মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের লোগো।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ আরও ২৫ দেশের ভ্রমণকারীদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত (বন্ড) জমা দিতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তালিকায় মূলত আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এ তালিকায় মোট ৩৮টি দেশ ছিল।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে এ নীতি আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর জারি করা পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তি যদি বি১/বি২ ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করতে তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় এই বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে।
আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পে.গভ (Pay.gov)–এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তে সম্মতি জানাতে হবে।
এ নীতি পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। তখন কয়েকটি দেশকে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো:
আলজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬); অ্যাঙ্গোলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); বাংলাদেশ (২১ জানুয়ারি ২০২৬); বেনিন (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভুটান (১ জানুয়ারি ২০২৬); বতসোয়ানা (১ জানুয়ারি ২০২৬); বুরুন্ডি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); কাবো ভার্দে (২১ জানুয়ারি ২০২৬); মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (১ জানুয়ারি ২০২৬); কোট দিভোয়ার (২১ জানুয়ারি ২০২৬); কিউবা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); জিবুতি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ডোমিনিকা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ফিজি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); গ্যাবন (২১ জানুয়ারি ২০২৬); গাম্বিয়া (১১ অক্টোবর ২০২৫); গিনি (১ জানুয়ারি ২০২৬); গিনি-বিসাউ (১ জানুয়ারি ২০২৬); কিরগিজস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬); মালাউই (২০ আগস্ট ২০২৫); মৌরিতানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫); নামিবিয়া (১ জানুয়ারি ২০২৬); নেপাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬); নাইজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬); সাও টোমে ও প্রিন্সিপে (২৩ অক্টোবর ২০২৫); সেনেগাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তাজিকিস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তানজানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫); টোগো (২১ জানুয়ারি ২০২৬); টোঙ্গা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তুর্কমেনিস্তান (১ জানুয়ারি ২০২৬); টুভালু (২১ জানুয়ারি ২০২৬); উগান্ডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভানুয়াতু (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভেনেজুয়েলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); জাম্বিয়া (২০ আগস্ট ২০২৫); জিম্বাবুয়ে (২১ জানুয়ারি ২০২৬)।
হরমুজ প্রণালি টহল দিচ্ছে আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্যরা। ছবি : গেটি ইমেজেস
জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না বলে জানিয়েছে ইরান। রোববার (০৪ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা বলেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট ও দৃঢ়। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নির্ধারিত আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে বলা হয়, নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব। গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওই প্রস্তাবের জবাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটনকে বুঝতে হবে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে।
রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের বিষয়ে ইরান তার মৌলিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কিছু বিষয় জানানো বাকি রয়েছে।
বাঘাই বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যুসহ বেশির ভাগ বিষয়ে আমেরিকানদের প্রস্তাব আগের অবস্থানের কাছাকাছি। আমরা তাদের জানিয়েছি, এই পর্যায়ে আমাদের মূল মনোযোগ হরমুজ প্রণালির ওপর। এই নৌপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।’
ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থার পরিদর্শনের বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে; এমন খবরও নাকচ করেছেন বাঘাই। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা শুরু করেনি তেহরান।
আলোচনার বিষয়ে অবহিত এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, প্রচারিত নথিতে সাত দিনের আস্থাবর্ধক একটি প্রক্রিয়ার কথা রয়েছে। এর লক্ষ্য জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারকের আরও বিস্তৃত সংস্করণে দুই দেশকে ফিরিয়ে আনা। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপও রয়েছে। তবে পরিকল্পনার বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, কোন পদক্ষেপ আগে বাস্তবায়িত হবে এ নিয়েই মূল মতবিরোধ রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
সূত্র : রয়টার্স
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসানে সামরিক কোনো সমাধান নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও এই যুদ্ধ তারা থামাতে পারবে না। খবর আইআরএনএর।
রোববার (০৪ অক্টোবর) তেহরানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি বলেন, তেহরান আশা করে ওয়াশিংটন কূটনীতির পথ বেছে নেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। মনে রাখতে হবে, কোনো সামরিক আগ্রাসনে এই যুদ্ধ থামবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এই যুদ্ধ থামাতেও পারবে না।
তিনি বলেন, শুধু আলোচনা, ন্যায়বিচার ও কূটনৈতিক মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সমাধানই বর্তমান পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে এবং এই যুদ্ধ ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে চালানো বেআইনি আগ্রাসন বন্ধে চূড়ান্ত সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করলে ইরান আরও ব্যাপক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে রোববার ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে।
যুদ্ধের অবসানে গত ১৮ জুন একটি কাঠামোগত চুক্তি হওয়ার পর থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করা, যেখানে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি; দুই বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
ইতালি। ছবি : সংগৃহীত
বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিসরে শ্রমবাজার খুলছে ইতালি। দেশটির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়া হবে। এর মধ্যে মৌসুমি, অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত-তিন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে।
ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি চাকরিতে, ৮৯ হাজার জনকে কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজে এবং ৬৫০ জনকে স্বনিয়োজিত কাজের জন্য নেওয়া হবে। পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য অমৌসুমি কোটার মধ্যে ১৪ হাজার স্থান রাখা হয়েছে।
এই কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশও যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ইতালির সরকারি তালিকায় বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল-সংলগ্ন বিভিন্ন শ্রমবাজারের দেশ এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে।
২০২৭ সালের কোটার জন্য আবেদনপত্র প্রাক-পূরণ বা ‘প্রিকম্পাইলেশন’ শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Portale Servizi ALI প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।
তবে সাধারণভাবে বিদেশি কর্মী নিজে সরাসরি এই কোটার আবেদন করেন না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য চাকরির অনুমোদন বা nulla osta চেয়ে আবেদন করেন। এরপর অনুমোদন পেলে কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
২০২৭ সালের ‘ক্লিক ডে’ নির্ধারণ করা হয়েছে খাতভেদে আলাদা দিনে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন জমা শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতে ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আবেদন শুরু হবে ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। কোটা অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়া যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত।
ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮- এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেবল বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন এগোয়। তাই চাকরি বা ভিসার নামে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তা এবং nulla osta–র সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
ভারতীয় নৌসেনা। প্রতীকী ছবি
পাকিস্তানি এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার কাছে নৌবাহিনীর গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতের ৩১ বছর বয়সী এক নৌসেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হানিট্র্যাপের’ মাধ্যমে তাকে ফাঁদে ফেলে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
গ্রেপ্তার হওয়া নৌসেনা সদস্যের নাম প্রদীপ মুখার্জি। ৩ অক্টোবর তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে ভারতীয় নৌবাহিনীর নেতৃত্ব প্রশিক্ষণকেন্দ্র আইএনএস অগ্রাণী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই) সেল।
পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মুখার্জি গ্রেপ্তারের সময় কোয়েম্বাটোরের ওই কেন্দ্রে ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেখানে অবস্থান করছিলেন তিনি।
২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন মুখার্জি। পরে তাকে বিশাখাপত্তনমভিত্তিক ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, কয়েক মাস আগে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক নারী সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাদের মধ্যে অনলাইন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কৌশলগত নৌসম্পদ, নৌবহরের গতিবিধি এবং বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির কার্যক্রমসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
সীমান্তপারের গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট হুমকি তদন্তে বিশেষায়িত সিআই সেল ওই নৌসেনা সদস্যের সন্দেহজনক ডিজিটাল কার্যক্রম শনাক্ত করার পর তদন্ত শুরু করে। পরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার করা হয় মুখার্জিকে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
সাপ্তাহিক সাময়িকী আল বায়ানে আল কায়দার হুমকি ও ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট হামাম আল হামামি। ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
দুবাইগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলাচেষ্টার প্রশংসা করে মার্কিন ও ইসরায়েলি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ৯/১১-এর অনুকরণে হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা। সংগঠনটির সমর্থকদের প্রকাশিত সাপ্তাহিক সাময়িকী আল বায়ানের সর্বশেষ সংখ্যায় এই প্রাণঘাতী হুমকির তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সাময়িকীটির আরবি ভাষার নিবন্ধে বলা হয়েছে, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। ইসরায়েলি, আমেরিকান ও তার মিত্রদের বহনকারী বিমানগুলো আকাশে উড়ছে। সেগুলোকে ১১ ও ৩০ সেপ্টেম্বরের মতো লক্ষ্যবস্তু বানানো সম্ভব। এতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, আমেরিকা ও ইসরায়েলের শত্রু সংখ্যা এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
ঘটনার সূত্রপাত ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের ককপিট দখলের চেষ্টার মধ্য দিয়ে। ওই ফ্লাইটের অভিযুক্ত ওমানি কো-পাইলট হামাম আল হামামিকে আটকের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতে একাধিক পোস্ট দেখা যায়।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ভিডিওতে ককপিটের ভেতরের দৃশ্য ফুটে ওঠে, যেখানে পাশে থাকা একটি ইসরায়েলি বিমানের ওপর ক্যামেরা জুম করা হচ্ছিল। এরপরই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে আল কায়দার প্রয়াত শীর্ষ নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি এবং ২০০৯ সালে সিআইএ কর্মকর্তাদের ওপর আত্মঘাতী হামলা চালানো হুমাম খলিল আল বালাউইর ছবি। এ ছাড়া তার অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের সংযোগকারী একটি ছবিও পোস্ট করা হয়।
অভিযুক্ত পাইলট পুলিশ হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই পোস্টগুলো প্রকাশিত হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পোস্টগুলো আগে থেকে সিডিউল করা ছিল নাকি অন্য কেউ পোস্টগুলো করেছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ইতোমধ্যে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে নতুন করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
সূত্র : নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে আইনজীবীদের আবেদন হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি আইনজীবীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজের যোগ্যতা অর্জনের জন্য বিদেশি আইনজীবীদের নতুন আবেদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট দীর্ঘ জট কমানো এবং প্রকৃতপক্ষে ব্রিটেনে আইন পেশায় কাজ করতে চান—এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার পেশা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (বিএসবি) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জমে থাকা আবেদনের চাপ কমাতে ‘ট্রান্সফারিং কোয়ালিফায়েড ল’ইয়ার’ (টিকিউএল) কর্মসূচির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
এর ফলে বিদেশি আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের জন্য নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না। তবে ব্রিটেনের অনুমোদিত কোনো ব্যারিস্টার চেম্বারে কাজের প্রস্তাব পেয়ে থাকলে তারা এর আওতামুক্ত থাকবেন। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আইনজীবীদের কাছ থেকে আবেদনের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পর এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বর্তমানে টিকিউএল কর্মসূচিতে জমা পড়া মোট আবেদনের অর্ধেকের বেশি আসছে এই তিন দেশ থেকে। মূলত টিকিউএল এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অন্য দেশের যোগ্য আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে নতুন করে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পান।
দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, গত তিন বছরে টিকিউএল কর্মসূচিতে আবেদনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১-২২ সালে যেখানে ৩২৫টি আবেদন জমা পড়েছিল, ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৪টিতে। এর ফলে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব বেড়েছে।
বিএসবি জানিয়েছে, বিদেশি প্রার্থীরা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি বা চ্যালেঞ্জ জানানোর সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় এই জট আরও বেড়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে টিকিউএলে আবেদনকারীদের অনেকেরই ব্রিটেনে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করার প্রকৃত ইচ্ছা নেই। তাদের অনেকে অন্য দেশেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএসবির মহাপরিচালক ফিল গোল্ডিং বলেন, ‘আমাদের প্রক্রিয়া ও নিয়মে পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে এই ব্যবস্থা তাদের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেয় যারা এই এখতিয়ারের মধ্যে আইন পেশায় কাজ করবেন। একই সঙ্গে এটি বর্তমানে জমে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদন কমাতেও সহায়তা করবে।’
ব্রিটিশ আইনের বিভিন্ন পরীক্ষায় বিদেশি প্রার্থীদের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যেই এই পরিবর্তন আনা হলো। এমনকি কেউ কেউ নিজেদের হয়ে পরীক্ষা দেয়ার জন্য ব্যারিস্টারদের অর্থ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে ‘অনিয়মের’ অভিযোগে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রার্থীদের অনলাইনে পরীক্ষা দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ব্রিটেনের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এরপর পরীক্ষায় প্রতারণার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে পরের বছর সব অনলাইন পরীক্ষা স্থগিত করে বিএসবি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন বিদেশি সব প্রার্থীকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত পরীক্ষাকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।
ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে, বিশেষ করে যারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় কাজ করেন না, তাদের আবেদন কেন এত বেড়েছে—তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে বিএসবি।
তবে কিছু আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে দুটি দেশের আইনি যোগ্যতা অর্জনের সুযোগকে আইনজীবীদের জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে প্রচার করছে। ফলে তারা নিজ দেশেই আইন পেশায় কাজ করলেও যুক্তরাজ্যের যোগ্যতা অর্জনে আগ্রহী হচ্ছেন।
এছাড়া ব্রিটিশ চেম্বারে প্রশিক্ষণকালীন পদ বা চাকরি পাওয়া বিদেশি ব্যারিস্টারদের জন্য ভিসার ব্যবস্থাও করে থাকে বার কাউন্সিল।