বাংলাদেশ সরকারের লোগো
যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
এখন পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত হলো, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। সে ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের শপথ হতে পারে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার। যেদিন সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, সেদিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিতে পারেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। তিন দিনের মধ্যে এটি না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর শিরীন শারমিন চৌধুরীকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এখন সিইসিকে দিয়ে শপথ পড়াতে হলে গেজেট প্রকাশের পর তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। এর বিকল্প কোনো কিছু করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যদি কোনো বিকল্প প্রস্তাব আসে, তাহলে এর আগেই সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। নতুন সরকারও দায়িত্ব নেবে।
ওই সূত্রগুলো জানায়, শুক্রবার (গতকাল) রাতে বা আজ শনিবারের মধ্যে নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট হবে। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করতেও তিন-চার দিন লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। গতকাল শুক্রবার ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হচ্ছে না।
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাঁদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।
গতকাল বিকেলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, যত দ্রুত সম্ভব গেজেট প্রকাশ করা হবে। সবগুলো আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফলাফল বিবরণী আসার পর দ্রুত গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে। শুক্রবার (গতকাল) সন্ধ্যা নাগাদ এই ফলাফল বিবরণী পাওয়া শুরু হবে।
তিনি বলেন, ইসি তাড়াতাড়ি গেজেট প্রকাশ করতে চায়। দেরি করার কোনো কারণ নেই।
সংসদ সদস্যদের শপথ নিয়ে কী বলছে সংবিধান
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পর্কে বলা আছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ব্যক্তি যে কোন কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।’
অন্যদিকে সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথ সম্পর্কে বলা আছে। সেখানে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন স্পিকার। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
সংবিধানে বলা আছে, পদত্যাগ করলেও স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার তাঁর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। সে হিসেবে শপথ পড়ানোর ভার স্পিকারের।
অন্যদিকে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বলা আছে, বিদায়ী স্পিকারের বা তাঁর অনুপস্থিতিতে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকারের এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে বিদায়ী স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তির সামনে সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত ফরমে শপথ নেবেন এবং সই করবেন।
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এখন কারাগারে। এ ছাড়া বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নেতিবাচক অবস্থান আছে বলে জানা গেছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে কাউকে শপথের দায়িত্ব দিতে হলে সেটা স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর মনোনীত ব্যক্তি হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিইসির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিকল্পটিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইন বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর বাইরেও শপথ–সংক্রান্ত কিছু জটিলতা আছে। কারণ, সংবিধানে বলা আছে, সংবিধানের ১২৩(৩) দফার অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথের কথা। কিন্তু এবারের জাতীয় নির্বাচন ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হয়নি। ১২৩(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ ভাঙার আগের ৯০ দিনের মধ্যে এবং অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
প্রথমে জারি করা ওই তফসিলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ‘সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ (সংসদ প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত) এর অধীন সংসদ গঠনের লক্ষ্যে ‘সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের অধীন সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা প্রয়োজন’।
কিন্তু পরে এই প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে ১২৩ অনুচ্ছেদের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়। সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ‘যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের (অতঃপর সংবিধান বলিয়া উল্লিখিত) অনুচ্ছেদ ৬৫ এর অধীন সংসদ গঠন করিবার লক্ষ্যে সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা প্রয়োজন; সেহেতু, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১১ এর দফা (১) অনুসারে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ গঠন করিবার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকা হইতে একজন সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটারগণকে আহবান জানাইতেছে।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একধরনের রাজনৈতিক ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন শপথের বিষয়টিও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধান করা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে হয়তো যেতে হবে না। কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতও হবে না। শনিবার সকালে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ভবন-২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবারই কম-বেশি জানা আছে, স্নায়ুবিক জটিলতা যেমন স্ট্রোক, খিঁচুনি, পারকিনসন ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের দেশে এ ধরনের আধুনিক ও বিশেষিত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।’
আজ হাসপাতাল সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে এ ধরনের রোগের চিকিৎসার সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক ডায়াগনোসিস সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয় গঠিত এই নতুন ভবন কেবল রোগীভর্তির ধারণ ক্ষমতাকেই বাড়াবে না। একইসঙ্গে চিকিৎসা, গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
‘শুধু প্রযুক্তি থাকলে একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত হয় না। এর সঙ্গে মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। এ কথা আমরা সকলেই উপলব্ধি করি। রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা এবং রোগীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে আমাদের এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্ভীক করতে সকল দায় দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়। বরং আমি মনে করি চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন—এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতি সম্পর্ক বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি,’ যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যের অধিকার কেবল মৌলিক অধিকারী নয়, এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির চাবিকাঠি বলে মনে করে। আমি মনে করি, স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়া অত্যন্ত জরুরি। উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বৃত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা বলা যাবে না।’
‘সুতরাং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়। এ জন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি, চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে,’ বলেন তিনি। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
আজকে শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বর্তমান সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে। একইভাবে শিশু স্বাস্থ্যের প্রতিও সরকার বিশেষভাবে নজর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করার কাজ শুরু করেছে।’ আগামী অক্টোবরে একযোগে এই পাঁচটি বিশেষিত শিশু হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে এ যাবতকালে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে, সরকার সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে চায়। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং সরকার দেশে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। যাতে করে মানুষ দেশের ভেতরে সকল রকমের স্বাস্থ্য সেবা পায়। তবে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে সরকার যতই উদ্যোগ গ্রহণ করুক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক সর্বোপরি স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার সাফল্য নির্ভর করছে,’ যোগ করেন তিনি।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। (ছবি- পিএমও)
দেশের নিউরোরোগীদের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে (নিনস) যুক্ত হলো আরও ৫০০ শয্যা। শনিবার সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ভবন চালু হওয়ায় এই হাসপাতালের মোট শয্যা সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো এক হাজারে। নতুন ভবনটি ১৫ তলাবিশিষ্ট। এর নিচের তিনতলা বেজমেন্ট হিসেবে রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অধিকাংশ চিকিৎসা সরঞ্জামও স্থাপন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এই ভবন উদ্বোধন করলেও সেই সময় সেবা চালু হয়নি।’ এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্থাপন করেছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৫ তলার নতুন ভবনে রয়েছে তিনটি বেজমেন্ট। বেজমেন্টে পার্কিং ও সার্ভিস সেকশন রয়েছে। ওপরের ১২ তলায় থাকছে ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক ইউনিট। আরও রয়েছে ৪০টি আইসিইউ শয্যা, ২০টি এইচডিইউ শয্যা, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ শয্যা ও ১১২টি কেবিন।
এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা, ওপর থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা অন্যান্য দুর্ঘটনায় মাথা ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের জন্য থাকছে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিট। এখানে ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের সুবিধা থাকবে। চারটি অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে দুটি মডুলার ওটি রাখা হয়েছে।
নতুন ভবনে দুটি এমআরআই, দুটি সিটি স্ক্যান, একটি ক্যাথল্যাব, ৬২টি ভেন্টিলেটর, অত্যাধুনিক অটোক্লেভ, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সলিড ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেম এবং পৃথক অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে, পুরো ভবনে সেন্ট্রাল এসি ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগী স্থানান্তরের সুবিধায় প্রথম থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত এস্কেলেটর রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের সুবিধা প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা নিতে আসেন স্ট্রোকের রোগীরা। এরপর রয়েছে দুর্ঘটনায় মাথা ও মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া রোগী।
ছবি : সংগৃহীত
টানা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। শনিবার সকালে সামিট থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। শুরুতে সামিট থেকে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও রাতে ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হয়।
একই রাতে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকেও আবার সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে সেখান থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। দুই টার্মিনাল মিলে এলএনজি থেকে প্রায় ৭৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। ফলে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও যথেষ্ট।
সংকটের পেছনে দুই টার্মিনাল
মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।
২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে অক্ষত বয়লার থেকে ৬ আগস্ট সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। তবে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর রাতে আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনালে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে কয়েক দিন সরবরাহ চালাতে হয়। মজুত কমে আসায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো শুরু হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি এবং বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সামিটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিট আবার গ্যাস দেওয়া শুরু করে। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার সকালে তা প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।
এখনও অনিশ্চয়তা
তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এ সময় টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। ফলে ওই পরীক্ষা শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে আবার গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট। একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটি চালু হলে এক্সিলারেটের সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতিও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে দুই টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেলিমা রহমান, আন্দালিব রহমান পার্থ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, শামীম কায়সার
সরকারের ছয় মাস পূর্তির আগে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের চাপ কমানো এবং সরকারের কাজের গতি বাড়াতে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চারজন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাদের মধ্যে সেলিমা রহমান ও আন্দালিব রহমান পার্থকে মন্ত্রী এবং শহিদুল ইসলাম বাবুল ও শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রী করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
ফলে মন্ত্রিসভায় আপাতত কোনো পরিবর্তন না করে নতুন চারজনকে যুক্ত করা হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যখন চাইবেন তখনই বাস্তবায়িত হবে।
আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। দিনটিকে সামনে রেখে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা চলছে। তবে এই পর্যালোচনায় মন্ত্রিসভার পরিবর্তন বা বড় ধরনের দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন।
জানা গেছে, সরকারের শুরুতে তুলনামূলক বড় পরিসরে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক দায়িত্ব রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কাজের চাপ কমানো এবং নীতিনির্ধারণে আরো মনোযোগ দেওয়ার জন্য নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন।
এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকন এমপি যুক্ত হতে পারেন বলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। এই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় নির্ধারিত উপদেষ্টারা এবং বিশেষ সহকারীরাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন।
ছবি : সংগৃহীত
টানা সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শুরুতে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে আজ মধ্যরাত ২টার মধ্যে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার আশা করছে বলে জানিয়েছে সামিট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সামিটের সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের জোগান নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। সামিট চালুর পর গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির কথা থাকলেও এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনালটি বিকেলে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মোট গ্যাস সরবরাহ না বেড়ে প্রায় ১৭০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে সংকট তীব্র হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।
আজও লোডশেডিং
ছুটির দিন হলেও আজ শুক্রবারও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬৪৪ মেগাওয়াট।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটতি আরও বেড়েছে। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় ১ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট। ভোর ৫টায় ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট।
সকালের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। সকাল ৬টায় ৬০৯ মেগাওয়াট এবং সকাল ৭টায় ৩০৪ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। সকাল ৮টায় ঘাটতি ১৮৫ মেগাওয়াট এবং ৯টায় ১৬৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাহিদা ও সরবরাহ প্রায় সমান ছিল। দুপুর ১টায় ১৪ হাজার ৪৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট; অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ৫২ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল মাত্র ২২ মেগাওয়াট।
অর্থাৎ শুক্রবার রাত ও ভোরে উল্লেখযোগ্য লোডশেডিং থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সামিটের গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের জোগান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিংয়ের চাপও কমতে পারে।
সংকটের শুরু যেভাবে
মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট। সামিটের টার্মিনালের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট হলেও শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির সরবরাহ সক্ষমতা কমে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের ওপর সামিটের নির্ভরতা বেড়ে যায়।
একপর্যায়ে সামিট থেকে দিনে ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। পরে সরবরাহ প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটে রাখা হয়। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শুরুতে এলএনজি নিয়ে একটি কার্গো বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কার্গো থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি।
টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে তখন সরবরাহ চালিয়ে যায় সামিট। মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নামানো হয়। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছিল ১০ কোটি ঘনফুট করে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে। অথচ বুধবারও সরবরাহ ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
বিদ্যুতে গ্যাস বাড়লেও শিল্পে কমেছে
গ্যাসের মোট সরবরাহ কমে যাওয়ার পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাসের জোগান বাড়ানো হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দিনে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত, এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে যাচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে মিলছে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট।
তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটে কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
সামনে স্বস্তি কতটা
শুক্রবার সন্ধ্যায় সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুরুতে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট দেওয়া হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার রাত ২টার মধ্যে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে সামিটের সরবরাহ বাড়লেই গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ওই সময়ে টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে—প্রতিটির সক্ষমতা দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কবে শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ফলে সামিট থেকে সরবরাহ বাড়ায় আপাতত গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুটি এলএনজি টার্মিনালই পূর্ণ সক্ষমতায় না ফেরা পর্যন্ত সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ কম।
প্রতীকী ছবি
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে হাম-সংক্রান্ত রোগে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৪ জনে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে চারজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগে ৭৯৫ জনের প্রাণ গেছে।
এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮৭ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৭২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সন্দেহজনক হাম রোগী এক লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন।