।
আইআরজিসি ড্রোনটিকে ‘মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেছে।
কীভাবে ড্রোনটি জব্দ করা হলো?
ইরানের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছিল। আইআরজিসির নৌবাহিনী গোয়েন্দা তথ্য ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা ব্যবহার করে সেটির গতিবিধি শনাক্ত করে। এরপর একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছে ইরান।
তবে ড্রোনটি ঠিক কোথায়, কখন এবং কীভাবে জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইআরজিসি বিস্তারিত কোনও তথ্য দেয়নি। একইভাবে ড্রোনটির সঙ্গে কোনও মার্কিন সামরিক সদস্য বা অন্য কোনও যান জড়িত ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
‘রেমাস ৬০০’ কী?
ইরানের দাবি করা ড্রোনটি ‘রেমাস ৬০০’ নামে পরিচিত একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন। এ ধরনের যান সাধারণত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রতলের জরিপ, নজরদারি ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক গবেষণায় ব্যবহৃত হতে পারে।
এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন চালানোর জন্য সরাসরি কোনও মানবচালকের প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট রুট ও মিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো পানির নিচে চলাচল করতে পারে এবং বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।
ইরানের দাবি সত্য হলে, ড্রোনটি জব্দ করা তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এর ভেতরে থাকা তথ্য, সেন্সর, যোগাযোগব্যবস্থা এবং মিশনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে ইরান।
হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েন রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার বিষয়টিকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের ইরানি দাবি দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক ও গোয়েন্দা উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেও একটি মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের দাবি করে আইআরজিসি। পরে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে জানায়, সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নেই
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমে আইআরজিসির এই দাবি প্রকাশ করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ফলে ইরান যে ড্রোনটি জব্দ করেছে বলে দাবি করছে, সেটি সত্যিই মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ‘রেমাস ৬০০’ কি না এবং সেটি কোনও গোয়েন্দা মিশনে নিয়োজিত ছিল কি না- তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে ড্রোনটি বর্তমানে আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এর মাধ্যমে ড্রোনটির সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরীক্ষা করার সুযোগও তেহরান পেতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যে এমন একটি ঘটনা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ
বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনো রূপান্তর নয়, বরং ভাঙন চলছে বলে মনে করেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বড় শক্তিগুলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেকে সরে গিয়ে ক্রমেই অন্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার আনিতা আনন্দ জাতিসংঘে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার গতিপথ বদলে গেছে। অর্থনৈতিক সংযুক্তি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের অন্যতম ভিত্তি হলো জাতিসংঘ সনদ। কিন্তু সেটিও এখন উপেক্ষিত।
এমন অবস্থায় কানাডার পরিকল্পনা তুলে ধরেন আনন্দ। তিনি বলেন, তাঁর দেশ আরও বেশি ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ অর্জনের পথে এগোবে। একক অংশীদারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও নতুনদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে।
অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কানাডা ছোট রাষ্ট্র, মধ্যম শক্তি ও বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক জোট গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কাজও অব্যাহত রাখবে।
আনন্দ বলেন, ‘কেউ কেউ সম্পর্কের মাঝে আরও উঁচু দেয়াল তুলতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা থেকে সরে যেতে চাইছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বই সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার পথ।’
পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের বিষয়ে আনন্দ ইউক্রেন ও ন্যাটোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আর্কটিক অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানান।
তিনি বলেন, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কানাডার উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। দিল্লি ও বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা হবে।
কানাডা উপসাগরীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকায় নতুন সুযোগ খুঁজছে। আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আনন্দ বলেন, তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয়পক্ষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি অটোয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে।