রাজধানী ঢাকায় আজ সকাল থেকেই ঘন কুয়াশা পড়েছে।
রাজধানী ঢাকায় গত দুই দিনে কুয়াশার পরিমাণ অনেকটাই কমে গিয়েছিল। দেখা গিয়েছিল রোদের মুখ। কিন্তু আজ শুক্রবার সকাল থেকেই আবার কুয়াশায় ঢেকে গেছে রাজধানীর চারদিক।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রাজধানীসহ দেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় আজ এ অবস্থা।
আজ অবশ্য গতকালের চেয়ে শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি কমেছে। আজ দেশের সাত জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল ১৬ জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়।
টানা অন্তত চার দিন পর গত বুধবার রাজধানীতে রোদের মুখ দেখা যায়। দেশের অন্যত্রও কুয়াশা কমে যেতে শুরু করে। গতকাল শীতের স্বাভাবিক কুয়াশা থাকলেও রোদ ছিল প্রায় সকাল থেকেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা আজ সকালে বলেন, আজ রাজধানীসহ অন্তত দুই তৃতীয়াংশ এলাকায় কুয়াশা ছড়িয়ে আছে। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু অংশ ছাড়া দেশের অন্যত্র কুয়াশা আছে।
গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের প্রায় পুরোটা অংশ জুড়ে কুয়াশা ছিল। তা কেটেছিল গত বুধবার। কিন্তু দুই দিন কিছুটা কুয়াশামুক্ত থাকার পর আজ আবার হঠাৎ কেন এত কুয়াশা?
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, শীতের দিনে কুয়াশা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এত বেশি হওয়ার একটা কারণ হতে পারে এখন পশ্চিমা লঘুচাপের অনুপস্থিতি। সাধারণত প্রতি মাসে দুই বার এ লঘুচাপ আসে। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাস থেকে এর দেখা নেই। লঘুচাপ থাকলে বৃষ্টি হয়, তাতে কুয়াশা কমে। আবার সেই সঙ্গে বাতাসের গতিবেগ বাড়ে। তাতে কুয়াশা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পশ্চিমা লঘুচাপ না থাকা কিংবা বাতাসের গতিবেগ কম থাকার পাশাপাশি বায়ুদূষণও কুয়াশার একটি কারণ। বাতাসের অতিক্ষুদ্র ধূলিকণায় ভরে থাকা তাতে কুয়াশা ঘন অবস্থায় থাকে। এই দূষণেরও একটা কারণ আছে কুয়াশা থাকার পেছনে, এমন মত বজলুর রশীদের।
গতকাল সকালের মতো আজ সকাল থেকেই ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর। আজ সকালের দিকে বায়ুর মান ছিল ১৫৫। গতকাল সকালের দিকে ১৭৭ থাকলেও রাতের দিকে এ মান হয়েছিল ২৭৭। অর্থাৎ সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর বেড়েছে দূষণের পরিমাণ। এই দূষণের প্রধান উপাদান বাতাসের অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, ইতিমধ্যে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা কমে এসেছে। ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন অংশে আবার কুয়াশা আছে। বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে কুয়াশা কমে আসতে পারে।
রাজধানীতে দুপুরে পর রোদের মুখ দেখা পাওয়ার কিছুটা সম্ভাবনা আছে, জানান আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে (মর্যাদায়) বা কী হিসেবে সেখানে আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানে না, শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন। ফলে ভারতীয় আদালতের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়।’ আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে’ -এমন খবর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেনি, শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কিনা বা ঠিক কী স্ট্যাটাসে সেখানে অবস্থান করছেন।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘পলাতক শেখ হাসিনা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
এ সময় সাংবাদিকরা অতীতে ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিনি জানান, সালাহউদ্দিন আহমেদকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তাকে পাওয়া যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি খালাস পান।
ছবি : সংগৃহীত
এক নিম্নচাপের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের চার বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং এর কাছাকাছি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
এর আগে তিন দিন আগে সৃষ্ট নিম্নচাপটি স্থল নিম্নচাপ হিসেবে ভারতের ঝাড়খন্ডের দিকে সরে যায়। ওই নিম্নচাপের প্রভাবে বিশেষ করে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হয়। রাজধানীতেও গতকাল রোববার বিকেল থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি শুরু হয়। আজ সকালে ঢাকার আকাশ ছিল মেঘলা, কোথাও কোথাও ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও হয়েছে। পরে অবশ্য রোদের দেখা মেলে।
নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে আজ সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিকে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিকে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, চার বিভাগের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানীতেও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ভূমিকম্প
ঢাকা ও এর আশপাশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার ভোর ৫টা ৩২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে এ ভূকম্পন হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, মৃদু এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুরে, যা ঢাকা ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
গত ২১ নভেম্বরে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের কবলে পড়েছিল বাংলাদেশ, সেটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। ৫ দশমিক ৭ মাত্রার সেই ভূকম্পনে তিন জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয় ছয় শতাধিক মানুষ। ঢাকার বহু ভবনে ফাটল, কোথাও কোথাও হেলে পড়ার ঘটনা ঘটে।
পরদিন সকালে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়, সেটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ। তার রেশ না কাটতেই সেদিন সন্ধ্যায় সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প হয়, যার একটি উৎপত্তিস্থল ছিল সেই নরসিংদীতেই।
এরপর ২৭ নভেম্বর ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশাল। এরপর ৪ ডিসেম্বর হালকা মাত্রার ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। এটির উৎপত্তিস্থল নরসিংদীরই শিবপুরে।
এর বাইরেও সম্প্রতি একাধিক ভূমিকম্প হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল ঢাকা ও আশপাশ। বারবার ভূমিকম্পের পর এখনই করণীয় ঠিক করতে তাগিদ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সিলেট থেকে টেকনাফ (প্লেটে) পর্যন্ত ভূমিকম্পের শক্তি জমা হয়ে আছে।
“সেজন্য গত কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও সিলেট অঞ্চলে ছোটোখাটো ভূমিকম্প পাচ্ছি।”
এ ভূতত্ত্ববিদ বলেন, ভূমিকম্পের দুটো উৎসের মধ্যে একটি হলো ডাউকি ফল্ট (শেরপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও জৈন্তাপুর)। আরেকটা সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত (সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম)। এখানে ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের প্রভাব মোকাবেলায় তার বক্তব্য হলো, “আর্থ সামাজিক বাস্তবতায় অপরিকল্পিত ঢাকা মহানগরীকে পাল্টানো যাবে না; সেক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করাই অন্যতম উপায়।”
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকাসহ দেশের ১৩ জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তাই এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক (উপ-পরিচালকের পক্ষে) স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এছাড়াও এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন
শারীরিক তীব্র যন্ত্রণার কাছে থমকে গেছে চেনা জীবনের ছন্দ। বিগত দুদিন ধরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেই পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। ডান পায়ের পুরোনো রোগটি হঠাৎ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করায় এখন ব্যথার সাথে এক নিরন্তর লড়াই চলছে তার। চিকিৎসকের নির্দেশে টানা তিন সপ্তাহ চিকিৎসাকেন্দ্রিক এই কঠিন পথ পার করতে হবে তাকে।
শারীরিক কষ্টের মাঝে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত এখন শুধু আরোগ্য আর সুস্থতার প্রতীক্ষায়। সাবেক রাষ্ট্রপতির এক স্বজন কালবেলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
আজ রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের এক স্বজন কালবেলাকে বলেন, ‘তিনি দুদিন ধরে খুবই অসুস্থ। ডান পায়ের পুরোনো সমস্যা বেড়েছে। ইতোমধ্যে ইনজেকশন নিয়েছেন।’
ওই স্বজন আরও বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টানা ৩ সপ্তাহ তাকে এই ইনজেকশন নিতে হবে। এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না।’
অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখিয়েই বঙ্গভবন ছেড়েছিলেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গত ২৪ জুলাই বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠান মোঃ সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান স্পিকার।
একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কথাও ঘোষণা করেন। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন মোঃ সাহাবুদ্দিন।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের একদিন পর বঙ্গভবন ছাড়েন মোঃ সাহাবুদ্দিন। পরে রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় ওঠেন তিনি। বর্তমানে সেখানে অবস্থান করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে ‘চোখে চোখে’ নজরদারিতে রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে আমাদের তাদেরকে চোখে চোখে রাখতে হবে, অতীত বিবেচনা করেই ভবিষ্যতে তারা কী করছে সেদিকে আমাদেরকে নজর রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে আমাদের স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোন বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মত তাদেরকে সমুচিত জবাব দিতে হবে।’
আজ রোববার বিকেলে পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের মধ্যে সন্মানি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া অস্বচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক অনুদানের চেকও দেন তিনি। একজন প্রতিবন্ধীর হাতে তুলে দেন চাকুরির নিয়োগপত্র।
প্রধানমন্ত্রী অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটকালে কিছু গোষ্ঠীর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘এরা অতীতে কী করেছে তা বিবেচনায় নিয়ে এদের চোখে চোখে রাখতে হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলী এবং বিগত ১৭ বছরের জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে এদের কোনো ভূমিকা ছিল না।’
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর নেতাকর্মীরাই গুম, খুন, নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।
সাম্প্রতিক ‘সংস্কার’ সংক্রান্ত আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে অনুপস্থিত থেকে যারা আজ সংস্কারের নামে বড় বড় কথা বলছেন, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। বিএনপিই ২০২২ সালে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল। এরও আগে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে সংস্কারের প্রথম প্রস্তাবনা তৈরি হয়।’
জনকল্যাণমূলক অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন মিল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে পেছনে রেখে বা তাদর সঠিকভাবে তৈরি করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারা যাবে না। আমরা যত যতই বড় স্লোগান দেই না কেন, মানুষকে যদি আমরা আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি, দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে যদি আমরা অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে কখনোই আমরা দেশকে গড়ে তুলতে পারবো না।’
অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন এক বাংলাদেশ তৈরি করা হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি শ্রেণীর মানুষ রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা পাবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের পেছনে ফেলে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও ক্ষমতায়িত করতেই ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে। নারীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। সে লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।’
‘এছাড়া সেচ সুবিধা ও পানি সংকট দূরীকরণে আগামীতে দেশব্যাপী আড়াইশ কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’
শিক্ষাব্যবস্থা উন্নতকরনে ও তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- এবং ভাষার দক্ষতায় পারদর্শী করে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেধা ও প্রতিভাকে সঠিকভাবে বিকাশ ঘটাতে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।’
সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজের দিকনির্দেশক হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের আত্মনির্ভরশীল রাখতে বিশেষ সামাজিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি অসচ্ছল, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় বঞ্চনার শিকার ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের অবসর ভাতার জটিলতা নিরসন করে অর্থ প্রদান সম্পন্ন করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার।’
বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে এমন রাজনীতি করে, যে রাজনীতি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, শিক্ষায় সহায়তা দেয়, কৃষকের ফসল বাড়াতে ভূমিকা রাখে এবং কলকারখানা গড়ে তোলে- সেটিই বিএনপির রাজনীতি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এই উন্নয়ন যাত্রার প্রত্যক্ষ সাক্ষী দেশের সাধারণ মানুষ।
তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের জন্য কাজ করা, মানুষের জন্য কাজ করা। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারলেই একমাত্র দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে।’
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম, জালাল উদ্দীন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।