সালাহউদ্দিন আহমেদ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে তাঁর চেয়ারে বসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে নতুন আসনবিন্যাসে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে তাঁকে বসতে দেখা যায়।
এখন সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদের উপনেতা করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। উপনেতা কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন আসনবিন্যাসকে সরাসরি উপনেতা হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে তাঁকে বসানোকে ইঙ্গিতবহ মনে করছেন অনেকেই।
এত দিন সংসদ নেতা তারেক রহমানের পাশের আসনে বসতেন বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে তাঁর সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
আগের আসনবিন্যাসে ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রীর পরের আসনে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর পরের আসনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চতুর্থ আসনে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন বিন্যাসে মির্জা ফখরুল ইসলামের আসনে উঠে এসেছেন সালাহউদ্দিন। তাঁর পরের আসনে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে আসন পরিবর্তন হয়েছে অন্য নেতাদেরও।
সালাহউদ্দিনের আগের আসনে এখন বসছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারির ১০টি আসনের নতুন বিন্যাসে পেছনের সারি থেকে সামনে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য আমানউল্লাহ আমান।
সালাহউদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর রাজনৈতিক ও সরকারি অবস্থানের কারণেও। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। তা ছাড়া দলের সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে তাঁর নামও আলোচনায় রয়েছে।
সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই নেতাকে সংসদীয় কার্যক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার চিন্তা আছে কি না, সে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
সংসদের উপনেতা পদটি সংসদ নেতার সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সংসদ নেতার অনুপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় উপনেতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। অতীতেও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এ পদে রাখার নজির রয়েছে।
মির্জা ফখরুলের সংসদ ছাড়ার পর তাঁর আসনটি পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এটি কি কেবল নতুন আসনবিন্যাস, নাকি সংসদে তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি-সেটি স্পষ্ট হবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। এটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার এখতিয়ার।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের ছয় জেলায় দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
তাই এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ সময়ে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) প্রথম সাধারণ সভা সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত ২৯টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্তর্র্বতীকালীন সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
এছাড়া ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন। সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের উপস্থাপিত গঠনতন্ত্র কিছু সংশোধনীসহ অনুমোদন করেন।
শফিক রেহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় সম্পাদকরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও পেশাগত মানোন্নয়নে তাদের পরামর্শ তুলে ধরেন। সভায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলকে আমরা আরো বিস্তৃত করতে চাই। সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সম্পাদকরা যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন, সেজন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি প্রথম সভাতেই গণতান্ত্রিকভাবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যাত্রা শুরু করেছে।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে শত শত শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। এখন আমাদের আত্মসমালোচনার সময় এসেছে- কীভাবে সম্পাদকদের একটি অংশ চাটুকারিতার মাধ্যমে সরকারকে ফ্যাসিস্ট হতে সহায়তা করেছিল। যারা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিল, তাদের আবার সাংবাদিকতার বাতিঘর বানানো হয়েছিল। এখন আমাদের শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হবে।’
যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, ‘গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার নামে গণমাধ্যমে যা হয়েছে, তা ছিল ঘৃণার অযোগ্য। সংবাদমাধ্যম পচে-গলে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখন সেখান থেকে আমাদের উত্তরণের চেষ্টা করতে হচ্ছে। ‘প্রশ্ন নয়, প্রশংসা’র বদলে সত্যিকার অর্থে আমাদের এখন প্রশ্ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই উপমহাদেশে গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ধূমকেতুর মাধ্যমে তিনি প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন সফল সম্পাদক।’
তিনি এডিটরস কাউন্সিলকে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম পদক প্রদানের আহ্বান জানান। পরে সভায় সে প্রস্তাব গৃহীত হয়। এডিটরস কাউন্সিল প্রতিবছর সাংবাদিকতায় নজরুল পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর বলেন, ‘সাংবাদিকতার নামে গত ১৭ বছর যা হয়েছে, তা কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে। সাংবাদিকতাকে দলবাজিতে পরিণত করা হয়েছিল। নানা ধরনের সুবিধা ও প্রলোভন দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এনইসিকে কাজ করতে হবে।’
ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সম্পাদকদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম জরুরি ছিল। এনইসি যাতে সারা বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য কাজ করে যেতে হবে। এর মধ্য দিয়ে সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যাবে।’
সভাপতির বক্তব্যে শফিক রেহমান বলেন, ‘দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। গণতান্ত্রিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ সারা দেশের সম্পাদকদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে আরো মতামত দেন নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, দৈনিক নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানী, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, খবর সংযোগ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ভোরের ডাক সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, জনতা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীন, দ্য বাংলাদেশ পোস্ট সম্পাদক সদরুল হাসান, বাণিজ্য প্রতিদিন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, খোলা কাগজ সম্পাদক মনির হোসেন, রূপালী বাংলাদেশের সায়েম ফারুকী, ভোরের বাংলা সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ আরিফ, দি গ্লোবাল পোস্টের ড. মাহবুবুর রহমান, কর্ণফুলী সম্পাদক (চট্টগ্রাম) আফসার উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক লোকসমাজ (যশোর) সম্পাদক শান্তুনু ইসলাম, নতুন প্রভাতের (রাজশাহী) সম্পাদক সোহেল মাহবুব, দৈনিক নিউটাইমসের সম্পাদক (ময়মনসিংহ) সাইফুল ইসলাম, দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক (সিলেট) মুকতাবিস উন নুর, যুগের চিন্তার (নারায়ণগঞ্জ) সম্পাদক মোরছালীন বাবলা, দৈনিক প্রবাহ (খুলনা) সম্পাদক মো. আশরাফ এবং বাংলাদেশ বাণীর (বরিশাল) সম্পাদক আযাদ আলাউদ্দীন।
রুনা খান
‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। রুনা খানের সঙ্গে এবার আরও দুজন এ পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁরা হলেন সিঙ্গাপুরের টমি কোহ ও মিয়ানমারের বো চি। র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ভাষ্য- মানুষের সেবা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ তৈরি এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে নিতে সহায়তার মতো মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে এবারের বিজয়ীদের কাজে।
পুরস্কার পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান জানান, গভীর আনন্দ ও বিনয়ের সঙ্গে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো নেতা একা পথ চলেন না।’
এ স্বীকৃতি তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও ফ্রেন্ডশিপের কর্মীদের উৎসর্গ করেন। গত ২৫ বছর ধরে যারা তাদের কাজে আস্থা রেখেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তার ভাষায়, এই স্বীকৃতি একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্ব।
রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে।
ফ্রেন্ডশিপ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার কাজের শুরু বাংলাদেশের দুর্গম নদীবেষ্টিত অঞ্চল থেকে। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের মডেল তৈরিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
রুনা খান বাংলাদেশ থেকে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া ১৪তম ব্যক্তি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখসান্দ এ পুরস্কার পেয়েছিলেন। এর আগে ২০২১ সালে বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী, ২০১২ সালে পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ২০১০ সালে এ এইচ এম নোমান, ২০০৫ সালে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ২০০৪ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এ পুরস্কার পান।
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ম্যাগসাইসাই বিজয়ীদের মধ্যে আরও রয়েছেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
র্যামন ম্যাগসাইসাই ছিলেন ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ এক বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। একই বছর তার নামে র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। প্রতিবছর ৩১ আগস্ট ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে ম্যানিলা থেকে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার তার ১১৯তম জন্মবার্ষিকী।
২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ছয়টি শ্রেণিতে এই পুরস্কার দেওয়া হতো। এগুলো হলো সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব। ২০০৯ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মধ্যে পুরস্কারটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।
নবম পে স্কেল
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভা বৈঠকে পে স্কেলের প্রস্তাব উঠতে পারে। অনুমোদন মিললে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারের ভেতরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতিও রয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে এই কমিটি নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে।
কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে সচিব কমিটি মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশের মধ্যে রাখার সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী অর্থবছর থেকে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর করার ঘোষণা আগেই দেওয়া হলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।
নবম বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের জন্য নতুন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছে সরকার।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনপ্রশাসন-নিট খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বরাদ্দ বেড়েছে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই বাড়তি অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে।
বর্তমান অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। প্রায় ১১ বছর ধরে একই কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতনকাঠামোর দাবি জোরালো হয়।
গত ১১ জুন বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রিসভা এ প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ খুলবে। তবে চূড়ান্ত বেতনহার, ভাতা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।
সাগর-রুনি
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অন্য একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা তদন্ত পরিচালনা করতে গিয়ে ভিন্ন মামলার সিডিআর পর্যালোচনায় হঠাৎ করেই সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনা নিয়ে সাবেক মেজর মোজাফফর হোসেনের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। এরকমই সাগর-রুনির ব্যাপারেও ক্লু পেয়েছি। তবে এর নাম পরিচয় এখনই প্রকাশ করতে পারছি না।’
'তবে এটুকু বলতে পারি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তার সাথে সাগর-রুনির এই ঘটনার সাথে কানেকশন পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো যাচাই বাচাই করে দেখছি। তার ওপর আমাদের নজরদারি রয়েছে। আরও তদন্ত হওয়ার পরে আরও অথেনটিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করা হবে।’
তিনি বলেন, এটা একটা ইনডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস। এই মামলাটি সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি খুন হন। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান আটজনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ডিবি, র্যাবের হাত ঘুরে বর্তমানে মামলাটি তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২৭ আগষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ফের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য় করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স। এটি মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বাণী পোস্ট করা হয়েছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দিবসে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানান। বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ হচ্ছে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। বিশেষ করে বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয়, নির্মম ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।
বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত, পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক–রাজনৈতিক অধিকার দমন করার জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল বলে বাণী উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল গোপন বন্দিশালা। পলাতক ফ্যাসিস্ট আমলের এসব গোপন বন্দিখানা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।
দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার আশা করে, উত্থাপিত বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের পথ বেছে নেবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা নয় কিংবা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। একটি পরিবারের সামনে থমকে যাওয়া ভবিষ্যৎ। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে এক অনিশ্চিত বাস্তবতায়, যেখানে কোনো সমাপ্তি নেই, নেই শোক পালনের স্বাভাবিক সুযোগ।
ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপর দিকে ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও খোঁজ মেলেনি।
আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগিয়ে রাখতে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিকটিমস ফার্স্ট, অ্যাকশনস নাউ’। এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচারসহ জবাবদিহির জন্য দুনিয়াজুড়ে ঐক্য–সংহতির আহ্বান জানান তিনি।